অর্থনীতি

স্বর্ণের দাম বাড়ছে তিন কারণে, কমছে এক কারণে

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন উচ্চতায় উঠেছে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের খোঁজ—সব মিলিয়ে স্বর্ণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রবাহ তৈরি হয়েছে। সোমবার প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে ৫ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। যদিও সাম্প্রতিক দিনে দাম কিছুটা কমেছে, তবুও স্বর্ণ এখনও বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

একই সঙ্গে রুপার দামেও বড় উত্থান দেখা গেছে। বর্তমানে প্রতি আউন্স রুপা লেনদেন হচ্ছে প্রায় ৯৮ ডলারে, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ৩৫ ডলার।

 

স্বর্ণের দাম বাড়ার তিন কারণ:

১. ট্রাম্প-ঘিরে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের এই উল্লম্ফনের অন্যতম বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি। যেসব দেশকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনুকূল মনে করছেন না, তাদের ওপর শুল্ক আরোপ বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

 

হ্যারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ এমা ওয়াল বলেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, যা স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রেখেছে। জানুয়ারিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠলেও, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকির কারণে শেয়ারবাজারে পতন দেখা যায়।

 

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইনের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র ও রাজস্বনীতির ঝুঁকির তুলনায় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা, ফলে ধাতুটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

 

২. যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

 

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং এর ফলে মার্কিন ডলারের ওপর আস্থা কমেছে। বিনিয়োগকারীরা তখন নিরাপদ বিকল্প হিসেবে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকেছেন। ট্রাম্পের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক ঘোষণার পর ডলার তার মেয়াদে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায়।

 

এমা ওয়াল বলেন, ‘বিশ্ব যখন অগোছালো মনে হয়, তখন স্বর্ণ ঠিক তার স্বভাবসুলভ কাজটাই করে—বাণিজ্য উত্তেজনা, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দাম লাফিয়ে বাড়ে।

 

৩. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনা
স্বর্ণের দামের উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনা। এমা ওয়ালের ভাষায়, বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণকে তাদের পছন্দের রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে দেখছে, কারণ এটি তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ওপর নির্ভরতা থেকে কিছুটা মুক্ত রাখে।

 

রাশিয়ার ডলার সম্পদ জব্দের উদাহরণ অনেক দেশকে নিরপেক্ষ রিজার্ভ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যদিও ২০২২ সালের তুলনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার গতি কিছুটা কমেছে, তবুও চাহিদা এখনও তুলনামূলক বেশি।

 

চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ ক্রেতা। সেখানে গহনা কেনার পাশাপাশি বিনিয়োগ হিসেবেও স্বর্ণের চাহিদা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর বিনিয়োগকারীরাও শেয়ারবাজারভিত্তিক স্বর্ণ ব্যবসায় যুক্ত কোম্পানিগুলোতে বিপুল অর্থ ঢালছেন। পাশাপাশি নতুন ক্রেতারাও বাজারে বড় আকারে প্রবেশ করেছে। উদাহরণ হিসেবে, ডিজিটাল মুদ্রা প্রতিষ্ঠান টেথার সম্প্রতি এত স্বর্ণ কিনেছে যে তাদের রিজার্ভ নাকি কিছু ছোট দেশের রিজার্ভকেও ছাড়িয়ে গেছে।

 

দাম কমছে এক কারণে
সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমার পেছনেও স্পষ্ট কারণ রয়েছে। বাজারে আশঙ্কা ছিল, ট্রাম্প এমন একজন ফেড চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে পারেন যিনি সুদের হার কমানোর দাবিতে নতি স্বীকার করবেন। এতে ডলার দুর্বল হবে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে—যা সাধারণত স্বর্ণের দামের পক্ষে যায়।

 

কিন্তু যখন খবর আসে যে ট্রাম্প তুলনামূলকভাবে ‘কঠোর’ হিসেবে পরিচিত কেভিন ওয়ার্শকে ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারেন, তখন স্বর্ণের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ কিছুটা কমে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার এক পর্যায়ে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের নিচেও নেমে আসে।

 

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দাম কমলেও স্বর্ণ এখনো এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। চলমান যুদ্ধ, শুল্কনীতি ও নতুন শুল্কের হুমকি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা স্বর্ণ ও রুপাকে এখনও বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবেই ধরে রেখেছে।

 

শুক্রবারের দামের অস্থিরতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—স্বর্ণ যেমন দ্রুত বাড়তে পারে, তেমনি সব পণ্যের মতোই এর দাম দ্রুত কমেও যেতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
নাম বদলে কালো টাকা হচ্ছে ‘মূলধনি আয়’

আগামী অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আছে কি নেই—এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা, বিশ্লেষণ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, আগামী বছরও এ সুযোগ থাকছে, তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে নেই। এ বিতর্কের মধ্যেই কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয়ের নতুন নাম দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা। তারা বলেছেন, বাজেটে যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাকে কালো টাকা বলা যাবে না। সেটা হলো ক্যাপিটাল গেইন বা মূলধনি আয়। তবে এনবিআরের এই নামকরণকে অযৌক্তিক বলেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, অপ্রদর্শিত আয় মূলধনি আয় হতে পারে না। মূলধনি আয় ভিন্ন বিষয়। চলতি বাজেটের মতো আগামী জাতীয় বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। তবে বাজেট বক্তৃতায় সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও জমি ও ফ্ল্যাট কেনায় ভিন্নভাবে এ সুযোগ রাখা হয়েছে। মূলত জমি ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এ সুযোগ বেশি দেখা যায়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে মৌজা রেট বা নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারের প্রকৃত দামের বড় ধরনের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। এই নীতিমালার দুর্বলতার কারণেই অনেক টাকা অপ্রদর্শিত বা ‘কালো’ হয়ে যায়। অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ এবার যেন জাতীয় বাজেটে না থাকে, সেই দাবি বিভিন্ন মহল থেকে আগেই জানানো হয়েছিল। আগামী অর্থবছরও জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত বা বাজারমূল্যের যে অংশটুকু দেখানো হয় না, সে অংশের টাকা করদাতা তার রিটার্নে উল্লেখ করতে পারবে এবং নির্ধারিত হারে কর দিয়ে তার অপ্রদর্শিত অর্থকে আয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে আয়কর রিটার্নে তাকে ঘোষণা দিতে হবে যে, এ টাকা সে জমি বিক্রি করে আয় করেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে তার এ আয় বৈধ হয়ে যাবে। তবে এটিকে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয় কোনোটাই বলতে রাজি নন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। অপ্রদর্শিত এই আয়ের নাম কী হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা মূলত ক্যাপিটাল গেইন। ব্যক্তি তার মূলধনি সম্পদ বিক্রি করে এই আয় করেছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরুন আপনার একটি জমি বিক্রি করেছেন ১০ লাখ টাকায়। কিন্তু এটার মৌজা মূল্য ২ লাখ টাকায় জমি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তাহলে বাকি ৮ লাখ টাকা ওই অর্থবছরেই আয়কর রিটার্নে দেখাতে পারবেন। রিটার্নে দেখানোর সময় আপনাকে বলতে হবে যে, এই অর্থ আপনার জমি বিক্রি থেকে আয় করেছেন। নির্ধারিত হারে কর দিলে এ আয় বৈধ হয়ে যাবে। এ সুযোগ চলতি বাজেটেও রয়েছে। আর্থিক বাজার বিশ্লেষকরা বলেছেন, ক্যাপিটাল গেইন হলো মূলধনি মুনাফা, যা কোনো সম্পদ (যেমন: জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার বা স্বর্ণ) কেনার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে অর্জিত লাভ। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি যদি একটি সম্পদ ১০ লাখ টাকায় কিনে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করেন, তাহলে তার ক্যাপিটাল গেইন হবে ২ লাখ টাকা। এই লাভের ওপর সরকার যে কর ধার্য করে, তাকে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বলা হয়। তবে এ অপ্রদর্শিত আয়কে কোনোভাবেই ক্যাপিটাল গেইন বলা যায় না বলে অভিমত সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের। তিনি বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যান কী বলেছে সেই তর্কে আমি যাচ্ছি না। তবে এটাকে আমি কোনোভাবে ক্যাপিটাল গেইন হিসেবে দেখছি না। আমি যেটা দেখেছি, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এটা জমি ক্রয়-বিক্রয়ের যে অপ্রদর্শিত আয়, সেটা বৈধ করার সুযোগ এবারও রাখা হয়েছে। এ ধরনের সুযোগ বারবার দেওয়া হলেও সরকারের রাজস্ব আয় খুব একটা বাড়ে না, বরং এটি সৎ করদাতাদের জন্য একটি ‘মরাল হ্যাজার্ড’ বা নৈতিক ঝুঁকি তৈরি করে বলে মনে করেন তিনি। মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, মৌজা রেটের নীতিমালার দুর্বলতার কারণেই অনেক টাকা অপ্রদর্শিত বা ‘কালো’ হয়ে যায়। সরকার মৌজা রেট হালনাগাদ করার কথা বলছে; হয়তো নীতিমালার পরিবর্তনের আগে এটিই হবে ‘শেষ’ সুযোগ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাজেট উদ্যোগকে স্বাগত, তবে উদ্বেগ প্রকাশ করে একগুচ্ছ দাবি বিএবির

ছবি: সংগৃহীত

রডের দাম বাড়ার পেছনে সিন্ডিকেট নেই: সিএসআরএম চেয়ারম্যান

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

৬ হাজার ৮৮০ কোটি কীভাবে ২২ হাজার কোটি টাকা হলো

 ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্রামীণ ক্ষুদ্র অর্থায়ন কর্মসূচিটি। মন্ত্রী দাবি করেছেন, আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনের আগে ১১ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে ইসলামী ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য বলছে, বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় মোট ঋণ বা বিনিয়োগ স্থিতি ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।   এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প কীভাবে ২২ হাজার কোটি টাকার বিতরণে রূপ নিলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা অর্থের উৎস, সময়কাল ও হিসাবের ভিত্তি কী?   মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধির আওতায় আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র এবং বিশেষ করে নারী গ্রাহকদের ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হয়। তার দাবি, নির্বাচনের আগে ভোট প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।     মন্ত্রী বলেন, ‘এই আরডিএস প্রকল্পের মধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকা ডিস্ট্রিবিউট হয়েছে। ১১ হাজার কোটি টাকা আগে দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর কোনও হদিস নেই।’   তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্পের মোট আকারই যেখানে ৭ হাজার কোটি টাকার কম, সেখানে ২২ হাজার কোটি টাকার বিতরণের তথ্য কোথা থেকে এলো।   ইসলামী ব্যাংকের তথ্য কী বলছে   রবিবার (১৪ জুন) ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র আরডিএস প্রকল্পের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করে। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৫৯২ জন এবং মোট বিনিয়োগ স্থিতি ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। একই সময়ে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ২ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা এবং আদায়ের হার ৯৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।   অর্থাৎ বর্তমানে মাঠপর্যায়ে গ্রাহকদের কাছে বকেয়া বা চলমান ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।   ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আরডিএসের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হয় ৭ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ওই বছরই ফেরত আসে ৬ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে বিতরণ করা হয় ৬ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ওই বছরই ফেরত আসে ৬ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে বিতরণ করা হয় ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ফেরত আসে ৬ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) বিতরণ হয়েছে ২ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফেরত এসেছে ২ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা।   তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিতরণ করা অর্থের বড় অংশই একই বছরের মধ্যে আদায় হয়ে যায়। ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণ হলেও বছর শেষে স্থিতি থাকে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে।   স্থিতি আর বিতরণ— দুই হিসাব এক নয়   ব্যাংকারদের মতে, আরডিএসের মতো ক্ষুদ্র অর্থায়ন প্রকল্পে একই অর্থ একাধিকবার ঘুরে ফিরে বিতরণ হয়। একজন গ্রাহক ঋণ নিয়ে কিস্তিতে পরিশোধ করলে সেই অর্থ আবার অন্য গ্রাহককে ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়। ফলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঋণের স্থিতি এবং কয়েক বছরের মোট বিতরণ—দুই ধরনের হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা।   উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, শুধু ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেই আরডিএসের মাধ্যমে প্রায় ২১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিতরণ হয়েছে। এর সঙ্গে ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসের ২ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা যোগ করলে মোট বিতরণ দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে আদায় হয়েছে বা ফেরত এসেছে ২২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। ফলে বর্তমানে চলমান ঋণের স্থিতি রয়েছে ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।   ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি কয়েক বছরের মোট বিতরণকৃত অর্থের হিসাব উল্লেখ করে থাকেন, তাহলে ২২ হাজার কোটি টাকার অঙ্কটি ব্যাখ্যা করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু যদি তিনি বর্তমান প্রকল্পের আকার বা বিদ্যমান ঋণ স্থিতিকে বোঝাতে এই সংখ্যা ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তা ইসলামী ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   নির্বাচনের আগে-পরে কত টাকা বিতরণ   ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসে আরডিএসের আওতায় মোট ২ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।   এর মধ্যে নভেম্বরে ৬৫৪ কোটি, ডিসেম্বরে ৬৭০ কোটি, জানুয়ারিতে ৫৩০ কোটি এবং ফেব্রুয়ারিতে ৫০৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়।   একই সময়ে আদায় হয়েছে ২ হাজার ২১১ কোটি টাকা।   অর্থাৎ নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক ধারায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম চললেও ইসলামী ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে কোথাও ১১ হাজার কোটি কিংবা ২২ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বিতরণের তথ্য পাওয়া যায়নি।   মূল প্রশ্নের উত্তর কোথায়   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং ইসলামী ব্যাংকের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের সংখ্যাগত পার্থক্য দেখা দেওয়ায় এখন মূল প্রশ্ন একটাই—২২ হাজার কোটি টাকার হিসাবটি কোন সময়ের, কোন ভিত্তির এবং কোন উৎস থেকে নেওয়া?   বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্পে ঋণের স্থিতি ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। অন্যদিকে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের মোট বিতরণকৃত অর্থ যোগ করলে তা ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। ফলে ‘বিতরণ’ এবং ‘ঋণ স্থিতি’—এই দুই ভিন্ন হিসাবের মধ্যে বিভ্রান্তি থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।   তাদের মতে, বিষয়টি স্পষ্ট করতে হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকার দাবির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করা প্রয়োজন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬

বৈশ্বিক সংকটেও কনটেইনার-কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ডের পথে চট্টগ্রাম বন্দর

ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি চাকরিজীবীদের অবসরে পেনশন অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি

ছবি: সংগৃহীত
বাজেটের সুফল তিন খাতে সুষম বণ্টন করা হয়েছে: সড়কমন্ত্রী

এবারের (২০২৬-২৭ অর্থবছর) বাজেট ৩ জায়গায় চমৎকারভাবে বিন্যাস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।   শনিবার (১৩ জুন) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।   সড়কমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত চিন্তাশীল বাজেট এর আগে হয়নি। জনপ্রত্যাশার বাজেট দেয়া হয়েছে। তিন জায়গায় চমৎকারভাবে বাজেট বিন্যাস করা হয়েছে। দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬

ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা বিশেষ ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

বিদেশে থেকেও আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ, বাজেটে নতুন ব্যবস্থা

ফাইল ছবি

ইসলামী ব্যাংকে কেন তৈরি হলো নগদ সংকট?

0 Comments