সারাদেশ

সীতাকুণ্ডের সেই জাহাজে এখনো বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত হয়নি

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে গ্যাস নিঃসরণজনিত দুর্ঘটনায় নয়জনের প্রাণহানির এক দিন পরও ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের জাহাজটির বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসমুক্ত করার কাজ শেষ হয়নি।

 

শনিবার দিনভর চেষ্টার পরেও ওই জাহাজের দুর্ঘটনা ঘটা অংশে গ্যাস ‘বিপজ্জনক মাত্রার নিচে’ নামানো সম্ভব হয়নি। বিকালে বিশেষজ্ঞরা গ্যাস মুক্ত করার কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। রোববার আবার ওই কাজ শুরু হবে।

 

প্রাণহানির ওই ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সভা করেছে। ১১ সদস্যের ওই কমিটি রোববার ফেরদৌস শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে জাহাজটি পরিদর্শনে যাবে।

 

শনিবার দুপুরে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড পরিদর্শনে গিয়ে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, “আমরা দেখছি কেন ঘটনাটা ঘটল। যদি এখানে কারও কোনো অবহেলা থেকে থাকে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ভবিষ্যতে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে।”

 

‘ওয়াটার ট্যাংকে জমেছিল’ বিষাক্ত গ্যাস

২৮০ মিটার দৈর্ঘে্যর এলএনজিবাহী ‘এমটি রাসি’ নামের জাহাজটি ভাঙার জন্য ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে নিয়ে আসা হয়।

 

শুক্রবার সকালে ওই জাহাজের নিচের দিকের একটি অংশে কাটার কাজ চলছিল। একটি ট্যাংকারের একাংশ কাটার পর সেটি সরিয়ে নিতে গেলে গ্যাসের প্রভাবে অচেতন হয়ে যান কয়েকজন। পরে তাদের উদ্ধারে গিয়ে বাকিরাও অচেতন হয়ে যান।

 

ওই ঘটনায় নয়জনের প্রাণ যায়; চিকিৎসাধীন আছেন ৭ জন।

 

জাহাজটি কাটার আগে অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ে বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “জাহাজ বিচিং (তীরে ভেড়ানো) এর সময় আমরা কার্গো ট্যাংক পরীক্ষা করে থাকি। তেল ও গ্যাস কার্গো ট্যাংক পরিদর্শন শেষে আমরা অনুমতি দিই।

 

“এটারও কার্গো ট্যাংক পরিদর্শন করা হয়েছিল। কার্গো ট্যাংকে কিছু হয়নি। যে ঘটনা ঘটেছে সেটা ওয়াটার ট্যাংকে। তাতে গ্যাস জমে গিয়েছিল। সেটা কীভাবে ও কেন হয়েছে, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।”

 

শনিবার দুপুরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “শুক্রবার বিকালে আমরা দুর্ঘটনা এলাকা পরিদর্শন করি। মাল্টি গ্যাস ডিটেক্টরের মাধ্যমে হাইড্রোজেন সালফাইড অতিরিক্ত মাত্রায় ছিল বলে শনাক্ত করতে পেরেছি। আমাদের ধারণা ঘটনার মূল কারণ হাইড্রোজেন সালফাইডের বিষাক্ততা।”

 

তিনি বলেন, “সমন্বিত যে কমিটি হয়েছে, কমিটির মাধ্যমে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি আমরা পেয়েছি সেটাকে বের করে নিরাপদ করা হবে। পরে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে।”

 

ফায়ার সার্ভিস ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল জাহাজের ওই অংশে যান। তারা শনিবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেন।

 

রাতে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “হাইড্রোজেন সালফাইড পানিতে মিশে থাকে এমন একটি ভারী গ্যাস। এই গ্যাস সরাতে হলে পানি দিয়ে বের করতে হবে। কিন্তু এটা করার মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সেখানে নেই। তাই আজ কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।

 

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “২০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) পর্যন্ত হাইড্রোজেন সালফাইড সহনীয়। ২০-১০০ পিপিএম হল বিপজ্জনক মাত্রার। ১০০ পিপিএম এর উপর এই গ্যাস প্রাণঘাতী।”

 

স্থানীয়রা বলছেন, শুক্রবার দুর্ঘটনার পর অচেতন হয়ে পড়াদের উদ্ধারে যারা জাহাজের ওই অংশে গিয়েছিল তারাও অচেতন হয়ে পড়ে। আর যারা ওই জাহাজটির কাছাকাছি এগিয়ে গিয়েছিলেন তারাও তীব্র গ্যাসের গন্ধ পেয়েছেন।

 

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ (শনিবার) বিকালে পরিবেশ অধিদপ্তর মাল্টি ডিটেকটর দিয়ে পরিমাপ করে দেখেছে। সেখানে ৮৪ পিপিএম, মানে উচ্চমাত্রার গ্যাস রয়ে গেছে।

 

“গ্যাসের এরকম উপস্থিতি থাকায় আজ আর কাজ করা হয়নি। কাল আবার কাজ শুরু হবে।”

 

বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসআরবি) এর মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুর্ঘটনাস্থলে পানি দিলে বিষাক্ত গ্যাস সরে যাচ্ছিল। পরে আবার গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়ায় আজ (শনিবার) কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।”

 

জাহাজটি সাগরের তীরে ভিড়িয়ে ভাঙার কাজ চলছে। জাহাজের দুর্ঘটনা যে অংশে ঘটেছে সেখানে জোয়ারের পানি আসা-যাওয়া করে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দুর্ঘটনাস্থলে জমা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জোয়ারের পানিতে মিশে আশেপাশে ছড়িয়ে আছে।

 

মামলা হয়েছিল

ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকায় গত জুলাই মাসে মামলা করেছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।

 

শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন না করা, ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রতিবেদন না দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করালেও অতিরিক্ত সময়ের টাকা না দেওয়ার অনিয়ম ধরা পড়ে ওই শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে।

 

চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়ে। বিষয়গুলো সংশোধনে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার নোটিশ দেয় কলকারখানা অধিদপ্তর। তবে যথাযথ জবাব না পেয়ে জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়।

 

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা নিয়মিত বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করি। সেখানে শ্রমিকরা যাযথ বেতন-বোনাস ও চাকরির বেনিফিট পান কিনা, নিরাপত্তার জন্য সরঞ্জাম আছে কিনা এবং আরো কিছু বিষয় আমরা দেখি।

 

“এরকম নিরাপত্তাজনিত কিছু বিষয়ে ঘাটতি থাকায় নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।”

 

কোনো জাহাজ কাটার আগে গ্যাস মুক্ত করেই তা কাটতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে সেটা হয়েছে কিনা, তা টেকনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন। তদন্ত কমিটি হয়েছে। কমিটি তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেবে।”

 

জাহাজটিতে গ্যাস নিঃসরণজনিত দুর্ঘটনায় নয়জনের প্রাণহানির পর ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
তীব্র গ্যাস সংকটে অর্ধশত শিল্পকারখানা বন্ধ, দৈনিক ২৫ কোটি টাকার লোকসান

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন শিল্প মালিকরা। বুধবার থেকে গ্যাসের অভাবে পোশাক খাতসহ অর্ধশতাধিক ছোট-বড় শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ কোটি টাকার আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।   বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক ও পূর্বাঞ্চল শিল্পমালিক সমিতির সভাপতি এম জামাল উদ্দিন জানান, বন্দর এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকট বিরাজ করছে। গ্যাস না থাকায় নিয়মিত শিপমেন্ট ও পণ্য সরবরাহ মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক চরম অশনি সংকেত।   তিনি জানান, তার মালিকানাধীন ‘জাহিন নিটওয়্যার’ কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ২৩ টন পোশাক উৎপাদিত হতো, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ। তার এই একটি কারখানাতেই দৈনিক লোকসান হচ্ছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। একইভাবে মদনপুর এলাকার ইউনাইটেড অ্যাপারেলস, ইপিলিয়ন ও ল্যারিজ ফ্যাশনের মতো বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনও চার দিন ধরে বন্ধ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সীতাকুণ্ডের সেই জাহাজে এখনো বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত হয়নি

ছবি: সংগৃহীত

রিকশার প্যাডেল থেকে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়, নাজমুলের স্বপ্নযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

ছবি: সংগৃহীত

শাহজালাল মাজারের ডেগে শেখ হাসিনার নামে চিঠি

ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লায় চাষ হচ্ছে ২৮ লাখ টাকা কেজির বিশ্বের দামি মরিচ!

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মরিচ ‘চারাপিতা’ চাষ হচ্ছে কুমিল্লায়। এক কেজি চারাপিতা মরিচের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে এ মরিচের চাষ হয় বলে জানা গেছে। মরিচটি খুব বেশি ঝাল নয়। তবে এর রয়েছে অদ্ভুত সুন্দর ও মাদকতাময় সুগন্ধ, যা যেকোনো খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।   সম্প্রতি কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টির বাসায় এ মরিচের চাষ করেছেন কাজী শারমিন আক্তারসহ নগরীর কয়েকজন সৌখিন চাষি।   জানা যায়, আরবের রাজা-বাদশাহদের খাবারে এ মরিচ ব্যবহার করা হতো। মক্কার অনেক দামি হোটেলেও এটি ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। কাঁচা অবস্থায় মরিচটি সবুজ থাকে এবং পাকলে হলুদ বা উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করে। দেখতে গোলাকার এই মরিচের চাষ কুমিল্লায় প্রথম শুরু করেন কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম। ২০২২ সালে নগরীর ঠাকুরপাড়ার বাগানবাড়িতে তিনি এ মরিচের চাষ শুরু করেন।   সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টিতে একটি বাসার কোণে ছোট সবজির মাচা। এর পাশে ছয়টি বালতিতে লাগানো হয়েছে চারাপিতা মরিচের গাছ। বাগানি কাজী শারমিন আক্তার গাছে পানি দিচ্ছেন এবং পরিচর্যা করছেন। চারপাশের বাতাসে ভাসছে মরিচের অদ্ভুত মাদকতাময় ঘ্রাণ। তার মরিচগাছ ও মরিচ দেখতে সেখানে ভিড় করছেন অনেকেই।   কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম বলেন, বাংলাদেশে সম্ভবত আমিই প্রথম এ মরিচের বীজ লাগাই। আমেরিকা থেকে বীজ সংগ্রহ করি। বস্তার মধ্যে মাটি ভরে সেখানে বীজ রোপণ করি। ৫০টি বীজের মধ্যে মাত্র তিনটি বীজ থেকে চারা গজায়। তিন বছর পর্যন্ত এ গাছ থেকে মরিচ পাওয়া যায়। কৃষক জামিলের দাবি, চারাপিতা মরিচ পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মরিচ। প্রতি কেজি মরিচের দাম ২৬ হাজার ডলার। চার বছর আগে চাষ শুরু করলেও এ মরিচ চাষের চেষ্টা তিনি শুরু করেছিলেন প্রায় ১০ বছর আগে। তিনি বলেন, ‘এটির বাজার সৃষ্টি করা হলে দেশের কৃষকরা ভালো আয় করতে পারবেন।’   কাজী শারমিন আক্তার বলেন, আমি আমেরিকায় থাকা এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পাকা মরিচ সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকে ছয়টি চারা হয়েছে। একটি মরিচে ১৫ থেকে ২০টি বীজ হয়। আমার গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে। আমি প্রতিটি মরিচ ১০ টাকা দরে বিক্রি করছি।   তিনি জানান, তার বোনও রানীর দিঘির পাড়ের বাসায় এ মরিচের চাষ করেছেন। চারাপিতা মরিচের বাজার সৃষ্টি করতে কৃষি বিভাগ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান।   কৃষি সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, বিশ্বের দামি মরিচ বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চাষ হচ্ছে—এটি একটি আশাজাগানিয়া খবর। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণা করে দেখতে হবে কৃষক পর্যায়ে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষের সুযোগ রয়েছে কি না। পাশাপাশি এ মরিচের বাজার সৃষ্টি এবং রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে।   বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কুমিল্লায় প্রথম জামিল সাহেব এটি চাষ শুরু করেন। আন্তর্জাতিক গবেষণায় এটিকে দুর্লভ মরিচ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ কত দামে এটি বিক্রি হয়েছে, তা জানা যায়নি। বাংলাদেশের আবহাওয়া এ মরিচ চাষের জন্য উপযুক্ত কি না, সে বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, পেরুর যে মরিচের কথা বলা হচ্ছে, সেটি যদি একই জাতের হয়ে থাকে, তাহলে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা যায় কি না, তা দেখতে হবে। গবেষণার পর এটিকে মাঠপর্যায়ে দেওয়া হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মহিলা ডাক্তারকে ‘স্যার-ম্যাডাম’ ছাড়া সম্বোধন নয়, বিতর্কে হাসপাতাল

ছবি : সংগৃহীত

মায়ের শেষ বিদায়ে প্যারোলে মুক্তি, কাঁদলেন সাবেক এমপিপুত্র রাসেল

হত্যার শিকার সাজ্জাদ হোসেন / সংগৃহীত ছবি

প্রেমিককে হত্যার পর মরদেহ ৯ টুকরা, দুই জেলায় ফেলে দিলেন স্বামী-স্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ দেখাল বসুন্ধরা গ্রুপ

‘ছোটবেলা থেকেই বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। সমাজে আমরা অনেক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তবুও পড়াশোনা ছাড়িনি। এখন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি। স্বপ্ন দেখি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আমার কাছে শুধু একটি মেশিন নয়, এটি নতুন জীবনের আশা। আমি বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ব্লাউজ, ফ্রক, পাজামা ও শিশুদের পোশাক সেলাই করতে পারি। এখন ঘরে বসেই কাজ করে সংসারে আয় করতে পারব, পড়াশোনার খরচও চালাতে পারব। আমি চাই সমাজের বোঝা হয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে।’    তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন পেয়ে কথাগুলো বলছিলেন হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণী আলোরাধা।   আলোরাধার জীবনটি সংগ্রাম, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছার গল্পে সাজানো। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাচারিবাজার এলাকার হরিজন সম্প্রদায়ের এই তরুণী বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি হার মানেননি। এবার বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া একটি সেলাই মেশিন তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।   সম্প্রতি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাকক্ষে আলোরাধার মতো দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা ৩৬ নারীর হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ও জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাদুল্যাপুর উপজেলার এই ৩৬ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। তিন মাস বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষ হয়ে ওঠা নারীরা সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত হন।   ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আপনাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এটি কাজে লাগিয়ে নিজের পরিবারের পোশাক তৈরির পাশাপাশি আয়ও করা সম্ভব। আমরা চাই আপনারা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হোন, সন্তানদের শিক্ষিত করুন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটান।’    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসুজ্জামান মোনা, নাট্যকর্মী মানিক বাহার প্রমুখ।    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার বলেন, ‘বসুন্ধরার দেওয়া এই সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক নারী ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। আপনারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের অন্য নারীদেরও এই কাজ শেখাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, নারীর ক্ষমতায়ন পুরো পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’    গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি দারিদ্র্য নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার একটি উদ্যোগ। আমরা আশা করি, এই মেশিন ব্যবহার করে উপকারভোগীরা আয়মুখী কাজে যুক্ত হবেন এবং এলাকায় অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবেন। বসুন্ধরা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।’   অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য হুমায়ুন আহম্মেদ বিপ্লব, আহসানিয়া তাসনিম, সুমাইয়া আক্তার, ছামিউল বাসির, আশিদুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, আহসান আজিম প্রধান, তৌহিদুল ইসলাম, আফিয়া ইভা, দীবাকর মোদক, সজীব সরকার, সুমাইয়া খাতুন, আবিদা আক্তার, আফরিন আক্তার ও সিনথিয়া আক্তার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

গ্যাসের অভাবে হবিগঞ্জে টানা ৩ দিন কারখানা বন্ধ, ছাঁটাইয়ের শঙ্কায় শ্রমিকরা

ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলে ঝুলছিল পুলিশ সদস্যের মরদেহ

ছবি : সংগৃহীত

১৫ আগস্ট ঘিরে গোপালগঞ্জে জোরদার নিরাপত্তা, মোতায়েন ৫ প্লাটুন বিজিবি

0 Comments