সারাদেশ

ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি ভাইরাল, যুবক রাঙ্গুনিয়ায় আটক

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করার অভিযোগে শওকত আলী নামে এক যুবককে আটক করেছে সেনাবাহিনী। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শওকত আলী চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের চারাবটতল এলাকার গোল বক্সের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবৈধ অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছিলেন। সম্প্রতি তার হাতে পিস্তল নিয়ে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

মঙ্গলবার ভোরে সেনাবাহিনীর টাস্কফোর্স-৪ ও ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে চারাবটতল এলাকার একটি ভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শওকত আলীর বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং অস্ত্র না পাওয়ায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে রাঙ্গুনিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
রাঙামাটিতে পাহাড় ধস, প্রস্তুত ২১২ আশ্রয়কেন্দ্র

রাঙামাটিতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ভাঙন ও পাহাড় ধসের দেখা দিয়েছে।   বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনের সড়কে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ভেদভেদী, মুসলিম পাড়া, চেঙ্গীমুখ, পাবলিক হেল্থ এলাকায় পাহাড়ের ছোট ছোট অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আতঙ্কে আছে লোকজন।   এছাড়াও কাপ্তাই বালুচর এলাকায় সড়কে মাটি পড়ে ৩ ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ ছিল। খাগড়াছড়ির মহলছড়িতে সড়কে পানি উঠে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। জানা যায়, রাঙামাটির শিমুলতলী, রুপনগরসহ আশপাশের এলাকায় বার বার মাইকিং করে ঝুঁকিতে বসবাস করা লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসার আহ্বান করছে প্রশাসন। এখন পর্যন্ত জেলায় ২১২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপজেলার ৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২১০ জন আশ্রয় নিয়েছে। এরমধ্যে সদরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয় কেন্দ্র ও যুব উন্নয়ন আশ্রয় কেন্দ্রে ৮০জন, কাউখালিতে ৬০ ও কাপ্তাইয়ে ৭০ জন আশ্রয় নিয়েছে।   রাঙামাটিতে কতজন পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে তার কোনো সঠিক তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জেলা শহরে ১৫-২০ হাজারসহ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড় ঢালে, নিচে ও চূড়ায় বসবাস করছে।   বৃষ্টির কারণে রাঙামাটি সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করেছে।   রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আসলাম সারোয়ার জানান, আমরা শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে যাচ্ছি। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ইতিমধ্যে দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু লোক এসেছে, তবে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে লোকজনের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি।   রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, আমরা দুটি টিমে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও জেলার অন্যান্য সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি। গতকাল ৪টি পয়েন্ট পাহাড়ের মাটি নেমে যানচলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। আমাদের টিম সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক রেখেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফে অস্ত্র-গোলাবারুদ ও গান পাউডার উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মেট্রোপলিটনে ছয় মাসে গ্রেফতার ৩২১৭ আসামি

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরমে কুড়িগ্রামের হাসপাতালে রোগীর ভিড়

মীরসরাই-সীতাকুণ্ডের ঝর্ণায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
ভারি বৃষ্টিতে মীরসরাই-সীতাকুণ্ডের ঝর্ণায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ

টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করায় মীরসরাই উপজেলা ও সীতাকুণ্ড উপজেলার আংশিক অংশের সব ঝর্ণায় দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত উক্ত নির্দেশনা বহাল রাখা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।   ভারি বর্ষণের এ সময়ে এসব ঝর্ণায় এখন অতিবৃষ্টিতে উপচেপড়া স্রোতে দর্শনীয় মোহ সৃষ্টি করলে ও তাতে থাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশংকা। বিশেষ করে ঝর্ণার কূপে তলিয়ে যাওয়া, স্লিপ করে অনেক নিচে পড়ে যাওয়া, আবার যাওয়া আসার পথে ভরা ছড়ায় স্রোতের তোপে পড়ে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।   বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাই উপজেলার বোয়ালীয়া, খৈয়াছরা, রুপসী, নাপিত্তাছরা ঝর্ণা, সীতাকুণ্ড অংশের সহস্রধারা, সুপ্তধারা ও ছোটদারোগারগাটসহ ৬টি ইজারা দেওয়া ঝর্ণাসমূহে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ।   বনবিভাগের বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন বলেন, আবহাওয়া সূত্রে জানা গেছে- এবারের ভারি বর্ষণকালে আমাদের এসব এলাকায় ও পাহাড় ধসসহ অতি প্লাবনে দর্শনার্থীদের জন্য অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ উদ্ভব হতে পারে। এ সময়ে কোনো দর্শনার্থী অতি উৎসাহী হলে তাদের প্রাণহানির গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে। তাই বন বিভাগ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে ঝর্ণায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।   তিনি আরও বলেন, উক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বনকর্মী ও ইজারাদারগনকে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই সবাইকে এ বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।   এদিকে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে তিন দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে রোপা আউশ। অনেক গ্রাম জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা যাতায়াত দুরুহ হয়ে পড়েছে।   রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকেছে।  বিশেষ করে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দিনভর ভারি বর্ষণে ঢুবে গেছে অনেক অনেক এলাকায় ফসলের মাঠগুলোতে পানি থৈ থৈ করছে। এতে প্লাবিত হয়ে গেছে রোপা আমন।   উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় প্যারাগন ফিডমিলের কারণে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি যেতে পারছে না। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মূলত এই দুটি ফ্যাক্টরির কারণে শত শত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।   মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম রুবেল বলেন, আমাদের যাতায়াতের রাস্তাটি এমনিতে ভাঙা। এবার টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।   মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে আউশের চারা কিছু ডুবে গেছে। আমরা মাঠে রয়েছি। এখনো কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ সম্ভব হয়নি।   মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে একাধিক এলাকা পরির্দশন করেছি। আশা করছি বৃষ্টি বন্ধ হলে পানি নেমে যাবে।   তিনি আরও বলেন, কেউ যদি জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে থাকে আমাদের তালিকা পাঠালে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৮, ২০২৬
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৪৩ জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

ছবি : সংগৃহীত

পদ্মা সেতু রেলপথে বাড়ছে চুরি ও দুর্ঘটনা, আড়াই বছরে মৃত ২৫

ছবি : সংগৃহীত
বাগেরহাটে বাধা পেয়ে খালের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করল প্রশাসন

বাগেরহাটে মাছ চাষের জন্য অবৈধ বাঁধ দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে একটি খাল। সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েও ফিরতে হয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন পরে বিএনপি নেতাদের অনুরোধে দখলদারদের ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এমন দৃষ্টান্ত দখলদারদের উৎসাহিত করবে।   স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানী খালের একাংশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অতীতে ওই এলাকা আওয়ামী লীগের লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তা চলে যায় বিএনপিপন্থি কয়েকজনের হাতে।   শনিবার পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যান প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কিন্তু উচ্ছেদ শুরুর আগেই সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন দখলদার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বাঁধ না কাটার জন্য অনুরোধ জানান। সংবাদ পেয়ে সেখানে যান সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। তাদের কাছেও খালের বাঁধ না কাটার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন যুক্তি দেন সেলিম কাজী। তিনি দাবি করেন, খালে তারা পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মাছ ছেড়েছেন। এখন কেটে দিলে ক্ষতি হয়ে যাবে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধ কেটে দেওয়ার দাবি জানান, চাপ সৃষ্টি করেন সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের ওপর। তবে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক দখলদারদের ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার সময় দিয়ে চলে যান।   এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। উল্টো তারা খালের পাড় দিয়ে গরু নিয়েও যেতে দেয় না। সরকারি লোকজন বাঁধ কাটতে আসায় আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু এভাবে চলে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। এমন দৃষ্টান্ত দখলদারদের উৎসাহিত করবে বলেও মনে করেন তারা।   স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষকে তারা অপরাধই মনে করে না। জেলার সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা, এমনকি সংসদ সদস্যের সামনেও তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলেন। সাধারণ মানুষ হিসেবে এটি ভালো লাগেনি।   এদিকে প্রকাশ্যে খালের বাঁধ কাটতে বাধা দিলেও অন্যদিকে দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেন সেলিম কাজী। তাঁর দাবি, তিনি এ খাল দখল করেননি। আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পরে এক বছর ছাত্রদল, যুবদল ও দলীয় লোকজন খালটি ভোগদখল করছেন।   বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘এই দেলভাষানী খালে যারা বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন, তারা সময় চেয়েছেন। আমরা কৌশলগত কারণে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেই বিষয়টি বিবেচনা করেছি। দুই সপ্তাহ পরে আমরা খালটি উন্মুক্ত করে দেব।’    সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, ‘খাল খনন ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। সারাদেশের মতো বাগেরহাটেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেলভাষানী খালে এসে জানতে পেরেছি এখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। যারা মাছ চাষ করছেন, তারা সময় প্রার্থনা করেছে। আমরা দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছি। দুই সপ্তাহের মধ্যেও তারা মাছ তুলে নেবেন, তারপর আমরা খালটি উন্মুক্ত করে দেব।’

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন স্পট বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত

মিরপুর ১৪ তলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ১৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা

0 Comments