প্রবাসী

ওমান প্রবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ, লাইসেন্স না নিলে বাতিল হবে ভিসা

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ওমানের শিল্প খাতে কর্মরত শ্রমিক ও পেশাজীবীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন আনল দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। এখন থেকে শিল্প সেক্টরের নির্দিষ্ট কিছু পেশায় কাজ করতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে ‘পেশাগত স্বীকৃতি’ বা প্রফেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে। শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমার্স, ইন্ডাস্ট্রি ও ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ে এই ‘প্রফেশনাল অ্যাক্রিডিটেশন সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে।

 

আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ১লা মে ২০২৬ থেকে এটি আইনত বাধ্যতামূলক বা কার্যকর হবে। শ্রম মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ১ মে-এর পর নির্ধারিত পেশার কর্মীদের এই সার্টিফিকেট বা লাইসেন্স না থাকলে তাদের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হবে না এবং পুরনো পারমিটও নবায়ন করা হবে না। এই নিয়ম ওমানি নাগরিক এবং প্রবাসী কর্মী—উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।

 

এই নতুন নিয়মের আওতায় পেশাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ‘পেশাগত শ্রেণিবিন্যাস’ বা ক্লাসিফিকেশনের আওতায় রয়েছে ফ্যাক্টরি ম্যানেজার, অপারেশন ম্যানেজার, মেইনটেন্স ম্যানেজার, অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট, গ্রাফিক ডিজাইনার, সিরামিক আর্টিস্ট এবং বিভিন্ন ধরণের মেকানিক্যাল ও কেমিক্যাল টেকনিশিয়ানদের মতো পদগুলো। অন্যদিকে, ‘পেশাগত লাইসেন্সিং’-এর আওতায় রয়েছে প্লাস্টিক মেশিন অপারেটর, ফুড ইন্ডাস্ট্রি টেকনিশিয়ান, ফার্নিচার কার্পেন্টার এবং মার্বেল কাটিংয়ের মতো কারিগরি কাজগুলো। সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের www.mol.gov.om মাধ্যমে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার শীর্ষ গবেষকদের তালিকায় স্থান পেলেন বাংলাদেশি ড. সাইদুর রহমান

মালয়েশিয়ায় গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশি গবেষক অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান অনন্য এক মাইলফলক অর্জন করেছেন। তিনি একযোগে দুটি সম্মানজনক স্বীকৃতি লাভ করেছেন ‌‘ইনেইবলিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক টেকনোলজিস’ খাতে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার শীর্ষ ১০ গবেষকের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন।   মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কুয়ালালামপুরের লে কাদেরি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।   দেশের গবেষণা খাতে অবদান রাখা সেরা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এ আয়োজন করা হয়, যা প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ড. সাইদুর রহমান ময়মনসিংহ জেলার কৃতী সন্তান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন।   পুরস্কার গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় ড. সাইদুর রহমান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার এই অর্জনের পেছনে অবদান রাখা সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সহকর্মী, গবেষণা দল, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।   বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত ‘ইনেইবলিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক টেকনোলজিস’ খাতটি বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত উপকরণ, ডেটা বিজ্ঞান এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই খাতের অন্তর্ভুক্ত। এ খাতে শীর্ষস্থান অর্জন গবেষকের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তাধারা এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি বহন করে।   এদিকে, মালয়েশিয়ার শীর্ষ ১০ গবেষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াও একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশটির গবেষণা অঙ্গনে তার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের সাফল্য তরুণ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের সাফল্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণাকে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ার গবেষকদের সাফল্য ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরাও পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অবদানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।   এই অর্জন মালয়েশিয়ার গবেষণা খাতের অগ্রগতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বিশেষ অভিযানে ৩৩৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ, ৪৯ জন আটক

ছবি : সংগৃহীত

২৪ জন বাংলাদেশিসহ ৯৭ জন বন্দিকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

ছবি : সংগৃহীত

অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের সুখবর দিল রোমানিয়া

ছবি : সংগৃহীত
ইতালিতে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি কর্মী

ইতালির বেরগামো শহরে ট্রেন দুর্ঘটনায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।   শফিকুল ইসলাম (৫৫) নামে ওই কর্মীর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার জাজিসার গ্রামে। স্থানীয় সময় রোববার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বেরগামোর লেভাতে এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কাউন্সেলর মেহরুবা ইসলাম জানান, ঘটনাটি কর্তৃপক্ষ জেনেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই শফিকুলের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা ইতালির জরুরি নম্বর ১১২-তে ফোন করলে পুলিশ ও চিকিৎসক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।   নিহতের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৭ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ইতালিতে যান শফিকুল। সেখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তিনি দেশে থাকা স্ত্রী ও চার সন্তানের ভরণপোষণ চালাতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।   তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি খুন: রুমমেট হিশামকে ‘সাইকোপ্যাথ’ ভাবতেন লিমন

ছবি : সংগৃহীত

পর্তুগালে পর্যটন মন্দা, দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

ছবি: সংগৃহীত

লিমন-বৃষ্টি হত্যা: ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নিউইয়র্কে মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
লিমন-বৃষ্টি হত্যা: হিশামকে নিয়ে আগে থেকেই পুলিশকে সতর্ক করেছিল পরিবার

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হিশাম আবুগারবিয়েহর অস্বাভাবিক আচরণের বিষয়ে অতীতে তার পরিবার পুলিশকে জানিয়েছিল।   সিবিএস নিউজের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা জানিয়েছেন হিশামের ছোট ভাই ২২ বছর বয়সী আহমাদ আবুগারবিয়েহ।   তিনি বলেছেন, তার বড় ভাই অত্যন্ত রাগী স্বভাবের ছিলেন এবং রুমমেট হিসেবে তার অন্য কারও সঙ্গে থাকা ঠিক হয়নি।   আমি জানতাম না যে তার কোনো রুমমেট আছে। তার হয় একা থাকা উচিত ছিল, নয়ত ঘরছাড়া থাকা দরকার ছিল।   ২৭ বছর বয়সী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুর ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত খুনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।   লিমনের মৃতদেহ শুক্রবার উদ্ধার করা হয়। আর বৃষ্টির মৃতদেহ খোঁজার মধ্যে কর্তৃপক্ষ রোববার দেহাবশেষ পেয়েছে। ওই দেহাবশেষ বৃষ্টির কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।   কর্তৃপক্ষ বলেছে, দুই দেহাবশেষই টেম্পা বে-র হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর বা পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো লিখেছে, গোয়েন্দারা ১৭ এপ্রিল ভোরে হিশামের ফোনের অবস্থান হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে শনাক্ত করেছেন।   লিমন ও হিশামের আরেক রুমমেট জানিয়েছেন, তিনি ১৬ এপ্রিল রাতে এবং পরদিন সকালে হিশামকে একটি ট্রলি কার্ট ব্যবহার করে কক্ষ থেকে বেশ কিছু কার্ডবোর্ডের বাক্স অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাম্পস্টারে (আবর্জনা ফেলার স্থান) নিয়ে যেতে দেখেছেন। হিশাম তাকে বলেছিলেন, যেসব পুরনো কাপড় আর ব্যবহার করেন না, সেসব তিনি ফেলে দিচ্ছেন।   আহমাদ আবুগারবিয়াহ জানান, গত শুক্রবার সকালে বড় ভাই হিশাম হঠাৎ করে পারিবারিক বাড়িতে হাজির হওয়ার পর তিনি নিজে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুলিশ ডেকেছিলেন।   তিনি খুব অদ্ভুত আচরণ করছিলেন, এ কারণে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য আমি পুলিশ ডাকি। আদালতের নথি অনুযায়ী, হিশাম ২০২৩ সাল থেকে তার পরিবার থেকে আলাদা থাকেন।   গ্রেপ্তারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিশামকে কেবল টাওয়েল পরে শয়নকক্ষে ভিডিও গেমস খেলতে দেখে প্রতিবাদ করেন তার ছোট বোন। হিশাম তার বোনের দিকে এগিয়ে যান।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ভুক্তভোগীকে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন আসামি। তখন ভুক্তভোগী ধাক্কা দিয়ে তাকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।   শুক্রবার হিশামকে নাটকীয়ভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি টাওয়েল পরেই দুই হাত উঁচু করে বাড়ি বাইরে এসে ধরা দেন। তাকে হেফাজতে নেন হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের ডেপুটিরা। তাকে জামিন না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে এবং মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   আহমাদ আবুগারবিয়েহ নিহতদের পরিবারের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি কিছুতেই তাদের সবাইকে নিয়ে ভাবা বন্ধ করতে পারছি না; আমার খুব খারাপ লাগছে। সবকিছুর জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি এবং আমার পুরো পরিবার অনেক লজ্জা ও অপরাধবোধ অনুভব করছি।   তিনি এও বলেন, “আমরা অতীতে পুলিশকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম।   আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, হিশামের বিরুদ্ধে দুটি সুরক্ষা আদেশের আবেদন করেছিল পরিবার; একটি ২০২৩ সালে মঞ্জুর হয়েছিল এবং অন্যটি ২০২৫ সালে খারিজ হয়ে যায়। সুরক্ষা আদেশ হচ্ছে দেওয়ানি বিষয়, যা দিতে পারে হিলসবরো কাউন্টির ক্লার্ক অব কোর্টস।   শারীরিক আক্রমণের অভিযোগগুলো এগিয়ে নিতে না পারায় ২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ করে দেন একজন বিচারক।   আহমাদ জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৩ সালে তিনি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা এগিয়ে নিতে পারেননি।   আমি মামলাটি বাদ দিয়েছিলাম, কারণ আমি ভেবেছিলাম এতে আমার অনেক টাকা খরচ হবে। সেই সিদ্ধান্তের জন্য তখনই আমি অনুতপ্ত হয়েছিলাম।   ২০২৩ সালের সুরক্ষা আদেশের আবেদনে আহমাদ লিখেছিলেন, ভাই বারবার আমার মাথায় ঘুষি মেরেছে, আমার শার্ট ছিঁড়ে ফেলেছে এবং আমাকে রক্তাক্ত করেছে ও মুখে জখম করেছে। আমি পুলিশ ডাকতে বাইরে গেলে সে বাড়ির মিনিভ্যান নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে।   অন্য একটি ঘটনায় আহমাদ অভিযোগ করেন, হিশাম তার মায়ের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে পুরো শয়নকক্ষ তছনছ করে ফেলেন।   তিনি অভিযোগ করেন, তার ভাই মাঝরাতে চিৎকার করে বলতেন যে তিনি সৃষ্টিকর্তা এবং সবার উচিত তার সামনে মাথা নত করা।   হিশামের পক্ষে লড়া হিলসবরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসের একজন মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে বলেন, “আমরা এই মামলাটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ বুঝতে পারছি, তবে আমাদের পেশাগত বাধ্যবাধকতা এবং আমাদের মক্কেলের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রক্ষার্থে আমরা জনসম্মুখে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছি।   আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের মক্কেলের প্রতিনিধিত্ব করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।   আহমাদের বক্তব্য নিয়ে হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নি দপ্তর সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।   তবে তারা ফেইসবুক পোস্টে লিখেছে, হিশাম আবুগারবিয়েহ আমাদের সমাজের জন্য একটি বিপদ এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন না দিয়ে আটকে রাখা উচিত।   স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, এই অবিশ্বাস্য কঠিন সময়ে আমাদের হৃদয় দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে আছে। তারা উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন, এসময় আমাদের ভাবনায় তারা রয়েছেন।   সিবিএস নিউজের মন্তব্যের অনুরোধে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস সাড়া দেয়নি।   খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন, আর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন।   ২৭ বছর বয়সি লিমন ও বৃষ্টি ছিলেন পরস্পরের বন্ধু। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তারা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।   লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ বাংলাদেশ থেকে ফ্লোরিডার একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লিমন ও বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক সাড়ে চার বছরের। তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও দ্বিমত ছিল না। তবে উচ্চ শিক্ষা শেষ করেই তারা বিয়ের কাজটি সারতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা।   ১৬ এপ্রিল সকাল থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের ফোন বন্ধ পেয়ে এবং কোনোভাবে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবার।   গ্রেপ্তার হিশামও একসময় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্র ছিলেন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করল দূতাবাস

সৌদি শ্রমবাজারে সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-সৌদি বৈঠক

0 Comments