সারাদেশ

পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হাতকড়াসহ পালালেন আসামি

মারিয়া রহমান জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হাতকড়াসহ ফরিদ হোসেন (২৮)  নামে এক আসামি পালিয়ে গেছেন। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে উপজেলার  সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


পলাতক ফরিদ হোসেন একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। তিনি উপজেলা চুয়াডাঙ্গা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে।


​পুলিশ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল কুদ্দুস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভোমরাডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালায়। ওই সময় স্থানীয় বাজারের পাশে একটি স্কুলের পেছন থেকে ফরিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পরে তাকে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে রাখা হয়। কিন্তু ওই রাতেই তিনি হাতকড়াসহ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান। 


এই বিষয়ে জানতে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 


কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বলেন, ফরিদ হোসেন নামের এক আসামি হাতকড়াসহ পালিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।


তবে তিনি ঠিক কোন মামলার আসামি, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হাতকড়াসহ পালালেন আসামি

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হাতকড়াসহ ফরিদ হোসেন (২৮)  নামে এক আসামি পালিয়ে গেছেন। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে উপজেলার  সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পলাতক ফরিদ হোসেন একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। তিনি উপজেলা চুয়াডাঙ্গা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। ​পুলিশ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল কুদ্দুস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভোমরাডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালায়। ওই সময় স্থানীয় বাজারের পাশে একটি স্কুলের পেছন থেকে ফরিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে রাখা হয়। কিন্তু ওই রাতেই তিনি হাতকড়াসহ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান।  এই বিষয়ে জানতে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।  কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বলেন, ফরিদ হোসেন নামের এক আসামি হাতকড়াসহ পালিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে তিনি ঠিক কোন মামলার আসামি, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

মারিয়া রহমান জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিবগঞ্জ সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

ছবি: সংগৃহীত

আঙুলের ছাপ চুরি করে সচল করা হচ্ছে হাজারো সিম

ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তের শূন্য রেখায় নথিহীন মানুষ: ‘পুশ ইন’ নিয়ে আইনগত প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত
বেনাপোল বন্দরে বছরে ৪৭৩১ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে ডিজিটাল ওজনস্কেলে কারচুপি, উচ্চ শুল্কের পণ্য কম শুল্কে খালাস এবং পণ্য আত্মসাতের একের পর এক ঘটনায় সরকারের রাজস্ব আদায় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।   একই সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭ হাজার ২৯ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা এবং আমদানি হয়েছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা এবং আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৫ মেট্রিক টন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমূল্যের ফল, শাড়ি ও থ্রি-পিসের আমদানিও গত বছরের তুলনায় কমেছে।   সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পণ্যের ওজন পরিবর্তন, মিথ্যা ঘোষণা এবং সাফটা (দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি) সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি করছে।   যদিও সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব ঘাটতির পেছনে আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং শুল্কহারের পরিবর্তনের মতো কারণও রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, শুল্ক ফাঁকি ও ওজন কারচুপি রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, সাফটা সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কহার গত তিন অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে শুল্কহার ছিল ৭ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১১ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। শুল্কহার বৃদ্ধির পর থেকেই কিছু অসাধু চক্র কম শুল্কে পণ্য খালাসের জন্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাফটা সুবিধায় ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি করা হলেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা ভারতে একই ধরনের সুবিধা বাস্তবে পান না।   একাধিক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বন্দর ও কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিম্ন শুল্কের পণ্যের ঘোষণার আড়ালে উচ্চ শুল্কের পণ্য খালাসের সুযোগ করে দেন। অতীতেও কাস্টমস ও বিজিবি এ ধরনের একাধিক চালান জব্দ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ওজন পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘোষণাপত্র ও প্রকৃত পণ্যের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে কম শুল্ক পরিশোধের সুযোগ নেওয়া হয়।   অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বন্দরের ৩১ নম্বর পচনশীল পণ্যের শেডকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্য একই শেডের বিভিন্ন স্থানে ভাগ করে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ধাপে ধাপে সেগুলো খালাসের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তির নজির কম থাকায় একই ধরনের অনিয়ম বারবার ঘটছে।   গত ১২ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে ‘সাফা ইমপেক্স’-এর বেকিং পাউডারের ঘোষণার আড়ালে আনা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় উচ্চ শুল্কের শাড়ি ও থ্রি-পিস আত্মসাতের ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়। এ ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১০ জুন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১৮ জনের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করে।   এর মাত্র পাঁচ দিন পর ২৬ নম্বর শেডে ‘টি এস ইন্টারন্যাশনাল’-এর ইরেজার ও পেনসিল ঘোষণার আড়ালে আনা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৩ হাজার ৩৮৫ পিস উচ্চ শুল্কের পণ্য জব্দ করে কাস্টমস।   এর আগে ২৫ এপ্রিল রোকেয়া ট্রেডার্সের আমদানি করা আঙুরবোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাকের ক্ষেত্রেও ওজনের গরমিল ধরা পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাকটির প্রকৃত খালি ওজন ছিল ১৩ হাজার ৩১০ কেজি। তবে ওজন স্লিপে তা ১৩ হাজার ৮৮০ কেজি দেখানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের ওজন পরিবর্তনের মাধ্যমে শুল্ক নির্ধারণে প্রভাব ফেলার সুযোগ তৈরি হয়।   সে সময় দায়িত্বে থাকা ওয়্যারহাউস সুপারিনটেনডেন্ট আশিকুর রহমান রনি বলেন, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। যন্ত্রের কারিগরি ত্রুটির কারণেও এমন পার্থক্য হতে পারে।   জুন মাসে শুল্ক ফাঁকি ও পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ চারটি পৃথক মামলা করেছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, আরিফুল ইসলাম চৌধুরী, কাস্টমস সিপাই মোহাম্মদ সাগরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   এ ছাড়া ২৭ জুন কেমিক্যাল জোন থেকে ভারতীয় ট্রাকের পণ্য অবৈধভাবে বাংলাদেশি ট্রাকে স্থানান্তরের ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক একটি মামলা দায়ের করে।   বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, যে ঘটনায় মামলা হয়েছে সেখানে শেড ইনচার্জকে কেন বাদ দেওয়া হলো, সেটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শেডের ভেতর থেকে কীভাবে পণ্য বের হলো, সেটির দায় ও জবাবদিহি তদন্তে খতিয়ে দেখা উচিত। প্রকৃত দায়ীদের বাদ দিয়ে তদন্ত করলে সত্য উদ্ঘাটিত হবে না। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।   ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হবি বলেন, বেনাপোল বন্দর দেশের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আহরণকারী বন্দর। এখানে ওজন নির্ধারণে সামান্য অসঙ্গতিও সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্বে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পুরো ওজন ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকির আওতায় আনতে হবে।   বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বন্দরের স্বচ্ছতা ও ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।   বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ওজনযন্ত্রে কারচুপি বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তিনি কাস্টমস, বন্দর বা ব্যবসায়ী—যেই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।   কাস্টমস কমিশনার মো. ফাইজুর রহমান বলেন, সরকারের এক টাকার রাজস্বও যাতে ফাঁকি না যায়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। ওজনস্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা কিংবা শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্তে কাস্টমস কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানিকারক বা অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও করা হবে। বেনাপোল কাস্টমসে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। রাজস্ব সুরক্ষা ও স্বচ্ছ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং আরও জোরদার করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা এলেই পানিতে ডুবে যায় সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠ

ছবি: সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল সাগর, নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরল মাছ ধরার ট্রলার

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমছে, অব্যাহত নদীভাঙন

ছবি : সংগৃহীত
বাসায় ডেকে হত্যা, মূল অভিযুক্ত জাকির গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইরে বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনার মূলহোতা জাকিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা, নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।   শুক্রবার (৩ জুলাই) ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে বন্দরের সেলসারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন সকালে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি-সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে লেপ-তোশকে মোড়ানো অবস্থায় মোতালেব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   নিহত মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরির পাশাপাশি বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন তিনি।   পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করা হয়।   তদন্তে দেখা যায়, ঘটনার আগে জাকির মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে হাঁটতে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সূত্র ধরে মাসদাইর রোকেয়া স্কুলসংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মাসদাইর এলাকা থেকে ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে এসআই কাজী শামীম ও এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বন্দর থানার সেলসারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করেন।   পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকে তিনি রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। সাড়ে ৮টার দিকে কৌশলে মোতালেবকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর গভীর রাতে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে একটি অটোরিকশায় করে মাসদাইরের জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি-সংলগ্ন সড়কের পাশে ফেলে রেখে আসা হয়।    এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।   ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন ও নিহতের টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

রাস্তায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালেন প্রতিমন্ত্রী

প্রতীকী ছবি

সুখরঞ্জন বালীকে ‘গুমে’র অভিযোগে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির রাজনীতিতেই মৃত্যুবরণ করতে চান আওয়ামী লীগের এই উপদেষ্টা

0 Comments