সারাদেশ

সরকারি সিদ্ধান্তে নিজের মতামতের গুরুত্ব নেই বলে মনে করেন ৭৩% মানুষ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সংবিধানে বলা আছে—প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এই ঘোষণাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রদর্শনের ভিত্তি। তবে বাস্তবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়ায় সেই ক্ষমতার কোনো দৃশ্যমান প্রতিফলন নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, রাষ্ট্র বা সরকার পরিচালনায় তাদের মতামতের তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। একইভাবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের জনগণের প্রতিনিধি দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অধিকাংশ নাগরিকের ধারণা, রাজনীতিতে তাদের কোনো প্রভাব নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক অনাগ্রহ নয়; বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গভীর সংকটের প্রতিফলন।

 

সরকারি এক জরিপে এই সংকটের স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘নাগরিক অভিমত জরিপ’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের মাত্র এক-চতুর্থাংশ মানুষ মনে করেন, তারা সরকারি সিদ্ধান্ত বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব রাখতে পারেন। বিপরীতে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের বিশ্বাস—রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের কোনো প্রভাব নেই বা তাদের কথা শোনা হয় না।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে মাত্র ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, তারা সরকারি কার্যক্রমে অন্তত কিছুটা হলেও মতামত প্রকাশ করতে পারেন। বিপরীতে প্রায় ৭৩ শতাংশ নাগরিক বিশ্বাস করেন, সরকারি সিদ্ধান্তে তাদের মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই বা তা সরকারের কাছে পৌঁছায় না। অর্থাৎ দেশের অধিকাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে তাদের ধারণা।

রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে চিত্র আরও হতাশাজনক। মাত্র ২১ দশমিক ৯৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, তারা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব রাখতে পারেন। বিপরীতে ৫৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, রাজনীতিতে তাদের কোনো প্রভাবই নেই। মাত্র ৯ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ মনে করেন, তারা রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাজনৈতিক কার্যকারিতার গুরুতর সংকট। যেখানে জনগণ বিশ্বাসই করে না যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়। ফলে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক হলেও বাস্তবে তারা কেবল ভোটের উপাদান হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও জনমত উপেক্ষার কারণে গণতন্ত্র গভীর সংকটে পড়েছে। জরিপের তথ্য প্রমাণ করে, দেশের বড় একটি অংশ মনে করে সরকার পরিচালনা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই, যা গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী।

তার ভাষায়, গণতন্ত্রের মোড়কে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের ধারাবাহিক ফাঁকি চলছে। এর ফলে জনগণের অংশগ্রহণ কমছে, গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো মুখে জনগণের শাসনের কথা বললেও বাস্তবে দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আঞ্চলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে তুলনামূলকভাবে বেশি মানুষ মনে করেন, তারা সরকারি সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও প্রভাব রাখতে পারেন। বিপরীতে ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এ হার সবচেয়ে কম। শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় পার্থক্য না থাকলেও উভয় এলাকাতেই মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সাড়া পাওয়ার বিষয়ে হতাশা প্রায় সমান।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে বৈষম্যের চিত্র আরও স্পষ্ট। পুরুষদের তুলনায় নারীরা অনেক কম মনে করেন যে তারা সরকারি সিদ্ধান্ত বা রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে পারেন। রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও গভীর।

শিক্ষা ও আয়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। কম শিক্ষিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাবের অনুভূতি সবচেয়ে কম, আর উচ্চশিক্ষিত ও তুলনামূলকভাবে সচ্ছল শ্রেণির মধ্যে এই হার কিছুটা বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্পষ্ট হয় যে রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্রমেই শ্রেণিভিত্তিক হয়ে উঠছে।

তবে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা গেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে। এসব গোষ্ঠীর তুলনামূলকভাবে বেশি মানুষ মনে করেন, তারা সরকারি সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব রাখতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সংবেদনশীলতার কারণেই এই গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তুলনামূলকভাবে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া হয়।

 

জরিপের সার্বিক ফলাফল বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ এখনো স্থান, শিক্ষা ও আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই বৈষম্য দূর না হলে গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করা কঠিন হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, অফিসে নেই কর্মকর্তারা

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ওই কার্যালয়ে যান তিনি। সরেজমিনে তিনি দেখেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাই কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। পরে তিনি প্রায় ৩০ মিনিট অফিসের বারান্দায় বসে কর্মকর্তাদের জন্য অপেক্ষা করেন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল কাউকে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী। তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এ ধরনের ঘটনাকে অত্যন্ত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অভিহিত করেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা রাষ্ট্রীয় অর্পিত দায়িত্বে অবহেলা করবেন এবং জনগণের সেবায় বিঘ্ন ঘটাবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা সরকারের জনসেবামূলক লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং এ সরকার সরাসরি জনগণের জন্য কাজ করতে দায়বদ্ধ। সরকারি দপ্তরে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0

পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না: পার্বত্য মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ঢাকার ২ সিটির ‘দুরবস্থা’ জানালেন প্রশাসকরা

নেত্রকোনায় ৯ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক

প্রতারণা চক্রের প্রধান চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪)।
অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা প্রতারণা

  ভুয়া অ্যাপে ভিসা দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। এই প্রতারণা চক্রের প্রধান চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪)। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল এ চক্র। সোমবার (২মার্চ) রাজধানীতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪)-এর একটি বিশেষ অভিযানে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. তারেকুল ইসলাম (৪৫), মো. মাইনুদ্দিন ভূইয়া (৪৮), মো. নেওয়াজ (৪৫) এবং আবু হাসান (৪৮)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিরপুরে ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব ৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো.মাহবুব আলম। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রক্রিয়ায় ভিসা পাওয়া ব্যক্তির সব নথি ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে টিআই ট্রেডিং কর্পোরেশন নিজস্ব ভুয়া একটি অ্যাপসের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন জানিয়ে ব্যক্তি প্রতি হাতিয়ে নেয় ২১ লাখ টাকা। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নির্ধারিত তারিখে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া অতিক্রমের সময় জানতে পারেন তাদের সকল কাগজপত্র ভুয়া এবং বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে গিয়ে জানতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মাহবুব আলম আরও বলেন, ভুক্তভোগীরা যখন প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে এ এজেন্সির কাছে টাকা ফেরত চেয়েছে। তখন অভিযুক্তরা বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পল্লবী থানায় একটি মামলা করে। র‍্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেন। পরবর্তীতে মূল হোতা মো. তারেকুল ইসলামসহ (৪৫) চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশীদের ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এনআই অ্যাক্ট-এর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ০৩, ২০২৬ 0

চূড়ান্ত পরীক্ষায় সুযোগের দাবিতে কলেজ গেটে তালা দিলো অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই রেস্তোরাঁকে জরিমানা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই রেস্তোরাঁকে জরিমানা

আফরা ইভনাথ খান ইকরা ও অভিনেতা যাহের আলভী। ছবি : সংগৃহীত

স্ত্রীর জানাজায়ও আসলেন না আলভী, শায়িত হলেন ইকরা

শিবচরে উদ্ধার ৩২ কেজি ওজনের সামুদ্রিক কচ্ছপ, পদ্মায় অবমুক্ত

মাদারীপুরের শিবচরে বিক্রি করতে আনা সাড়ে ৩২ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির সামুদ্রিক কচ্ছপ উদ্ধার করেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ। উদ্ধারের পর কচ্ছপটি পদ্মা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) বিকালে শিবচর বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে কচ্ছপটি উদ্ধার করা হয়। উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকালে শিবচর বাজারে একটি বড় আকারের কচ্ছপ বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে একটি চক্র। পরে সেটি বিক্রয় করতে না পেরে সরকারি বরহামগঞ্জ কলেজ সংলগ্ন রাস্তার পাশে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কচ্ছপটি উদ্ধার করেন। শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত কচ্ছপটির ওজন ৩২ কেজি ৫০০ গ্রাম। এটি মূলত একটি সামুদ্রিক কচ্ছপ বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারের পর বিকালেই উপজেলার কাঁঠালবাড়ি এলাকায় পদ্মা নদীতে কচ্ছপটি অবমুক্ত করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ০১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

আ.লীগ নেতার গোডাউন থেকে টিসিবির ১ হাজার ৪৪৪ লিটার তেল উদ্ধার

আকলিমা আক্তার

টাকার জন্য নিজ সন্তানকে দত্তক দিয়ে অপহরণের নাটক, অতঃপর...

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে ৫টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী গ্রেফতার।

সীমান্তে স্বর্ণসহ পাচারকারী গ্রেফতার

0 Comments