পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষকদের অবহেলা, কিংবা নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে ওভার ও আন্ডার মার্কিং ঠেকাতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে শিক্ষা প্রশাসন। ফল পুনঃনিরীক্ষার প্রচলিত নিয়মের বাইরে সরাসরি উত্তরপত্রের মূল্যায়ন মান যাচাই করতে ‘সারপ্রাইজ টেস্ট’ বা বিশেষ অডিট ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
নতুন এই নিয়মে ‘র্যান্ডম স্যাম্পলিং’ বা দৈবচয়ন পদ্ধতিতে পরীক্ষকদের জমা দেওয়া খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, যেখানে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই এই ব্যবস্থা আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন থেকেই এই নতুন ব্যবস্থা আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষকদের খামখেয়ালি রুখতে চালু করা হচ্ছে এক ধরনের ‘সারপ্রাইজ টেস্ট’ বা বিশেষ অডিট ব্যবস্থা।
এই ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ‘র্যান্ডম স্যাম্পলিং’ বা দৈবচয়ন পদ্ধতি। এর আওতায় পরীক্ষকেরা উত্তরপত্র বোর্ডে জমা দেওয়ার পর, সেখান থেকে লটারির মতো করে নির্দিষ্টসংখ্যক খাতা বাছাই করা হবে। এরপর বোর্ড মনোনীত বিশেষজ্ঞ বা প্রধান পরীক্ষকদের মাধ্যমে সেগুলো পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় যদি প্রথম ও দ্বিতীয় মূল্যায়নের নম্বরের মধ্যে অস্বাভাবিক কোনো পার্থক্য বা অযৌক্তিক ওভার/আন্ডার-মার্কিং ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কোনো পরীক্ষা নয় বরং পরীক্ষকদের কাজের মান যাচাইয়ের একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা। এতদিন একজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে জমা দেওয়ার পর সেটি সাধারণত আর যাচাই করা হতো না। ফলে মূল্যায়নে কোনো ভুল, অবহেলা বা অসঙ্গতি থাকলেও তা অনেক সময় ধরা পড়ত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলছে, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নানা ধরনের অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়েও এমন অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে তথ্য গোপন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত খাতা নেওয়ার অভিযোগে তিন পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, একজন পরীক্ষকের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিধান থাকলেও রাজবাড়ীর কালুখালীর লাড়ীবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষক মো. খোরশেদ আলম তথ্য গোপন করে ৯০০টি উত্তরপত্র গ্রহণ করেন। এছাড়া নরসিংদীর মাধবদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষক মো. মনির হোসেন এবং নরসিংদী বিয়াম জিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একই বিষয়ের পরীক্ষক মো. মশিউর রহমান নির্ধারিত ৩০০টির পরিবর্তে ৪৫০টি করে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব নেন।
বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করলে মূল্যায়নের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অভিযুক্ত তিন পরীক্ষকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবার শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, অনেক পরীক্ষক নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি উত্তরপত্র নিয়ে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে মূল্যায়ন করেন। কোথাও কোথাও নিজে না দেখে অন্যের মাধ্যমে উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগও রয়েছে। অতীতে নম্বর হেরফের, মূল্যায়নে অসঙ্গতি এবং দায়িত্বে অবহেলার ঘটনাও শিক্ষা প্রশাসনের নজরে এসেছে। তাদের মতে, এমন অনিয়ম ঠেকাতেই এবার র্যান্ডম স্যাম্পলিং বা ‘সারপ্রাইজ টেস্ট’ পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুনঃনিরীক্ষা নয়, এবার লক্ষ্য ‘প্রকৃত’ পুনর্মূল্যায়ন
বোর্ড পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিবছরই হাজার হাজার শিক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করেন। অনেকেরই ধারণা, আবেদন করার পর তাদের উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। বর্তমানে চালু থাকা পুনঃনিরীক্ষা ব্যবস্থায় উত্তরপত্রের মূল্যায়ন পুনরায় করা হয় না; কেবল কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয় যাচাই করা হয়।
বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষার সময় মূলত পাঁচটি বিষয় পরীক্ষা করা হয়। এগুলো হলো— কোনো প্রশ্নের উত্তরে নম্বর দেওয়া বাদ পড়েছে কি না, উত্তরপত্রের ভেতরের নম্বর কভার পৃষ্ঠায় তুলতে কোনো ভুল হয়েছে কি না, নম্বরের যোগফলে কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের নম্বর বৃত্ত (ওএমআর) ভরাটে ভুল হয়েছে কি না এবং পরীক্ষকের দেওয়া নম্বর যথাযথভাবে ট্যাবুলেশন শিটে স্থানান্তর করা হয়েছে কি না।
তবে বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক যে নম্বর দিয়েছেন, তা কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ নেই। অর্থাৎ পুনঃনিরীক্ষার সময় উত্তর সঠিকভাবে মূল্যায়ন হয়েছে কি না, বেশি বা কম নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না কিংবা মূল্যায়নে কোনো গাফিলতি হয়েছে কি না, এসব বিষয় যাচাই করা হয় না। এমনকি বর্তমান আইনে পরীক্ষার্থী, তার অভিভাবক বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে উত্তরপত্র দেখানোরও কোনো বিধান নেই।
ফলে এতদিন পুনঃনিরীক্ষা কার্যক্রম মূলত নম্বর গণনা ও প্রশাসনিক ভুল সংশোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কোনো পরীক্ষক উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করলেও বা ভুলভাবে নম্বর দিলেও সেই মূল্যায়ন পুনর্বিবেচনার সুযোগ কার্যত ছিল না।
এই বাস্তবতায় পরিবর্তন আনতেই পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংশোধিত আইনে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এখন থেকে শুধু নম্বর গোনাই নয়, প্রয়োজন হলে উত্তরপত্রের মূল্যায়নের মানও যাচাই করা হবে। অর্থাৎ একজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে জমা দিলেই তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না। প্রয়োজন মনে করলে বোর্ড সেই মূল্যায়ন পুনরায় পরীক্ষা করতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এর ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ব্যবস্থায় একটি কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একইসঙ্গে পরীক্ষকদের মধ্যেও দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা বাড়বে। কারণ, যেকোনো সময় তাদের মূল্যায়িত উত্তরপত্র দৈবচয়ন পদ্ধতিতে পুনরায় যাচাই করা হতে পারে।
তবে পরীক্ষার্থীরা আবেদন করলে তাদের উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে কি না, কিংবা তারা নিজের উত্তরপত্র দেখতে পারবেন কি না, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান বোর্ড আইনে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র দেখানোর কোনো বিধান নেই। তবে সরকার চাইলে প্রজ্ঞাপন বা প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থা চালু করতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর হাতে সরাসরি উত্তরপত্র তুলে দেওয়ার পরিবর্তে বোর্ড মনোনীত অভিজ্ঞ পরীক্ষক বা বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে ভবিষ্যতে পুনঃনিরীক্ষা ব্যবস্থারও পরিবর্তন আসতে পারে। শুধু নম্বর গণনা বা যোগফল যাচাইয়ের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উত্তরপত্রের প্রকৃত মূল্যায়ন পুনরায় করার সুযোগ যুক্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আইন সংশোধন ও পরবর্তী বিধিমালা প্রণয়নের পর।
সম্প্রতি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের মাধ্যমে শুধু পরীক্ষা পরিচালনা নয়, উত্তরপত্র মূল্যায়নেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে একজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে জমা দেওয়ার পর সেটি সাধারণত আর কেউ যাচাই করতেন না। ফলে মূল্যায়নে গাফিলতি, ওভার-মার্কিং, আন্ডার-মার্কিং কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম হলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই ধরা পড়ত না। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষা বোর্ডগুলো দৈবচয়ন (র্যান্ডম স্যাম্পলিং) পদ্ধতিতে নির্দিষ্টসংখ্যক উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করবে। এতে কোনো পরীক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নয় বরং পরীক্ষকদের কাজের মান যাচাইয়ের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। কোনো শিক্ষক নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন কি না, কোথাও অযৌক্তিকভাবে বেশি বা কম নম্বর দেওয়া হচ্ছে কি না কিংবা মূল্যায়নে দায়িত্বে অবহেলা হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ই এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। একজন পরীক্ষার্থীর প্রাপ্য নম্বর যেন কোনোভাবেই ভুল মূল্যায়নের কারণে কমে বা বেড়ে না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাড়ছে পরীক্ষক, থাকছে না ‘মানবিক নম্বর’
উত্তরপত্র মূল্যায়নের মান আরও উন্নত করতে এবার পরীক্ষকদের ওপর কাজের চাপও কমানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং জনপ্রতি মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত উত্তরপত্রের সংখ্যাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে একজন পরীক্ষক আগের তুলনায় আরও বেশি সময় নিয়ে প্রতিটি উত্তরপত্র মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।
একইসঙ্গে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় তথাকথিত ‘মানবিক নম্বর’ বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত নির্দেশিকা অনুযায়ী উদারভাবে নম্বর দেওয়া যাবে, তবে সেটি অবশ্যই নির্ধারিত মূল্যায়ন নীতিমালার মধ্যেই হতে হবে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো উত্তরের একটি অংশ সঠিক হলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আংশিক নম্বর (পারশিয়াল মার্কিং) দিতে হবে। কিন্তু কোনো পরীক্ষার্থীকে শুধু পাস করিয়ে দেওয়া বা ফল উন্নত করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সুযোগ নেই। অর্থাৎ মূল্যায়ন হবে সম্পূর্ণ উত্তরভিত্তিক; কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা ‘মানবিক নম্বর’ বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। অনেক পরীক্ষক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যতগুলো উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব, তার চেয়ে বেশি খাতা নিয়ে যান। ফলে শেষ পর্যন্ত সব উত্তরপত্র সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না। অতীতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে এমন কিছু ঘটনাও ঘটেছে, যা শিক্ষা বোর্ডের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তিনি বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হই। অনেক শিক্ষক নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি খাতা নিয়ে যান। ফলে মূল্যায়নের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতীতে দু-একটি উদ্বেগজনক ঘটনাও আমরা দেখেছি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই মন্ত্রণালয় র্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে কিছু উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচিত উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের পর যদি প্রথম ও দ্বিতীয় মূল্যায়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই উদ্যোগটি বিশেষ করে যেসব শিক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়নে দায়িত্বে অবহেলা করেন, তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি মনে করি, এর ফলে যারা এতদিন দায়িত্ব পালনে কিছুটা উদাসীন ছিলেন, তারাও আরও সতর্ক হয়ে নিয়ম মেনে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন।
শিক্ষার্থীরা কি উত্তরপত্র দেখতে পারবে?
পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ উত্তরপত্র দেখার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান বোর্ড আইনে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র দেখানোর কোনো বিধান নেই। তবে সরকার চাইলে প্রজ্ঞাপন জারি বা প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমার ব্যক্তিগত মত হলো, শিক্ষার্থীর হাতে সরাসরি উত্তরপত্র তুলে দেওয়ার পরিবর্তে বোর্ড মনোনীত অভিজ্ঞ শিক্ষক বা বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা অধিকতর গ্রহণযোগ্য হবে।
তার মতে, এতে একদিকে যেমন উত্তরপত্রের গোপনীয়তা বজায় থাকবে, অন্যদিকে মূল্যায়নের নিরপেক্ষতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নির্দেশনার অপেক্ষায় শিক্ষা বোর্ড
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক নাজনীন ফেরদৌস বলেন, নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এখনো বোর্ডের হাতে পৌঁছেনি। নির্দেশনা পাওয়ার পরই বোর্ড প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, একটি পরিবর্তন আসছে, এটি আমরা জানি। আশা করছি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হাতে পাব। নির্দেশনা পাওয়ার পর কোন কোন বিষয় বাস্তবায়ন করতে হবে, সে অনুযায়ী বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বর্তমানে চালু থাকা পুনঃনিরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষার সময় মূলত নম্বর গণনা, নম্বর স্থানান্তর এবং কোনো প্রশ্নে নম্বর দেওয়া বাদ পড়েছে কি না, এসব বিষয়ই যাচাই করা হয়। পরীক্ষকের দেওয়া নম্বর পরিবর্তনের কোনো সুযোগ বিদ্যমান বিধিমালায় নেই।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, বিদ্যমান বোর্ড আইনে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের কোনো বিধান নেই। বর্তমানে পুনঃনিরীক্ষার যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, সেটিই কার্যকর। আইন বা বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এলে বোর্ড সেই অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হতে পারে। ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর প্রস্তাব রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে প্রস্তাবিত সূচির বিষয়টি জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় বাঁচাতে একাদশে ভর্তির কার্যক্রম এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে খসড়া সূচি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর আবেদন ও ভর্তি কার্যক্রমের তারিখ চূড়ান্ত হবে। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপে আবেদন গ্রহণ করা হবে। একই দিন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম ধাপের আবেদন শেষে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে। অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর আবেদন ও ক্লাস শুরুর তারিখ চূড়ান্ত হবে। এবার কয় ধাপে একাদশে ভর্তির আবেদন নেওয়া হবে, সেটিও মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে। সাধারণত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য তিন ধাপে আবেদন নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে নির্বাচিত না হওয়া বা নির্বাচিত হয়েও ভর্তি নিশ্চায়ন না করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে চতুর্থ ধাপেও আবেদন নেওয়ার নজির রয়েছে। তবে এবার শিক্ষার্থীদের সময় সাশ্রয়ের জন্য আবেদনের ধাপ কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যান্য নিয়মে বড় কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি। বরাবরের মতো এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবেন এবং পরীক্ষার ফল ও নম্বরের ভিত্তিতে আসন খালি থাকা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হবেন।
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তিনটি ও পরের বছর আরও একটি পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতেও যুক্ত হবে ‘খেলাধুলা’ বিষয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের জন্য আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন পাঠ্যপুস্তক ও কারিকুলাম প্রণয়নে কাজ করবে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে শেখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে তাড়াহুড়ো করে চতুর্থ শ্রেণিতে এ কার্যক্রম শুরু করা হলেও আগামীতে প্রথম শ্রেণি থেকেই এটি চালু করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সাল থেকে কারিকুলামে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ জন্য নতুন করে চারটি বই পরিমার্জন ও সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কারিকুলাম কমিটি গঠনের পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হবে। শিশুদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব। একই সঙ্গে শিশুদের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে তাদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন। কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশুদের জটিল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে ‘খেলায় খেলায় শিক্ষা’র গুরুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি চীন ও জাপান সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব দেশের কারিকুলামে নির্দিষ্ট শ্রেণি ও বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়েও কোন খেলাধুলা বা খেলনার মাধ্যমে কোন বিষয় শেখানো হবে, তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালুর বিষয়েও সরকার ভাবছে। শিক্ষকদের মর্যাদা ও দায়িত্ব বিবেচনায় তাদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষকরা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন উল্লেখ করে তাদের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়নের কথাও বলেন তিনি। এ ছাড়া রাজধানীর পূর্বাচলে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জন করা নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর নরসিংদী সদর উপজেলার নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ‘নিয়ম-বহির্ভূত কৌশল’ অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগটি শিক্ষা বোর্ডের নজরে আসে। অভিযোগের সার্বিক সত্যতা যাচাই ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে নোটিশে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী, এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী এবং এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, বিভাগ ও অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমতিপত্র প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, এসব তথ্যসহ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ওঠা অভিযোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।