অর্থনীতি

বাজেট ২০২৬-২৭

ফ্রিল্যান্সিং-স্টার্টআপে করছাড়, রিটার্নে বিশেষ সুবিধা

মারিয়া রহমান জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে আসন্ন বাজেটে বড় ধরনের করছাড়ের পরিকল্পনা করেছে সরকার। কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন খাতে করের হার হ্রাস, ভ্যাট কমানো এবং ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ কর অব্যাহতির ঘোষণা আসতে পারে আগামী বাজেটে। এর মধ্যে প্রযুক্তি-নির্ভর খাত ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও স্টার্টআপ বড় ধরনের করছাড়ের আওতায় আসতে পারে।


অন্যদিকে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে বিশেষ করছাড় দেওয়া হতে পারে। নির্ধারিত সময় অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের জন্য ৫ শতাংশ হারে করছাড়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে আসন্ন বাজেটে। তবে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা চাইলে সারা বছরই রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।


সার্বিক বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটি সঠিক ও দূরদর্শী করনীতি প্রণীত হলে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে। এবারের মূল লক্ষ্যই হলো করের বোঝা চাপানো নয়, বরং করের আওতা বাড়িয়ে অর্থনীতিকে মানবিক ও গতিশীল করা।


ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে করছাড়
দেশে প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং খাত। তরুণদের এই সম্ভাবনাময় খাতে আরও উৎসাহিত করতে ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্জিত সব ধরনের আয়কে সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হতে পারে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েশন’ (ভিডিও ও তথ্য উপাদান তৈরি) থেকে আসা আয়কেও করমুক্ত ঘোষণার প্রস্তাব করা হতে পারে বলে জানা গেছে।


স্টার্টআপ ও এসএমই খাতে বিশেষ প্রণোদনা

নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার কর শূন্য (০%) করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাধারণ এসএমই উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতের সুরক্ষায় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের আয় করমুক্ত রাখা হতে পারে। আর নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ওপর অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত করার প্রস্তাব আসতে পারে।


ঢাকার বাইরে বিনিয়োগে বড় অবচয় সুবিধা

সারাদেশে সুষম শিল্পায়নের লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যেকোনো উৎপাদনমুখী শিল্প, পর্যটন বা ক্রীড়াক্ষেত্রের স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ অবচয় সুবিধা দেওয়া হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই বিনিয়োগের ওপর প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা, যা তাদের প্রাথমিক ব্যবসায়িক খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মানবিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দানে মিলবে কর রেয়াত

রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে করদাতাদের দানে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধী সেবা, ক্যানসার, অটিজম, ডায়াবেটিস, থ্যালাসেমিয়া ও সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত নির্দিষ্ট ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। এসব সংস্থায় দান করলে করদাতারা বিশেষ কর রেয়াত সুবিধা পেতে পারেন।


পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতে কর সুবিধা

পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে বেল্ট টাইপ সার অপসারণ মেশিন, হ্যাচারি মেশিন, সেটার মেশিন, আর্দ্রতা সেন্সর এবং তাপমাত্রা সেন্সরে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এর ফলে এই খাতের খামারিদের উৎপাদন খরচ কমে আসবে, পণ্যের দাম কমবে এবং দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ফ্রিল্যান্সিং-স্টার্টআপে করছাড়, রিটার্নে বিশেষ সুবিধা

দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে আসন্ন বাজেটে বড় ধরনের করছাড়ের পরিকল্পনা করেছে সরকার। কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন খাতে করের হার হ্রাস, ভ্যাট কমানো এবং ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ কর অব্যাহতির ঘোষণা আসতে পারে আগামী বাজেটে। এর মধ্যে প্রযুক্তি-নির্ভর খাত ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও স্টার্টআপ বড় ধরনের করছাড়ের আওতায় আসতে পারে। অন্যদিকে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে বিশেষ করছাড় দেওয়া হতে পারে। নির্ধারিত সময় অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের জন্য ৫ শতাংশ হারে করছাড়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে আসন্ন বাজেটে। তবে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা চাইলে সারা বছরই রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সার্বিক বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটি সঠিক ও দূরদর্শী করনীতি প্রণীত হলে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে। এবারের মূল লক্ষ্যই হলো করের বোঝা চাপানো নয়, বরং করের আওতা বাড়িয়ে অর্থনীতিকে মানবিক ও গতিশীল করা। ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে করছাড় দেশে প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং খাত। তরুণদের এই সম্ভাবনাময় খাতে আরও উৎসাহিত করতে ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্জিত সব ধরনের আয়কে সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হতে পারে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েশন’ (ভিডিও ও তথ্য উপাদান তৈরি) থেকে আসা আয়কেও করমুক্ত ঘোষণার প্রস্তাব করা হতে পারে বলে জানা গেছে। স্টার্টআপ ও এসএমই খাতে বিশেষ প্রণোদনা নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার কর শূন্য (০%) করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাধারণ এসএমই উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতের সুরক্ষায় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের আয় করমুক্ত রাখা হতে পারে। আর নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ওপর অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত করার প্রস্তাব আসতে পারে। ঢাকার বাইরে বিনিয়োগে বড় অবচয় সুবিধা সারাদেশে সুষম শিল্পায়নের লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যেকোনো উৎপাদনমুখী শিল্প, পর্যটন বা ক্রীড়াক্ষেত্রের স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ অবচয় সুবিধা দেওয়া হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই বিনিয়োগের ওপর প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা, যা তাদের প্রাথমিক ব্যবসায়িক খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মানবিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দানে মিলবে কর রেয়াত রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে করদাতাদের দানে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধী সেবা, ক্যানসার, অটিজম, ডায়াবেটিস, থ্যালাসেমিয়া ও সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত নির্দিষ্ট ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। এসব সংস্থায় দান করলে করদাতারা বিশেষ কর রেয়াত সুবিধা পেতে পারেন। পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতে কর সুবিধা পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে বেল্ট টাইপ সার অপসারণ মেশিন, হ্যাচারি মেশিন, সেটার মেশিন, আর্দ্রতা সেন্সর এবং তাপমাত্রা সেন্সরে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এর ফলে এই খাতের খামারিদের উৎপাদন খরচ কমে আসবে, পণ্যের দাম কমবে এবং দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

কুনমিংয়ে ১০তম চায়না-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপোর থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ

মোবাইল ফোন হাতে তরুণ-তরুণীরা, সরকার এবং বাজেটের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

মোবাইল-প্রযুক্তিপণ্যে কর ছাড়, বাজেটে বড় সুখবর

ছবি: সংগৃহীত

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

ছবি: সংগৃহীত
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা

দেশে বেকারত্ব দূরীকরণ ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প না থাকলেও সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও ৫ হাজার টাকা ভাতা।   মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।  সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক তার প্রশ্নে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ প্রদানের কোনো প্রকল্প আছে কি না, তা জানতে চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তরুণদের জন্য বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প চলমান নেই। তবে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করে আসছে।   নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটির তহবিল মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে 'নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিম'-এর তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এছাড়া জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্টার্টআপদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ ও ইক্যুইটি সহায়তা স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে 'স্টার্ট আপ ফান্ড' নামে ৫০০ কোটি টাকার আরও একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। শুধু ঋণ নয়, স্টার্টআপ খাতের অনুকূলে ইক্যুইটি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিতে ‘বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ নামক একটি ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে। স্টার্টআপ উদ্যোগগুলো এই কোম্পানি থেকে ইক্যুইটি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে। বিনা খরচে ১০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও ৫ হাজার টাকা ভাতা উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)’-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিআইইউ-এসআইসিআইপি কর্তৃক পরিচালিত অনট্রাপ্রনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইডিপি)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের মাসব্যাপী ১০০ ঘণ্টার উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের কোনো ফি দিতে হয় না। বরং সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা সাপেক্ষে উদ্যোক্তাদের ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরানোর উদ্যোগ তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সিগারেট ফিল্টারের কাঁচামাল ও নিকোটিনে বসছে ৩০০% শুল্ক

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক কোনো রাজনৈতিক দলের হবে না

সংগৃহীত ছবি
৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠক দুপুরে

দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দেশের ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষ বোর্ড সভা ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিন মাস সময় দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বন্ধের তালিকায় রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্সকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে তিন মাস সময় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতকারীদের প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। এসব আমানত কিভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাবও সভায় উপস্থাপন করা হবে। বোর্ডের অনুমোদন মিললে প্রশাসক নিয়োগ এবং আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানকে তিন মাস সময় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, তাদের এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতা দেখাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করতে না পারলে সেগুলোকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত কয়েক বছর ধরেই তীব্র তারল্যসংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল সুশাসনের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আমানত ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে গ্রাহকদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ০৯, ২০২৬
পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ব্যস্ত চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত

এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দুই এমপির কনসোর্টিয়ামের, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও চলছে আলোচনা

নাসের এজাজ বিজয়

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইওর পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের আঁচে তেলের দামে নতুন উল্লম্ফন

0 Comments