আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধে ৫৫ বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে এখন পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর শাফাক নিউজের।

 

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট পর্যন্ত দুটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে মার্কিন বাহিনী উঠে তল্লাশি চালিয়েছে।

 

ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করতে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এসব জাহাজ বিভিন্ন সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অবরোধ কার্যকর করার কাজেও অংশ নিচ্ছে।

 

তবে এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বদলে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির ওপর নজর রাখছে।

 

এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা চলছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানকে আংশিক নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

তবে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতি: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি

বিষয়টা একটু জটিলই। সার্বিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচকগুলো বেশ স্বস্তিদায়ক, কিন্তু জনগণের মনমেজাজ খারাপ।   কারণ সরাসরি জনগণের পকেটে টান পড়ছিল। ট্রাম্প মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানতে পারেননি। নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্যের জন্য জনগণ সরাসরি ট্রাম্পকেই দায়ী করছিলেন। কারণ তার শুরু করা ইরান যুদ্ধের কারণেই জ্বালানি তেলের দাম আকাশে উঠে বসেছে।     এই মুদ্রাস্ফীতির চোরাবালিতেই ডুবল রিপাবলিকানদের তরি।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নভেম্বরে নির্বাচিত হয়েছিলেন অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য। এখন ২০২৬ সালের নভেম্বর, এবং দুই বছর আগের তুলনায় আমেরিকানরা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরো বেশি সংকটের মধ্যে রয়েছেন।     ২০২১ সালের পর থেকে সবকিছুর দাম যেভাবে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, তার সঙ্গে আমেরিকানরা এখনো নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি।   জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সির শেষ বছরে মুদ্রাস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাটদের আরেকটি সুযোগ দেওয়ার জন্য ভোটারদের রাজি করাতে তা যথেষ্ট ছিল না। আর জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় নিয়ে সেই ক্ষোভ ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরও অব্যাহতভাবে জমাট বেঁধে রয়েছে।   তারপরও এই বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের কাছে তুলে ধরার মতো বেশ চমৎকার একটি অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্প ছিল। ২০২৪ সালের পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই মার্কিন অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।   দীর্ঘ ১৪ মাস পর এই প্রথম উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।  রিপাবলিকানদের পাস করা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর অধীনে বড় অঙ্কের ট্যাক্স রিফান্ডের টাকা মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতে শুরু করেছিল।  দীর্ঘ তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম বাড়ি কেনার ঋণের সুদের হার ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত শেয়ারগুলোর ওপর ভর করে শেয়ার বাজার ক্রমাগত নতুন নতুন রেকর্ড ছুয়ে যাচ্ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতি চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছিল এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও তা সেই সর্বনিম্ন পয়েন্টের কাছাকাছিই ছিল। কিন্তু এরপরই আমেরিকা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, এবং সবকিছু রাতারাতি বদলে যায়। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ডিজেলের দাম ছুঁয়ে ফেলে নতুন রেকর্ড। আর কোনো নির্বাচনের দিন এর আগে কখনো পেট্রলের দাম এতটা আকাশচুম্বী ছিল না।    ন্যাভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যদি না হতো, তবে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।’   আমেরিকানরা মুদ্রাস্ফীতিকে এমনিতেই অপছন্দ করে। তবে জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যের ওপর তারা বিশেষভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কারণ পেট্রলের দাম শহরের বড় বড় বিলবোর্ডে সব সময় দৃশ্যমান থাকে এবং প্রতি সপ্তাহে গাড়ির ট্যাঙ্কি পূর্ণ করার সময় এটি মনে করিয়ে দেয় যে তাদের পকেট থেকে কত বেশি টাকা খসে যাচ্ছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কেবল চড়া পেট্রল ও ডিজেলের দামের কারণেই গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের অতিরিক্ত ১ হাজার ১৫০ ডলার খরচ বেড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি পায় এবং সেই সঙ্গে মর্টগেজ রেটও লাফিয়ে বাড়ে; যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার রেকর্ড।     টানা তিন বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার গতির চেয়ে সাধারণ মানুষের বেতন বাড়ার গতি বেশি ছিল। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেই ধারা উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করে। এরপর থেকেই পুনরুত্থিত মুদ্রাস্ফীতি শ্রমিকদের প্রকৃত আয় গ্রাস করে চলেছে; যার ফলে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে একজন সাধারণ আমেরিকানের প্রকৃত আয় সংকুচিত হয়েছে।   এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অর্থনীতি নিয়ে আমেরিকানদের মধুর স্মৃতি ছিল। ট্রাম্প ১.০-এর প্রতিটি মুহূর্তে আমেরিকানদের কষ্টার্জিত অর্থের কার্যক্ষমতা দাম বাড়ার চেয়ে বেশি ছিল। তার ক্ষমতায় থাকার প্রথম চার বছরে মানুষের বেতন বৃদ্ধির গতি মুদ্রাস্ফীতির গতির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এই কারণেই ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিএনএন-এর জরিপে ভোটাররা অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের চেয়ে ট্রাম্পকে ১৫ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রেখেছিলেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই- রেস থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে নেওয়া শেষ সিএনএন জরিপে অর্থনীতির ওপর বাইডেনের নেট সমর্থন ছিল মাইনাস ৩১ পয়েন্ট। ট্রাম্পের রেটিং এখন বাইডেনের চেয়েও খারাপ, এবং তা একটি বড় ব্যবধানে : অক্টোবর মাসের সিএনএন জরিপ অনুযায়ী, অর্থনীতিতে তাঁর নেট সমর্থন মাইনাস ৪৬ পয়েন্ট।   ট্রাম্প ২.০-এর গল্পটি ট্রাম্প ১.০ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক আমেরিকানের কাছে মনে হচ্ছে খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং ‘আমেরিকান ড্রিম’ অধরা হয়ে পড়েছে।     ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শোচনীয় অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য ডেমোক্র্যাটদের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের কিছু নীতি—বিশেষ করে তাঁর অজনপ্রিয় যুদ্ধ—নিশ্চিতভাবেই আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।     বিষয়টি কেবল পেট্রোলের দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যা মানুষের মাসিক খরচে প্রায় ৭৫ ডলার যোগ করেছে। এটি অন্যান্য খরচগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা ভোটাররা ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের সঙ্গে যুক্ত করেন; যার মধ্যে কিছু খরচ তাদের বিলে প্রতি মাসে শত শত ডলার অতিরিক্ত যুক্ত করছে। ২০২৫ সালে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের বর্ধিত ভর্তুকি বাড়াতে রিপাবলিকানদের ব্যর্থতার কারণে এই বছর ওবামাকেয়ার-এর মাসিক প্রিমিয়াম গড়ে ৫৮ ভাগ বেড়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিদ্যুতের খরচ ৮.৭ ভাগ বেড়েছে। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং শুল্কের কারণে গাড়ি মেরামতের খরচ ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১২.৩ ভাগ লাফিয়ে উঠেছে। বাড়ি নির্মাণের খরচ বেড়েছে ১৩.৩ ভাগ। ট্যাক্স ফাউন্ডেশন-এর মতে, ট্রাম্পের শুল্কের কারণে এই বছর গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের ট্যাক্স বাবদ ৮২০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।     শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ স্টিভেন ডুরলাফ বলেন, ‘তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় বাইডেন সবকিছু পুরোপুরি বরবাদ করে দিয়েছিলেন; তবু তা কোনোভাবেই ট্রাম্পকে নির্দোষ প্রমাণ করে না। ট্রাম্প মুদ্রাস্ফীতি খুব বাজেভাবে সামলেছেন। ভোটারদের অবশ্যই প্রশাসনের নীতিগুলোর ওপরই এর দায় চাপাতে হবে।’   সমস্ত প্রমাণ ইঙ্গিত করে যে ভোটাররা ঠিক সেটাই করেছেন। আর এটাই একটি বড় কারণ যার জন্য মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে চরম পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।    সূত্র: সিএনএন

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবে ভারি বৃষ্টি ও বন্যার পূর্বাভাস: টর্নেডোর আশঙ্কা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দল বদলালেও শত্রুতা কমবে না: মোজতবা খামেনি

আসামের ধুবড়ি জেলায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে বিজেপি সরকার। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি জমিতে শিল্পপার্ক নির্মাণ: আসামে সাড়ে সাতশ পরিবার উচ্ছেদ

সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা, সতর্ক করলেন ফরাসি মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্যের পরও দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে মনে করছেন ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেসকিউর।   বুধবার (৪ নভেম্বর) ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করেন। একই দিনে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আলজাজিরা।   রোলাঁ লেসকিউর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির নিয়ন্ত্রণ এখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পর তিনি কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।   তার মতে, ট্রাম্প চাইলে রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগ দিতে পারেন। বিশেষ করে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কারণ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব ফেলে।   ফরাসি অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর সিদ্ধান্তও নিতে পারেন ট্রাম্প। তবে তিনি যদি এমন অবস্থান না নেন, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে।   ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর ইউরোপের   মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পর ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকেরা।   লেসকিউরের মতে, আগামী কয়েক দিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে তার অবস্থান কী হয়, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।   তিনি মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শুধু নির্বাচনি ফল দেখেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আসবে বলে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।   এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ইউরোপ। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হতে পারে।   সূত্র: আলজাজিরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানের দূতাবাসের ব্যঙ্গাত্মক মিম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পঞ্চমবার জয়ী দুই মুসলিম নারী

রয়টার্স ছবি

সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে বারবার বিঘ্ন: দুর্বল অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে নির্বাচনি পরাজয়ের পর মহাকাশ নিয়ে মন্তব্য ইলন মাস্কের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পছন্দের প্রার্থীর নির্বাচনি পরাজয়ের পর মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও জয় নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মাস্কের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, এই মুহূর্তে মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের বিষয়টি তার কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।   পোস্টে রসিকতা করে তিনি আরও লেখেন, নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য তার মহাকাশের লেজারগুলো এবার কাজ করেনি।   পছন্দের প্রার্থীর পেছনে ২১ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়   টেক্সাসের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছিলেন ইলন মাস্ক। নির্বাচনি প্রচারণায় তার সমর্থনে অন্তত ২১ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়।   তবে এত অর্থ ব্যয় করেও প্যাক্সটনকে জয়ী করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।   কেন প্যাক্সটন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগও আলোচনায় আসে।   মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনে আগ্রহ মাস্কের   মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে মাস্কের আগ্রহ নতুন নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে মহাকাশভিত্তিক কম্পিউটিং অবকাঠামো নিয়ে প্রযুক্তি খাতে আলোচনা বাড়ছে।   পৃথিবীর বাইরে সৌরশক্তি ব্যবহার করে ডেটা সেন্টার পরিচালনার সম্ভাবনাও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।   তবে টেক্সাসের নির্বাচনি ফলের পর মাস্কের দেওয়া মন্তব্যটি ছিল অনেকটাই রসাত্মক। পছন্দের প্রার্থীর পরাজয়কে কেন্দ্র করে তার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আবদুল এল-সাইয়েদ

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস

ছবি: সংগৃহীত

রিপাবলিকানদের সরিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

0 Comments