প্রবাসী

প্রবাসীদের জরুরি বার্তা দিল ওমান পুলিশ

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া জরিমানার বার্তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে নিশ্চিত করেছে রয়্যাল ওমান পুলিশ। সম্প্রতি বিভিন্ন নম্বর থেকে পাঠানো কিছু বার্তায় ট্রাফিক বা অন্যান্য জরিমানার কথা উল্লেখ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এসব বার্তায় সময়সীমা পার হলে অতিরিক্ত জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থার হুমকিও দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ওমান পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ধরনের বার্তার কোনো সরকারি ভিত্তি নেই এবং এগুলো কোনো অনুমোদিত সংস্থা থেকে পাঠানো হয়নি। পুলিশ জানায়, প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের ভীতি ও অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া এসএমএস বা অনলাইন বার্তার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বার্তায় সরকারি লোগো, লিংক বা আরবি ভাষার আনুষ্ঠানিক শব্দ ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়।

 

পুলিশ নাগরিক ও প্রবাসীদের এ ধরনের বার্তা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাংক সংক্রান্ত কোনো তথ্য শেয়ার না করার জন্য সতর্ক করেছে পুলিশ। জরিমানা বা সরকারি কোনো নোটিশ থাকলে তা কেবলমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট, নির্ধারিত অ্যাপ বা অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমেই জানানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ওমান পুলিশ আরও জানায়, কেউ যদি এ ধরনের ভুয়া বার্তা পান বা প্রতারণার শিকার হন, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এতে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা প্রতিরোধ করা সহজ হবে। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা সভা

রাষ্ট্র সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রবাসীদের ভূমিকা ও ভাবনা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৭ মে) কুয়ালালামপুরের রাধুনী বিলাস রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।   সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ডায়াস্পোরা এলায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ডায়াস্পোরা সেল সম্পাদক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।   বক্তারা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা, গণভোটের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   তারা বলেন, জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও জনগণকেন্দ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় দেশ-বিদেশে থাকা নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা জরুরি।   প্রধান আলোচক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, প্রবাসীরা শুধু দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিই নন, রাষ্ট্র গঠন ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তিনি রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমে প্রবাসীদের মতামত ও অংশগ্রহণকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।   সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং কার্যকর রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি। তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।   সভায় মালয়েশিয়া এনসিপির সদস্য সচিব আলম রওশন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন সরকার সিআইপিসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইংলিশ চ্যানেলে মানবপাচারের মূল হোতা কুর্দিস্তানে গ্রেফতার

ছবি : সংগৃহীত

ভালো চাকরির প্রলোভনে মালদ্বীপে প্রতারণার শিকার প্রবাসীরা

গবেষক ড. মো. আবু জায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি ও পরিবেশ গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি গবেষক

ছবি : সংগৃহীত
বিদেশি নাগরিকদের জন্য রেসিডেন্সি কার্ড বাধ্যতামূলক করল মিশর সরকার

মিশর সরকার দেশটিতে অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিককে তাদের আইনগত অবস্থান দ্রুত নিয়মিত করার এবং সদ্য চালু করা স্মার্ট রেসিডেন্সি কার্ড সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে।    একই সঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, বৈধ রেসিডেন্সি বা সরকার-স্বীকৃত অব্যাহতি কার্ড ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিক আর রাষ্ট্রীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন না।  মঙ্গলবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মিশরের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব পাসপোর্টস, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি বিভাগ জানায়, দেশটিতে বসবাসরত সকল বিদেশিকে দ্রুত তাদের রেসিডেন্সি পারমিট নবায়ন এবং নতুন স্মার্ট রেসিডেন্সি কার্ড গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।  সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কেবলমাত্র বৈধ রেসিডেন্সি বা অব্যাহতি কার্ডধারীরাই স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যাংকিং, চাকরি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের যোগ্য হবেন। এই নিয়ম কার্যত রাষ্ট্রীয় সেবায় প্রবেশাধিকারকে বৈধ অভিবাসন নথির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করছে। যেসব বিদেশি নাগরিক রেসিডেন্সি ফি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, তাদেরও বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য নিবন্ধন করে সরকার-প্রদত্ত অব্যাহতি কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ মূলত রাষ্ট্রীয় সেবা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল, সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছ করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।  এই কঠোর নীতিমালা ২০২৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মিশরে অবস্থানরত লক্ষাধিক বিদেশি নাগরিক যাদের মধ্যে শরণার্থী, অভিবাসী, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত তাদের আইনগত অবস্থান নিয়ন্ত্রণ ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।  ২০২৩ সালের আগস্টে মিশর সরকার ঘোষণা করে, অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের বৈধতা অর্জনের জন্য ১,০০০ মার্কিন ডলার প্রশাসনিক ফি প্রদান এবং একজন মিশরীয় হোস্টের প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। পরবর্তীতে এ সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হয়, যা সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর ছিল।  সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এসব নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে এখন দেশজুড়ে রেসিডেন্সি যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে। এর ফলে অনেক বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করছেন, তারা নতুন নিয়মের আওতায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।  স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কিছু নাগরিকও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মিশরে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে আলাদা কোনো দেশের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি, তবে কর্তৃপক্ষ সবাইকে সমানভাবে আইন মানার আহ্বান জানিয়েছে।  আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এর তথ্য অনুযায়ী, মিশরে বর্তমানে প্রায় ৯.১ মিলিয়ন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছে, যারা ১৩৩টি দেশের নাগরিক। এর মধ্যে সুদান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়ার নাগরিকদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ মিশরে প্রবেশ করে, যার ফলে বিদেশি জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।  মিশরীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় ডাটাবেস হালনাগাদ করা, অভিবাসন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে আনা এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপের মধ্যে সরকারি সেবার কার্যকারিতা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।  লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ওমানে রহস্যজনকভাবে নিহত চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে পৌঁছালো

ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়া থেকে ৩১ বাংলাদেশি দেশে ফেরত

ছবি : সংগৃহীত

সাড়ে চার মাসে মালয়েশিয়ায় আটক ১৬ হাজারেরও বেশি অভিবাসী

ছবি : সংগৃহীত
সান ডিয়েগো হামলা: প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভয়

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনা সেখানকার কয়েক হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।   তারা বলছেন, সান ডিয়েগোর বাসিন্দারা এর আগে কখনো এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েনি।   সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলা হয়। এতে এক নিরাপত্তা রক্ষীসহ নিহত হন তিনজন। পরে লাশ পাওয়া যায় সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীর। তারা দুজনই কিশোর।   পুলিশের ধারণা, নিজেদের গুলিতেই ওই দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।   সান ডিয়েগোতে কয়েক হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। তবে হতাহতের তালিকায় কোনো বাংলাদেশি থাকার খবর পাওয়া যায়নি।   মসজিদের পাশের এলাকায় থাকেন বাংলাদেশি লেখক মোহাম্মদ আলম পান্না।   তিনি টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়োন্টিফোর ডটকমের এ প্রতিনিধিকে বলেন, “ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।   কারণ, হামলার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত আল রশিদ স্কুলে পাঠদান চলছিল। ইংরেজি ও আরবি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানরাও ছিল। তবে হতাহতের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই।   পান্না বলেন, সান ডিয়েগোর এই মসজিদ ঘিরে আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমান পেশাজীবী রয়েছেন। কারণ এই মসজিদে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি আরবি শেখানোর অনুমতিও মিলেছে স্থানীয় শিক্ষা দপ্তর থেকে। তবে এমন দুঃখজনক ঘটনার অবতারণা কখনো হয়নি।   সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় পুলিশ বলেছে, দুই সন্দেহভাজনের মধ্যে একজনের মা ঘটনার ঘণ্টা দুয়েক আগে পুলিশকে ফোন করেছিলেন।   ওই মা জানিয়েছিলেন, তার ছেলে বাড়ি থেকে তিনটি বন্দুক নিয়ে দৌঁড়ে বের হওয়ার পর গাড়ি নিয়ে চলে গেছে। তার ছেলেটি আত্মহত্যাপ্রবণ বলে উল্লেখ করেছিলেন ওই মা।   সান ডিয়াগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ওই মা জানিয়েছিলেন, তার ছেলের সঙ্গে একজন সঙ্গী আছে এবং তারা উভয়েই ছদ্মবেশী পোশাক পরে ছিল। এসব খবর পেয়ে পুলিশ এই কিশোরদের খুঁজতে শুরু করে আর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে নিকটবর্তী একটি শপিং মলে ও ওই ছেলেদের হাইস্কুলে টহল দল পাঠায়। এর পরই মসজিদ থেকে গুলির খবর আসে।   সেখানে গিয়ে পুলিশ তিনটি মৃতদেহ খুঁজে পায়। কর্মকর্তাদের ধারণা, নিহত নিরাপত্তারক্ষী সম্ভবত আরও রক্তপাত থামাতে ভূমিকা রেখেছেন।   এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ দুই কিশোরের মৃতদেহ খুঁজে পায়। তাদের একজনের বয়স ১৭ ও অপরজনের ১৮। এক রাস্তার মাঝখানে থেমে থাকা গাড়িতে তাদের মৃতদেহগুলো ছিল।   নিজেদের গুলিতে জখম হওয়ার পর তারা মারা গেছেন বলে ধারণা পুলিশের।   বাড়ি থেকে অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পর ওই ছেলেটির মা একটি লেখা খুঁজে পেয়েছিলেন, ওয়াল এমনটি জানালেও ওই নোটে কী লেখা ছিল তা প্রকাশ করতে রাজি হননি।   ঈদুল-আযহার কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।   ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক ও ইমাম তাহা হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, এর আগে এ ধরনের শোচনীয় ঘটনার কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের হয়নি। একটি প্রার্থনার স্থানকে লক্ষ্যস্থল করা অত্যন্ত ভয়ানক কাজ।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইতালিতে সন্ত্রাসী হামলা রুখে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন বাংলাদেশি তরুণ

ছবি : সংগৃহীত

ইতালিজুড়ে ধর্মঘট, অচল গণপরিবহন—চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

প্রতীকী ছবি

ইতালিতে ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশি যুবক আটক, চলছে তদন্ত

0 Comments