প্রবাসী

ছাত্র জীবনে টাইম ম্যানেজমেন্ট: সফলতার চাবিকাঠি

Unknown জুন ২৬, ২০২৫

সময় হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, বিশেষ করে ছাত্রজীবনে। পড়াশোনা, বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, এবং নিজের শখের কাজ—সবকিছুর জন্যই সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা খুব জরুরি। কিন্তু এই ব্যস্ত জীবনের মাঝে অনেক সময় আমরা অনুভব করি, সময় যেন ঠিক মতো আমাদের পাশে থাকে না, সবকিছু করার জন্য সময় কমে যায়।

ছাত্রজীবন মানেই চ্যালেঞ্জের সময়। পরীক্ষা, প্রজেক্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাসের বাইরে নানা কার্যকলাপ—এসবের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে না পারলে সময় যেন হাতছাড়া হয়ে যায়। ফলে অনেকেই পড়াশোনায় মনোযোগ হারায়, চাপ বেড়ে যায়, আর স্বপ্নের সফলতা দূরে সরে যায়।

টাইম ম্যানেজমেন্ট বা সময় পরিচালনার গুরুত্ব এখানেই। যদি আমরা আমাদের প্রতিদিনের কাজগুলো পরিকল্পিতভাবে করতে না শিখি, তবে সময়ের অপচয় হয়ে পড়বে, আর এর ফলে হতাশা, দেরি, এবং শেষ পর্যন্ত ফলাফল খারাপ হতে পারে।

এই ব্লগে আমি তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছি সহজ কিছু টিপস ও কৌশল যা তোমার সময়কে আরও সুশৃঙ্খল করতে সাহায্য করবে। আমরা আলোচনা করবো কীভাবে ছোট ছোট পরিকল্পনা দিয়ে মনোযোগ বাড়ানো যায়, সময় বাঁচানো যায়, এবং পড়াশোনায় সফল হওয়া যায়।

তাই চল, আজ থেকেই শেখা শুরু করি—কিভাবে তোমার ছাত্রজীবনকে আরো ফলপ্রসূ ও আনন্দময় করা যায় সঠিক টাইম ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে।

 

২. টাইম ম্যানেজমেন্ট কি?

 

টাইম ম্যানেজমেন্ট মানে হলো, আমাদের হাতে থাকা সময়কে এমনভাবে পরিকল্পনা ও ভাগ করা, যেন আমরা প্রয়োজনীয় কাজগুলো সময়মতো শেষ করতে পারি এবং অপ্রয়োজনীয় সময় অপচয় এড়িয়ে যেতে পারি।

সহজভাবে বললে—"ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করা"—এটাই সময় ব্যবস্থাপনার মূলমন্ত্র।

 

🎯 কেন এটা ছাত্রদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?

 

ছাত্রজীবনেই ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে ওঠে। এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ—

 

  • পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়

  • নিয়মিত ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট থাকে

  • পাশাপাশি ঘুম, বিশ্রাম, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, নিজের শখের দিকেও নজর দিতে হয়

 

যদি সময় ঠিকভাবে ম্যানেজ না করা যায়—

 

  • পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া

  • মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়া

  • রাত জেগে পড়া, ঘুম কম হওয়া

  • আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা

 

👉 অথচ সঠিক পরিকল্পনায় প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই যথেষ্ট—শুধু জানতে হবে কোন সময় কোন কাজটা সবচেয়ে দরকারি।

 

🗂️ সময়ের পরিকল্পনা ও প্রাধান্য নির্ধারণের গুরুত্ব

 

সব কাজ একসাথে করা যায় না। তাই প্রয়োজন কাজগুলোকে প্রাধান্য (Priority) অনুযায়ী সাজানো।
এখানে সময় ব্যবস্থাপনার দুটি মূল বিষয়:

 

  1. প্ল্যানিং (Planning):

    • প্রতিদিন বা সাপ্তাহিকভাবে নিজের সময়ের একটা পরিকল্পনা করা

    • কখন পড়বে, কখন বিশ্রাম নেবে, সেটার একটা রুটিন তৈরি করা

 

  1. প্রায়োরিটাইজিং (Prioritizing):

    • কোন কাজ এখন করতেই হবে?

    • কোনটা একটু দেরি হলেও চলবে?

    • কোনটা একেবারে বাদ দেওয়া যায়?

 

🎯 উদাহরণ:


পরের দিন পরীক্ষা, আর তোমার কাছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ আসলো—এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করাটা কি জরুরি, নাকি রিভিশন নেওয়া?

 

👉 এই বেছে নেওয়ার বুদ্ধিমত্তাটাই সময় ব্যবস্থাপনার আসল শক্তি।


টাইম ম্যানেজমেন্ট মানে নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ। আর ছাত্রজীবনে যদি এই স্কিলটা শিখে ফেলা যায়, তাহলে পরবর্তী জীবনেও সফলতার পথ সহজ হয়ে যায়।

 

৩. প্রধান সমস্যা: সময়ের অপচয় কেন হয়?

 

ছাত্রজীবনে সময়ের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অসচেতনতা—আমরা বুঝতেই পারি না কখন সময়টা পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। অথচ একেকটা দিন, সপ্তাহ, মাস পেরিয়ে গেলে বোঝা যায়, আসলে কিছুই ঠিকঠাক হয়নি। তাহলে কী কারণে সময় অপচয় হয়?

 

💤 ১. টালবাহানা বা Procrastination

 

“আচ্ছা, পরে করব…” – এই কথাটাই সময় নষ্টের প্রথম ধাপ।
শুরুটা ঠিক সময়ে না করতে পারলে কাজ জমে যায়, চাপ বাড়ে, আর তখন আর কাজের প্রতি আগ্রহও থাকে না।

 

👉 পরীক্ষার আগের রাতে হঠাৎ সব পড়া মনে পড়া—এই দৃশ্য কি খুব চেনা?

 

📱 ২. অতিরিক্ত মোবাইল/সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি

Facebook, YouTube, Instagram, TikTok — একটু রিল দেখতে গিয়ে ঘণ্টা উধাও।
বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী “বিরতির নাম করে” সোশ্যাল মিডিয়ায় যায়, কিন্তু সেখান থেকে ফেরা আর হয় না।

👉 গবেষণায় দেখা গেছে, একজন সাধারণ তরুণ প্রতিদিন গড়ে ৩–৪ ঘণ্টা মোবাইলে কাটায়—যেটা সময়ের বিরাট অপচয়।

 

🧭 ৩. অস্পষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনার অভাব

 

“আজকে কী করব?”—এই প্রশ্নের উত্তর না থাকলে দিনটা কোথায় যায়, বোঝাই যায় না।
যাদের পড়াশোনার বা জীবনের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই, তাদের সময় নষ্ট হওয়াটা খুব সহজ।

👉 যেদিনের প্ল্যান থাকে না, সেদিন কাজে কিছুই হয় না—শুধু সময় পার হয়ে যায়।

 

😵 ৪. একসাথে অনেক কিছু করার চেষ্টা (Multitasking)

 

একদিকে পড়া, একদিকে চ্যাট, আবার মাঝে YouTube খুলে রাখা—সব মিলিয়ে কিছুই ঠিকঠাক হয় না।
👉 বারবার মনোযোগ বদলালে কোন কাজই ঠিকমতো শেষ হয় না, আর সময় শুধু ঘুরতেই থাকে।

 

⏰ ৫. বিশ্রামের সময়েও দুশ্চিন্তা বা গিল্টি ফিলিং

 

অনেক সময় ছাত্ররা বিশ্রাম নিচ্ছে, কিন্তু মনে শান্তি নেই—“পড়তে বসিনি”, “সময় নষ্ট করছি” এসব চিন্তায় ঘুরপাক খায়।
👉 এতে বিশ্রাম হয় না, আবার কাজেও ফোকাস আসে না।

 

✅ সমাধান কোথায়?

 

  • সমস্যার ধরন বুঝলেই সমাধান সহজ হয়

  • সময় কোথায় নষ্ট হচ্ছে, সেটা লিখে রাখলে (time tracker দিয়ে) সহজে ধরা পড়ে

  • মূল চ্যালেঞ্জটা খুঁজে বের করে ধাপে ধাপে ঠিক করতে হবে


সময় অপচয়ের মূল কারণগুলো খুব সাধারণ, কিন্তু ভয়ংকর। এগুলো যদি আমরা চিনে নিতে পারি, তাহলে সমাধান খুঁজে ফেলা অনেক সহজ।

 

৪. সফল টাইম ম্যানেজমেন্টের কৌশলসমূহ

 

সময় তো সবার কাছেই সমান—দিনে ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু কেউ সেই ২৪ ঘণ্টায় অসাধারণ কিছু করে, আবার কেউ কিছু না করেই দিনটা শেষ করে ফেলে। পার্থক্যটা কোথায়?
👉 টাইম ম্যানেজমেন্টে।

নিচে কিছু প্রমাণিত এবং বাস্তবসম্মত কৌশল দেওয়া হলো, যেগুলো ছাত্রজীবনে সফল সময় ব্যবস্থার চাবিকাঠি হতে পারে:

 

📋 ১. ডেইলি টু-ডু লিস্ট তৈরি করা

 

প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে (বা আগের রাতে) একটা ছোট লিস্ট বানাও:

  • আজ কী কী করব

  • কোনটা বেশি জরুরি

  • কোনটা সময়সাপেক্ষ

✅ লিস্টের কাজগুলো করে করে চেক দিলে মনেও তৃপ্তি আসে!

 

🍅 ২. Pomodoro Technique ব্যবহার করো

পড়াশোনায় ফোকাস বাড়াতে এটা অসাধারণ:

  • ২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে কাজ

  • ৫ মিনিট বিরতি

  • প্রতি ৪ বার পর ১৫–২০ মিনিট দীর্ঘ বিরতি

👉 এর ফলে মনোযোগ কমে না, আবার ক্লান্তিও জমে না।

 

🧭 ৩. প্রায়োরিটাইজ করো (Prioritization)

সব কাজ সমান জরুরি নয়। তাই—

  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও deadline-আসন্ন কাজ আগে করো

  • ছোট, সহজ কাজ পরে করলেও চলবে

🎯 একটি জনপ্রিয় নিয়ম: Eisenhower Matrix – কাজগুলোকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায় (জরুরি/অ-জরুরি × গুরুত্বপূর্ণ/অ-গুরুত্বপূর্ণ)

 

🌱 ৪. “Time Blocking” মেথড প্রয়োগ করো

দিনটাকে ভাগ করো:

  • সকাল ৮–১০: পড়া

  • ১০–১০:৩০: বিশ্রাম

  • ১০:৩০–১২: অ্যাসাইনমেন্ট
    👉 এভাবে সময় আলাদা করে রাখলে মাথায় পরিষ্কার থাকে কখন কী করব।

 

🌿 ৫. বিরতির সময় নির্ধারণ করো

বিরতি নেওয়া মানেই অলসতা না।

  • ৪৫–৫০ মিনিট পর একটু হাঁটাহাঁটি, চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম

  • শরীর/মাথা ফ্রেশ হলে কাজ আরও ভালো হয়

✅ নিয়মিত বিরতি productivity বাড়ায়।

 

📴 ৬. ডিজিটাল ডিস্ট্রাকশন কমাও

  • মোবাইল “Do Not Disturb” বা “Focus Mode” করো

  • ক্লাস/পড়ার সময় সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ রাখো

  • নির্দিষ্ট সময়ে “মোবাইল চেক” সেশন রাখো

👉 একটু নিয়ন্ত্রণেই বিশাল সময় বাঁচবে।

 

📱 ৭. টাইম ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করো

টেকনোলজি শুধু সময় নষ্ট করে না, বরং সময় বাঁচাতেও পারে!

  • Todoist – লিস্ট আর রিমাইন্ডার

  • Google Calendar – সময় ব্লকিং

  • Forest / Focus Keeper – মনোযোগ বাড়াতে

 

✅ একান্ত টিপস

  • রাতে ঘুমানোর আগে “কালকের কাজের প্ল্যান” করে ঘুমাও

  • "না" বলতে শিখো—অপ্রয়োজনীয় কাজ/বিপদে না গিয়ে নিজের সময় বাঁচাও

  • সাপ্তাহিক রিভিউ করো—কী করেছ, কী করা হয়নি, কেন হয়নি?


টাইম ম্যানেজমেন্ট কোনো কঠিন জিনিস নয়। বরং একটু সচেতনতা, ছোট কিছু অভ্যাস, আর পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই তুমি তৈরি করতে পারো নিজের সফল ভবিষ্যতের পথ।

 

 

৫. পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ

 

"আমি সফল হতে চাই" — এই কথাটা অনেকেই বলে।
কিন্তু খুব কম মানুষই জানে, সফলতা আসলে প্ল্যানের ফলাফল। শুধু ইচ্ছা থাকলেই হয় না, দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর লক্ষ্য নির্ধারণ। ঠিক সেখানেই আসে টাইম ম্যানেজমেন্টের মূল শক্তি।

 

🎯 লক্ষ্য (Goal) মানে কী?

লক্ষ্য হলো তোমার গন্তব্য। তুমি কোথায় যেতে চাও, সেটা যদি নিজেই না জানো, তাহলে সময় কীভাবে কাজে লাগাবে?

  • “ভালো রেজাল্ট করব” — এটা একটা সাধারণ ইচ্ছা

  • কিন্তু “এই টার্মে GPA ৪.৫ তোলার জন্য প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা পড়ব”—এটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য

 

✅ SMART Goal পদ্ধতি

লক্ষ্য নির্ধারণে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো SMART মডেল।
তোমার লক্ষ্য যেন হয়:

  • S – Specific (নির্দিষ্ট): কী করতে চাও?

  • M – Measurable (পরিমাপযোগ্য): কতটুকু উন্নতি?

  • A – Achievable (বাস্তবসম্মত): করতে পারবে তো?

  • R – Relevant (প্রাসঙ্গিক): তোমার ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত?

  • T – Time-bound (সময়সীমা নির্ধারিত): কতদিনে করতে চাও?

🎯 উদাহরণ:
“পরের ৪ সপ্তাহে গণিতে ৫টা অধ্যায় শেষ করব, প্রতিদিন ২ ঘণ্টা সময় দিয়ে।”
👉 এটা একটা SMART লক্ষ্য।

 

🗂️ কিভাবে পরিকল্পনা করবে?

 

১. বড় লক্ষ্য ভেঙে ছোট করো
বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করলে সেটা সহজে আয়ত্তে আসে।
যেমন: “SSC তে A+” → প্রতিমাসে একটি বিষয় → প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার

 

২. সাপ্তাহিক ও দৈনিক প্ল্যান করো
সপ্তাহের শুরুতে একটা রুপরেখা বানাও—কি কি কাজ শেষ করতে হবে
প্রতিদিন সকালে বা আগের রাতে প্ল্যান সাজাও—কোনটা আগে, কোনটা পরে

 

৩. টাইম ব্লক করো নির্দিষ্ট কাজের জন্য
পড়া, অ্যাসাইনমেন্ট, বিশ্রাম—সবকিছুর জন্য সময় ঠিক করো
যেকোনো কাজে “ঠিক কতক্ষণ সময় দিবে” তা নির্ধারণ করে ফেলো আগেই

 

📌 লক্ষ্য না থাকলে কী হয়?

  • পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে যায়

  • সময় ঠিকঠাক কাজে লাগে না

  • ছোট ছোট distraction-এ মন চলে যায়

  • দিনের শেষে মনে হয় “আজ কিছুই করিনি!”

👉 লক্ষ্য থাকলে প্রতিটা দিন একটা নির্দিষ্ট দিকের দিকে এগোয়।

 

ছাত্রজীবনে পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ মানে ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়া।
তুমি যদি জানো কোথায় যেতে চাও, কীভাবে যাবা, আর সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগাবে—তাহলে সফলতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

৬. মনোযোগ বাড়ানোর উপায়

 

আজকের যুগে মনোযোগ ধরে রাখা যেন একটা যুদ্ধ!
একদিকে ফোনের নোটিফিকেশন, অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামের রিল, পাশেই ভাই বা বন্ধুর গল্প — এমন পরিস্থিতিতে পড়ার সময় মন বসানোটা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং।

কিন্তু মনোযোগ ছাড়া সফল হওয়া সম্ভব নয়।
তাই আসুন জেনে নিই কিছু কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য কৌশল, যা তোমার ফোকাস বাড়াতে সাহায্য করবে

 

🧘 ১. পড়ার পরিবেশ তৈরি করো

 

✅ নীরব, আলো-বাতাসপূর্ণ, পরিপাটি পরিবেশে পড়ো
✅ টেবিল-চেয়ার থাকলে ভালো — শুয়ে পড়লে ঘুম পাবে
✅ দরকারি জিনিস যেমন বই, পেন, নোট একসাথে রাখো
❌ মোবাইল, টিভি বা অন্যান্য বিভ্রান্তি দূরে রাখো

👉 মন ফোকাস করে তখনই, যখন পরিবেশ মনোযোগবান্ধব হয়।

 

⏳ ২. ছোট সময়ে মনোযোগী হও (Pomodoro Technique)

 

  • ২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে পড়ো

  • ৫ মিনিট বিরতি নাও

  • এই চক্র ৪ বার চললে একটা লম্বা বিরতি

✅ এই পদ্ধতিতে ক্লান্তি আসে না, মনোযোগও স্থির থাকে।

 

📱 ৩. মোবাইল নিয়ন্ত্রণে রাখো

 

  • পড়ার সময় ফোন Silent বা Focus Mode রাখো

  • পড়া শেষ হলে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে স্ক্রল করো

  • চাইলেই “Digital Detox” করে কিছুদিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতিও নিতে পারো

👉 ফোনই আজকের সময়ে সবচেয়ে বড় distraction।

 

🧠 ৪. একসাথে একটাই কাজ করো

 

Multitasking করলে একটারও ঠিকভাবে হয় না।
👉 একসাথে পড়া, মেসেজ দেওয়া, গান শোনা — এতে মনোযোগ হারিয়ে যায়।

✅ পড়ার সময় শুধু পড়া, বিশ্রামের সময় পুরো বিশ্রাম।

 

🌿 ৫. নিয়মিত মেডিটেশন বা ব্রেথিং এক্সারসাইজ

 

দৈনিক ৫–১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাসের অনুশীলন করলে:

  • মাথা ঠান্ডা থাকে

  • মন শান্ত হয়

  • মনোযোগ বাড়ে

👉 মেডিটেশন এখন বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিতভাবে ফোকাস বাড়ায়।

 

📘 ৬. মনোযোগ ধরে রাখতে ছোট লক্ষ্য ঠিক করো

 

“আজ পুরো বই পড়ব” — এটা শুনতেই ক্লান্ত লাগে।
👉 বরং বলো, “আগামী ৩০ মিনিট শুধু এই চ্যাপ্টারটা শেষ করব।”

✅ ছোট লক্ষ্য হলে মন বসানো সহজ হয়, এবং সফল হলে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।

 

📅 ৭. নিয়মিত রুটিন মেনে চলো

 

প্রতিদিন যদি নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে বসো, তাহলে মস্তিষ্ক অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
👉 এক সময় নিজে থেকেই মন বসে যাবে।

 

মনোযোগ বাড়ানো কোনো ম্যাজিক নয়। এটা একটা অভ্যাস, যা চর্চার মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
সঠিক পরিবেশ, পরিষ্কার লক্ষ্য, নির্দিষ্ট সময় এবং প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ — এই চারটি জিনিসই ছাত্রজীবনের মনোযোগ ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।

 

তুমি যদি সত্যি সময়টাকে কাজে লাগাতে চাও, তবে আজ থেকেই শুরু করো—একটু একটু করে মনোযোগী হয়ে উঠো।
👉 কারণ, মনোযোগ মানেই প্রগতি।

 

৭. প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া

 

আজকাল আমরা প্রায়ই শুনি, “মোবাইল সব সময় নষ্ট করে দেয়”, “টেকনোলজির কারণে মনোযোগ হারিয়ে ফেলি” — এসব কথা আংশিক সত্য হলেও প্রযুক্তি আসলে নষ্টও করে, আবার ঠিকভাবে ব্যবহার করলে অনেক গড়ে তোলে।

ছাত্রজীবনে সময় বাঁচাতে, কাজের গতি বাড়াতে, এমনকি মনোযোগ ধরে রাখতে অনেক দারুণ টুলস রয়েছে—শুধু জানতে আর ঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়।

 

📋 ১. টু-ডু লিস্ট ও প্ল্যানিং অ্যাপ

 

Todoist / Google Keep / Notion

  • প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরি

  • কাজ শেষ হলে চেক করে আত্মতৃপ্তি

  • Reminder সেট করে সময়মতো কাজের স্মরণ

👉 সময় ম্যানেজমেন্টের প্রথম ধাপই হলো—“কোন কাজটা করব, কবে করব” সেটা পরিষ্কার থাকা।

 

🧭 ২. ক্যালেন্ডার ও টাইম ব্লকিং টুল

 

Google Calendar / Microsoft Outlook

  • পুরো সপ্তাহ বা মাসের পরিকল্পনা

  • একেক সময় একেক কাজ ব্লক করে রাখা

  • এক ক্লিকে দেখে ফেলা — কোন দিন কী আছে

✅ রুটিন মেনে চলতে চাইলে এসব টুল অমূল্য।

 

⏱️ ৩. ফোকাস বাড়ানোর অ্যাপ

 

Forest / Focus To-Do / Brain.fm

  • নির্দিষ্ট সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখা

  • পড়ার সময় ফোনে ঢুকলেই গাছ ‘মরে যায়’ – এমন ফিচারে মোটিভেশন

  • মনোযোগ বাড়াতে বিশেষ মিউজিক বা থেরাপি সাউন্ড

👉 যারা সহজে ডিস্ট্র্যাক্টেড হন, তাদের জন্য দারুণ কার্যকর।

 

📊 ৪. স্টাডি ট্র্যাকার ও প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপ

 

Toggl / Clockify / My Study Life

  • কোন কাজে কত সময় ব্যয় হচ্ছে, সেটার হিসাব রাখা

  • প্রতিদিন বা সাপ্তাহিক রিপোর্ট দেখা

  • কোন বিষয় বেশি সময় নিচ্ছে, বুঝে নিয়ে সেটার পরিকল্পনা ঠিক করা

🎯 অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না সময় কোথায় যাচ্ছে—এই অ্যাপগুলো সেটা ধরিয়ে দেয়।

 

📚 ৫. লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন কোর্স

 

Coursera / YouTube / Khan Academy / 10 Minute School

  • নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য ক্লাস বা টিউটোরিয়াল দেখা

  • যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে শেখা

  • সময়ের অপচয় বাদ দিয়ে নিয়মিত শেখার অভ্যাস

✅ এখন লাইব্রেরি না গিয়েও হাতের ফোনে “জ্ঞান” পাওয়া যায়—শুধু ইচ্ছা থাকা দরকার।

 

✅ টিপস: প্রযুক্তি যেন শত্রু না হয়ে বন্ধু হয়

  • “ব্যবহার” করো, কিন্তু “আসক্ত” হয়ো না

  • অ্যাপস ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করে রাখো

  • নোটিফিকেশন বন্ধ রাখো যখন ফোকাস দরকার

 

প্রযুক্তিকে যদি তুমি কেবল বিনোদনের মাধ্যম মনে করো, তাহলে সেটা সময় নষ্ট করবে।
কিন্তু যদি এটাকে কাজে লাগাও — তাহলে এটা হতে পারে তোমার সবচেয়ে বড় সহযোগী ও প্রডাক্টিভিটির সহায়ক।

ছাত্রজীবনে যাদের হাতে আছে স্মার্টফোন, তাদের হাতে আছে একধরনের “বুদ্ধিমান সহকারী” — এখন শুধু শেখা দরকার, কীভাবে তাকে কাজে লাগাবে!

 

 

৮. সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

 

অনেকেই টাইম ম্যানেজমেন্টের কথা শোনার পর রুটিন বানায়, অ্যাপ ডাউনলোড করে, প্ল্যান করে—কিন্তু কয়েকদিন পর সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। কেন এমন হয়?

👉 কারণ, আমরা কিছু সাধারণ ভুল করে ফেলি, যা পুরো ব্যবস্থাপনাকে ভেঙে দেয়।

চলো জেনে নিই সেগুলো কী এবং কীভাবে এগুলো থেকে সাবধান থাকা যায়।

 

❌ ১. “সব একসাথে করব” ভাবা (Overplanning)

দিনের সব ঘন্টা প্ল্যান দিয়ে ভর্তি করে ফেলা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনই দমবন্ধও হয়ে যায়।
👉 সব কাজের জন্য সময় রাখা জরুরি, কিন্তু সেই সময় যেন বাস্তবসম্মত হয়।

✅ 🔹 টিপ: প্রতিদিন ৩–৫টা মূল কাজ ঠিক করো। বেশি নয়।

 

❌ ২. বিশ্রামের সময় বাদ দেওয়া

অনেকে মনে করে, “যত বেশি পড়ব, তত ভালো রেজাল্ট আসবে।”
কিন্তু মাথা ও শরীরকে বিশ্রাম না দিলে কাজের মান কমে যায়, একসময় ক্লান্তি ও বিরক্তি চলে আসে।

✅ 🔹 টিপ: প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম এবং প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিট বিরতি রাখো।

 

❌ ৩. লক্ষ্য না ঠিক করে দৌড়ানো

লক্ষ্যহীনভাবে শুধু পড়তে বসা টাইম ম্যানেজমেন্ট নয়।
👉 “কি পড়ছি, কেন পড়ছি”—এই প্রশ্নের উত্তর না থাকলে সময় অপচয় হবেই।

✅ 🔹 টিপ: প্রতিটি কাজের পিছনে একটা উদ্দেশ্য রাখো।

 

❌ ৪. “না” বলতে না পারা

বন্ধুদের ডাক, অপ্রয়োজনীয় টিউশনি, বা পারিবারিক চাপ—সবকিছুই মেনে নিতে গেলে নিজের সময় কোথায় থাকবে?

✅ 🔹 টিপ: তোমার সময় তোমার সম্পদ। অপ্রয়োজনীয় কাজ politely না বলা শিখো।

 

❌ ৫. মোবাইলকে “দাঁতের ব্রাশ” বানিয়ে ফেলা

সকালে উঠেই ফোন, ঘুমাতে যাওয়ার আগেও ফোন। এতে সময় নষ্ট হয় শুধু না, মনোযোগও হারিয়ে যায়।

✅ 🔹 টিপ: সকালে অন্তত ৩০ মিনিট ফোন ছাড়াই থাকো।

 

❌ ৬. ফাঁকা পরিকল্পনা করে ফেলা

প্ল্যান বানানোই সব কিছু না। প্ল্যান ফলো করাই আসল!
👉 প্ল্যান লিখে রেখে না মানলে কোনো লাভ নেই।

✅ 🔹 টিপ: রাতের শেষে রিভিউ করো—কী করলে, কী বাকি, কেন হয়নি।

 

⚠️ সতর্কতা

  • টাইম ম্যানেজমেন্ট শেখা মানেই প্রতিদিন একেবারে পারফেক্ট হওয়া নয়

  • ভুল হবে, গাফিলতি হবে—কিন্তু হাল ছাড়া যাবে না

  • নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়েই সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হওয়া সম্ভব

 

ছাত্রজীবনে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—নিজের সময়কে সম্মান করা।
তুমি যদি এই সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে সচেতনভাবে সময় কাজে লাগাতে পারো, তাহলে সফলতা শুধু সময়ের ব্যাপার।

👉 মনে রেখো, "শুধু কাজের মানুষ হওয়া নয়, কাজের সময় মানুষ হওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ!"

 

 

৯. সফল ছাত্রদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন

 

টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে যত থিওরি পড়ি না কেন, বাস্তব জীবনের গল্পগুলোই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
তাদের দেখলেই বোঝা যায়—সফলতা আসলে কোনো জাদু নয়, বরং সময়কে ঠিকঠাকভাবে ব্যবহার করার ফল।

চলো জেনে নিই এমন ৩ জন শিক্ষার্থীর বাস্তব অভিজ্ঞতা যাদের টাইম ম্যানেজমেন্ট বদলে দিয়েছে তাদের জীবন।

 

🧑‍🎓 গল্প ১: ফারহানা, মেডিকেল স্টুডেন্ট – "ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা রুটিন"

 

ঢাকা মেডিকেলের ছাত্রী ফারহানা প্রতিদিন মাত্র ৬ ঘণ্টা পড়তেন, কিন্তু সময়ের এত ভালো ব্যবস্থাপনা ছিল যে তার সব সাবজেক্টে রিভিশন হতো সময়মতো।

  • প্রতিদিন সকাল ৮টায় পড়া শুরু

  • Pomodoro টেকনিকে ২৫+৫ স্টাডি সেশন

  • সন্ধ্যায় ৩০ মিনিট ফেসবুক/ইউটিউব — guilt-free!

 

🎯 ফলাফল: পরীক্ষার আগের রাতেও সে চাপমুক্ত থাকত, আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে।

 

🧑‍💻 গল্প ২: সাদমান, HSC ছাত্র ও ফ্রিল্যান্সার – “সময় মানেই টাকা”

 

সাদমান পড়াশোনার পাশাপাশি গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করে আয় করে। সে জানে, “সময়টা যদি না ম্যানেজ করি, পড়াও যাবে, আয়ও যাবে।”

  • রাত ৮টা–১০টা: কেবল পড়া

  • রাত ১০টা–১২টা: ক্লায়েন্টের কাজ

  • দিনে ১৫ মিনিট সময় ব্লক করে প্রজেক্ট ম্যানেজ করে

 

🎯 ফলাফল: GPA ৫.০০ পেয়েছে, এবং মাসে ১০–১২ হাজার টাকা ইনকাম!

 

👩‍🏫 গল্প ৩: নুসরাত, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী – “না বলতে শিখে জীবন বদলেছে”

 

নুসরাত আগে বন্ধুদের ডাক না ফেলতে পারত না—ফলে প্ল্যান করে কিছুই হতো না।
একসময় সে বুঝল, "না" বলা মানেই খারাপ হওয়া না, বরং নিজের লক্ষ্য রক্ষা করা।

  • অপ্রয়োজনীয় আড্ডা কমিয়ে দিয়েছে

  • সাপ্তাহিক রুটিন ফলো করে

  • রবিবার রাতে সব সপ্তাহের প্ল্যান বানায়

🎯 ফলাফল: ক্লাসে রেগুলার, CGPA বেড়েছে, পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গেও সময় দিতে পারছে।

 

🧠 আমরা কী শিখলাম?

 

এই গল্পগুলো থেকে পরিষ্কার ৩টি বিষয় শেখা যায়:

  1. সময় থাকেই—শুধু ঠিকমতো ব্যবহার করাটা শেখা দরকার

  2. "না" বলতে শেখা মানে নিজেকে সময় দেওয়া

  3. ফাঁকা সময় মানেই অলসতা নয়, সেটা কাজে লাগালে ভবিষ্যত বদলায়

 

📌 ছোট্ট চ্যালেঞ্জ তোমার জন্য

 

আজকেই ১টা রিয়েল প্ল্যান বানাও—

  • আগামী ৩ দিনে কী কী করব?

  • কোন সময় কোন কাজ করব?

  • কী বাদ দিবো, কীতে মনোযোগ বাড়াবো?

 

👉 মনে রেখো, তোমার প্রতিটি মিনিটই একেকটা বিনিয়োগ।

 

উপসংহার

 

সময় কারও জন্য থামে না।
চাই তুমি একজন স্কুলছাত্র হও, কলেজ পড়ুয়া বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী—তোমার হাতে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই আছে।
প্রশ্ন হলো: তুমি সেটা কীভাবে ব্যবহার করছ?

 

এই ব্লগের মাধ্যমে আমরা দেখেছি—

✅ সময়ের গুরুত্ব কতটা
✅ কীভাবে সময় অপচয় হয়
✅ কোন কোন কৌশলে সফলভাবে সময়কে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়
✅ প্রযুক্তিকে বন্ধু করে ব্যবহার করা যায়
✅ আর ভুলগুলো চিনে সতর্ক থাকা যায়

তোমার আশপাশেই এমন অনেক সফল ছাত্রছাত্রী আছেন যারা সময়ের দাম বুঝে আজ নিজেদের জীবন গড়ে তুলছে। তুমি কেন পারবে না?

 

🔑 মনে রাখো:

"টাইম ম্যানেজমেন্ট মানে শুধু রুটিন না, এটা নিজেকে গড়ার প্রতিজ্ঞা।"

তুমি যদি আজ থেকেই একটু একটু করে সচেতন হও—
📅 ছোট ছোট প্ল্যান করো
🕒 সময়মতো কাজ শেষ করো
📵 অপ্রয়োজনীয় distraction এড়িয়ে চলো
তাহলে সফলতা তোমার খুব বেশি দূরে না।

 

🎁 লেখাটি পড়ে এখন তোমার করণীয়:

 

📌 একটা খাতা বা অ্যাপ নিয়ে শুরু করো
📌 আগামী ৭ দিনের জন্য সময় ব্যবস্থার একটা রুপরেখা বানাও
📌 নিজেই নিজের পরিবর্তনের সাক্ষী হও

 

📣 পাঠকের প্রতি প্রশ্ন:

 

তুমি কীভাবে সময় ম্যানেজ করো?
তোমার কোন কৌশল সবচেয়ে ভালো কাজ করে?
নাকি টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এখনো লড়াই করছো?

👉 নিচে মন্তব্যে জানাও — অথবা বন্ধুদের সঙ্গে লেখাটি শেয়ার করো, যারা এই সমস্যায় ভুগছে।


সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই একজন সাধারণ ছাত্রকে অসাধারণ করে তোলে।
আজই শুরু করো — কারণ সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না।

Tags

ছাত্র-জীবনে-টাইম-ম্যানেজমেন্ট
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে ভিসা বাতিল নিয়ে উদ্বেগ, বৈধ বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

সংযুক্ত আরব আমিরাতে, বিশেষ করে দুবাইয়ে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আকস্মিক ভিসা বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, এটি কেবল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে নেওয়া কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং দেশটির নতুন অভিবাসন ও নিয়ন্ত্রক নীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত যেসব ব্যক্তি বিনিয়োগকারী (ইনভেস্টর) ভিসায় আমিরাতে অবস্থান করছেন কিন্তু বৈধ ব্যবসায়িক ঠিকানা, কার্যকর ব্যবসা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বৈধভাবে বসবাস ও কর্মরত সাধারণ প্রবাসীদের অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।   এ বিষয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, নতুন বিধিমালা সব দেশের নাগরিকদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই এটিকে শুধুমাত্র বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তার নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমিরাত সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।   এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সমন্বিতভাবে কাজ করছেন, যাতে বৈধ প্রবাসীরা কোনো ধরনের অযৌক্তিক হয়রানি বা জটিলতার মুখে না পড়েন এবং চলমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা যায়।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অসুস্থ বাংলাদেশি প্রবাসীকে আর্থিক সহায়তা দিল হাইকমিশন

ছবি: সংগৃহীত

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে পুনরায় চালু টোকেনভিত্তিক সেবা, কমবে প্রবাসীদের ভোগান্তি

ছবি : সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশিদের জন্য ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় অসুস্থ বাংলাদেশি প্রবাসীকে দেখতে হাসপাতালে হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল

মালয়েশিয়ার কাজাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি প্রবাসী মো. হারুন অর রশিদকে দেখতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমান।   বুধবার (২২ জুলাই) হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদলটি হারুনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয় এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে তার চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।   হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হারুন কাজাং হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তী পরীক্ষায় তার কিডনির জটিল সমস্যাও শনাক্ত হয়। বর্তমানে হৃদরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ‘ফিট টু ফ্লাই’ সনদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার স্বাস্থ্যগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।   হারুনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার পূর্ব তল্লা এলাকায়। তিনি ২০১৩ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় যান। পরে তার ছোট ভাইকেও সেখানে নিয়ে যান। কয়েক বছর আগে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ওই ভাইয়ের মৃত্যু হয়। বর্তমানে হারুনের অসুস্থতার খবরে দেশে থাকা তার বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় বহন করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।   বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা পরিবারটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।   হাইকমিশন জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৪, ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মায়ের সঙ্গে দুই সন্তান। ছবি: সংগৃহীত

ওমরাহ পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমানের টিকিটে ছাড় ও বিমানবন্দরে বিশেষ সেবার সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ৩২ বাংলাদেশিসহ ১০৮ প্রবাসী আটক

ছবি: সংগৃহীত
গুগলের ‘কানেক্ট লাইভ সিঙ্গাপুর ২০২৬’-এ আমন্ত্রিত বাংলাদেশি দম্পতি পাভেল-সুমাইয়া

গুগল লোকাল গাইডসের আন্তর্জাতিক আয়োজন ‘কানেক্ট লাইভ সিঙ্গাপুর ২০২৬’-এ অংশ নিতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি দম্পতি পাভেল সারওয়ার ও সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী। আগামী ২৯ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত ৬৫ জন গুগল ম্যাপস কন্ট্রিবিউটর ও গুগল কর্মী অংশ নেবেন।   পাভেল ও সুমাইয়া পৃথকভাবে এ আয়োজনের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তাদের যাতায়াত, আবাসন, খাবার, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যয় বহন করছে গুগল।   ‘কানেক্ট লাইভ’ গুগল ম্যাপস ও লোকাল গাইডস কমিউনিটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজন। এতে অংশগ্রহণকারীরা গুগল ম্যাপসের নতুন ফিচার, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কন্ট্রিবিউটর এবং গুগল টিমের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান।   দীর্ঘদিন ধরে গুগল লোকাল গাইডস কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত পাভেল সারওয়ার ও সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরীর রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ২০১৭ সালে পাভেল যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘লোকাল গাইডস সামিট’-এ অংশ নেন এবং পরে ‘গাইডিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ২০২৫ সালের ‘কানেক্ট লাইভ টোকিও’তেও অংশগ্রহণ করেন।   অন্যদিকে, সুমাইয়া ২০২০ সালে ‘হেল্পফুল হিরো’ ক্যাটাগরিতে ‘গাইডিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। তিনি গুগল লোকাল গাইডস কানেক্টের মডারেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।   বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত পাভেল একজন তথ্যপ্রযুক্তি ও ফিনটেক পেশাজীবী, গুগল সার্টিফায়েড এডুকেটর ও প্রশিক্ষক। সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বিষয়ক একজন কর্মী এবং মালয়েশিয়ায় লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি বিষয়ে গবেষণা করছেন।   গুগল ম্যাপস কমিউনিটিতে অবদানের পাশাপাশি তারা মালয়েশিয়ায় গুগল এডুকেটর গ্রুপ, সেরেম্বানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় প্রযুক্তি, শিক্ষা, তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গেও তারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত।   আয়োজকরা মনে করছেন, ‘কানেক্ট লাইভ সিঙ্গাপুর ২০২৬’-এ এই বাংলাদেশি দম্পতির অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক গুগল ম্যাপস ও লোকাল গাইডস কমিউনিটিতে বাংলাদেশিদের সক্রিয় ভূমিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ষাটের পরও শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত, লন্ডনে সংবর্ধিত সৈয়দ জহুরুল হক

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় জুলাই বিপ্লব নিয়ে আলোচনা সভা

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকে স্বাধীন পর্ষদ ও প্রবাসী পরিচালক নিয়োগের দাবি

0 Comments