জাতীয়

শহীদ উসমান হাদির আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণা—আবুল কালাম আজাদ

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২১, ২০২৬

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, শহীদ শরীফ উসমান হাদির আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর জীবন ও আদর্শ ন্যায়, ইনসাফ এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়। শহীদদের ইতিহাস ধারণ করেই একটি নৈতিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নওহাটা পৌরসভার শিয়ালবেড় মোড়ে শহীদ শরীফ উসমান হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী নওহাটা পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়।

 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, শহীদ শরীফ উসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি আদর্শের নাম। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, ন্যায়বিচারের প্রতি অটল বিশ্বাস এবং মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, আজকের তরুণ সমাজ নানা সংকট ও বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে শহীদদের জীবনকথা জানানো ও তাঁদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করাই পারে তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে।


তিনি আরও বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির জন্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আদর্শিক দৃঢ়তাও অপরিহার্য। শহীদ শরীফ উসমান হাদির মতো আত্মত্যাগী মানুষের ইতিহাস পাঠ্যক্রম, সামাজিক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাতে করে সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়বে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী নওহাটা পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আশরাফ আলী। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামী নওহাটা পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি দ্বীন ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওহাটা পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মশিউর রহমান। 


আলোচনা সভা শেষে শহীদ শরীফ উসমান হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় তাঁর আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামী বড়গাছী ইউনিয়নের আমির মিলন রহমান। এছাড়াও স্থানীয় নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি: সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ডে দুর্নীতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না: ডেপুটি স্পিকার

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, আমি নির্বাচনের আগেও পকেটে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ঘুরেছি এবং স্পষ্ট বলেছিলাম—কার্ড নিয়ে দুর্নীতি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আজও সতর্ক করছি, এবারও ব্যত্যয় ঘটলে ছাড় দেওয়া হবে না, সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে।     রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি-২০২৬’ এবং ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-২০২৬’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।       ডেপুটি স্পিকার বলেন, পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। পূর্বে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে কাজ না করলেও তাদের সততার অভাব ছিল। যে কারণে তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারেননি। অতীতে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের সময় দেখা গেছে, সুবিধা পাওয়ার কথা যাদের, তাদের না দিয়ে বিল্ডিংয়ে বসবাসকারী স্বচ্ছল ব্যক্তি বা বিবাহসূত্রে অন্য উপজেলায় চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।     তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কলমাকান্দা-দুর্গাপুরবাসীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন বলেই প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলক যে ২-৩টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছিল, তার মধ্যে কলমাকান্দাকে রেখেছিলেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রাহকদের অনিয়মের কারণে এই ভালোবাসার অপব্যবহার হয়েছিল। বিষয়টি ঢাকায় তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী তা আমলে নেন এবং তথ্য সংগ্রহের পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেংগুড়াতে এসে দুদিন অবস্থান করে মাঠপর্যায়ের সমস্যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন।         তথ্য সংগ্রাহকদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এবার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করতে হবে একদম ছাঁপরা ঘর বা গৃহহীন অসহায় মহিলাদের বাড়ি থেকে। পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নাম তালিকায় আনতে হবে। ভুলবশতও যেন শুরুতেই বিল্ডিং বা হাফ-বিল্ডিংয়ের অধিবাসীদের নাম না দেওয়া হয়। যদিও সরকারের প্যাকেজে প্রতিটি নাগরিকেরই কার্ড পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তবে অগ্রাধিকার পাবে অসচ্ছল মানুষ।     মাঠপর্যায়ের গাফিলতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বলা হয়েছিল, তথ্য সংগ্রাহকেরা এমন বাড়িতে যান যেখানে বসে এক কাপ চা বা নুডুলস খাওয়া যায়। কিন্তু দরিদ্রের কুঁড়েঘরে বসতে পারবেন না বলে সেখানে যান না। এবার এই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। সর্বশেষ দরিদ্র ব্যক্তিটির কাছে আগে যেতে হবে।     দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, সরকার আপনাদের কষ্টের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানী দিচ্ছে। এর বাইরে কোনো দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি করলে দুটিই সমান অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আমি নির্বাচনের আগেও পকেটে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ঘুরেছি এবং স্পষ্ট বলেছিলাম—কার্ড নিয়ে দুর্নীতি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আজও সতর্ক করছি, এবারও ব্যত্যয় ঘটলে ছাড় দেওয়া হবে না, সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে।         উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অস্ট্রেলিয়া সেনাবাহিনীর উপপ্রধান মেজর জেনারেল ক্রিস স্মিথ।

সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।

বঙ্গোপসাগরের নিচে বিপুল গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দুই মাসে প্রায় সাতশো কোটি ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধ

কক্সবাজারে আসছে আন্তর্জাতিক পাঁচ তারকা ইকো-রিসোর্ট, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ৫০০ মিলিয়ন ডলার

মালয়েশিয়ার  ধনকুবের ও শীর্ষ  হোটেল- রিসোর্ট  ব্যবসায়ী তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি এবং পর্যটন মন্ত্রী আহমেদ আদিব ও ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।                                                                                                                                                                          এ লক্ষ্যে কুয়ালালামপুরের পুলম্যান হোটেলে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট  ব্যবসায়ী তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব এবং ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান।   প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে একটি বৃহৎ টেকসই ও বিলাসবহুল পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে একটি যৌথ বিনিয়োগ কোম্পানি গঠন করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।   আন্তর্জাতিক হোটেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বের উদ্যোগ: প্রস্তাবিত প্রকল্পের আন্তর্জাতিক পরিচালনা ও ব্র্যান্ড অংশীদারিত্বের জন্য মুভেনপিক, নভোটেল ও গ্র্যান্ড হায়াত-সহ বিশ্বখ্যাত হোটেল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা প্রক্রীয়াধীন এবং  বাণিজ্যিক আলোচনার পর চূড়ান্ত হোটেল ব্র্যান্ড ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে।   প্রস্তাবিত অবকাশকেন্দ্রে বিলাসবহুল হোটেল ও ভিলা, আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র, বিনোদন সুবিধা এবং প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।   মালয়েশিয়ার হোটেল খাতের অভিজ্ঞতা: তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো মালয়েশিয়ার হোটেল ও পর্যটন খাতের একজন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও একাধিক বিশ্বমানের ব্রান্ডেড হোটেলের প্রতিষ্ঠাতা।তাঁর সঙ্গে ফোর সিজনস কুয়ালালামপুর, কনকর্ড হোটেল, কাসা ডেল মার লাংকাউই, কাসা ডেল রিও মালাক্কা, জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট রিসোর্ট, হার্ড রক হোটেল পেনাং এবং হার্ড রক ক্যাফে-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও অবকাশকেন্দ্র উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠায় সম্পৃক্ততা রয়েছে।   সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর তান শ্রী জোজো বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাতের একটি নতুন অধ্যায়ের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত। কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা আমাদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং বিনিয়োগ বান্ধব।”   তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও  কাজে লাগাতে চান।   মালদ্বীপের পর্যটন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে: মালদ্বীপের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব তাঁর দীর্ঘ সরকারি ও পর্যটন খাতের অভিজ্ঞতা এই প্রকল্পে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগকে তিনি  সময়ের সঠীক সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্তব্য করেন।   তিনি বলেন, “মালদ্বীপের পর্যটন উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর এটি একটি অসাধারণ সুযোগ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমি আমার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই উদ্যোগে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”   ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান বলেন, “বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আনা এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব এবং দেশপ্রেমের অংশও বটে। তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আদিবের মতো আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে আগ্রহী—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।”   তিনি বলেন, “আমরা শুধু একটি হোটেল নির্মাণ করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য কক্সবাজারে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র তৈরি করা, যা বাংলাদেশের পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দেশী ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।” প্রস্তাবিত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, বিস্তারিত পর্যালোচনা, স্থান নির্বাচন, সরকারি অনুমোদন এবং চূড়ান্ত বিনিয়োগ চুক্তির ওপর নির্ভরশীল।   কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি বিশ্বমানের টেকসই বিলাসবহুল পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে পাঠানো হয়নি উপহারের মাছ, তৃতীয় দফায় নিলাম ডাকল টিসিবি

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট-ঢাকা ছয় লেন মহাসড়কের কাজ শেষ হবে কবে, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে কিনবে সরকার, ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা: প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
খেলার মাঠে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব

রাজধানীতে ক্যাডেট কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি মাঠে এ ঘটনা ঘটে। তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বন্ধু ও ব্যাচমেটদের সঙ্গে ফুটবল খেলছিলেন আশরাফুল আফসার। খেলার একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। এরপর হাঁটু গেড়ে বসার সময় উপুড় হয়ে মাঠে পড়ে যান।   সঙ্গে থাকা বন্ধুরা দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কেউ বুকে চাপ দিতে থাকেন, আবার কেউ পানি ও মুখে বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সোয়া ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   খেলার মাঠে আশরাফুল আফসারের অসুস্থ হয়ে পড়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।   আফসারের আকস্মিক মৃত্যুতে তার ব্যাচমেট ও বন্ধুদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।   তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে আফসারকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবচর ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামে।   আশরাফুল আফসারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। স্থানীয় সরকার বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা হৃদয় মাহমুদ চয়নের পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি এ শোক প্রকাশ করেন।   শোকবার্তায় মন্ত্রী মরহুম মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।   মন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ একজন দক্ষ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে হারিয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ সময় মরহুমের পরিবারের সদস্যদের এ অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক সহ্য করার শক্তি দিতে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন ড. আবদুল মঈন খান।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাজলিসুল মুফাসসিরীনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

অটিজম ও প্রতিবন্ধিতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার বাংলাদেশের

0 Comments