দেশে তরুণ ও অবিবাহিতদের মধ্যে এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস) সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন শনাক্ত হওয়া এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে ৪২ শতাংশই তরুণ-তরুণী, যা আগের বছর ২০২৪ সালে ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২১৯ জন।বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, ইনজেকশনযোগ্য মাদক ব্যবহার, কনডমসহ সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার না করা এবং যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব। পরিবার ও সমাজে যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না থাকায় কৌতূহল, ভুল ধারণা ও ভুল সিদ্ধান্ত তরুণদের আরও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক তরুণ বলেন, “অন্যের ব্যবহৃত সুচ যে এতটা বিপজ্জনক, তা আমি জানতাম না। জানলে কখনোই এই ঝুঁকি নিতাম না।” আরেক তরুণের ভাষায়, “আমাদের নিয়ে সমাজে শুধু নৈতিকতার কথা বলা হয়, নিরাপত্তা ও সচেতনতার বিষয়গুলো খুব কম গুরুত্ব পায়।”ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান জানান, তরুণদের মধ্যে অসচেতনতা ও রোমাঞ্চের আকর্ষণ অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্ম দিচ্ছে। তার মতে, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যৌন আচরণ সম্পর্কিত শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।বিশেষজ্ঞরা সামাজিক লজ্জা ও ভয় কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তরুণদের লক্ষ্য করে ব্যাপক ও ধারাবাহিক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। তবে সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে অনেক তরুণ আক্রান্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পরীক্ষা করাতে বা চিকিৎসা শুরু করতে চান না।রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এক এইচআইভি আক্রান্ত তরুণ বলেন, “আমি এখন নিয়মিত ওষুধ নিচ্ছি। তবে আমার মতো ভুল আর কেউ যেন না করে—এটাই চাই।”সমাজতত্ত্ব ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার, নগরায়ণ ও সামাজিক পরিবর্তনের ফলে তরুণদের মধ্যে যৌনতার প্রতি আগ্রহ বাড়লেও যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা তৈরি হয়নি। মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো তরুণদের কাছে সহজেই পৌঁছাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আরও বলেন, তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্কুল পর্যায়ে প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমগুলো সরকারিভাবে নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।উল্লেখ্য, এ বিষয়ে ২৪ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলো–এর অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
‘নিরাপত্তা’ বিবেচনায় মানুষ তার জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বদাই চিন্তিত; তাই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তালা-চাবি, সুউচ্চ প্রাচীর, দুর্ভেদ্য বেষ্টনী, আধুনিক সিসি ক্যামেরাসহ উন্নত সব প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তবে এত কিছুর পরেও নিরাপত্তার জন্য গার্ড বা প্রহরীর বিকল্প নেই। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরাসরি পালন করে না, বিভিন্ন স্তরে বা পর্যায়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য নিজেরাই প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানি বা বেসরকারি নিরাপত্তা সেবাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রহরী নিয়োগ করে। দেশে সর্বপ্রথম প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানির যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশে আট শতাধিক প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানি গড়ে উঠেছে এবং তাদের অধীনে প্রায় ৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই খাত থেকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়। প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানি পরিচালনার জন্য সরকার ‘বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন, ২০০৬’ এবং ‘বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা বিধিমালা, ২০০৭’ প্রণয়ন করে। তবে এই আইন বা বিধিমালার কিছু ধারার সঙ্গে প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশনের মতপার্থক্য থাকায় তা আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আইনটি এখনো কার্যকর হয়নি। এছাড়া প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিসকে ২০১৩ সালে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা হয় এবং ২০১৮ সালে প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস সেক্টরকে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের ৪০তম শিল্প খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী, সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্রে সিকিউরিটি গার্ডদের সেবা ক্যাটাগরি-৫-এ অন্তর্ভূক্ত করা হয়। প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানি চালু করতে লাইসেন্স গ্রহণসহ নিবন্ধিত কোম্পানি হিসেবে ব্যবসার নীতিমালা অনুযায়ী জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত হতে হয়; যাবতীয় হালনাগাদ ভ্যাট, আয়কর ও অগ্রিম আয়কর প্রদান করতে হয়। প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে অফিস, ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিংমল, অ্যাপার্টমেন্ট, পার্কিং, হাসপাতাল, নির্মাণাধীন প্রকল্প, মিলকারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রোগীর সেবা, বাচ্চাদের স্কুল থেকে আনা-নেওয়া, বডিগার্ড, ব্যাংকের ভল্ট পাহারা এবং বিভিন্ন শাখায় গানম্যান, ব্যক্তির নিরাপত্তা, দূতাবাসের নিরাপত্তা ও বিদেশিদের বাড়ি পাহারা, গার্মেন্টস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঔষধ কোম্পানি, এনজিও, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন স্থাপনা ইত্যাদির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। দেশের বড় প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো ক্যাশ ক্যারিং বা নগদ অর্থ বহনে নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তার দায়িত্বও পালন করে। অনেক সিকিউরিটি কোম্পানি কনসালটেন্সি সেবা ও প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস দিয়ে থাকে। তাছাড়া ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কাজে অথবা বেসরকারি পর্যায়ে দেশে আগত বিদেশিদের অনুরোধে তাদের নিরাপত্তার জন্য আর্মস গার্ড নিয়োগ দেয়। প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানির আর্মস গার্ড নিয়োগের বিধান না থাকলেও নিজস্ব নিয়োগকৃত গার্ড বা সুপারভাইজারদের মধ্যে যাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স ও অস্ত্র আছে, তাদের মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালন করা হয়। এছাড়া আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় এলিট ফোর্সের মতো প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানির রয়েছে ডগ স্কোয়াড, যা অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ব্যবহূত হয়। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিকিউরিটি গার্ডদের জন্য রয়েছে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা। শ্রম আইনের ২০১ ধারা অনুযায়ী সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা, বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬০ ঘণ্টার বেশি কাউকে ডিউটি করানো যাবে না। কিন্তু গ্রাহক কর্তৃক সাধারণত প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করে, ফলে দৈনিক ৮ ঘণ্টা ডিউটির পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়। অথচ এদের মাসিক বেতন মাত্র ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, নেই তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা। শ্রম বিধিমালা, ২০১৮-এর আলোকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন-২০১৯ অনুযায়ী ‘জুনিয়র সিকিউরিটি গার্ড’ এবং ‘সিনিয়র সিকিউরিটি গার্ডদের’ জন্য যথাক্রমে ৮ হাজার ৩৭৫ ও ১১ হাজার ৩০০ টাকা নিম্নতম মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী গার্ডদের মাসিক বেতন ১৭ হাজার ৬১০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও গ্রাহকেরা এই পরিমাণ বেতন দিতে চান না। অথচ যারা জীবন ও সম্পদ রক্ষা করছে, তাদের এত কম বেতন দিলে তাদের কাছে রক্ষিত সম্পদের মায়া স্বভাবতই কম হয়। তাছাড়া একদিকে এদের বেতন কম, অন্যদিকে তাও আবার নিয়মিত পরিশোধ করা হয় না। ছুটির সুযোগ কম, নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ছুটির সমন্বয় করেন। একনাগাড়ে ৮ ঘণ্টার বেশি ডিউটি পালন করলে তাতে শিথিলতা আসে, জানমালের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তাই এক জন গার্ডকে দিয়ে দুই জনের ডিউটি করানো উচিত নয়। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রহরী নিয়োগ এবং তাদের যৌক্তিক বেতন ও বিশ্রাম নিশ্চিত করে তাদের পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। অধিকাংশ প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ডরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে এই পেশায় যোগদান করে, মাস শেষে সামান্য বেতন দিয়ে তাদের জীবন চলে। এর ওপর ডিউটিতে সামান্য ভুলত্রুটি হলে গ্রাহকেরা বা নিয়োগকারীরা তাদের বেতন কর্তন করে, গার্ড সরবরাহকারী কোম্পানির প্রাপ্য থেকেও বড় অঙ্কের টাকা কেটে রাখে। আবার এই সামান্য বেতন দিয়ে গ্রাহকের প্রত্যাশারও কমতি নেই, তারা প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ডদের কাছ থেকে সেনাসদস্যদের মতো সুপ্রশিক্ষিত, টার্নআউট, স্মার্টনেস ও দক্ষতা প্রত্যাশা করে। বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো নিজ পুঁজিতে এই ব্যবসা পরিচালনা করে। এই ব্যবসায় লাভের পরিমাণ খুবই সামান্য। তার ওপর এক-তৃতীয়াংশ গ্রাহক নিয়মিত সার্ভিস চার্জ বা বেতন পরিশোধ করে না। গার্ডদের কম বেতন, অতিরিক্ত ডিউটি, অনিশ্চিত চাকরি, অনেক কোম্পানির ভবিষ্য তহবিল নেই, সামাজিক মর্যাদা-কর্মঘণ্টা-বেতন এই তিনের কোনোটিই আকর্ষণীয় নয়। যে কারণে গার্ডরা দীর্ঘদিন এই চাকরিতে থাকে না, তাই ঘন ঘন গার্ড পরিবর্তন করতে হয়, নতুন নিয়োগ দিতে হয়। এতে করে গ্রাহকের সন্তুষ্টি লাভ করাও অত্যন্ত কঠিন হয়। তদুপরি প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। উন্নত দেশের মতো প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নিজ নিজ কর্মী বাহিনীকে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান, নির্ভরযোগ্য সেবা এবং ভালো বেতনের ব্যবস্থা করতে পারবে। তাছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে একটি কার্যকর সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আরো বেশি সুরক্ষিত হবে।
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় তাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মির্জা আব্বাস এখন অনেকটা সুস্থ। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি দেশে ফিরছেন। বিস্তারিত আসছে...
জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যৌথভাবে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার ঘোষণা এবং জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা একই ষড়যন্ত্রের অংশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খাঁন বলেন, ১৯৯৬ সালের মতো আবারও আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মাঠে নামার ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করতেই এ অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাম্প্রতিক আলোচিত ‘মক্কা সামরিক চুক্তি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল চুক্তিটির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। দেশের জনগণের একটি বড় অংশও এতে ইতিবাচক। দেশের সার্বভৌমত্ব, কূটনৈতিক নীতি ও সামগ্রিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ডাকসুর জিএস পদ ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, তৎকালীন নির্বাচনে ভিপি পদে নুরুল হক নুর এবং জিএস পদে তিনি জয়ী হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের ইশারায় তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিল। পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাজারো শিক্ষার্থীর ভোটাধিকারকে সম্মান জানিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলে ফেরার বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, যারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে দলে ফিরতে চাইবে, দলীয় হাইকমান্ড তাদের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করা ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।