প্রবাসী

মালয়েশিয়ায় যাত্রীদের জন্য জারি হলো কঠোর স্বাস্থ্যবিধি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬

নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিপাহ ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশ—বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আগত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জুলকেফলি আহমেদ জানান, দেশটির সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। এর অংশ হিসেবে আগত যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে জ্বর বা উচ্চ তাপমাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ হওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ও ভারতকে উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন দেশ হিসেবে বিবেচনা করে এই দুই দেশ থেকে আগত যাত্রীদের ওপর বাড়তি সতর্কতা ও পরীক্ষা চালানো হবে। তবে এ জন্য আলাদা কোনো প্রবেশ রুট বা লেন নির্ধারণ করা হয়নি। কোনো যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পাওয়া গেলে তাকে পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

 

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসসহ যেকোনো সম্ভাব্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

 

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
এক সপ্তাহে ১২ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠালো সৌদি আরব

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান জোরদার করে গত এক সপ্তাহে ১২ হাজার ২৯২ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২৭ হাজারের বেশি অভিবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। খবর গালফ নিউজের   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ২৭ হাজার ৪৪৫ জন অভিবাসী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ হাজার ৪১২ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৩৩ জন নারী। বহিষ্কারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৬ হাজার ৯১২ জনকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনে ট্রাভেল পারমিট (আউটপাস) সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ১৭৪ জনকে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। গত ২৫ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত যৌথ অভিযানে মোট ১৫ হাজার ৫৯১ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ হাজার ৭৫৯ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৪ হাজার ৪৮৮ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৩৪৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। একই সময়ে অবৈধভাবে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৬২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৪৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টার সময় আরও ৫৮ জনকে আটক করা হয়। সৌদি পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, পরিবহন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তা করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির ভেনিসে আরআইসি একাডেমির নতুন এডুকেশন সেন্টারের যাত্রা শুরু

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের সেবায় চালু হলো দেশের প্রথম থানাভিত্তিক ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা, দালালচক্র থেকে সতর্ক থাকতে দূতাবাসের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৪৬ জন আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন, অননুমোদিত কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।   সর্বশেষ পৃথক তিনটি অভিযানে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতা ও নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদেশিকর্মী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা, অবৈধ শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মালয়েশিয়া সরকার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এসব অভিযান তারই ধারাবাহিকতা।   সবচেয়ে বড় অভিযানটি পরিচালিত হয় সেলাঙ্গরের ক্লাংয়ের পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র প্লাজা জিএমে। ‘অপস মেগা’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ৩২৭ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে চীন, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ৮৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।   ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করলেও ড্রোন নজরদারি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তদন্তে সহায়তার জন্য ১১ জন মালয়েশীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও সমন জারি করা হয়েছে।   দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এতে মোট ১২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন।   সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাও ব্যর্থ একই সময়ে কেলান্তান সীমান্তে পৃথক বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশের আটজনসহ মোট ১৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ইন্দোনেশীয় পুরুষ, একজন ইন্দোনেশীয় নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী রয়েছেন।   ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন মালয়েশিয়ায় প্রবেশে কালোতালিকাভুক্ত ছিলেন। তারা সীমান্তের অননুমোদিত পথ বা ‘ইঁদুরপথ’ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এড়িয়ে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন।   অভিযানে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মোট আটটি পাসপোর্ট এবং একটি প্রোটন প্রেভে গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।   নির্মাণ খাতেও অভিযান এদিকে পাহাংয়ের ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে একটি নির্মাণ প্রকল্পে পরিচালিত অভিযানে আরও ৪৭ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মোট ৫৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ৪৭ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। পরে তাদের কেমায়ান ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।   পাহাং ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালিত হয়।   সরকারের কঠোর বার্তা সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন, একক সমন্বয় ব্যবস্থার আওতায় আনা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অবৈধ কর্মসংস্থান দমনে একাধিক পদক্ষেপ এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভিযানের লক্ষ্য শুধু অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার নয়; বরং বিদেশি কর্মী নিয়োগে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, মানবপাচার চক্রের তৎপরতা এবং অবৈধ শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে আনা। একই সঙ্গে বৈধভাবে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি অধিক সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য।   বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এসব অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মীদের অবশ্যই বৈধ ভিসা, কার্যকর ওয়ার্ক পারমিট এবং অনুমোদিত নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় শুধু কর্মী নয়, নিয়োগদাতা এবং আশ্রয়দাতার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং অননুমোদিত বিদেশি কর্মসংস্থান দমনে দেশজুড়ে সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা উদ্বেগের: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি দমনে অভিযান, আটক হচ্ছেন বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা

ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ের বিগ টিকিটে ২৫ হাজার দিরহাম জিতলেন ওমানপ্রবাসী ভারতীয়

ছবি: সংগৃহীত
প্যারিসের মেয়রের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি

বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনির আলোকচিত্রভিত্তিক গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের টাউন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্যারিসের বর্তমান মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে বইটি গ্রহণ করেন এবং এর শিল্পগুণ ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের প্রশংসা করেন।   স্থানীয় সময় ৩০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে মেয়রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন ফরিদ আহাম্মদ রনি। এ সময় প্যারিসকে কেন্দ্র করে নির্মিত তার আলোকচিত্রভিত্তিক প্রকাশনা, এর নান্দনিক উপস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বইটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে মেয়র ভবিষ্যতে রনিকে বিশেষভাবে সম্মানিত করার আগ্রহও প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।   একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী হিসেবে প্যারিস সিটি প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে প্যারিসের সাবেক মেয়র আন্নে ইদালগোর সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। সে সময়ও তিনি ‘প্যারিসের ছবি’ গ্রন্থটি উপহার দেন এবং ইতিবাচক সাড়া পান।   বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি—এই তিন ভাষায় প্রকাশিত ‘প্যারিসের ছবি’ গ্রন্থে প্যারিসের ঐতিহাসিক স্থাপত্য, শিল্প-ঐতিহ্য, নগরজীবন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আলোকচিত্র ও বর্ণনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। বইটি শুধু একটি ফটোবুক নয়, বরং শিল্প, ইতিহাস ও নগরসংস্কৃতির একটি সৃজনশীল দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বইটি প্রশংসিত হয়েছে। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক গ্রঁ পালে-এ অনুষ্ঠিত ChangeNOW Summit-এ ফরিদ আহাম্মদ রনি তার গ্রন্থ মোনাকোর যুবরাজ প্রিন্স আলবার্ট দ্বিতীয়, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লরাঁ ফাবিউস এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিংয়ের হাতে তুলে দেন। এছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছেও বইটি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পান তিনি। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাওয়া প্রশংসাপত্র তার কাজের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করে।   দীর্ঘ গবেষণা, পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রকাশিত এই গ্রন্থ বাস্তবায়নে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘প্যারিসের ছবি’ শুধু একটি শহরভিত্তিক আলোকচিত্র সংকলন নয়; এটি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।   ফরিদ আহাম্মদ রনির ভাষায়, আলোকচিত্র কেবল সৌন্দর্য তুলে ধরার মাধ্যম নয়, এটি ইতিহাস সংরক্ষণ ও সময়কে ধারণ করারও একটি শক্তিশালী উপকরণ। মানুষের জীবন, সংস্কৃতি এবং সমাজের পরিবর্তনকে ক্যামেরায় তুলে ধরার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতিই প্যারিসের মেয়রের এই সম্মাননা।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউএইতে ভিসা ও এমআরপি পাসপোর্ট সংকট নিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের মতবিনিময়

ছবি: সংগৃহীত

শারজাহর কালবা ইংলিশ স্কুলে ‘স্টাফ অব দ্য ইয়ার’ সম্মান পেলেন বাংলাদেশি প্রবাসী মুহাম্মদ ইউনুস

সংগৃহীত ছবি

লেবাননে আরও ১৭০ বাংলাদেশির এক্সিট ভিসা অনুমোদন

0 Comments