সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়িতে আবার চালু হলো ডাকঘর

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’ নামের সাব-পোস্ট অফিস।
‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’ নামের সাব-পোস্ট অফিস।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকার বিরাহিমপুরে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়িতে ডাকঘরের (টাউন সাব-পোস্ট অফিস) কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে এর উদ্বোধন করেন সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডাকঘরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (ডিপিএমজি) সুজিত চক্রবর্তী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের নিকটজন, ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


এদিন দুপুর ১২টায় ফিতা কেটে ‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’ নামের এই সাব-পোস্ট অফিসের নব-কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।


এর আগে সিলেট প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল কাম পোস্টমাস্টার মো. আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এবং পোস্ট অফিস পরিদর্শক (শহর) রুনু চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


সভায় প্রধান অতিথি ডিপিএমজি সুজিত চক্রবর্তী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুর মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খাঁনের দাদা মরহুম খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলী জীবদ্দশায় তার এই বাড়িতে ডাকবিভাগকে ১৬ শতক জমি দান করেছিলেন। সেখানে একটি শাখা ডাকঘর স্থাপন করা হয়। 


পরবর্তী সময়ে ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ২০১৩ সালে এ ডাকঘরের কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী সিলাম সাব-পোস্ট অফিসে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০২৪ সালে এটিকে টাউন সাব-পোস্ট অফিস হিসেবে উন্নীত করে পুনরায় কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সম্প্রতি ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কাজী আসাদুল ইসলামের নির্দেশনা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (পিএমজি) মো. আবু তালেবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সিলেট বিভাগীয় ডাকঘরের ব্যবস্থাপনায় ভবনের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়।


মরহুম খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলীসহ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ির সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সুজিত চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয় মানুষের ডাকসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা বহু বছর আগে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আজ আমরা সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং স্থানীয়দের আধুনিক ডাকসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব।


সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ‘খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলী ওয়াকফ এস্টেট’র মুতাওয়াল্লি বাবর আলী খাঁন, সমাজসেবক আসাদ উদ্দিন, সিলেট প্রধান ডাকঘরের এপিএম লিপ্টন রঞ্জন রায় ও এপিএম মুজিবুর রহমান খান পাঠান।


সভা শুরুর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন স্থানীয় মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা আনোয়ার হোসেন এবং গীতা পাঠ করেন ডাকবিভাগ কর্মকর্তা চুমকি রানী তালুকদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট প্রধান ডাকঘরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’র পোস্টমাস্টার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
আম। প্রতীকী ছবি
বাজারের আম খেয়ে খুলনায় এক নারীর মৃত্যু, অসুস্থ ৪

খুলনার কয়রায় মহারাজপুরে আম খাওয়ার পর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও ৪ জন সদস্য অসুস্থ অবস্থায় কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত নারীর নাম লতিকা সানা (৫৫)। এছাড়া অসুস্থরা হলেন, একই পরিবারের তুলসি সানা (৪২), ইন্দ্রজিৎ সানা (১৪), বিবেকানন্দ সানা (৬০) ও প্রকাশ সানা (৫১)। তারা সবাই মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। এলাকাবাসী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৯ জুন রাতে পরিবারের ৫ সদস্য হায়াতখালী বাজার থেকে কেনা আম খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর থেকে পেটের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে অবস্থার অবনতি হলে ১০ জুন বিকেলে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মৃত লতিকা সানার পরিবারের নিকট আত্মীয় নিতিশ সানা বলেন, রাতে আম খাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ভোর থেকে তাদের পেট খারাপ হয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজিত কুমার বৈদ্য জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫ জনকে বুধবার বিকেলে হাসপাতালে আনা হলে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি ৪ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। তিনি আরও বলেন, আমে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হতে পারে। অথবা বাড়িতে সংরক্ষণের পর কোনোভাবে বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসতে পারে, যা খেয়ে তারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আমের বাজারে ‘ঢলন’ প্রথা বন্ধ, এখন থেকে কেনাবেচা কেজিতে

ছবি : সংগৃহীত

৩ হাজার কোটি টাকা বাঁচিয়েও ২৪ দিনে ৩ বার বদলি সেই এডিসি

‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’ নামের সাব-পোস্ট অফিস।

প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়িতে আবার চালু হলো ডাকঘর

ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীতে শেখ মুজিব ও আ.লীগ নেতাদের ৩০০ বই জব্দ

রাজশাহীতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার থেকে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে লেখা ও তাদের সম্পর্কিত প্রায় ৩০০ বই জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসনের দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে বইগুলো জব্দ করেন। এসময় মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির, রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুজ্জামান প্রীতমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানরত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের বাসে মহানগর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বই পড়তে যান। এ সময় সেখানে আওয়ামী লীগের সাবেক শীর্ষ নেতাদের নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই দেখতে পান বলে দাবি করেন তারা। পরে পাঠাগারের কার্যক্রম বন্ধ করে বাসটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়। বই জব্দের সময় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার বয়ানসংবলিত কোনো গ্রন্থ, সাময়িকী বা প্রবন্ধ সংরক্ষণ বা প্রদর্শন করা হবে না— মর্মে একটি মুচলেকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক লিমন বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীরা ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারে বই পড়তে গিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই দেখতে পান। বিষয়টি নজরে আসার পর আমরা প্রশাসনকে অবহিত করি। মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন বলেন, স্বৈরাচার পতনের পরও এসব বই পাঠাগারে থাকা উদ্বেগজনক। এর পেছনে একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলে আমাদের আশঙ্কা। আমরা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। তবে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, রাজশাহীতে বই সংরক্ষণের আলাদা কোনো স্থান না থাকায় বইগুলো বাসের ভেতরে রাখা হয়েছিল। এগুলো পাঠকদের জন্য প্রদর্শন বা বিতরণ করা হচ্ছিল না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বইয়ের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়ে আসছে।

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার রাতে, রাজধানী কাকলী এলাকায়।ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর পর এবার রাতে বর্জ্য তদারকিতে প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে রেলের ১৬০ যন্ত্রপাতি এখন এক উপজেলাতেই

ছবি : সংগৃহীত

২৬ জাতের আমগাছে ভরা ছাদ, কেমন হলো এবারের ফলন?

ছবি : সংগৃহীত
মাগুরার আমজাদের হাতে সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই নতুন করে আলোচনায় আসেন মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন। জার্মান ফুটবল দলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে গত দুই দশক ধরে তিনি তৈরি করে আসছেন বিশাল আকৃতির জার্মানির পতাকা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে এবার তিনি তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা, যা এ পর্যন্ত তাঁর তৈরি সবচেয়ে বড় পতাকা।   বুধবার মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।   মাগুরা পৌরসভার ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন (৭৪) পেশায় একজন কৃষক। বিশ্বকাপ এলেই নিজের সামর্থ্য ও ভালোবাসা থেকে তৈরি করেন জার্মানির বিশাল পতাকা। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন শুধু মাগুরা বা বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পেয়েছে।   আমজাদের পতাকা তৈরির যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। সে সময় জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি প্রায় ৩৫০ গজ দীর্ঘ একটি পতাকা তৈরি করেন। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপেই পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে চলেছেন তিনি। ২০১০ সালে আড়াই কিলোমিটার, ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটার, ২০১৮ সালে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এবং এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা।   আমজাদ হোসেন জানান, ২০০৪-০৫ সালের দিকে তিনি জটিল এক রোগে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে এক চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানিতে তৈরি একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধ সেবন করেন। এরপর সুস্থ হয়ে ওঠার পর থেকেই জার্মানির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ জন্ম নেয়। কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা থেকেই তিনি জার্মান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে পতাকা তৈরি শুরু করেন।   তবে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। পতাকা তৈরির ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাঁকে একাধিকবার আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে পরিবারের সদস্যদের আপত্তি সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে পতাকা তৈরির খরচ জোগাতে ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছিলেন তিনি। ওই বছর পতাকা তৈরিতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয়। জার্মানি বিশ্বকাপ জেতার পর আনন্দ ভাগাভাগি করতে গরু জবাই করে মেজবানেরও আয়োজন করেছিলেন তিনি।   আমজাদের এই অনন্য উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাগুরায় এসে তাঁর তৈরি পতাকার উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং জার্মান ফুটবল দলের ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালেও জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁর পতাকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।   আমজাদ হোসেন বলেন,'আমি ভালোবাসা থেকেই এসব করি। কখনো কারও কাছে সাহায্য চাইনি। এবার আমার সন্তানেরাই পতাকা তৈরির খরচ বহন করেছে। আমি এই পতাকাটি জার্মান দূতাবাসকে উপহার দিতে চাই। তারা চাইলে এটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করতে পারে।'   ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই প্রবীণ ফুটবলপ্রেমী। তাঁর আশা, সুস্থ থাকলে ২০৩০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করবেন। এরপর সেই পতাকাটি জার্মানির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাবেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ বলা নেতা এবার আশ্রয় নিলেন থানাতেই

ছবি : সংগৃহীত

কৃষক দল নেতা হত্যার পর বাগেরহাটে জামায়াতের ৩ কার্যালয়ে ভাঙচুর

ছবি: সংগৃহীত

লাল টেলিফোনের তারের পর এবার মন্ত্রণালয় থেকে ল্যাপটপ চুরি

0 Comments