অর্থনীতি

শেয়ার বাজারে আসছে সরকারি কোম্পানি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 

দীর্ঘদিন ধরে আস্থাহীনতা, কারসাজি, দুর্বল সুশাসন এবং ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির সংকটে ভুগছে দেশের পুঁজিবাজার। এ অবস্থায় লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগকে বাজার-সংশ্লিষ্টরা সম্ভাবনাময় একটি নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে, বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি পাবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হবে।

 

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুঁজিবাজার উন্নয়নে ১৭ দফা অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এর অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো— লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক কোম্পানিকে সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা। একইসঙ্গে বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, কর-সুবিধা এবং বাজার সংস্কারের মতো পদক্ষেপও নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

 

কেন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তি

 

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা হলো উচ্চমানের ও বড় মূলধনের কোম্পানির স্বল্পতা। বর্তমানে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন তুলনামূলক ছোট এবং অনেক কোম্পানির আর্থিক ভিত্তিও দুর্বল। ফলে দেশীয় ও বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীরা পর্যাপ্ত বিনিয়োগের সুযোগ পান না।

 

অপরদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক প্রতিষ্ঠান— বিশেষ করে জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের কয়েকটি কোম্পানি নিয়মিত মুনাফা করে, শক্তিশালী সম্পদভিত্তি রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল আয় করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ পুঁজিবাজারে এলে বাজারের মানগত পরিবর্তন ঘটতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ভালো কোম্পানি শুধু নতুন শেয়ারই যোগ করে না; বরং পুরো বাজারের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

 

এ প্রসঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও অনেক আগেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা উচিত ছিল। তবে বিলম্ব হলেও সরকারের এই উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘অতীতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সময় লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার পরিকল্পনা করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও লাভজনক সরকারি কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার বিষয়ে আগ্রহী।’’

 

আবু আহমেদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে এলে বাজারের গভীরতা ও স্থিতিশীলতা বাড়বে, নতুন ও মানসম্মত শেয়ার যুক্ত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত হবে। তালিকাভুক্তির ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ পাবে— যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।

 

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর সুযোগ

 

গত এক যুগে একাধিক শেয়ার কেলেঙ্কারি, মূল্য কারসাজি, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নীতিগত অসামঞ্জস্যের কারণে লাখো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

 

লাভজনক সরকারি কোম্পানি বাজারে এলে বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলনামূলক কম ঝুঁকির নতুন বিকল্প তৈরি হবে। নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানকারী এবং আর্থিকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, ভালো কোম্পানির সরবরাহ বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

বাজারের গভীরতা বাড়বে

 

বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে কয়েকটি খাতের আধিপত্য থাকলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের প্রতিনিধিত্ব নেই। যদি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কিংবা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের মতো বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়, তাহলে বাজারে নতুন খাত যুক্ত হবে।

 

এর ফলে বাজার মূলধন বৃদ্ধি পাবে। প্রতিদিনের লেনদেন বাড়তে পারে। বড় দেশীয় ও বিদেশি তহবিল বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। সূচকের ওপর কয়েকটি কোম্পানির নির্ভরতা কমবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ শক্তিশালী হবে।

 

সরকারেরও লাভ হবে

 

সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার আংশিক বিক্রি মানেই রাষ্ট্রীয় মালিকানা হারানো নয়। বরং সরকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেই সাধারণ জনগণকে অংশীদার হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

 

এতে সরকারের কয়েকটি সুবিধা হবে— রাষ্ট্রীয় সম্পদের মূল্যায়ন বাজারভিত্তিক হবে, বাজেটে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান হবে, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের নতুন উৎস তৈরি হবে এবং তালিকাভুক্তির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়বে।

 

পাশাপাশি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়মিত প্রকাশ, স্বাধীন নিরীক্ষা এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ায় করপোরেট সুশাসনও শক্তিশালী হবে।

 

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে পারে

 

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বড়, লাভজনক এবং স্বচ্ছ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।

 

বাংলাদেশের বাজারে যদি রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস কিংবা অবকাঠামো খাতের বড় প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়, তাহলে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। একইসঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্যও এটি ইতিবাচক বার্তা হতে পারে।

 

সরকার ইতোমধ্যে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বাজারে আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানির সংখ্যা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

 

শুধু তালিকাভুক্ত করলেই হবে না

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কোম্পানি বাজারে আনাই শেষ কথা নয়। এর সঙ্গে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।

 

প্রথমত, কোম্পানিগুলোর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত করপোরেট পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ছোট শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর আইন প্রয়োগ করতে হবে। চতুর্থত, বাজার কারসাজি, অভ্যন্তরীণ তথ্যের অপব্যবহার এবং কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি কঠোরভাবে দমন করতে হবে। অন্যথায়, ভালো কোম্পানিও বাজারে এসে প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারবে না।

 

বর্তমান বাস্তবতা

 

বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারে সরকারি মালিকানাধীন প্রায় ২২টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। তবে এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন সীমিত, কিছু প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল। অন্যদিকে তিতাস গ্যাস, পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই বিনিয়োগকারীদের কাছে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি হিসেবে পরিচিত।

 

সরকার এখন আরও কয়েকটি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বাজার সংস্কার, কর-সুবিধা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, ব্লকচেইন প্রযুক্তি, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এবং পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠনের মতো উদ্যোগও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

 

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে টেকসই ও আধুনিক করতে শুধু কারসাজি দমন করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ভালো মানের কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি। লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

 

তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। যদি স্বচ্ছতা, সুশাসন, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করপোরেট পরিচালনা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে সরকারি লাভজনক কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা কাটিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। অন্যথায় এটি কেবল আরেকটি ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ডলারের পর খোলাবাজারে শীর্ষ চাহিদায় ভারতীয় রুপি

দেশে খোলাবাজারে তথা মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন ভারতীয় মুদ্রা রুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, চিকিৎসা, পর্যটনসহ নানামাত্রিক সম্পর্কের কারণে ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গ্রাহকদের বেশি পরিমাণে রুপি লেনদেন করতে হয়। তবে সংখ্যার দিক থেকে ভারতীয় রুপির লেনদেন এগিয়ে থাকলেও প্রকৃত আর্থিক মূল্যে এখনো মার্কিন ডলারের আধিপত্য অনেক বেশি।   বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএসের তালিকায় থাকা ২৬৮টি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৬টির তথ্য নিয়ে করা এই সমীক্ষায় ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   বিবিএসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের খোলাবাজারে মোটামুটি ২৪ ধরনের মুদ্রার লেনদেন হয়ে থাকে। এর মধ্যে ভারতীয় রুপি সর্বাধিক পরিমাণে লেনদেন বা হাতবদল হয়। যেমন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৭ কোটি ৭০ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছিল। একই সময়ে ৩ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ সংখ্যার বিচারে ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লেনদেন হয়েছে ভারতীয় রুপির। কিন্তু বাজারমূল্য ও মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আয় বা লেনদেনের আর্থিক মূল্যের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে মার্কিন ডলার।   ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ মার্কিন ডলার কিনতে খরচ হতো ১১০ থেকে ১২৩ টাকা। আর ১ ভারতীয় রুপি পাওয়া যেত মাত্র ১ টাকা ৩৩ পয়সা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সায়। অর্থাৎ তখন টাকার বিপরীতে ১ মার্কিন ডলারের মান ছিল ১ ভারতীয় রুপির চেয়ে প্রায় ৮৫ গুণ বেশি।   খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটন ভিসায় বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এ কারণে ভারতীয় মুদ্রা রুপির চাহিদা অনেক বেশি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারও ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া অন্যান্য দেশের সঙ্গেও গ্রাহকেরা মার্কিন ডলার বেশি লেনদেন করেন। সে জন্য দেশের খুচরা মুদ্রাবাজার মার্কিন ডলারের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। অর্থাৎ মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের মূল উৎস হয়ে উঠেছে মার্কিন ডলার।   দেশীয় মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুদ্রা লেনদেনের সংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরবের রিয়াল। এরপর রয়েছে যথাক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরো, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, থাই বাথ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দিরহাম, কাতারের রিয়াল, সিঙ্গাপুরের ডলার ও কানাডীয় ডলার।   টাকার বিপরীতে এসব বিদেশি মুদ্রার লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে মার্কিন ডলার। বিবিএস যে ৯৬টি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছিল, সেগুলোর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডলার বিক্রি করে ৪২০ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। একই অর্থবছরে তারা মোট ৪১২ কোটি টাকার ডলার কিনেছিল। খোলাবাজারে মূল্যমানের দিক থেকে মুদ্রা লেনদেনে দ্বিতীয় ছিল ইউরো। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৬ কোটি টাকার ইউরো বিক্রি করেছিল মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলো। মূল্যমানের এই তালিকায় এরপর রয়েছে সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপি, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ও সিঙ্গাপুরি ডলার।   আয়ের মূল উৎস মার্কিন ডলার মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের তিনটি খাত হলো মুদ্রা বিনিময়, পাসপোর্টের বিপরীতে এনডোর্সমেন্ট ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ। এর মধ্যে মুদ্রা বিনিময় করেই তারা ৮৯ শতাংশ আয় করে থাকে। সাধারণত প্রতিষ্ঠানগুলো যে মূল্যে বৈদেশিক মুদ্রা কেনে, তার চেয়ে কিছুটা বাড়তি দামে তা গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে। এই বাড়তি আয় বা ট্রেড মার্জিনই হলো এসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বা আয়ের মূল উৎস।   বিবিএসের সমীক্ষায় দেখা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচায় মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জিত মুনাফার সিংহভাগই এসেছে মার্কিন ডলার লেনদেন থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানগুলো ডলার লেনদেনের মাধ্যমে ৮ কোটি টাকা মুনাফা করে। ইউরো লেনদেন করে ১ কোটি টাকা, আর ভারতীয় রুপি লেনদেনে ২৯ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। তাই মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আয় ও মুনাফার জন্য মার্কিন ডলারের ওপরেই বেশি জোর দেয়।   বিবিএসের সমীক্ষায় অবশ্য মানি এক্সচেঞ্জ খাতের মোট কর্মী সংখ্যার উল্লেখ নেই। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সমীক্ষা করা ৯৬টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৪০০ কর্মী কাজ করেছেন বলে জানানো হয়। দেখা গেছে, বছরের বিভিন্ন প্রান্তিকে অস্থায়ী কর্মী সংখ্যা ওঠানামা করে। সবচেয়ে বেশি কর্মী ছিল চতুর্থ প্রান্তিকে বা এপ্রিল থেকে জুন মাসের দিকে। বিবিএস বলেছে, সাধারণত পবিত্র হজ পালন, ওমরাহ ও গ্রীষ্মকালীন বিদেশ ভ্রমণের সময়ে বাড়তি গ্রাহকের চাপ সামলাতে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত খণ্ডকালীন জনবল নিয়োগ দেয়।   বিবিএসের সমীক্ষায় এই খাতের মালিকানা কাঠামোর একটি চিত্র পাওয়া যায়। সমীক্ষা করা ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টি সম্পূর্ণ একক ব্যক্তির মালিকানাধীন। যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৪ ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ১৬। অর্থাৎ দেশের খুচরা বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বাজারের সিংহভাগ মূলত অনানুষ্ঠানিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি স্তরের উদ্যোক্তাদের দ্বারা পরিচালিত।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬

শেয়ার বাজারে আসছে সরকারি কোম্পানি

ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

ছবি: সংগৃহীত

আবারও বাড়ল সোনা-রুপার দাম, নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ

ছবি : সংগৃহীত
টাকা সঞ্চয়ের সহজ উপায় জানালেন শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চার্লি নান ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। সঞ্চয়, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতারণা এড়ানোর বিষয়ে তার এসব পরামর্শ সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর হতে পারে।   ১. সঞ্চয় স্বয়ংক্রিয় করুন চার্লি নানের মতে, সঞ্চয়ের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বেতন বা আয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা একটি সঞ্চয়ী হিসাবে জমা রাখার ব্যবস্থা করা। এতে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, অল্প অল্প করে হলেও দ্রুত শুরু করা এবং নিয়মিত সঞ্চয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   তিনি আরও পরামর্শ দেন, হঠাৎ কোনো জরুরি খরচ—যেমন গাড়ি মেরামত বা বাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতির জন্য অন্তত এক থেকে তিন মাসের সমপরিমাণ আয়ের একটি জরুরি তহবিল গড়ে তোলা উচিত।   ২. সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন চার্লি নান জানান, তিনি ও তার স্ত্রী যৌথ ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেন এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখেন। তার মতে, দাম্পত্য বা পারিবারিক সম্পর্কে অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ভুল বোঝাবুঝি কমায় এবং আর্থিক পরিকল্পনা সহজ করে।   ৩. শিশুদের অর্থের মূল্য শেখান তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের হাতখরচ দিলে তারা বাজেট করা ও আয়ের মধ্যে ব্যয় করার অভ্যাস শিখতে পারে। তার মতে, অর্থ ব্যবস্থাপনার শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই শুরু হওয়া উচিত।   ৪. কেনাকাটার আগে একটু ভাবুন অনলাইনে প্রতারণার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় চার্লি নান সবাইকে অর্থ পাঠানো বা কোনো পণ্য কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্দেহ হলে তাড়াহুড়ো না করে বিষয়টি যাচাই করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।   ৫. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আর্থিক পরামর্শে সতর্ক থাকুন চার্লি নান সতর্ক করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক তথাকথিত 'ফিনফ্লুয়েন্সার' (আর্থিক বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা) ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রচারণা চালান। এসব পরামর্শ অনুসরণ করে বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি, খরচ এবং নিজের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি। নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য তিনি সহজ ও বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সিঙ্গার বাংলাদেশ: একসময়ের ‘ব্লু-চিপ’ কোম্পানি, এখন লোকসানের বেড়াজালে

ছবি: সংগৃহীত

‘এনবিআরের সবাই চাঙ্গা’, রাজস্ব আদায়ে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী

ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ডিপোজিটে ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক

ফাইল ছবি
কঠোর সাজার বিধান রেখে ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন’ আনছে সরকার

জাল নোট তৈরি, পরিবহন, বাজারজাত বা লেনদেনের পাশাপাশি জেনেশুনে নিজের কাছে জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন আনছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত আট পৃষ্ঠার এই খসড়া ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জনমত জানতে খসড়াটি বিভাগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়া আইনে জাল নোট তৈরি, তৈরির চেষ্টা, বিশেষ কাগজ, কালি বা নিরাপত্তা উপকরণ সংগ্রহ, জাল নোট আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রি ও বাজারজাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেনেশুনে জাল নোট নিজের কাছে রাখা বা লেনদেনে ব্যবহার করলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে দণ্ডবিধিসহ বিভিন্ন আইনে জাল মুদ্রাসংক্রান্ত বিধান থাকলেও সেগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে সব ধরনের অপরাধকে একক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খসড়ায় জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টিং মেশিন, বিশেষ কাগজ, কালি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ এবং আদালতের নির্দেশে সেগুলো ধ্বংস করার বিধানও রাখা হয়েছে। ফলে শুধু জাল নোট উদ্ধার নয়, উৎপাদন ব্যবস্থাও ভেঙে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, ‘মতামত গ্রহণ শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।’ প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো জাল মুদ্রার বিভিন্ন ধরন আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—   টেম্পার্ড নোট: আসল নোটে কারসাজি করে মূল্যমান বা নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন। ব্লিচড নোট: রাসায়নিক ব্যবহার করে আসল নোটের ছাপ মুছে নতুনভাবে ছাপানো। মিসম্যাচড নোট: বিভিন্ন নোটের অংশ বা সিরিয়াল নম্বর জোড়া দিয়ে নতুন নোট তৈরি। এর ফলে সম্পূর্ণ নকল নোটের পাশাপাশি আসল নোট বিকৃত করে প্রতারণার ঘটনাও একই আইনের আওতায় আসবে। খসড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত কারেন্সি অফিসারকে সন্দেহজনক নোট পরীক্ষা করে সেটি জাল কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আদালতে এই প্রত্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রস্তাবিত আইনে অধিকাংশ অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ফলে পুলিশ সরাসরি মামলা গ্রহণ ও তদন্ত করতে পারবে এবং সহজে জামিন বা আপসের সুযোগ থাকবে না। ২০১৫ সালের পর থেকে দেশে জাল নোট তৈরির কৌশলে বড় পরিবর্তন এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক কম্পিউটার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রঙিন প্রিন্টার ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল নোট তৈরির প্রবণতা বেড়েছে। ঈদসহ বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে জাল নোটের বিস্তার রোধে র‍্যাব, সিআইডি, ডিবি ও বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও ব্যাংকগুলোতে নোট যাচাই যন্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা, গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে লেনদেনের পরামর্শ দিয়ে আসছে। চলতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে রাজধানীর টঙ্গী ও গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এই সংস্করণে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া হয়েছে, তথ্যগুলো উপশিরোনামে ভাগ করা হয়েছে এবং সংবাদটি ওয়েব পোর্টালের জন্য আরও পাঠযোগ্য করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সংসদে পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে ১৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ছবি-সংগৃহীত

প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে ব্র্যাকের পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিনপ্যাক’ কারখানার যাত্রা শুরু

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠনে দোটানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

0 Comments