বর্তমানে বলিউড সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে সময়সীমা বেঁধে শুটিং শিফটের দাবি নিয়ে শোরগোল পড়লেও ‘কল টাইমে’র তোয়াক্কা না করা তারকাদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। দিন দিন যেন বেড়েই চলেছে। এবার এ তালিকায় নাম জড়ালো অভিনেতা শাহিদ কাপুর ও অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরির।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) মুম্বাইয়ে ‘ও রোমিও’ সিনেমাটির ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠান ছিল। এ সিনেমার ট্রেলার অনুষ্ঠানে যে কাণ্ড ঘটল, সেটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন এ দুই তারকা। তারকাদের অনেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে দেড়-দুই দশক কাটিয়ে ফেললেও ‘নিয়মানুবর্তিতা’ তাদের অভিধানে নেই অন্তত অভিনেতা নানা পাটেকরের ক্ষোভপ্রকাশে তেমনই ইঙ্গিত মেলে। যে সিনেমার টিজার বিতর্কের পাশাপাশি উন্মাদনার পারদও চড়িয়েছে, সে সিনেমার ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানে যে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটবে, সেটি বোধহয় নির্মাতারাও ভাবতে পারেননি!
জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কলাকুশলীসহ গোটা টিম এসে হাজির হলেও সিনেমার নায়ক-নায়িকা শাহিদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরি তখনো এসে পৌঁছাননি। এদিকে দেড় ঘণ্টা ঠাঁই পায়ে বসে অপেক্ষা করতে হয় নানা পাটেকরকে।
বলিপাড়ায় নানা পাটেকরের মেজাজ সম্পর্কে অনেকেই অবগত আছেন। যে অভিনেতা বলিউডের প্রযোজককে দিয়ে নিজের বাড়িতে বাসন পর্যন্ত মাজাতে পারেন, তার রণমূর্তি নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকার কথা নয় কারই।
শাহিদ-তৃপ্তির ঘণ্টাখানেক দেরি করে আসা নিয়েই নাকি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন নানা পাটেকর। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায় তাকে। সেই মুহূর্তের ভিডিও ছবিশিকারিদের সুবাদে ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, নানা পাটেকর বারবার হাতঘড়ির দিকে ইশারা করে সময় দেখাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এরপর রাগে গজগজ করতে করতে ‘ও রোমিও’র ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠান ছেড়েও বেরিয়ে যান অভিনেতা। সেলিব্রেটি বলেই কি এত দেরি?
বাকবিতণ্ডার মাঝে এমন কিছু প্রশ্ন ছুড়তেও শোনা যায় অভিনেতাকে। আর সেই ভিডিওই বর্তমানে চর্চার শিরোনামে। যদিও নানা পাটেকরের এহেন আচরণে ড্যামেজ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেছেন বিশাল ভরদ্বাজ।
পরিচালক বলেন, ক্লাসে প্রায়ই এমন একজন বখাটে থাকে যে, অন্য বাচ্চাদের যেমন বিরক্ত করে, ঠিক তেমনই আনন্দও দেয়। তবু সবাই তার আশপাশেই থাকতে চায়। তো, নানা পাটেকর হলেন সে রকমই একজন। আমাদের বন্ধুত্ব ২৭ বছরের পুরোনো, কিন্তু আমরা এই প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করছি।
এরপরই প্রবীণ অভিনেতাকে নিয়ে রসিকতা করে পরিচালক বলেন, নানা পাটেকর এখানে থাকলে মজা হতো। আমাকে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়েছে, আমি চলে যাচ্ছি। আমরা কিছু বলছি না। কারণ এটাই ওকে আজ নানা পাটেকর বানিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিসিয়াল থিম সং নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যস্ত সময় কাটছে বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগীত প্রযোজক, সুরকার ও শিল্পী সানজয়ের। বলিউড তারকা নোরা ফাতেহির সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রচারণামূলক কনসার্টে অংশ নিয়ে ফুটবল উন্মাদনায় মাতিয়েছেন তিনি। তবে সেই বিশ্বমঞ্চের ব্যস্ততার মাঝেও দেশের মানুষের ভালোবাসার টানেই ফিরছেন বাংলাদেশে। আর দেশে ফেরার আগেই ভক্তদের জন্য নিয়ে এলেন বাংলার লোকগান ‘কার জন্য’। দেশের অন্যতম অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রতিষ্ঠান কাইনেটিক মিউজিক থেকে প্রকাশিত গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মাখন মিয়া। জুয়েল মোরশেদ ও রিয়াজ আলীর কথায় নির্মিত গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সানজয়। এতে ঐতিহ্যবাহী লোক ও বাউলসংগীতের আবহকে আধুনিক ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন এক সংগীতধারা উপস্থাপন করা হয়েছে। গানটির মিউজিক ভিডিওতেও রয়েছে ভিন্নধর্মী নির্মাণ। ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহলের মধ্যে সংগীতের মাধ্যমে মুক্তি ও আত্মঅন্বেষণের গল্প উঠে এসেছে এতে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ধারণ করা ভিডিওটির কোরিওগ্রাফি করেছেন রিদি শেখ। নৃত্য পরিবেশন করেছেন শানজিদা জাহান পুষ্প। কাইনেটিক মিউজিকের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু একটি নতুন গান প্রকাশ নয়; বরং বাংলার লোকঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক সংগীতভাষায় নতুনভাবে তুলে ধরা। নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে লোকসংগীতকে আধুনিক আঙ্গিকে পৌঁছে দিতেই এই প্রয়াস। বাংলা ট্রিবিউনকে সানজয় বলেন, “সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে এসেছিলাম। তখনই গানটা করা হয়েছে। শুটিংও সেসময় করা। বিশ্বকাপ ফাইনালের দিনে দেশে কনসার্ট করছি। শুধুমাত্র এ জন্যই আসছি এবার।” তিনি জানান, আগামী ১৮ জুলাই দেশে পৌঁছাবেন। পরদিন ১৯ জুলাই রাজধানীর বনানী পূজা মাঠে আয়োজিত ফ্যানফেস্টে অনুষ্ঠিত হবে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত হোমকামিং কনসার্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ পরিবেশনা। এরপর উপস্থিত দর্শকরা জায়ান্ট স্ক্রিনে একসঙ্গে উপভোগ করবেন বিশ্বকাপের গ্র্যান্ড ফাইনাল। সানজয় দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সংকে ঘিরে নোরা ফাতেহির সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রচারণামূলক কনসার্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে মাখন মিয়া ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’, ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র প্রথম মৌসুমের জনপ্রিয় গান ‘লীলাবালি’ এবং শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে ‘সংস অব বেঙ্গল’ প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে সুপরিচিত। ‘কার জন্য’ গানে মাখন মিয়ার মাটির ঘ্রাণমাখা কণ্ঠ এবং সানজয়ের আধুনিক সংগীতায়োজনের মেলবন্ধন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে একটি নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। একদিকে বিশ্বকাপের আন্তর্জাতিক মঞ্চ, অন্যদিকে বাংলার লোকসংগীতের শেকড়—দুই ভুবনকে এক সুতোয় গেঁথে দেশে ফিরছেন সানজয়। আর সেই ফেরাটা কেবল একটি কনসার্টের জন্য নয়, নিজের মাটি, নিজের ভাষা ও নিজের সংগীতের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরিরও এক উপলক্ষ।
জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি এখন অনেকটাই দূরে সরে গেছেন। বর্তমানে রুপালি পর্দায় তাকে দেখা না গেলেও সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনায় আছেন তিনি। আবারও আলোচনায় এলেন অভিনেত্রী। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১২টা ২০ মিনিটে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী। চার বছর আগে র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া নিয়ে সেই পোস্টে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন পরীমনি। ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে’ এবং ‘বিশেষ মহলের স্বার্থে’ গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে মনে করেন তিনি। সেই ঘটনায় তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি— তার হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি আর জীবনের মূল্যবোধ আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কিনা। র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন— সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে তিনি এমন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পেরেছেন— বনানীতে তার বাসায় দীর্ঘ অভিযানের পর তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের একটি অধ্যায় আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন— সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ পরীমনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময় আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়।’ অভিনেত্রী বলেন, গ্রেফতারের পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ওই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হিসেবেই জীবন কাটাচ্ছেন। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা ও চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’ রাষ্ট্রকে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?’ প্রতিশোধ নয়, সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকতে চান বলে জানিয়েছেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ছোট করতে চাই না, কাউকে অপমানও করতে চাই না। আমি শুধু চাই— ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন।’ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।’ উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে অভিনেত্রী পরীমনিকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব-১। পরে র্যাবের কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছিলেন। মাদক মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে— পরীমনির বাসা থেকে বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) এবং একটি এলএসডি ব্লট উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এ মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১০-এ সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে ২০২১ সালের ৮ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরীমনির আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে একই ঘটনার জেরে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তার অভিযোগ, বোট ক্লাবে অ্যালকোহল বিনামূল্যে দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন এবং গ্লাস ছুড়ে মারেন। সেই মামলাটিও বিচারাধীন।
দেশীয় অন্তর্জাল জগতে সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত সিরিয়াল 'নীহারিকা সেন' এর টিজার প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশের পর এটি নিয়ে দর্শকমহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। টিজারটি দেখার সবাই ব্যাপক প্রশংসা করছেন। আর এটির নাম ভূমিকায় অর্থাৎ নীহারিকা সেন চরিত্রে অসাধারণ প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে দারুন আলোচনায় চলে এসেছেন মডেল - অভিনেত্রী সিফাত নুসরাত। টিজার প্রকাশের পর ব্যাপকভাবে প্রশংসিত এই উঠতি তারকা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নীহারিকা সেন আমার ক্যারিয়ারের একটা টার্নিং পয়েন্ট বলা যেতে পারে। যদিও এটা আমার প্রথম কাজ নয়। তবুও বলা যায়, নীহারিকা সেন নাম চরিত্রে অভিনয় করে আমার ক্যারিয়ার একটা ব্যস্ত অবস্থানে চলে গেছে। আমার পেশাগত পরিচিতি এবং কাজ অনেক বেড়ে গেছে। এখন এমন সব মানসম্মত কাজের অফার আসছে, যেসব কাজের জন্য আমি অপেক্ষা করে থাকতাম। নীহারিকা সেন অনেক বড় কাজ। টিজার রিলিজের পরে যে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছি, তাতে আমি নিজের ক্যারিয়ার অত্যন্ত আশাবাদী। সিফাত নুসরাত জানান, নীহারিকা সেন সিরিয়ালটির বাকি কলাকুশলীদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ডিরেক্টর হিসেবে প্রথম এপিসোডে কাজ করেছেন নাজিরী সাগর। আর এটির নাম ভূমিকায় অভিনয়ের পাশাপাশি এটি রচনাও করেছেন সিফাত নুসরাত নিজেই। চিত্রনাট্য রচনা করেছেন মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন ফাহাদ। নীহারিকা সেন এর এই চ্যাপ্টারে আরও দু'টি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনিরা মিঠু ও মীর রাব্বি। নিজের সৃষ্ট চরিত্র নীহারিকা সেন নিয়ে দর্শক - ভক্তদের সামনে আসাটা তাই লাস্যময়ী মডেল - অভিনেত্রী সিফাত নুসরাতের জন্যে দারুন সৌভাগ্যের। বর্তমানে নীহারিকা সেন এর চ্যাপ্টার টু এর শুটিং করতে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন ট্যালেন্টেড বিউটি খ্যাত সিফাত নুসরাত। 'নীহারিকা সেন' এর নির্মাতা নাজিরী সাগর বলেন, বাংলাদেশে নারী ডিটেকটিভ চরিত্র খুব একটা দেখা যায় না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সিফাত নুসরাতের উপস্থিতি যেনো নতুনত্ব এনে দিয়েছে। তিনি শুধু সৌন্দর্য দিয়ে নয় বরং নিজের ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা এবং অভিনয় দক্ষতা দিয়ে এবার হয়তো অন্যরকমের একটা চরিত্রকে খুব দারুণভাবেই প্রাণবন্ত করে তুলবেন। সিফাত নুসরাত আসলে এমন একজন শিল্পী যিনি মেধা আর উপস্থিতি দুটোকেই সমান শক্তিতে পর্দায় তুলে ধরতে জানেন।