অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে লড়াকু সংগ্রহ গড়ে ২৮৫ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে নির্ধারিত ওভারে প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়ে সফরকারীরা, যা ম্যাচে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই সতর্ক ও পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটি দলকে শক্ত ভিত্তি এনে দেওয়ার চেষ্টা করে, এরপর মধ্যক্রমের ব্যাটাররা ইনিংসের গতি ধরে রাখেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও গুরুত্বপূর্ণ জুটিগুলো দলের স্কোরকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখে।
ইনিংসের মাঝের ওভারে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ধৈর্যের সঙ্গে রান সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রান তোলার গতি সচল রাখেন। শেষ দিকে কয়েকজন ব্যাটারের কার্যকর ক্যামিও ইনিংসে নির্ধারিত ওভার শেষে দলের সংগ্রহ পৌঁছে যায় ২৮৫ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা শুরুতে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় বড় ধরনের আধিপত্য বিস্তার করতে পারেননি। বিশেষ করে মধ্য ও শেষের ওভারগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা চাপ সামলে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেন।
২৮৫ রানের লক্ষ্য আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে তাড়া করা সম্ভব হলেও এটি মোটেও সহজ নয়। জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
এখন সব নজর অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ার ইনিংসের দিকে। বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও আঁটসাঁট ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা, আর অস্ট্রেলিয়া চাইবে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের ওপর ভর করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে। ফলে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমেরিকান মুল্লুকে বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে আর্জেন্টিনা। আর সে কারণেই প্রতিপক্ষের বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকো। আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা। তার আগে ডি-স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালিয়াফিকো বলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুভূতি একেবারেই ভিন্ন। তিনি বলছিলেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই বিশ্বকাপ খেলাটা আমাদের জন্য খুবই বিশেষ। আগেও বিশ্বকাপ খেলেছি, কিন্তু এবার আমরা শিরোপাধারী দল হিসেবে মাঠে নামছি। অনুভূতিটা তাই অন্যরকম।’ ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের মতে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে প্রতিটি দলই এখন আর্জেন্টিনাকে হারাতে চাইবে। ‘এবার সবাই আমাদের হারাতে চাইবে। কারণ আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা ধরে রাখার চাপটা আলাদা এবং খুবই কঠিন,’ বলেন তিনি। তবে এই চাপ সামলানোর সামর্থ্য আর্জেন্টিনা দলের আছে বলেও বিশ্বাস তালিয়াফিকোর। তার ভাষায়, ‘আমাদের দলে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। তারা জানে এই জার্সির গুরুত্ব কী এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে কীভাবে খেলতে হয়। তাই আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।’ হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে একাদশে ছিলেন তালিয়াফিকো। তবে ম্যাচ শেষে কিছুটা ক্লান্তি অনুভব করায় আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী প্রীতি ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দিতে পারেন কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি।
প্রথম সোমালি হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বের রেফারি হওয়ার কথা ছিল ওমর আব্দুলকাদির আরতানের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে ফিফার কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে। ২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) বর্ষসেরা রেফারি নির্বাচিত হওয়া ওমরকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি তুরস্কে অবস্থান করছেন। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ জানায়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোর একটি হলো সোমালিয়া। ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ম্যাচ অফিসিয়াল ওমর আব্দুলকাদির ওমরকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন না।” ফিফা আরও জানায়, তারা আয়োজক দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জড়িত নয়। ভিসা অনুমোদন ও প্রবেশের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আয়োজক দেশের সরকারের হাতে। সোমালিয়ার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক উপদেষ্টা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, ওমর বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। নাইরোবিতে সোমালি দূতাবাস জানিয়েছে, আগের ভিসা সমস্যার কারণে তার জন্য বিশেষভাবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছিল। ওমর রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, “আমি ফিফা ও সিএএফ-এর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আমার রেফারিং মান ধরে রাখব এবং ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দেব। সহকর্মীদের সফলতা কামনা করছি এবং ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় আবার তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় আছি।” সোমালি ফুটবল ফেডারেশন (এসএফএফ) জরুরি ব্যাখ্যা চেয়ে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বিবিসিকে বলেন, “আমি বিস্তারিত বলতে পারছি না, তবে কাস্টমস ও বর্ডার প্যাট্রোলের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং আমি সেটিকে সমর্থন করি।” ওমর ছিলেন ফিফার ঘোষিত ৫২ জন রেফারির একজন, যারা কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনা করার কথা ছিল।২০১৮ সালে ফিফা রেফারি হিসেবে তালিকাভুক্ত হন ওমর। তিনি আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) টুর্নামেন্টেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মাংসপেশির চোটে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গেছেন ওয়েসলি, এটা পুরোনো খবর। এএস রোমাতে খেলা ২২ বছর বয়সী ডিফেন্ডারের বদলি হিসেবে এরই মধ্যে মিডফিল্ডার এদেরসন সিলভার নাম চূড়ান্ত করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। এদেরসনের বিশ্বকাপ দলে ঢুকে যাওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল। এমনকি আগামৗ মৌসুমে ম্যান ইউনাইটেডে যোগ দিতে যাওয়া ২৬ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার নিজেও হয়তো এটা আশা করেননি! বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকতেই অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার খবর পান তিনি! ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গে-র প্রতিবেদন অনুসারে, শুরুতে আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে সুযোগ না পেয়ে জন্মস্থান ব্রাজিলের মাতো গ্রোসো দো সুল অঙ্গরাজ্যের কাম্পো গ্রান্দেতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন এদেরসন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে তিনি এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় নিজের পাসপোর্টও সঙ্গে নিয়ে যাননি এদেরসন। হয়তো বিশ্বকাপ দলে খেলার সুযোগ পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন! কিন্তু গতকাল রোববার সকালে হঠাৎ ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। এদেরসনকে জানানো হয়, তিনি বিশ্বকাপ দলে যুক্ত হয়েছেন। খবরটি এদেরসনের জন্য এদিকে যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি কিছুটা বিপাকেও পড়েন তিনি। কারণ তাঁর পাসপোর্ট যে রিও ডি জেনেইরোতে! পরে এক বন্ধুকে অনুরোধ করেন, তাঁর পাসপোর্টটি সাও পাওলোতে পৌঁছে দিতে। সেখান থেকেই নিউ জার্সির বিমানে উঠে ব্রাজিল দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা এদেরসনের। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ব্রাজিলের দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিকেলে অনুশীলনে অংশ নেবেন তিনি। উল্লেখ্য, আগামী রোববার ভোরে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল।