ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সৃষ্ট অস্থির পরিস্থিতির রেশ ধরে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা ছুঁয়ে গেছে ‘ভদ্রলোকের খেলা’ ক্রিকেটকে। এর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব হিসেবে ভারতে কট্টরপন্থিদের মোস্তাফিজুর রহমান–বিরোধিতা সামনে এসেছে, যা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়েই প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফলে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে।
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারছে না।
মঙ্গলবার আইসিসির সঙ্গে বিসিবির ভিডিও কনফারেন্সে সংকট নিরসনের কোনো সুনির্দিষ্ট পথ বের হয়নি। বিসিবি আবারও অনুরোধ জানিয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সব ম্যাচ যেন ভারত থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দেশে আয়োজন করা হয়।
বিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসিকে আবারও অনুরোধ জানানো হয়েছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য দেশে স্থানান্তরের জন্য। অন্যদিকে আইসিসি বিসিবিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সময় হাতে আছে মাত্র ২৬ দিন। এত অল্প সময়ে সংকটের সমাধান কীভাবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের সূচি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হওয়ায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তবে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
বিসিবির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও স্টাফদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বোর্ডের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে আইসিসির সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেট খেলছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অস্বস্তি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের অবস্থান যদি সম্মানজনকভাবে বিবেচনা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর নিশ্চয়তা পাওয়া যায়, তাহলে খেলার বিষয়ে নতুন করে ভাবা যেতে পারে। অতীতে ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের দেশে না খেলে তৃতীয় দেশে ম্যাচ খেলেছে—সেই নজিরও সামনে রয়েছে।
ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়া বিসিবির এক পরিচালক জানান, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। আইসিসি ভারতে খেলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে, আর বিসিবি তাদের নিরাপত্তা শঙ্কা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। আলোচনা চলবে এবং সমাধান পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদী।
বিসিবির পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী।
এই সংকটের সূচনা হয় আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তার দল তাকে স্কোয়াড থেকে ছেঁটে ফেলার পর দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সবশেষ বিসিবি জানিয়েছে, আইসিসির নিরাপত্তা কমিটি মোস্তাফিজকে ছাড়াই ভারতে গিয়ে খেলার শর্তসহ একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছে বোর্ড।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মাত্র ৬৪ রানে বাংলাদেশকে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়ে নেমেও স্বস্তিতে নেই অস্ট্রেলিয়া। চা বিরতির আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে স্বাগতিকরা। ৩ উইকেটে ৫০ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশনের খেলা শেষ করেছে তারা। বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ১৪ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ধাক্কা দেন শরিফুল ইসলাম। একই ওভারে মার্নাস লাবুশেনকেও বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি পেসার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এখন ক্রিজে আছেন স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল নিয়েছেন ২ উইকেট, তাসকিনের শিকার ১টি। এর আগে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। ১০ ওভারে ৬ মেডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। প্যাট কামিন্স শিকার করেছেন ৩ উইকেট, জশ হ্যাজলউড নিয়েছেন একটি। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পর ম্যাচের প্রথম বলেই আঘাত হানেন স্টার্ক। বল ব্যাটের কানায় লেগে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলাম। গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরতে হয় বাঁহাতি ওপেনারকে। পরের ওভারেই তানজিদ হাসান তামিমকে ফেরান স্টার্ক। বল ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দেন ডারউইন টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান। ফলে টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে ফিরলেন তানজিদ। এরপর বাংলাদেশের বিপর্যয় আরও বাড়ান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। স্টার্কের বল লেগ স্টাম্পের দিকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্যাডে আঘাত হানে। আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তবে আম্পায়ার্স কলের কারণে সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরতে হয় শান্তকে। স্টার্কের তৃতীয় শিকার হন মুমিনুল হক। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে অযথা ব্যাট বাড়িয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তিনি। ১৬ বলে ৯ রান করে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। লিটন দাসও স্টার্কের তাণ্ডল থেকে বাঁচতে পারেননি। প্রথমে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। ওয়েবস্টার সহজ ক্যাচটি নিতে পারেননি। পরের বলেই অবশ্য লিটনকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান স্টার্ক। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেয় অস্ট্রেলিয়া। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল লেগ স্টাম্পে আঘাত করত। ৪ রানেই ফিরতে হয় লিটনকে। মাত্র ১২ রানেই ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হয়ে এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে তাদের জুটিও বেশিদূর এগোয়নি। প্যাট কামিন্সের ভেতরে ঢোকা বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্প ভেঙে যায় মুশফিকের। ৪২ বলে ৫ রান করে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬ উইকেটে ৩৫ রান নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। মিরাজের সঙ্গে ১৪ রানের জুটি গড়েন হাসান মাহমুদ। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই আরও দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্যাট কামিন্সের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন মিরাজ। ৫১ বলে ১১ রান করেন তিনি। এরপর জশ হ্যাজেলউডের বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দেন হাসান মাহমুদ। ৩৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি। এতে ২৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩৮ রান। তখনই শঙ্কা জাগে, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করা নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের রেকর্ডও বুঝি ভেঙে যাবে। তবে শেষ দুই ব্যাটার তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম কিছুটা স্বস্তি দেন বাংলাদেশকে। দশম উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৫ রান। এর মধ্যেই নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জা এড়ায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত শরিফুলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন স্টার্ক। কট বিহাইন্ড হন ২৬ বলে ১৪ রান করা শরিফুল। তাইজুল ২৬ বলে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩৪ ওভারে মাত্র ৬৪ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। স্টার্কের ৬ উইকেটের পাশাপাশি কামিন্স নেন ৩টি এবং হ্যাজলউড একটি উইকেট। এই ইনিংসে একাধিক বিরল রেকর্ডও হয়েছে। ম্যাচের প্রথম বলেই সাদমানের উইকেট নিয়ে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার টেস্ট ইতিহাসে প্রথম বলের প্রথম উইকেটের মালিক হয়েছেন স্টার্ক। একই সঙ্গে এই মাঠের প্রথম টেস্টের প্রথম বলেই আউট হওয়া ব্যাটার হিসেবে রেকর্ডে নাম উঠেছে সাদমানের। এদিকে মাত্র ২২ বলে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে কম বলে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন স্টার্ক। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার ১৯তম পাঁচ উইকেটের ইনিংস।
টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুট। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথকে ছাড়িয়ে টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়া ফিল্ডার হয়েছেন তিনি। শুক্রবার (২১ আগস্ট) পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে জোফরা আর্চারের বলে আজান আওয়াইসকে লেগ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট করেন রুট। এর মধ্য দিয়ে টেস্টে তার ক্যাচের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১৯-এ। স্মিথের ক্যাচ ছিল ২১৮টি। আওয়াইসকে আউট করার পেছনে রুট ও আর্চারের পরিকল্পনাও ছিল দারুণ। বলটি করার কয়েক মুহূর্ত আগে আর্চারের সঙ্গে আলোচনা করে লেগ স্লিপ ও শর্ট লেগে ফিল্ডার বসান রুট। এরপর আর্চারের ভেতরের দিকে ঢুকে আসা বলে আওয়াইস ফাইন লেগে খেলতে চাইলেও ব্যাটের ভেতরের অংশে লেগে বল চলে যায় রুটের হাতে। আওয়াইস ১৪ বলে ৯ রান করে ফেরেন। এটিই ছিল টেস্ট ক্রিকেটে রুটের ২১৯তম ক্যাচ। টেস্টে ফিল্ডার হিসেবে সর্বোচ্চ ক্যাচ - জো রুট — ২১৯ - স্টিভ স্মিথ — ২১৮ - রাহুল দ্রাবিড় — ২১০ - মাহেলা জয়াবর্ধনে — ২০৫ - জ্যাক ক্যালিস — ২০০ হেডিংলি টেস্ট জিতেছে ইংল্যান্ড জো রুটের ইতিহাস গড়ার দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। তৃতীয় দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ৩৬৬ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে স্বাগতিকরা ৪০৯ রানে অলআউট হয়। অর্থাৎ দিনের শুরু থেকে আরও ৪৩ রান যোগ করে ইংল্যান্ড। এর আগে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান মাত্র ১৭১ রানে অলআউট হয়েছিল। ফলে প্রথম ইনিংসেই ইংল্যান্ড ২৩৮ রানের বড় লিড পায়। পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৫ রানে অলআউট হলে ইংল্যান্ড ইনিংস ও ১০৩ রানে ম্যাচ জিতে নেয়।
ইতিহাস লিখে ফেলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। কিন্তু এখানেই কি শেষ! পাঁচ দিন ভালো খেলার লক্ষ্য নিয়ে ডারউইনে শুরু। প্রথম দিনেই প্রত্যাশার পারদ উঁচুতে তুলে তা আর নামতে দেয়নি বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১টি সেশন একইভাবে আধিপত্য ধরে রেখে ঐতিহাসিক জয় পায় তারা। নাজমুল হোসেন শান্তর দল আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে। এই সিরিজ শুরুর আগের হিসাব মাথায় রাখলে, এই ম্যাচে তাদের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ছক কষার কথা ছিল। উল্টো অস্ট্রেলিয়াকে সেই চিন্তা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পর এক টেস্ট পরই দল বদলাতে বাধ্য হয়েছে তারা। একাদশে একটি পরিবর্তন নিয়ে হোয়াইটওয়াশ ঠেকানোর মিশনে স্বাগতিকরা। পরিসংখ্যান অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে, ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ কখনো হারেনি তারা। অন্যদিকে ক্রিকেটে জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়ে সবখান থেকে প্রশংসায় ভাসছে তারা, বিশেষ করে চারদিনের ভেতরে তাদের জেতার ধারণ হচ্ছে প্রশংসিত। দলের অধিনায়ক শান্তও বলেছেন, যে কোনো ফরম্যাটে এটি বাংলাদেশের সেরা জয়। কোচ ফিল সিমন্স তার ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট জয় বলে অভিহিত করেছেন ডারউইনের সাফল্যকে। ওই জয় বাংলাদেশকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলেও ইতিবাচক ধাক্কা দিয়েছে। সুযোগ থাকছে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার। অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় জিতলে তিন নম্বরে ওঠার সুযোগ। কিন্তু সাফল্য পেতে ডারউইনের চেয়েও ভালো কিছু করে দেখাতে হবে শান্তদের। বাংলাদেশের জন্য একটি সিরিজ জিতলে সেটি হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের প্রথম এবং অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও প্রথম। তাতে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ২০২৪ সালে পাকিস্তানের পর তৃতীয় দল হিসেবে অ্যাওয়ে সিরিজের দুটো টেস্টেই জেতার কৃতিত্ব গড়বে তারা। ডারউইনে হারের ক্ষত সারাতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে তারা প্রমাণ করতে চাইবে, সেই হার ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। বাংলাদেশের কোচ সিমন্স ম্যাকাইতে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি শুধু তাদের ব্যাপারে একটাই কথা বলব, অস্ট্রেলিয়া আরও কঠিন হয়ে সামনে দাঁড়াবে। তাই আমাদের পারফরম্যান্সের স্তর ধরে রাখতে হবে কিংবা আরও ভালো কিছু করতে হবে।’ ডারউইন টেস্টের একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন আনতে পারে বাংলাদেশ। পেসার শরিফুল ইসলাম ইবাদত হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। তবে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ আছে। ডারউইনে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি মারেন তানজিদ। বৃহস্পতিবারের ট্রেনিং সেশনে ঘাড়ের সমস্যায় ব্যাট করেননি। ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে আঘাত পেলেও পরে ব্যাটিং করেছেন মুশফিক। ম্যাকাইতে ডারউইনের চেয়ে কন্ডিশন একটু আলাদা। ম্যাকাই পিচ খুব সম্ভবত আরও বেশি পেস ও বাউন্স তৈরি করবে। তাতে করে অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলাররা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন। খোলামেলা প্রকৃতির কারণে খেলায় জোরালো বাতাসের প্রভাব থাকতে পারে, সেটাও বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য হবে আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এদিকে অস্ট্রেলিয়া তাদের একাদশে জেক ওয়েদারাল্ডের বদলে ম্যাথু রেনশকে ফিরিয়েছে। এই ভেন্যুতে তার দুটি প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি। সুতরাং শুরুতেই তাকে ফেরাতে পারা হবে বাংলাদেশের জন্য প্রাথমিক সাফল্য। ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য থাকবে জেতার এবং সিরিজ সমতায় ফিরিয়ে সম্মান কিছুটা ফিরে পাওয়ার। আর বাংলাদেশের জন্য সুযোগটি আরও বড়। ইতোমধ্যে ডারউইনে তারা ইতিহাস গড়েছে। এখন ম্যাকাইতে সেই ইতিহাস নতুন করে লিখতে চায় বাংলাদেশ।