জাতীয়

নীলফামারীতে ডেপুটেশনে ৩০ শিক্ষক, বাড়ছে শিক্ষক সংকট

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারী সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩০ জন সহকারী শিক্ষককে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডেপুটেশনে (প্রেষণে) অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্ত রাখার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এসব শিক্ষক নিজ কর্মস্থলে ফিরে না যাওয়ায় কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে এবং ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান।

 

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মন্ডল। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

 

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের জানকীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহেরা বিলকিস বানু ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর চিকিৎসাজনিত ছুটিতে যান। তার পরিবর্তে চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুমি আক্তারকে জানকীনাথ বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে সংযুক্ত করা হয়। আদেশে বলা হয়েছিল, বিলকিস বানু চিকিৎসাজনিত ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিলে সুমি আক্তারের সংযুক্তি বাতিল হবে।

 

তবে বিলকিস বানু ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল নিজ কর্মস্থলে ফিরে যোগদান করলেও সুমি আক্তার এখনো জানকীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। ফলে তার মূল কর্মস্থল চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।

 

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মাহফুজা খাতুনের স্বাক্ষরিত গত ৯ জুলাইয়ের একটি নোটিশে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়া যেসব শিক্ষকের ডেপুটেশন সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা যোগদানের এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এক বছর পূর্ণ হলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অবমুক্ত করবেন এবং তাকে নিজ বিদ্যালয়ে যোগ দিতে হবে।

 

তবে অভিযোগ রয়েছে, এই নির্দেশনা অনুসরণ না করে সদর উপজেলার প্রায় ৩০ জন সহকারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পছন্দের বা সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে রাখা হয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ছিট চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাসুমা আখতার প্রায় তিন বছর ধরে কুখাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে রয়েছেন। মুশরুত গোড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন প্রায় দুই বছর ধরে বড়াইবাড়ি আদর্শপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত। দক্ষিণ খোজসাবাড়ি আব্দুল জব্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কাকলি রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে খোকসাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে রয়েছেন। আর পঞ্চপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সবুজা বেগম সাথী প্রায় চার বছর ধরে উত্তর কানিয়ালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

 

শিক্ষকদের দীর্ঘদিন অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্ত থাকার কারণে তাদের মূল কর্মস্থলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রধান শিক্ষক। কোথাও একজন শিক্ষককে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একই সময়ে দুটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াতে হচ্ছে।

 

চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম বলেন, সুমি আক্তার ২০১৭ সালে তাদের বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০২৪ সালের দিকে তিনি ডেপুটেশনে চলে যাওয়ার পর থেকে অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। তাকে নিজ বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করলেও দীর্ঘদিনেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব শিক্ষকের ডেপুটেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের নিজ বিদ্যালয়ে ফেরত পাঠানো হয়নি। শিক্ষক সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত ছুটি নিতেও পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

 

তবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষকদের ডেপুটেশনে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মন্ডল। তিনি বলেন, কোথায় কোথায় শিক্ষকরা ডেপুটেশনে রয়েছেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন। আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগকে তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন।

 

নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার নজরে আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০১১ সালে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে জছিজুল আলম মন্ডলকে লঘুদণ্ড দেওয়ার তথ্য রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীতে ডেপুটেশনে ৩০ শিক্ষক, বাড়ছে শিক্ষক সংকট

নীলফামারী সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩০ জন সহকারী শিক্ষককে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডেপুটেশনে (প্রেষণে) অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্ত রাখার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এসব শিক্ষক নিজ কর্মস্থলে ফিরে না যাওয়ায় কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে এবং ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান।   অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মন্ডল। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।   স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের জানকীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহেরা বিলকিস বানু ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর চিকিৎসাজনিত ছুটিতে যান। তার পরিবর্তে চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুমি আক্তারকে জানকীনাথ বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে সংযুক্ত করা হয়। আদেশে বলা হয়েছিল, বিলকিস বানু চিকিৎসাজনিত ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিলে সুমি আক্তারের সংযুক্তি বাতিল হবে।   তবে বিলকিস বানু ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল নিজ কর্মস্থলে ফিরে যোগদান করলেও সুমি আক্তার এখনো জানকীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। ফলে তার মূল কর্মস্থল চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।   প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মাহফুজা খাতুনের স্বাক্ষরিত গত ৯ জুলাইয়ের একটি নোটিশে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়া যেসব শিক্ষকের ডেপুটেশন সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা যোগদানের এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এক বছর পূর্ণ হলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অবমুক্ত করবেন এবং তাকে নিজ বিদ্যালয়ে যোগ দিতে হবে।   তবে অভিযোগ রয়েছে, এই নির্দেশনা অনুসরণ না করে সদর উপজেলার প্রায় ৩০ জন সহকারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পছন্দের বা সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে রাখা হয়েছে।   সরেজমিনে দেখা যায়, ছিট চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাসুমা আখতার প্রায় তিন বছর ধরে কুখাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে রয়েছেন। মুশরুত গোড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন প্রায় দুই বছর ধরে বড়াইবাড়ি আদর্শপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত। দক্ষিণ খোজসাবাড়ি আব্দুল জব্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কাকলি রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে খোকসাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে রয়েছেন। আর পঞ্চপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সবুজা বেগম সাথী প্রায় চার বছর ধরে উত্তর কানিয়ালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।   শিক্ষকদের দীর্ঘদিন অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্ত থাকার কারণে তাদের মূল কর্মস্থলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রধান শিক্ষক। কোথাও একজন শিক্ষককে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একই সময়ে দুটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াতে হচ্ছে।   চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম বলেন, সুমি আক্তার ২০১৭ সালে তাদের বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০২৪ সালের দিকে তিনি ডেপুটেশনে চলে যাওয়ার পর থেকে অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। তাকে নিজ বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করলেও দীর্ঘদিনেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব শিক্ষকের ডেপুটেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের নিজ বিদ্যালয়ে ফেরত পাঠানো হয়নি। শিক্ষক সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত ছুটি নিতেও পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি।   তবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষকদের ডেপুটেশনে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মন্ডল। তিনি বলেন, কোথায় কোথায় শিক্ষকরা ডেপুটেশনে রয়েছেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন। আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগকে তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন।   নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার নজরে আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এদিকে, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০১১ সালে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে জছিজুল আলম মন্ডলকে লঘুদণ্ড দেওয়ার তথ্য রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ের পর বাংলাদেশের ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট কোনো পথরেখা নেই: সলিমুল্লাহ খান

ছবি: সংগৃহীত

৩১ দফা বাস্তবায়ন হলেই জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সার্থকতা: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর বহরপুর বাজারে আগুন, পুড়ে গেছে প্রায় ১০ দোকান

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা আজ

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।   প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য সভায় সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম, অর্জন ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।   সভায় উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।   এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল সভায় অংশ নেবেন।   প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরাও সভায় উপস্থিত থাকবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৭, ২০২৬

দুই নম্বর নেতার কাছে দেশ কোনোদিন এক নম্বর হতে পারে না: ফয়জুল করীম

প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে ৪ দফা প্রস্তাব জামায়াতের

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটের সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী

দেশে জ্বালানি সংকট যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, অল্প সময়ে তার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন না অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   তিনি বলেছেন, “গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরে সমাধান হবে না। এরজন্য ন্যূনতম দুই বছর লাগবে।”   এর কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এ ধরনের অবকাঠামো তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। ফলে জ্বালানি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়।”   রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক সভায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।   এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তার সমাধানে দীর্ঘ সময় লাগার কথা বলে আসছিলেন।   জুনে তিনি বলেছিলেন, বিদেশ থেকে গ্যাস এনে সংরক্ষণ ও সরবরাহ করতে অন্তত ১৮ মাস সময় লাগতে পারে। অ্যামচেমের সভায় ব্যবসার ক্ষেত্রে ‘রেগুলেটরি বাধা’ কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার মাধ্যমে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন আমির খসরু।   বিদ্যমান নিয়ম শিথিল করার উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরতে পারেন, সেজন্য নেওয়া ব্যবস্থার কথাও তিনি বলেন।   মন্ত্রীর ভাষ্য, “দক্ষতা বৃদ্ধি ও অটোমেশনের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে।”   একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে বন্দর ও কাস্টমসের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগের কথা বলেন তিনি।   বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো এবং টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে নীতির ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”   নিয়ম মেনে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ, কর পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।   এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি করব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।   অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।   বিশেষ করে উদীয়মান ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে এ সম্ভাবনা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা যেসব মৌলিক বিষয় বিবেচনা করেন, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশে রয়েছে।   “তবে এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দিতে নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।”   সংস্কারের উদ্যোগকে দৃশ্যমান ও পূর্বানুমানযোগ্য ফলাফলে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৬, ২০২৬

গাইবান্ধায় নজরুল চর্চা কেন্দ্রের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

দুদিন ধরে হাঁটতে পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

বিভ্রান্তকারীদের কথায় প্ররোচিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

0 Comments