বিশ্ব

সংখ্যালঘুদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে পদক্ষেপ নিতে বলল ভারত

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, হত্যা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটির প্রত্যাশা, এসব ইস্যুর সমাধান বাংলাদেশ নিজেই করবে।

 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই বিবৃতিতে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে গত তিন মাসে হত্যা ১৪১টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ধারাবাহিক চেষ্টা চলছে বলে সংগঠনটির অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন ওই সাংবাদিক।

 

এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এসব বিষয় সমাধানে পদক্ষেপ নেবে।’

 

উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ অক্টোবর) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কড়া পাহারায় সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের ঘটনাকে ‘দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে।

 

সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের ঘৃণ্য তৎপরতা ততই বাড়ছে দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এই তিন মাসের আংশিক চালচিত্র থেকে দেখা যায়, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি; ধর্ষণ/শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে ৪টি; মন্দিরে হামলা ও লুটপাট, জায়গা দখল ও বিগ্রহ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ৩৬টি।

 

এছাড়া কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে ঐক্য পরিষদ বিবৃতিতে বলেছে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সাতটি। বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ১১টি। হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। জমি/সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ৩টি। চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে ৪টি ও অন্যান্য ঘটনা ১৪টি।

 

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিবের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

 

এক সাংবাদিক বলেন, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিল্লিতে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিব অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে যথাযথ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব না করার ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার বলেও মন্তব্য করেন ওই সাংবাদিক। এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

 

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপটি ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে বিমসটেকের সব সদস্য দেশ অংশ নিয়েছে। বৈঠক শেষে দিল্লি ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, মাদক এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিমসটেকের সব সদস্যদেশের অঙ্গীকার করেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এই উদ্বোধনী সংলাপের মধ্য দিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশসহ বিমসটেকের অন্য সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সংখ্যালঘুদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে পদক্ষেপ নিতে বলল ভারত

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, হত্যা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটির প্রত্যাশা, এসব ইস্যুর সমাধান বাংলাদেশ নিজেই করবে।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।   সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই বিবৃতিতে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে গত তিন মাসে হত্যা ১৪১টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।   এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ধারাবাহিক চেষ্টা চলছে বলে সংগঠনটির অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন ওই সাংবাদিক।   এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এসব বিষয় সমাধানে পদক্ষেপ নেবে।’   উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ অক্টোবর) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কড়া পাহারায় সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের ঘটনাকে ‘দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে।   সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের ঘৃণ্য তৎপরতা ততই বাড়ছে দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এই তিন মাসের আংশিক চালচিত্র থেকে দেখা যায়, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি; ধর্ষণ/শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে ৪টি; মন্দিরে হামলা ও লুটপাট, জায়গা দখল ও বিগ্রহ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ৩৬টি।   এছাড়া কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে ঐক্য পরিষদ বিবৃতিতে বলেছে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সাতটি। বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ১১টি। হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। জমি/সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ৩টি। চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে ৪টি ও অন্যান্য ঘটনা ১৪টি।   এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিবের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।   এক সাংবাদিক বলেন, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিল্লিতে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিব অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে যথাযথ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব না করার ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার বলেও মন্তব্য করেন ওই সাংবাদিক। এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।   জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপটি ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে বিমসটেকের সব সদস্য দেশ অংশ নিয়েছে। বৈঠক শেষে দিল্লি ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, মাদক এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিমসটেকের সব সদস্যদেশের অঙ্গীকার করেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এই উদ্বোধনী সংলাপের মধ্য দিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশসহ বিমসটেকের অন্য সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন।’

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬

ইউক্রেনের ৯০২টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি রাশিয়ার

সংগৃহীত ছবি

নভেম্বরে আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে ম্যানিলা যাচ্ছেন ট্রাম্প

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে শান্তিচুক্তি মানার আহ্বান পাকিস্তানের

ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে নিয়ে বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে, স্বীকারোক্তি ট্রাম্পের

ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করতে গিয়ে ওয়াশিংটন হয়তো ‘মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্বীকার করেন, ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে– এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়েছে। খবর আলজাজিরা ও মিডল ইস্ট আইয়ের।    ওহাইওর ইয়ংসটাউনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো ইরানের নেতাদের ওপর আঘাত হানার ক্ষেত্রে একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি। কারণ সত্যি বলতে, আমরা এখন আর বুঝতেই পারছি না যে কার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। সত্যি কথা বলতে, কার সঙ্গে চুক্তি বা আলোচনা করতে হবে, তা বের করতেই আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মনে হয়, আমরা একটু বেশিই দূরে চলে গেছি।’    বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন, ‘এখন আর কেউ ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ যদিও বাস্তবতা হচ্ছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকেই দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান।   ট্রাম্প তাঁর সামরিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে পুনরায় দাবি করেন, ইরান তার পুরো বিমানবাহিনী এবং ১৫৯টি নৌজাহাজের সবকটিই হারিয়ে ফেলেছে। জাহাজগুলো এখন সমুদ্রের তলদেশে খুব সুন্দরভাবে বিশ্রাম নিচ্ছে।    আবার ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে রাশিয়া ও চীন সহায়তা করছে– এমন খবর উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তারা যদি সাহায্য করেই থাকে, তবে সেটি অত্যন্ত নিম্নপর্যায়ের। তবে আমি একদমই বিশ্বাস করি না যে তারা কোনো সাহায্য করছে। কারণ, এতে তাদের হারানোর মতো অনেক কিছু আছে এবং তারা সাহায্য করলে সেটি আমরা খুব দ্রুতই জেনে যেতাম।’    প্রতিবেশী আরব দেশগুলোয় স্থল হামলার পরিকল্পনা ইরানের   নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে আবারও হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। এমন আশঙ্কায় নিজেদের পারমাণবিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করছে ইরান। এর সঙ্গে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোয় স্থল হামলার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।    মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, নতুন করে হামলার শিকার হলেই প্রতিবেশী দেশগুলোয় স্থল হামলার পরামর্শ দিয়েছেন ইরানের চরমপন্থি রাজনীতিবিদরা।   এ ছাড়া মধ্যস্থতাকারীদের ইরান সতর্কতা দিয়েছে, এবার যুদ্ধ শুরু করা হলে ইরানের জবাব আরও আগ্রাসী হবে। যার মধ্যে থাকবে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।   এদিকে কোন দেশে ইরান সরাসরি সেনা পাঠাতে পারে, সেটি উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে। তবে তাদের সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।    হরমুজে শাটল জাহাজে হামলা   ইরানের অবরোধ এড়িয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি সচল রাখতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো একটি নতুন শাটল ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আরবদের এই তেল পরিবহন এখন ইরানের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু।    রেজাই জানান, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও আমিরাতের সহায়তায় ছোট ছোট জাহাজে তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালির বাইরে থাকা বড় ট্যাঙ্কারে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, আপনারা চোরাচালান করছেন; কিন্তু মনে রাখবেন, এই প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং আমরাই এটি পরিচালনা করছি।’   তিনি বলেন, ইরানের বেসামরিক বা জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা হলে আরব অঞ্চলের ডিজিটাল অবকাঠামো, তথ্যকেন্দ্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।   যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউকেএমটিও ও উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের অনুশাসন না মেনে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে চলাচলকারী যে কোনো জাহাজকে শত্রুভাবাপন্ন বলে গণ্য করা হবে এবং ডুবিয়ে দেওয়া হবে। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের নির্দেশ ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

মোদির মন্ত্রিসভায় বড় ধাক্কা, পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলায় জাহাজডুবি, নিখোঁজ ১১ নাবিক; রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব

ছবি: সংগৃহীত
চীন-রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে বলে বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।   তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে দেশ দুটির হারানোর মতো অনেক কিছু রয়েছে।   মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানোর জন্য চীন ও রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্থা ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে— এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে— এমন বক্তব্যের জবাবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘যদি তারা সহায়তা করেও থাকে, তবে তা খুবই সীমিত পর্যায়ে। তবে আমি মোটেও বিশ্বাস করি না যে তারা তা করছে।’   তিনি আরও লেখেন, ‘তাদের হারানোর মতো অনেক কিছু আছে। আর আমরা বিষয়টি জানতে পারব, খুব দ্রুতই জানতে পারব!’   এর আগে গত জুলাইয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, চীন ও রাশিয়া ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।   একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশ দুটি এমনটি করলে তাদের জন্য তা ‘খুব খারাপ’ হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের তুলনায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পকে প্রায়ই তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বিশ্বের প্রধান শক্তিধর দেশগুলোর নেতা হিসেবে তাদের সম্মান করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালায়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৩, ২০২৬

জাপানে সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার

এল নিনোর কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হতে পারে: কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ, বাতিল ৬১ ফ্লাইট: ভোগান্তিতে ৯ হাজারের বেশি যাত্রী

0 Comments