সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর পর এবার রাতে বর্জ্য তদারকিতে প্রতিমন্ত্রী

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার রাতে, রাজধানী কাকলী এলাকায়।ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার রাতে, রাজধানী কাকলী এলাকায়।ছবি: সংগৃহীত

রাতের বেলায় আকস্মিকভাবে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।


বুধবার রাত ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা  হুমায়ুন কবীরকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর কাকলী এলাকায় যান।


প্রতিমন্ত্রী ঘণ্টাখানেক ধরে কাকলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি কোথায় বর্জ্য জমে আছে, অপসারণে কত সময় লাগছে, মাঠপর্যায়ে কর্মীরা কীভাবে কাজ করছেন—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন।


এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার সময় আকস্মিকভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে বের হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।


বুধবার রাতে পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংশ্লিষ্টদের বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যেকোনো গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না। নগরবাসী যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে, সে জন্য মাঠপর্যায়ে তদারকি আরও বাড়াতে হবে। শুধু দাপ্তরিক প্রতিবেদন নয়, বাস্তব কাজের ফল মাঠে দেখা যেতে হবে।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিয়মিত ও সময়মতো করতে হবে। কোথাও বর্জ্য জমে থাকলে, তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহার সময় রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনের পর থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাতের বেলায়ও বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’ নামের সাব-পোস্ট অফিস।
প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়িতে আবার চালু হলো ডাকঘর

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকার বিরাহিমপুরে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়িতে ডাকঘরের (টাউন সাব-পোস্ট অফিস) কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে এর উদ্বোধন করেন সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডাকঘরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (ডিপিএমজি) সুজিত চক্রবর্তী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের নিকটজন, ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন দুপুর ১২টায় ফিতা কেটে ‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’ নামের এই সাব-পোস্ট অফিসের নব-কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এর আগে সিলেট প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল কাম পোস্টমাস্টার মো. আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এবং পোস্ট অফিস পরিদর্শক (শহর) রুনু চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় প্রধান অতিথি ডিপিএমজি সুজিত চক্রবর্তী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুর মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খাঁনের দাদা মরহুম খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলী জীবদ্দশায় তার এই বাড়িতে ডাকবিভাগকে ১৬ শতক জমি দান করেছিলেন। সেখানে একটি শাখা ডাকঘর স্থাপন করা হয়।  পরবর্তী সময়ে ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ২০১৩ সালে এ ডাকঘরের কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী সিলাম সাব-পোস্ট অফিসে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০২৪ সালে এটিকে টাউন সাব-পোস্ট অফিস হিসেবে উন্নীত করে পুনরায় কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সম্প্রতি ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কাজী আসাদুল ইসলামের নির্দেশনা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (পিএমজি) মো. আবু তালেবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সিলেট বিভাগীয় ডাকঘরের ব্যবস্থাপনায় ভবনের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়। মরহুম খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলীসহ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ির সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সুজিত চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয় মানুষের ডাকসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা বহু বছর আগে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আজ আমরা সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং স্থানীয়দের আধুনিক ডাকসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ‘খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলী ওয়াকফ এস্টেট’র মুতাওয়াল্লি বাবর আলী খাঁন, সমাজসেবক আসাদ উদ্দিন, সিলেট প্রধান ডাকঘরের এপিএম লিপ্টন রঞ্জন রায় ও এপিএম মুজিবুর রহমান খান পাঠান। সভা শুরুর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন স্থানীয় মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা আনোয়ার হোসেন এবং গীতা পাঠ করেন ডাকবিভাগ কর্মকর্তা চুমকি রানী তালুকদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট প্রধান ডাকঘরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’র পোস্টমাস্টার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীতে শেখ মুজিব ও আ.লীগ নেতাদের ৩০০ বই জব্দ

রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার রাতে, রাজধানী কাকলী এলাকায়।ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর পর এবার রাতে বর্জ্য তদারকিতে প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে রেলের ১৬০ যন্ত্রপাতি এখন এক উপজেলাতেই

ছবি : সংগৃহীত
২৬ জাতের আমগাছে ভরা ছাদ, কেমন হলো এবারের ফলন?

রাজধানীর মধ্যবাড্ডার বৈশাখী সরণি। উদয়ন স্কুলের বিপরীত দিকের গলি ধরে এগোলে শেষ মাথায় যে বাড়িটির সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়, তার নাম ‘সবুজ ছায়া’। আক্ষরিক অর্থেই বাড়িটি সবুজ ছায়ায় ঢাকা। ৬ তলা এই ভবনের ছাদেই এক দৃষ্টিনন্দন ছাদবাগান গড়ে তুলেছেন আসমা কাদির ও মো. আবদুল কাদির দম্পতি।   ২০০৭ সালে নির্মিত এই বাড়ির ছাদে বাগানের সূচনা ২০১০ সাল থেকে। বাগানে আমগাছের বসতিও তখন থেকেই। দুটি বারোমাসি আম দিয়ে শুরু করা সেই বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে ২৬ প্রজাতির আমগাছ। আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, হিমসাগর, গুটি আম, বারি-৪, থাই ব্যানানা ম্যাঙ্গো, চিয়াংমাই, কাঁচামিঠা, আমেরিকান রেড পালমারসহ আছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম জাপানের ‘মিয়াজাকি’ বা সূর্যডিম। ২৬ প্রজাতির মধ্যে ২৫টির গাছেই এবার আম ধরেছে। এ বছর বাগানে কাদির দম্পতির ছাদবাগানে ৫-৬ মণ আম হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি চিয়াংমাই জাতের আমগাছেই ধরেছে ২ মণ আম। একেকটি আম সর্বোচ্চ দুই কেজি পর্যন্ত হয়। এবার আম বড় হওয়ার পর এক অদ্ভুত বিপত্তি ঘটেছে বলে জানালেন আসমা কাদের। কোনো ঝড়বৃষ্টি ছাড়াই স্রেফ আমের ভারে গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। সবুজ আমের গায়ে সবে রং আসতে শুরু করেছে, এমন সময় ডালসহ আমগুলোর ঝরে পড়ায় মন কিছুটা খারাপ হলেও শেষমেশ আচার বানানোর কাজে লাগিয়ে সেই দুঃখ দূর করেছেন তিনি। গাছে এখন সবচেয়ে বেশি শোভা পাচ্ছে আম্রপালি। সবুজ পাতার ফাঁকে পেকে সবুজ-হলুদ হয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে সেসব। গাছগুলো সময়ের সঙ্গে এতটাই বড় ও ঝাঁকড়া হয়েছে যে কাণ্ড বেয়ে গাছে উঠে কিংবা বাঁশের কোটা দিয়ে আম পাড়তে হয়। তবে হাতের নাগালের বাইরে থাকা পাকা আমগুলোর ওপর পাখিদের প্রায় একচ্ছত্র দখল। পাখিরা আমগুলো এমন নিখুঁতভাবে খায় যে গাছে শুধু আমের আঁটিটা ঝুলতে থাকে! আসমা কাদির বলেন, ‘পাখিরাও এই বাগানের অতিথি, ওদেরও হক আছে। আর সে কারণেই এই বাগানে নেট বা জাল দিয়ে আম আটকে রাখি না।’ ছাদের দুটি অংশ। নিচের অংশে আম্রপালি, ব্যানানা, হাঁড়িভাঙা, হিমসাগর, কাঁচামিঠার রাজ্য পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠলাম ওপরের অংশে। এখানে থাই কাটিমন নামের বারোমাসি আমের পাশেই সূর্যরাঙা রঙে দুলছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আমখ্যাত জাপানের মিয়াজাকি বা সূর্যডিম। কাঁচা অবস্থায় হালকা লালচে এই আমের পাকার সময় যত এগিয়ে আসে, অস্ত যাওয়া সূর্যের রং ধারণ করে। আকারে যেমন বড়, দেখতে আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি দারুণ সুস্বাদু। বলা চলে একাই পুরো বাগানের দেখভাল করেন আসমা কাদির। বাসায় লিফট নেই, তাই সিঁড়ি বেয়েই রোজ ছয় তলার ছাদে ওঠানামা করতে হয়। কোন গাছের কী পরিচর্যা দরকার, তা নিজেই দেখেন। জৈব সার ও পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার—সবই নিজ হাতে সামলান। নতুন বাগানিদের জন্য পরামর্শ নতুন যাঁরা বাগান করার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য আসমা কাদিরের পরামর্শ, ছাদে অন্যান্য দেশি জাতের আমের পাশাপাশি যেন অবশ্যই কিছু বারোমাসি জাতের গাছ রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে কাটিমন, বারি-১১ কিংবা পুনাই জাতের আম বেছে নেওয়া যেতে পারে। আসমা কাদিরের এই সবুজ উদ্যোগ দেখে প্রতিবেশীরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি তাঁর বাসায় এসে পরামর্শ নিয়ে যান।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মাগুরার আমজাদের হাতে সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা

ছবি : সংগৃহীত

‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ বলা নেতা এবার আশ্রয় নিলেন থানাতেই

ছবি : সংগৃহীত

কৃষক দল নেতা হত্যার পর বাগেরহাটে জামায়াতের ৩ কার্যালয়ে ভাঙচুর

ছবি: সংগৃহীত
লাল টেলিফোনের তারের পর এবার মন্ত্রণালয় থেকে ল্যাপটপ চুরি

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির পর এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একান্ত সচিবের ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৬ তলা থেকে মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ চুরি হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহাদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দপ্তর রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির শাকিরুল ইসলামের কক্ষে পিএস ইমামুল হাফিজ প্রবেশ করেন। মাত্র পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে তিনি দেখেন তার টেবিলে রাখা ল্যাপটপটি নেই।   সূত্র জানায়, ওই সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এছাড়া কক্ষের বাইরে লোকসমাগমও ছিল। পরবর্তীতে তল্লাশি চালানো হলেও ল্যাপটপটি উদ্ধার করা যায়নি।   এদিকে নিরাপত্তা কর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, খয়েরি রঙের শার্ট ও ধূসর প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কালো ব্যাগ নিয়ে দপ্তর থেকে বের হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাগের মধ্যেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি ছিল। এতে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিও থাকতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভবনের ১৬ তলায় শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা যায়। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।   তারা আরও বলেন, লিফট থেকে নেমেই নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই করিডোরে প্রবেশ করা যায়। ফলে দপ্তরগুলো কার্যত ঝুঁকির মধ্যে থাকে।   এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা উপস্থিত সবার ব্যাগ তল্লাশি করেছি। আমাদের জনবল খুবই সীমিত—মোট ২২ জন আনসার পুরো ভবনে দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তার তুলনায় জনবল কম। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।   এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। ​​

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন আতঙ্ক, দেড় বছরে প্রাণ গেল বিজিবিসহ ১০ জনের

ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের পাওয়ার কারের লাইনচ্যুত চাকা।

বগি লাইনচ্যুত, ময়মনসিংহ-জামালপুর রেল যোগাযোগ বন্ধ

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

আওয়ামী লীগ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না: আসিফ মাহমুদ

0 Comments