ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হুমকির মধ্যেই যুদ্ধ এড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় যুদ্ধ প্রস্তুতির তোড়জোড় এখনো লক্ষ্যণীয়।
একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর নেতৃত্বে এক বিশাল নৌবহর ইরানের জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান তাদের সামরিক ভাণ্ডারে এক হাজারটি নতুন ড্রোন যুক্ত করে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংকট ২০২৬ সালে এসে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সামরিক শক্তিতে বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও ইরানও সক্ষমতার দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে। সামরিক দিক থেকে ইরান বৈশ্বিক শীর্ষ ১৫ দেশের একটি।
বিশাল জনশক্তি ও বাহিনী
ইরানের রয়েছে বিশাল সামরিক জনবল। দেশটির সামরিক বাহিনী মূলত দুটি সমান্তরাল শাখায় বিভক্ত—সেনাবাহিনী এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস।
দুই বাহিনী মিলে ইরানে প্রায় ছয় লাখ ১০ হাজার সক্রিয় সেনা রয়েছে। সক্রিয় সেনা ছাড়াও রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ রিজার্ভ সেনা। এ ছাড়া ইরানের রয়েছে ১০ লাখেরও বেশি আধা সামরিক সদস্য, যারা প্রয়োজনে যুদ্ধের ময়দানে নামতে সক্ষম।
প্রক্সি নেটওয়ার্ক
ইরানের সামরিক সক্ষমতার আলোচনায় তাদের ‘প্রক্সি নেটওয়ার্ক’ বা আঞ্চলিক মিত্র বাহিনী সবচেয়ে বড় শক্তি। ইরান এই নেটওয়ার্ককে তাদের ‘প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর’ হিসেবে বিবেচনা করে। একে তারা নাম দিয়েছে ‘অক্ষশক্তি’।
লেবাননের হিজবুল্লাহ ঘোষণা দিয়েছে, ইরানের ওপর কোনো আঘাত তারা নিজেদের ওপর আঘাত বিবেচনা করবে। ইয়েমেনের হুথি, ইরাকে ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’-এর অধীনে শিয়া মিলিশিয়া কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও আল-নুজাবা, সিরিয়ার মিলিশিয়া ও ফাতেমিউন ব্রিগেড ইত্যাদি ইরানের সরাসরি সমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্ক।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি
ইরানকে বলা হয় মধ্যপ্রাচ্যের ‘ক্ষেপণাস্ত্রের পাওয়ার হাউস’। তাদের কাছে কয়েক হাজার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল রয়েছে। ইরান দাবি করে, তাদের কাছে আধুনিক ‘ফাত্তাহ-১’ ও ‘ফাত্তাহ-২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা শব্দের চেয়ে ১৩ থেকে ১৫ গুণ দ্রুত চলতে সক্ষম এবং রাডার ফাঁকি দিতে পারে।
এছাড়া খোরামশাহর, সেজ্জিল এবং শাহাব-৩ নামের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ইরানের ভাণ্ডারে, যা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত করতে সক্ষম।
ড্রোন বা ইউএভি সক্ষমতা
আধুনিক যুদ্ধে অন্যতম প্রধান অস্ত্র হলো ড্রোন। শাহেদ-১৩৬ নামের অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন রয়েছে ইরানের। স্বল্প খরচে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি এই ড্রোন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।
ইরানের তৈরি ড্রোন বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নৌ ও স্থল সক্ষমতা
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে ইরানের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তাদের কয়েকশ ছোট ও দ্রুতগামী আক্রমণকারী বোট এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাবমেরিন রয়েছে।
এছাড়া প্রায় দেড় হাজারের বেশি ট্যাঙ্ক এবং সাড়ে চার হাজারের বেশি আর্টিলারি গান নিয়ে তাদের স্থল বাহিনীও শক্তিশালী।
কৌশলগত সীমাবদ্ধতা
ইরানের কিছু কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে। এফ-১৪, মিগ-২৯ মতো অধিকাংশ যুদ্ধবিমান পুরনো। তারা রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক সু-৩৫ বিমান সংগ্রহের চেষ্টা করছে, তবু আকাশপথে পশ্চিমা শক্তির তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে।
এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ইরান ‘বাভার-৩৭৩’ এর ওপর নির্ভর করে, যা রাশিয়ার এস-৩০০ এর সমতুল্য।
ইরান হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই তারা প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করার সম্ভাবনা দেখিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সার্বিয়ায় প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই তার প্রথম সার্বিয়া সফর। সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন জেলেনস্কি। ইউরোপে মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে সার্বিয়ার অবস্থান বিবেচনায় এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে জেলেনস্কি ও সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিচের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও বক্তব্য দেবেন। ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য, জেলেনস্কির এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো সার্বিয়াকে রাশিয়ার প্রভাববলয় থেকে দূরে নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে বেলগ্রেডের সঙ্গে কিয়েভের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে আবারও স্পষ্ট করেছেন ভুচিচ। তার মতে, এ বিষয়ে সার্বিয়ার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং বর্তমান নীতিই অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের নিন্দা জানালেও মস্কোর বিরুদ্ধে কোনো অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি সার্বিয়া। বেলগ্রেডের এই অবস্থান দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়াকে জটিল ও দীর্ঘায়িত করছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ইসরাইলে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৯২ সালে অতিবেগুনি রশ্মির মারাত্মক ঝুঁকি থেকে মানুষকে সতর্ক করতে বিজ্ঞানীরা যে ‘ইউভি ইনডেক্স’ বা সূচক তৈরি করেছিলেন, বর্তমানের তরুণরা সেটিকে ক্ষতিকর মনে না করে বরং দ্রুত গায়ের রং তামাটে বা ব্রোঞ্জ কালার করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি ইসরাইলে তাপমাত্রা ৮২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছানোর পর এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর যখন সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে সরাসরি রোদে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়, ঠিক তখনই ১৬ বছর বয়সি আবিগেইল ওয়লফের মতো বহু তরুণী সৈকতে ছুটে যায়। আবিগেইল জানান, ইনডেক্সে ১০ বা ১১ দেখলে তিনি দ্রুত ভালো ট্যান পাওয়ার জন্য ৪০ মিনিটের মতো রোদে অবস্থান করেন। ইসরাইলের প্রধান স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লেলিত হেলথ সার্ভিসেস’-এর সিনিয়র পেডিয়াট্রিক ডার্মাটোলজিস্ট ডা. ইফ্রাত বার-ইলান অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বিগত দুই বছর ধরে তরুণদের মধ্যে এই বিপজ্জনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভবিষ্যতের ক্যানসারের কথা না ভেবে তারা কেবল তাৎক্ষণিক সুন্দর লুক বা গ্লো পেতে চায়। মূলত অতিবেগুনি রশ্মির মধ্যে ইউভিএ রশ্মি ত্বককে কালচে করে এবং স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ইউভিবি রশ্মি ত্বকের উপরের স্তর পুড়িয়ে ডিএনএ-এর ক্ষতি করে। এর ফলে ত্বকে রোদে পোড়া ভাব, অকাল বার্ধক্য ও বলিরেখা পড়ার পাশাপাশি নিশ্চিত ক্যানসারের মতো ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও কিশোর-কিশোরীরা ৬০ বা ৭০ বছর বয়সে কী হবে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র পরোয়া করতে চায় না। ত্বকের ক্যানসারের ক্ষেত্রে বেসাল সেল এবং স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে সার্জারির মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। তবে মেলানোমা নামক মারাত্মক ক্যানসার পিগমেন্ট কোষে শুরু হয়ে ফুসফুস, লিভার বা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে তা জীবননাশক হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মেলানোমা আক্রান্ত দেশের তালিকায় ৩০টি দেশের মধ্যে ইসরাইলের অবস্থান ২৩তম হলেও, ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশনের মতে এখানকার প্রায় ৯১ শতাংশ ক্যানসার অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ার কারণে মৃত্যুর হার বেশ কম এবং আক্রমণাত্মক মেলানোমার হারও কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তা সত্ত্বেও দ্রুত রোদ পোহানোর নেশা কমছে না। হাইফা সৈকতে ১০ ইউভি ইনডেক্সের মধ্যেও রোদে শুয়ে থাকা মিশল পেরেজ স্বীকার করেছেন যে তিনি জেনেশুনেই নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন, তবুও সৈকতে সময় কাটানো তার জীবনের অন্যতম আনন্দ। বিশেষজ্ঞরা যখন সানস্ক্রিন, টুপি, চশমা ব্যবহার এবং ১১ ইনডেক্সের সময় রোদে না যাওয়ার পরামর্শ দেন, তখন অনেক তরুণ সেই পরামর্শ মানতে নারাজ। শোন ব্রেনার নামের এক তরুণ দাবি করেন যে সানস্ক্রিনের রাসায়নিক উপাদান রোদের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। তবে ডা. বার-ইলান স্পষ্টভাবে জানান যে অনুমোদিত সানস্ক্রিন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং অপরিকল্পিত ইউভি রশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্ষতি ও ক্যানসারের ঝুঁকি পুরোপুরি প্রমাণিত। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি তাদের। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত ‘সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও শর্ত’ রয়েছে। মোহেবি বলেন, ‘আমাদের কাছে হরমুজ প্রণালি শুধু একটি অর্থনৈতিক নৌপথ নয়, বরং এটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তির একটি উপাদান।’ তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক পথ খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সব শর্ত ‘পুরোপুরি মেনে নিতে হবে’ এবং আঞ্চলিক আলোচনায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখনই ইরানের শর্ত মেনে নেবে, তখনই হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খুলে দেওয়া হবে।’ এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে, সে বার্তাই দিল তেহরান। একই সঙ্গে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান হবে—এমন ধারণাও নাকচ করেছে আইআরজিসি।