যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল আর্থিক ফল প্রকাশের পর শুক্রবার বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে আবারও বড় দরপতন হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগে থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ ছিল, নতুন আর্থিক প্রতিবেদন তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের সাইবার হামলার খবরের পর বিটকয়েনের দরও ব্যাপকভাবে কমেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এটি এ ধরনের হামলার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বড় ঘটনা হতে পারে।
এআই-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। অ্যামাজনের সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা ও আয়—দুটিই বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। অন্যদিকে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের প্রসেসরের চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে ইন্টেলের সম্ভাব্য আয়ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
এর একদিন আগে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট বিজ্ঞাপন ও সার্চ ব্যবসায় প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল আয় বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি এআইসহ বিভিন্ন খাতে মূলধনি ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানায়।
এর পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন-পরবর্তী সময়ে অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে যায়। অ্যামাজনের শেয়ার কমে ৭ শতাংশের বেশি। এর আগে নিয়মিত লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছিল। ইন্টেলের শেয়ারের দরপতন হয় প্রায় ২৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে নাসডাক সূচক ১ শতাংশের বেশি কমে লেনদেন শেষ করে।
এশিয়ার বাজারেও শুক্রবার এই দরপতনের প্রভাব অব্যাহত ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংয়ের শেয়ার কমেছে ৬ শতাংশের বেশি।
জাপানের সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়া ও অ্যাডভানটেস্টের শেয়ারের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। সফটব্যাংকের শেয়ার কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। তাইওয়ানের টিএসএমসির শেয়ারের দাম কমেছে ১ শতাংশের বেশি।
ফ্লাডলাইনস রিসার্চের বিশ্লেষক আনা উ বলেন, ‘এবারের আর্থিক ফল প্রকাশের মৌসুম এআই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এআই খাতে বুদ্বুদের আশঙ্কা এবং মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকেই শেয়ারবাজারে বড় দরপতনের মুখে পড়তে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় এই নয় যে এআইয়ের চাহিদা ইতোমধ্যে কমে গেছে, বরং ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণঝুঁকির কারণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ পর্যন্ত এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের গতি কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে।’
এই বিক্রির চাপ এশিয়ার অন্যান্য শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল বাজারের সূচক ৫ শতাংশের বেশি, জাপানের টোকিও বাজার ২ শতাংশের বেশি এবং তাইওয়ানের তাইপে বাজার ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।
এছাড়া সাংহাই, সিঙ্গাপুর ও ম্যানিলার শেয়ারবাজারেও দরপতন হয়েছে। তবে হংকং, সিডনি ও ওয়েলিংটনের বাজারে সূচক বেড়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে বাজারে যে আশাবাদ দেখা গিয়েছিল, শুক্রবারের এই দরপতন ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে এসকে হাইনিক্স জানিয়েছিল, তাদের পরিচালন মুনাফা ৬৩২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আবেদনে জানিয়েছিল, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের আয় প্রায় ১ হাজার ৩০০ শতাংশ বেড়েছে।
এআই খাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে কবে পর্যাপ্ত মুনাফা আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটেনি। পাশাপাশি ঋণ গ্রহণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। এ নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের পর ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এমসিএইচ মার্কেট ইনসাইটসের বিশ্লেষক মাইকেল হিউসন বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প যদি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারান, তাহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এ ধরনের সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের ফল শেয়ারবাজারের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। বাজারের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের চেয়েও বড় ঝুঁকি।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের পর। এতে বলা হয়, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার তাঁকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
এর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে—এমন খবর প্রকাশের পর বিটকয়েনের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। প্রতি বিটকয়েনের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৭৬ হাজার ৪০০ ডলার।
বাইন্যান্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য বড় ধরনের অর্থ চুরি ঠেকাতে ২৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আটকে রাখা হয়েছে।
দৈনিক লেনদেনের পরিমাণের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্মটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক বার্তা প্রকাশ করেছে। এসব বার্তার কোনো কোনো বক্তব্যে অসংগতি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ব্যবহারকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। একই সঙ্গে চুরি বা ক্ষতির ঘটনায় সব ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।
হামলার প্রকৃত ব্যাপ্তি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের ধারণা, এ ঘটনায় প্রায় ৫৯১ কোটি ২০ লাখ ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি হয়েছে। গত বছর বাইবিট থেকে রেকর্ড ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির ঘটনার তুলনায় এই চুরির পরিমাণ প্রায় চার গুণ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল আর্থিক ফল প্রকাশের পর শুক্রবার বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে আবারও বড় দরপতন হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগে থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ ছিল, নতুন আর্থিক প্রতিবেদন তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। এদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের সাইবার হামলার খবরের পর বিটকয়েনের দরও ব্যাপকভাবে কমেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এটি এ ধরনের হামলার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বড় ঘটনা হতে পারে। এআই-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। অ্যামাজনের সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা ও আয়—দুটিই বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। অন্যদিকে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের প্রসেসরের চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে ইন্টেলের সম্ভাব্য আয়ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এর একদিন আগে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট বিজ্ঞাপন ও সার্চ ব্যবসায় প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল আয় বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি এআইসহ বিভিন্ন খাতে মূলধনি ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানায়। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন-পরবর্তী সময়ে অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে যায়। অ্যামাজনের শেয়ার কমে ৭ শতাংশের বেশি। এর আগে নিয়মিত লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছিল। ইন্টেলের শেয়ারের দরপতন হয় প্রায় ২৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে নাসডাক সূচক ১ শতাংশের বেশি কমে লেনদেন শেষ করে। এশিয়ার বাজারেও শুক্রবার এই দরপতনের প্রভাব অব্যাহত ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংয়ের শেয়ার কমেছে ৬ শতাংশের বেশি। জাপানের সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়া ও অ্যাডভানটেস্টের শেয়ারের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। সফটব্যাংকের শেয়ার কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। তাইওয়ানের টিএসএমসির শেয়ারের দাম কমেছে ১ শতাংশের বেশি। ফ্লাডলাইনস রিসার্চের বিশ্লেষক আনা উ বলেন, ‘এবারের আর্থিক ফল প্রকাশের মৌসুম এআই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এআই খাতে বুদ্বুদের আশঙ্কা এবং মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকেই শেয়ারবাজারে বড় দরপতনের মুখে পড়তে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় এই নয় যে এআইয়ের চাহিদা ইতোমধ্যে কমে গেছে, বরং ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণঝুঁকির কারণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ পর্যন্ত এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের গতি কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে।’ এই বিক্রির চাপ এশিয়ার অন্যান্য শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল বাজারের সূচক ৫ শতাংশের বেশি, জাপানের টোকিও বাজার ২ শতাংশের বেশি এবং তাইওয়ানের তাইপে বাজার ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। এছাড়া সাংহাই, সিঙ্গাপুর ও ম্যানিলার শেয়ারবাজারেও দরপতন হয়েছে। তবে হংকং, সিডনি ও ওয়েলিংটনের বাজারে সূচক বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে বাজারে যে আশাবাদ দেখা গিয়েছিল, শুক্রবারের এই দরপতন ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে এসকে হাইনিক্স জানিয়েছিল, তাদের পরিচালন মুনাফা ৬৩২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আবেদনে জানিয়েছিল, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের আয় প্রায় ১ হাজার ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। এআই খাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে কবে পর্যাপ্ত মুনাফা আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটেনি। পাশাপাশি ঋণ গ্রহণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। এ নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের পর ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এমসিএইচ মার্কেট ইনসাইটসের বিশ্লেষক মাইকেল হিউসন বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প যদি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারান, তাহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এ ধরনের সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের ফল শেয়ারবাজারের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। বাজারের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের চেয়েও বড় ঝুঁকি।’ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের পর। এতে বলা হয়, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার তাঁকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে—এমন খবর প্রকাশের পর বিটকয়েনের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। প্রতি বিটকয়েনের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৭৬ হাজার ৪০০ ডলার। বাইন্যান্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য বড় ধরনের অর্থ চুরি ঠেকাতে ২৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। দৈনিক লেনদেনের পরিমাণের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্মটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক বার্তা প্রকাশ করেছে। এসব বার্তার কোনো কোনো বক্তব্যে অসংগতি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ব্যবহারকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। একই সঙ্গে চুরি বা ক্ষতির ঘটনায় সব ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা। হামলার প্রকৃত ব্যাপ্তি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের ধারণা, এ ঘটনায় প্রায় ৫৯১ কোটি ২০ লাখ ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি হয়েছে। গত বছর বাইবিট থেকে রেকর্ড ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির ঘটনার তুলনায় এই চুরির পরিমাণ প্রায় চার গুণ।
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন সময়ে জারি করা নির্দেশনাগুলো একত্র করে নতুন সমন্বিত সার্কুলার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ, ব্যাংকগুলোর লেনদেন পরিচালনা, আমদানি বাণিজ্যে ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভার্চুয়াল মুদ্রাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ একই নথির আওতায় এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়মকানুন সহজে অনুসরণ এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে আরও স্পষ্টতা আনতেই বিদ্যমান নির্দেশনাগুলো সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭’-এর ২০(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নতুন এই নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘গাইডলাইনস ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশন-২০১৮’-এর প্রথম খণ্ডে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমসংক্রান্ত পূর্ববর্তী নির্দেশনা এবং পরবর্তী সময়ে জারি করা সংশ্লিষ্ট সার্কুলারগুলো রহিত করা হয়েছে। তবে গাইডলাইনের দ্বিতীয় খণ্ডে উল্লেখিত মাসিক প্রতিবেদন দাখিলের বিধান আগের মতোই কার্যকর থাকবে। সমন্বিত সার্কুলারে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দাখিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর লেনদেনের নিয়ম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থ পরিশোধ ও নিষ্পত্তি, বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব পরিচালনা এবং ব্যাংকগুলোর ওপেন পজিশন সীমাসংক্রান্ত নির্দেশনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি নস্ট্রো হিসাব সমন্বয়, ফরওয়ার্ড লেনদেন এবং মুদ্রা সোয়াপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের বিধানগুলোও একই সার্কুলারে সংযুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামার কারণে আমদানিকারকদের সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়টিও নতুন সমন্বিত নির্দেশনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে আমদানি বাণিজ্যে মূল্য পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে হেজিং ব্যবস্থার নিয়মকানুন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যমান নীতিমালা অনুসারে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুযোগ পাবে। সমন্বিত সার্কুলারে ভার্চুয়াল সম্পদ ও ভার্চুয়াল মুদ্রার বিনিময়, স্থানান্তর এবং লেনদেনসংক্রান্ত বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলোও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ভার্চুয়াল সম্পদসংক্রান্ত বিধিনিষেধ অনুসরণের বিষয়টিও একই নির্দেশনাপত্রে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন সমন্বিত সার্কুলারটি জারির দিন থেকে এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বা লেনদেনসংক্রান্ত নতুন কোনো নির্দেশনা জারি হলে তা সমন্বিত সার্কুলারের সঙ্গে মিলিয়ে অনুসরণ করতে হবে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিভিন্ন সময়ে জারি করা নির্দেশনাগুলো এক নথিতে সংকলিত হওয়ায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বিধান খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, নীতিমালা অনুসরণ এবং কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও সমন্বয় বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৭ দিনে দেশে ২৫৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসেবে বছর ব্যবধানে অক্টোবরের প্রথম ২৭ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর একদিনেই দেশে ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অপরদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট এক হাজার ১১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯৮৩ কোটি ডলার। ফলে অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।