খেলাধুলা

ব্রাজিলের ফুটবলে সুশাসনের দাবি তুললেন পেলের কন্যা

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের ফুটবলের বর্তমান দুরাবস্থার জন্য খেলোয়াড়ের ঘাটতিকে দায়ী করছেন না কিংবদন্তি পেলের জ্যেষ্ঠ কন্যা কেলি ক্রিস্টিনা নাসিমেন্তো। তার মতে, প্রকৃত সংকট লুকিয়ে আছে ফুটবল প্রশাসনের ভেতরে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবই জাতীয় দলের ধারাবাহিক সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সমাজকর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসিমেন্তো বলেন, ব্রাজিলের ফুটবল পরিচালনা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের দুর্বলতা রয়ে গেছে। তার ভাষায়, দুর্নীতি হোক কিংবা অন্য কোনো কারণ, পুরো প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে পরিচালিত হয় যে বাইরের মানুষের পক্ষে এর ভেতরের বাস্তবতা বোঝা কঠিন। সবাই সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানলেও সেগুলোর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

 

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরির ক্ষেত্রে ব্রাজিলের কোনো ঘাটতি নেই। এখনও দেশটিতে বিশ্বের সেরা সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়রা উঠে আসছেন। কিন্তু তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও জবাবদিহিমূলক ফুটবল প্রশাসন, যা বর্তমানে অনুপস্থিত।

 

সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ১৬-তে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। এর ফলে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০২ সালে রোনালদোদের নেতৃত্বে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিরোপাশূন্য রয়েছে সেলেসাওরা।

 

নাসিমেন্তো জানান, জীবদ্দশায় পেলে নিজেও ব্রাজিলের ফুটবল পরিচালনা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, বিশ্বের সফল ফুটবল দেশগুলোর মতো ব্রাজিলকেও আধুনিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার পথে হাঁটতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ফ্রান্সের ফুটবল কাঠামোর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সুশাসনের মাধ্যমে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

 

তবে ব্রাজিলের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরোপুরি হতাশ নন পেলের কন্যা। তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগ ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। তিনি বোটাফোগোর উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০২২ সালে মার্কিন ব্যবসায়ী জন টেক্সটর ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণমূলক মালিকানা নেওয়ার পর থেকে দলটির পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি এসেছে এবং তারা আবারও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরেছে।

 

জন টেক্সটরকে ঘিরে বিতর্ক থাকলেও তার পরিচালন পদ্ধতির কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে বলে মনে করেন নাসিমেন্তো। তার মতে, ক্লাব পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে চেষ্টা তিনি করছেন, তা ব্রাজিলের ফুটবল প্রশাসনের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে তাকে একটি বিস্তৃত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

 

নাসিমেন্তোর বিশ্বাস, ব্রাজিলকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে নিতে হলে শুধু প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি ফুটবল প্রশাসনে সংস্কার, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।

সূত্র: রয়টার্স

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের ফুটবলে সুশাসনের দাবি তুললেন পেলের কন্যা

ব্রাজিলের ফুটবলের বর্তমান দুরাবস্থার জন্য খেলোয়াড়ের ঘাটতিকে দায়ী করছেন না কিংবদন্তি পেলের জ্যেষ্ঠ কন্যা কেলি ক্রিস্টিনা নাসিমেন্তো। তার মতে, প্রকৃত সংকট লুকিয়ে আছে ফুটবল প্রশাসনের ভেতরে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবই জাতীয় দলের ধারাবাহিক সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সমাজকর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসিমেন্তো বলেন, ব্রাজিলের ফুটবল পরিচালনা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের দুর্বলতা রয়ে গেছে। তার ভাষায়, দুর্নীতি হোক কিংবা অন্য কোনো কারণ, পুরো প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে পরিচালিত হয় যে বাইরের মানুষের পক্ষে এর ভেতরের বাস্তবতা বোঝা কঠিন। সবাই সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানলেও সেগুলোর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।   তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরির ক্ষেত্রে ব্রাজিলের কোনো ঘাটতি নেই। এখনও দেশটিতে বিশ্বের সেরা সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়রা উঠে আসছেন। কিন্তু তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও জবাবদিহিমূলক ফুটবল প্রশাসন, যা বর্তমানে অনুপস্থিত।   সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ১৬-তে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। এর ফলে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০২ সালে রোনালদোদের নেতৃত্বে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিরোপাশূন্য রয়েছে সেলেসাওরা।   নাসিমেন্তো জানান, জীবদ্দশায় পেলে নিজেও ব্রাজিলের ফুটবল পরিচালনা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, বিশ্বের সফল ফুটবল দেশগুলোর মতো ব্রাজিলকেও আধুনিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার পথে হাঁটতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ফ্রান্সের ফুটবল কাঠামোর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সুশাসনের মাধ্যমে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।   তবে ব্রাজিলের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরোপুরি হতাশ নন পেলের কন্যা। তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগ ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। তিনি বোটাফোগোর উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০২২ সালে মার্কিন ব্যবসায়ী জন টেক্সটর ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণমূলক মালিকানা নেওয়ার পর থেকে দলটির পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি এসেছে এবং তারা আবারও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরেছে।   জন টেক্সটরকে ঘিরে বিতর্ক থাকলেও তার পরিচালন পদ্ধতির কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে বলে মনে করেন নাসিমেন্তো। তার মতে, ক্লাব পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে চেষ্টা তিনি করছেন, তা ব্রাজিলের ফুটবল প্রশাসনের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে তাকে একটি বিস্তৃত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার কাছে জবাবদিহি করতে হয়।   নাসিমেন্তোর বিশ্বাস, ব্রাজিলকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে নিতে হলে শুধু প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি ফুটবল প্রশাসনে সংস্কার, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬

বাংলাদেশ দলকে জরিমানা করল আইসিসি

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়া মিসরকে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা

লিওনেল মেসি ও নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

আমি চাই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতুক : নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত
এমবাপের রেকর্ডের রাতে সেমিফাইনালে ফ্রান্স, গোল্ডেন বুট দৌড়ে পেছনে মেসি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচে একটি করে গোল করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে। এই জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও একাধিক নতুন রেকর্ড গড়েছেন এমবাপে।   বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮-এ। লিওনেল মেসিরও গোল ৮টি হলেও অ্যাসিস্টে (এমবাপে ৩, মেসি ১) এগিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন ফরাসি অধিনায়ক।   ম্যাচের উল্লেখযোগ্য রেকর্ড: একই বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো এক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করলেন এমবাপে। গত ছয় দশকে তার চেয়ে বেশি (৫ বার) এমন কীর্তি রয়েছে শুধু লিওনেল মেসির। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) সেমিফাইনালে উঠল ফ্রান্স। এর আগে জার্মানি ও ব্রাজিলই কেবল এমন ধারাবাহিকতা দেখাতে পেরেছিল। ফ্রান্সের এটি অষ্টম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, যা ব্রাজিলের সমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। উসমান দেম্বেলে বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোল করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, পাঁচটিই এসেছে চলতি বিশ্বকাপে। আর্জেন্টাইন রেফারিদের পরিচালনায় বিশ্বকাপে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচ জিতেছে ফ্রান্স, যা একটি দেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ জয়। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এমবাপের ৮টি জয়সূচক গোল রয়েছে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ। এমবাপে (৮) ও দেম্বেলে (৫) মিলিয়ে একই বিশ্বকাপে পাঁচ বা তার বেশি গোল করা সতীর্থ জুটির তালিকায় ২০০২ সালের ব্রাজিলের রোনালদো–রিভালদো জুটির পর প্রথম নাম লেখালেন। এমবাপে, দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে মিলে চলতি আসরে ২৩টি গোলে অবদান রেখেছেন। যা ২০০২ সালের ব্রাজিলের রোনালদো–রিভালদো–রোনালদিনহো ত্রয়ীর ২০ গোল অবদানের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে (গোল ও অ্যাসিস্ট) অবদান রাখলেন এমবাপে। ২০২২ সালে ছিল ১০টি, আর এবার ইতোমধ্যে ১১টি। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোল ও অ্যাসিস্ট ১১টি, যা ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের ১৩ অবদানের পর এক আসরে সর্বোচ্চ। নকআউট পর্বে বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোল অবদান এখন ১৪টি, যা গত ৬০ বছরে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ফ্রান্সের জার্সিতে টানা ১৫টি সফল পেনাল্টির পর এবার প্রথমবার ব্যর্থ হলেন এমবাপে। এর আগে সর্বশেষ ইউরো ২০২০-এ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোলসংখ্যা এখন ২০, যা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তার ওপরে রয়েছেন শুধু লিওনেল মেসি, যার গোল ২১টি। দিদিয়ের দেশমের অধীনে এমবাপের এটি ২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ, যা একই কোচের অধীনে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের মোট জয় এখন ৪৫টি। ইতালির সঙ্গে যৌথভাবে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল, এরপর জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। ফ্রান্স জাতীয় দলের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০-এর বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখলেন এমবাপে। এখন পর্যন্ত তার অবদান ১০১টি—এর মধ্যে ৬৪ গোল ও ৩৭ অ্যাসিস্ট।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার একাদশে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম

ছবি : সংগৃহীত

অবশেষে ‘অভিশাপ’ থেকে মুক্ত আর্জেন্টিনা

ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয় ব্যাটিংকে ‘জঘন্য’ বলায় শ্রেয়াসকে একহাত নিলেন কার্তিক

ছবি : সংগৃহীত
যে কারণে অনেক ফুটবলপ্রেমীর পছন্দ নয় ব্রাজিল

ব্রাজিল ফুটবল দল তাদের নান্দনিক খেলোয়াড়ি কৌশল এবং বর্ণাঢ্য ইতিহাসের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হলেও, আধুনিক ফুটবলের পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক ফুটবলপ্রেমী এখন দলটির অন্ধ সমর্থন থেকে দূরে থাকছেন। একসময়ের মনকাড়া ‘জোগো বোনিতো’ বা সুন্দর ফুটবলের ঐতিহ্য হারিয়ে ব্রাজিল এখন অনেক বেশি ফলাফল-সর্বস্ব ও রক্ষণাত্মক ফুটবলের দিকে ঝুঁকেছে, যা সাধারণ দর্শকদের বিনোদিত করতে পারছে না।   এর সাথে যোগ হয়েছে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের বিশ্বকাপ খরা। রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ের বৈশ্বিক আসরগুলোর নকআউট পর্ব থেকে বারবার বিদায় নেওয়া এবং দলে অতিরিক্ত মেজাজ ও শৃঙ্খলার অভাব ভক্তদের হতাশ করছে। আধুনিক ফুটবলে জার্মানি, ফ্রান্স বা স্পেনের মতো ইউরোপীয় দলগুলোর ট্যাকটিক্যাল ও শারীরিক শক্তির আধিপত্যের কাছে লাতিন আমেরিকার ফুটবল শৈলী কিছুটা মার খাচ্ছে। এছাড়া ব্রাজিল দল হিসেবে খেলার চেয়ে একক কোনো বড় তারকার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করে ফেলে, যা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে পুরো দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।   ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের সেই ঐতিহাসিক হার বা ‘সেভেন আপ’ ট্রমা এখনো ব্রাজিল ভক্তদের জন্য বড় একটি মানসিক ধাক্কা। এই লজ্জা ও প্রতিপক্ষের ট্রলের ভয়ে অনেকেই এখন দলটিকে সমর্থন করতে ইতস্তত বোধ করেন। তাছাড়া বর্তমানে আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল বা জাপানের মতো দলগুলো অত্যন্ত সংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের নতুন দল বেছে নিতে উৎসাহিত করছে।   তবে ব্রাজিল সমর্থকদের দাবি ভিন্ন। সব ট্রল আর হাসি-ঠাট্টাকে উড়িয়ে দিয়ে তারা মাঠের অর্জন অর্থাৎ তাদের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার গৌরবকেই সামনে নিয়ে আসেন। বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার এই দ্বৈরথ নতুন নয়। পতাকার দৈর্ঘ্য নিয়ে প্রতিযোগিতা, জার্সি মিছিল, কিংবা সেভেন আপ উপহার দেওয়ার মতো বিষয়গুলো এদেশের ফুটবল উৎসবেরই অংশ।   ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও খুনসুটি যেন সবসময় মাঠের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বিরোধে রূপ না নেয়।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
গোলের পর এমবাপ্পের উদযাপন। ছবি : সংগৃহীত

মরক্কোকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত

আমদানি বেড়ে ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারে

ছবি: সংগৃহীত

কুয়ানসার নিষেধাজ্ঞায় কোয়ার্টার ফাইনালের আগে চাপে ইংল্যান্ড

0 Comments