ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করায় এবি পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে একশ কোটি টাকা দিতে বলা হয়েছে। এই টাকা সরাসরি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিল’ জমা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তন্ময় কুমার সাহা এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার ফুয়াদ গত ৫০ থেকে ৭০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের জাতীয় ক্ষতির জন্য দায়ী করেছেন এবং সম্মানিত অনুষদ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষপূর্ণ, সাম্প্রদায়িক ও বিভাজন সৃষ্টিকারী গালিগালাজ করেছেন, এবং দাবি করেছেন যে তারা পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করছেন।
এই ধরনের বেপরোয়া ও অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, খ্যাতি ও সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এই মন্তব্যগুলো লাখ লাখ প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মনে গভীর মানসিক কষ্ট, যন্ত্রণা এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে বলে আইনজীবী তন্ময় কুমার সাহা নোটিশে উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবরকে ‘অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে তার দপ্তর। এ ধরনের সংবাদে বিভ্রান্ত না হতে গণমাধ্যম ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে, তাদের তা প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে এ দাবি করা হয়। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ‘পদত্যাগ’ বা ‘তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’ মর্মে যে সংবাদটি প্রচারিত হচ্ছে, তা ‘সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। প্রকৃত সত্য হিসেবে প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়, প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তার পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল’ এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ধরনের ‘কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে’ বলেও প্রতিবাদলিপিতে অভিযোগ করা হয়। শনিবার নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়েও প্রতিবাদলিপিতে বক্তব্য দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইতোপূর্বেই তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রচারকে বেআইনি ও সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবাদলিপিতে। সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে খবর প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে বলছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরাও কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এ ছাড়া একজন দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে নিয়ে কাউকে আটক করতে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না। এদিকে এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। রোববার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহাকাশে প্রথমবারের মতো এমন এক নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যা মানুষের চোখে সবুজ দেখায়। মৃতপ্রায় সূর্যের মতো নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ হোয়াইট ডোয়ার্ফ বা শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এটির সন্ধান পান তারা। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণ বিশ্লেষণ করে এ গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব নক্ষত্রের রং শুধু সাদা বা নীল নয়; বরং কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সবুজ কিংবা গোলাপি আভাও দেখা যেতে পারে। গবেষণাটির প্রধান লেখক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডস বৃহস্পতিবার জানান, সাধারণ নক্ষত্রের রং মূলত তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। এ কারণে সেগুলো সাধারণত কমলা, সাদা বা নীল দেখায়। তবে শ্বেত বামন নক্ষত্রের বাইরের স্তরের ভৌত বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হওয়ায় সেগুলোর বর্ণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যেতে পারে। কেন সবুজ দেখায় শ্বেত বামন নক্ষত্র? শ্বেত বামন হলো সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঘন অবশিষ্টাংশ। নক্ষত্রের জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে বাইরের স্তর ঝরে পড়ে এবং অবশিষ্ট কেন্দ্রটি শ্বেত বামনে পরিণত হতে পারে। গবেষকদের মতে, শ্বেত বামনের বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য মৌলের মিথস্ক্রিয়ার কারণে এর বর্ণে ভিন্নতা তৈরি হয়। নক্ষত্রের জীবনকালে আশপাশের বিভিন্ন পদার্থ এর সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এই পার্থক্য দেখা দিতে পারে। গবেষণায় শনাক্ত সবুজাভ নক্ষত্রটিতে প্রধানত ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শ্বেত বামনের পৃষ্ঠে লোহা, ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো মৌলও পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণত পাথুরে গ্রহ বা গ্রহাণুতে থাকে। কোনো গ্রহাণু শ্বেত বামনের খুব কাছে চলে এলে তার মহাকর্ষীয় আকর্ষণে সেটি ছিন্নভিন্ন হয়ে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষে পরিণত হতে পারে। পরে এসব পদার্থ নক্ষত্রের বাইরের স্তরে মিশে যায়। হল্যান্ডসের মতে, এসব পদার্থ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, পাথুরে বস্তুগুলো কী কী মৌল দিয়ে তৈরি ছিল। গ্রহের গঠন জানতেও সহায়ক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম বার্গাসার বলেন, শ্বেত বামন আশপাশের গ্রহের পদার্থকে ভেঙে নিজের মধ্যে মিশিয়ে নিতে পারে। পরে সেই পদার্থের উপাদান বিশ্লেষণ করে গ্রহটির গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা আলামত বিশ্লেষণ করে অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটনের মতোই বিজ্ঞানীরা এসব অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করে গ্রহের অতীত সম্পর্কে তথ্য বের করেন। এর মাধ্যমে গ্রহ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা বোঝার সূত্র পাওয়া যেতে পারে। এই গবেষণায় পৃথিবী থেকে ২০ পারসেক বা প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা পরিচিত ১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্র বিশ্লেষণ করেন হল্যান্ডস। গবেষকেরা সরাসরি পৃথিবী থেকে এসব নক্ষত্রের রং দেখতে পারেন না। নক্ষত্রের আলোকে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে ভাগ করলে যে বর্ণালির সৃষ্টি হয়, তা বিশ্লেষণ করে নক্ষত্রের সম্ভাব্য রং নির্ণয় করা হয়েছে। আলোর এই বর্ণালিকে নক্ষত্রের এক ধরনের ‘আঙুলের ছাপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গবেষণায় আরও একটি নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেটিকে প্রায় স্যামন মাছের মাংসের মতো গোলাপি দেখানোর কথা জানিয়েছেন হল্যান্ডস। নক্ষত্রটিতে কার্বন অণুর উচ্চ ঘনত্ব থাকায় এমন বর্ণ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্বেত বামন নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য বোঝার নতুন পদ্ধতি গবেষণায় সরাসরি নতুন কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের চেয়ে পরিচিত শ্বেত বামন নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য বোঝার একটি নতুন পদ্ধতি সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট স্ক্র্যানটনের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাগনেস কিম বলেন, নক্ষত্রের বর্ণালি থেকে মানুষের চোখে সেটি কেমন দেখাবে, তা নির্ণয় করা পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের একটি আকর্ষণীয় সংযোগ। তিনি আরও বলেন, কাছ থেকে দেখা সম্ভব হলে কিছু শ্বেত বামনকে সবুজ, আবার কিছু তারাকে গোলাপি দেখাত—এটি বেশ চমকপ্রদ। হল্যান্ডস জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণালি বিশ্লেষণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। নতুন প্রযুক্তি ও বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক জরিপের মাধ্যমে আরও দূরের নক্ষত্রের তথ্যও পাওয়া যাবে। তার আশা, নতুন পর্যবেক্ষণের ফলে বর্ণালি-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া শ্বেত বামন নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বাড়তে পারে। এতে সবুজাভ শ্বেত বামন নক্ষত্রের সংখ্যা এক বা দুটি থেকে বেড়ে ১০ থেকে ২০টিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। গবেষণাটি আরএএস টেকনিকস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস (আরএএসটিআই) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
পৃথিবীতে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি, বাড়ছে উৎপাদনশীলতা। তারপরও বিশ্বের বহু মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পান না। কারও ঘরে খাবারের অভাব, আবার কোথাও অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ খাদ্য। ক্ষুধা, অপুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তার এই বৈপরীত্যের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব খাদ্য দিবস। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুধার সমস্যা তুলে ধরা নয়; বরং সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করা। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বণ্টনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করতে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে উদ্যোগী করাও দিবসটি পালনের অন্যতম লক্ষ্য। এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজ উদ্ভাবন, আগামীকাল পুষ্টি’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, নতুন প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রচলিত জ্ঞান ও সম্মিলিত উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই এবারের প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা। যেভাবে শুরু বিশ্ব খাদ্য দিবসের ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা দূর করা, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরির তৎকালীন কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী পল রোমানি বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। ওই বছর এফএওর সম্মেলনে ১৬ অক্টোবর দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্যকে কেবল ব্যক্তিগত প্রয়োজন হিসেবে নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার বার্তা দেওয়া হয়। কেন পালন করা হয় দিবসটি? বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের অন্যতম প্রধান কারণ ক্ষুধা ও অপুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা হলেও পৃথিবীর সব মানুষ সমানভাবে খাবার পান না। দারিদ্র্য, সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক মানুষের জন্য নিয়মিত খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এফএওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ এখনও ক্ষুধার মুখে রয়েছেন এবং ২.৬৯ বিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখেন না। অর্থাৎ, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও সবার জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যের সহজলভ্যতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করা এবং খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দিবসটি। পাশাপাশি ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু খাবার নয়, পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুধা দূর করার অর্থ শুধু মানুষের পেটে খাবার পৌঁছে দেওয়া নয়। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসহ নানা পুষ্টি উপাদান। খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব এবং পুষ্টিকর খাবারের উচ্চমূল্য মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। অপুষ্টি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ক্যালরি ও ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস থেকেও স্থূলতা এবং বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে বিশ্ব খাদ্য দিবস স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিরাপদ খাবারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। খাদ্য থাকলেই সবার পাতে পৌঁছায় না খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন নয়; বরং প্রত্যেক মানুষের জন্য সব সময় প্রয়োজনীয় ও পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। কোনও পরিবার বাজারে খাবার পেলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বা মানের খাবার কিনতে না-ও পারে। আবার সংঘাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোথাও খাদ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হলে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে। খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে উৎপাদন, সরবরাহ, ক্রয়ক্ষমতা ও পুষ্টির বিষয়গুলো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিশ্ব খাদ্য দিবস এসব চ্যালেঞ্জ সামনে এনে সবার জন্য খাদ্যের ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। খাদ্য অপচয় রোধ করাও কেন জরুরি খাদ্য উৎপাদনের পেছনে জমি, পানি, জ্বালানি, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। উৎপাদিত খাবার সংরক্ষণ, পরিবহন কিংবা পরিবেশনের বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট হলে এসব সম্পদেরও অপচয় ঘটে। অন্যদিকে, পচে যাওয়া খাবার পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে খাদ্য অপচয় কমানো বিশ্ব খাদ্য দিবসের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, নিরাপদ ও উপযুক্ত খাবার ভাগ করে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও পরিবহনে অপচয় কমানোর মতো উদ্যোগ খাদ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পারে। একইসঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাদ্য সরবরাহের দুর্বলতা দূর করাও প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, বাজারে খাদ্যের দাম, কৃষকের জীবনমান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি সম্পর্কিত। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি কমানো, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা, বাজারব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশু ও মায়েদের পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য এবং খাদ্য অপচয় রোধেও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।