জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জোটে যোগ দিয়েছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ফলে ভোটের মূল লড়াই হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ও বিএনপি জোটের মধ্যে। গণঅভ্যুত্থানের পর বহুল আকাঙ্ক্ষিত এ নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার সাক্ষাৎকার সম্পর্কিত প্রতিবেদনে রয়টার্স লিখেছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে শক্ত অবস্থান নেওয়ার প্রত্যাশায় থাকা একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী ঐক্য সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। দলটির আমির শফিকুর রহমান বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলো এক হলে তারা যৌথভাবে সরকার পরিচালনায় প্রস্তুত।
মতামত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রায় ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকতে পারে। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরিক হিসেবে ক্ষমতায় ছিল দলটি।
ঢাকার একটি আবাসিক এলাকায় নিজের কার্যালয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান বলেন, অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়াই তাদের লক্ষ্য। দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে সরকার যৌথভাবে চালানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সম্প্রতি একটি প্রজন্মভিত্তিক (জেন-জি) দলের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়ার পর জামায়াতকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ে।
ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থার পক্ষে থাকলেও জামায়াত তাদের সমর্থনভিত্তি বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি যে কোনো ঐক্য সরকারের অভিন্ন এজেন্ডা হতে হবে। তার মতে, যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, প্রধানমন্ত্রী সেই দল থেকেই হবেন। জামায়াত সর্বোচ্চ আসন পেলে কে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন, তা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াতের রাজনৈতিক পুনরুত্থান ঘটে। ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়েন। তার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতের একাধিক শীর্ষ নেতাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জামায়াতের দলীয় সনদ সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এমন রায়ে ২০১৩ সালে দলটিকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের আগস্টে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও তার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে, এটি উদ্বেগজনক। ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে তিনি জানান, চলতি বছর একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। তবে সেই বৈঠক গোপন রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য না করলেও দেশটির এক সরকারি সূত্র বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগের কথা নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, তারা কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে চান না; বরং সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের নীতি।
এদিকে, জামায়াত অন্তর্ভুক্ত কোনো সরকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে স্বস্তিতে থাকবে না বলেও ইঙ্গিত দেন শফিকুর রহমান। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত শাহাবুদ্দিন চলতি মাসে রয়টার্সকে জানান, প্রয়োজনে মেয়াদের মাঝপথে সরে যেতে তিনি প্রস্তুত। বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পুরোনো অবস্থানেই অনড় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা কিংবা পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থান বদলের লক্ষণ নেই। ‘রিফাইন্ড’ বা ‘পরিশুদ্ধ’ আওয়ামী লীগের ধারণা ঘিরে দলটির ভেতরে আলোচনা আছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকে থাকা ও আবার সক্রিয় হওয়ার সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প পথ হিসেবে এই ধারণাকে সামনে আনছেন কেউ কেউ। তবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে শেখ হাসিনা, এ ধারণার প্রতি একেবারেই অনাগ্রহী। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকের কাছেই দলটির রাজনীতিতে ফেরার পথ কী, তা স্পষ্ট নয়। অনেকের মধ্যে হতাশাও কাজ করছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান সরকার যদি বড় ধরনের ভুল করে বা অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তখন আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ বা সুযোগ তৈরি হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘রিফাইন্ড’ বা সংস্কারের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম বিতর্কিতদের নেতৃত্বে আনার বিষয়টি বন্ধুপ্রতিম দেশ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছানো হয়েছিল। নির্বাচনের পরও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে নিজের সভাপতি পদ ছাড়তে নারাজ শেখ হাসিনা। বড়জোর সাধারণ সম্পাদকের বিকল্প হিসেবে মুখপাত্র হিসেবে এক বা একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেটাও তাঁর পছন্দের এবং বিদেশে থাকা নেতাদের মধ্য থেকেই করার পক্ষে তিনি, যা শুভাকাঙ্ক্ষীদের কোনোভাবেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে সংস্কারের সব ধারণা আপাতত ‘মৃত’ বলেই মত সবার। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকের কাছেই দলটির রাজনীতিতে ফেরার পথ কী, তা স্পষ্ট নয়। অনেকের মধ্যে হতাশাও কাজ করছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান সরকার যদি বড় ধরনের ভুল করে বা অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তখন আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ বা সুযোগ তৈরি হবে। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা ও অনলাইন আলোচনা থেকে দলটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ওয়াকিবহাল সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পর এখন দলে সবচেয়ে বিতর্কিত ও কট্টরপন্থীরা বেশি সক্রিয়। যাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার কিংবা অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা দেখাতে মোটেও প্রস্তুত নন। বরং দেশের ভেতর ঝটিকা মিছিল ও বিচ্ছিন্ন স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সংগঠিত হওয়ার পক্ষে। এ ছাড়া প্রশাসনের ভেতর সরকারবিরোধী মত প্রবল করাও তাঁদের লক্ষ্য। এই পরিস্থিতিতে রিফাইন্ড বা নতুন করে শুরু করার বিষয়ে যাঁরা আশা দেখছিলেন, তাঁরা অনেকটাই চুপসে গেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, শেখ হাসিনা নিজেই দলের নীতি নির্ধারণ করছেন। পরিবারের সদস্যরা এতে যুক্ত থাকেন। আর দেশের ভেতর ও আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আর সরকারের ভেতরের বিভিন্ন সংস্থায় থাকা দলঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন। এর বাইরে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, চিঠিপত্র আদান-প্রদানসহ কিছুটা ‘সফট’ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ কিছু নেতা। বাকিরা অনলাইনে দলীয় প্রধান কিংবা অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ যদি গায়ের জোরে ফিরে আসার চিন্তা করে, সে ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি যৌথভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করবে। এ ধরনের চিন্তা আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ভয়াবহ হবে, সংঘাতপূর্ণ অবস্থা ফিরে আসবে। আলতাফ পারভেজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, দলে সংস্কার আনার বিষয়ে অনাগ্রহ বন্ধুপ্রতিম দেশ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা কিছুটা অখুশি। বর্তমানে যে বিশ্বব্যবস্থা তাতে কোনো বিদেশি শক্তি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে—এমনটা মনে করছেন না তাঁরা। অন্তর্বর্তী সরকারের মতো ক্ষমতাসীন বিএনপি হয়তো আওয়ামী লীগের ওপর এতটা কঠোর হবে না। কিন্তু তারা কখনোই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পুরোনো আওয়ামী লীগকে ফিরতে দেবে না। সুতরাং আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে; যা একেবারেই অবাস্তব। আরেকটি পথ হচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপির মধ্যে চরম বিভেদের জন্য অপেক্ষা করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ধারণারও খুব একটা ভিত্তি নেই। ফলে আওয়ামী লীগের এখনকার রাজনীতি অনেকটাই লক্ষ্যহীন। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচনের সময় এলাকায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগের অনেকেই অন্য দলে চলে যেতে পারেন বলে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করেন। নানা মাধ্যমে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের প্রায়ই বলতেন, যাঁরা রাজনীতি করতে চান, তাঁরা দেশে ফিরে যান। অর্থাৎ দেশে গিয়ে কারাবরণ, মামলা মোকাবিলা করুন। এখন পর্যন্ত কেউ এই নির্দেশনায় সাড়া দেননি। আবার, দেশে এসে কারাগারে গেলে জামিন মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সরকার আওয়ামী লীগকে ছাড় দেবে এমন কোনো সমঝোতা কিংবা উদ্যোগও নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশে ব্যবসা আছে এমন সাবেক সংসদ সদস্য, বিদেশে পরিবার থাকে এমন নেতা কিংবা বয়সে জ্যেষ্ঠ অনেকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথাও বলছেন ঘনিষ্ঠদের। দেশে ফিরলে জামিন মিলবে-এমন আশ্বাস পেলে ফেরার কথা ভাবছেন ব্যবসায় যুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য বা নেতারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে জায়গা দিতে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক কোনো মহল থেকে কোনো চাপ আছে বলেও মনে করেন না দলটির নেতারা। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে থাকা নেতারা দেশে ফেরার চিন্তা করছেন না। বরং কেউ কেউ দেশে ফেরার তাগিদ এড়াতে দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এর মধ্যে দুজন প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্যের একজন মালয়েশিয়ায়, অন্যজন সাইপ্রাসে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের ধারণা, ভারতের সঙ্গে বিএনপি সরকারের সম্পর্ক ভালো হলে সে দেশটি তাঁদের জন্য নিরাপদ না–ও হতে পারে। টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ নেতা-কর্মী বিদেশে আত্মগোপনে। দেশে থাকা নেতা–কর্মীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ কারাগারে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি সরকার সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি। ফলে আওয়ামী লীগ শুধু ক্ষমতাই হারায়নি, হারিয়েছে সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক অবস্থান ও মাঠের নিয়ন্ত্রণ। বিকল্প পথ ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ এমন সংকটময় বাস্তবতায় ‘রিফাইন্ড’ বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগের ধারণা সামনে আসে। এটি হচ্ছে মূলত দলটি পুনর্গঠনের একটি প্রস্তাব, যেখানে বিতর্কিত বা অভিযুক্ত নেতৃত্বের বাইরে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য, কম বিতর্কিত ও ‘পরিষ্কার ভাবমূর্তির’ নেতাদের দিয়ে দলকে নতুনভাবে দাঁড় করানো। ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের আলোচনা হলেও দলের কট্টরপন্থী নেতারা মনে করেন, শেখ হাসিনার বিকল্প আওয়ামী লীগে নেই। আর যদি বিকল্প আনতে হয়, তবে তাঁর পরিবার থেকেই হতে হবে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রস্তুত কেউ নেই; তা ছাড়া বর্তমান সময়টাও এই ধরনের উদ্যোগের জন্য অনুকূল নয়। এই ধারণার পেছনে যুক্তি হচ্ছে—বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক দায় তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি রাজনীতিতে ফিরে আসা কঠিন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মহল এবং দেশের একটি বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান বার্তা প্রয়োজন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনার বয়স ৮০ পেরিয়েছে। তিনি চার দশকের বেশি ধরে দলের নেতৃত্বে। তাঁর রাজনীতিতে ফিরে আসা কঠিন মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ফলে ভবিষ্যতের জন্য দলটিকে সংগঠিত করার একটা বিকল্প হচ্ছে নেতৃত্বে পরিবর্তন। রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের ধারণাটি প্রথম সামনে আসে গত বছর মার্চে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। তাতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের; সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ফজলে নূর তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। এরপর কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আবার বিষয়টি সামনে আসে বিএনপি সরকার গঠনের পর। তবে এবার বেশি আলোচনা হয় ভারতভিত্তিক কিছু অনলাইন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর মূল বার্তা হচ্ছে—রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার সায় নেই বা এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হচ্ছে না। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনীতি একধরনের ‘অপেক্ষার রাজনীতিতে’ রূপ নিয়েছে। কিন্তু সেই অপেক্ষার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। দলটির নেতাদের মধ্যে রাজনীতিতে ফেরার আলোচনা আছে। তবে তা কীভাবে সম্ভব, এর কোনো স্পষ্ট পথ জানা নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশে ও বিদেশে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, দলের কট্টরপন্থী নেতারা মনে করেন, শেখ হাসিনার বিকল্প আওয়ামী লীগে নেই। আর যদি বিকল্প আনতে হয়, তবে তাঁর পরিবার থেকেই হতে হবে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রস্তুত কেউ নেই; তা ছাড়া বর্তমান সময়টাও এই ধরনের উদ্যোগের জন্য অনুকূল নয়। কট্টরপন্থীদের মত হচ্ছে—আগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পাক। এরপর দলে সংস্কার আনা হবে। তবে সংস্কার হতে হবে শেখ হাসিনাকে রেখে এবং অন্য বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুনদের আনতে হবে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই হতাশ দেশে থাকা নেতা, কর্মী কিংবা সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রায়ই বিদেশে থাকা নেতাদের ফোনে কথা হয়। কেমন আছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বেশির ভাগ নেতার মুখ থেকে আসে দীর্ঘশ্বাস, ভালো থাকার সুযোগ কোথায়? দিল্লি, কলকাতা, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ব্রাসেলস, দুবাই, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর—যেখানেই থাকুক না কেন কমবেশি সবার জবাব কাছাকাছি। ভারত ও ইউরোপে থাকা দুজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলছিলেন, রাজনীতি থেকে দূরে থাকলে অঢেল টাকা বা আয়েশি জীবন—কোনোটাই সুখের হয় না। পরিস্থিতি এমন যে ঘরের বাইরে যেতেও নানা সংশয়, মন টানে না। আবার বিদেশে থাকা সবাই আর্থিকভাবে খুব ভালো আছেন, তা–ও নয়। বিশেষ করে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে থাকা অনেকে আর্থিকভাবে কষ্টে আছেন বলেও কোনো কোনো নেতা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশে ব্যবসা আছে এমন সাবেক সংসদ সদস্য, বিদেশে পরিবার থাকে এমন নেতা কিংবা বয়সে জ্যেষ্ঠ অনেকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথাও বলছেন ঘনিষ্ঠদের। দেশে ফিরলে জামিন মিলবে—এমন আশ্বাস পেলে ফেরার কথা ভাবছেন ব্যবসায় যুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য বা নেতারা। দেশে-বিদেশে প্রথমে আলোচনা ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দিয়ে ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালু হতে পারে। বিএনপি সরকারের গঠনের পর গত ৭ এপ্রিল সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তিনি পাঁচ দিনের মাথায় ১২ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান। তাঁকে নিয়েও আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের গুঞ্জন ছড়ায়। সব মিলিয়ে নেতাদের কেউ কেউ এতে কিছুটা আশাও দেখছিলেন; এর মাধ্যমে যদি রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ হয়। তবে দলের ভেতরে একটা শক্তিশালী মত হচ্ছে—শেখ হাসিনার অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো সাংগঠনিক কাঠামো টেকসই হবে না। কারণ, মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ এখনো তাঁর নেতৃত্বকেই চূড়ান্ত হিসেবে মানে। শেখ হাসিনার দিক থেকে এ ধরনের উদ্যোগে সায় নেই জানার পর অনেকেই এখন আর আশা দেখছেন না। বিএনপির সরকার গঠন: আশা ও হতাশা বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে—এমনটা আশা করছিলেন অনেকেই। এমনকি গ্রেপ্তারকৃত নেতারা জামিন পাবেন, এরপর আত্মগোপনে থাকা নেতারা দেশে ফিরবেন—এমনও প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিএনপির তিন মাসের মেয়াদে এমন আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা অংশ নেবেন এবং ভালো ফলাফলের মাধ্যমে কর্মীদের মনোবল বাড়াতে চেষ্টা চালাবেন বলেও দলের একটি অংশ আশা করছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন না দলটির অনেক নেতা। ফলে বিএনপি সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারবে বলে দলটির একটা অংশের ভেতর যে আশা ছিল, তা কিছুটা হতাশায় রূপ নিয়েছে। এই মিছিল চট্টগ্রামে গত এপ্রিলে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নানা স্থানে মাঝে–মধ্যে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয় এই মিছিল চট্টগ্রামে গত এপ্রিলে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নানা স্থানে মাঝে–মধ্যে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়ফাইল ছবি আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে ছাড় দেওয়ার মতো রাজনৈতিক ঝুঁকি বিএনপির পক্ষে এখন নেওয়া কঠিন। ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী শক্তি জামায়াত-এনসিপির মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রশ্নে তাদের অবস্থান প্রায় একই। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার বড় ধরনের চাপে পড়ে কি না, সে জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আওয়ামী লীগের জন্য খুব একটা বিকল্প নেই। এর মধ্যে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। ফলে নির্বাচনটি বিএনপি জোট ও জামায়াত জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন আওয়ামী লীগের ভেতরে একটি কৌশলগত ভাবনা কাজ করেছিল—জামায়াতকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এই লক্ষ্য থেকে বিএনপি জোটের প্রতি একধরনের নীরব সমর্থনের কৌশল নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। জামায়াত ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারত। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনীতি একধরনের ‘অপেক্ষার রাজনীতিতে’ রূপ নিয়েছে। কিন্তু সেই অপেক্ষার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। দলটির নেতাদের মধ্যে রাজনীতিতে ফেরার আলোচনা আছে। তবে তা কীভাবে সম্ভব, এর কোনো স্পষ্ট পথ জানা নেই। গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, রাজনীতিতে ফিরতে হলে আওয়ামী লীগকে তাদের সাড়ে ১৫ বছরের শাসন ও রাজনীতি নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি ও ভুল স্বীকার করতে হবে। ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে ফৌজদারি অপরাধের বিষয়টি তাদের মেনে নিয়ে এর মুখোমুখি হতে হবে। কোনো সরকারই ফৌজদারি অপরাধের ক্ষমা করতে পারবে না। কিন্তু মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ এর কোনোটার জন্যই প্রস্তুত নয়। আলতাফ পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ যদি গায়ের জোরে ফিরে আসার চিন্তা করে, সে ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি যৌথভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করবে। এ ধরনের চিন্তা আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ভয়াবহ হবে, সংঘাতপূর্ণ অবস্থা ফিরে আসবে। নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাটা অন্তর্বর্তী সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন না আলতাফ পারভেজ। তাঁর মতে, বিএনপিও একই ভুল করল। বরং আওয়ামী লীগকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারত। যেমন নেপালে গণ–অভ্যুত্থানের পর কোনো দল নিষিদ্ধ করা হয়নি। পূর্বতন ক্ষমতাসীন দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ফলে আওয়ামী লীগ এই প্রচার করতে পারছে যে তারা ভিকটিম বা ক্ষতিগ্রস্ত।
কর্মস্থল ত্যাগপ্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করার জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ঈদে গ্রামে ফিরতে হলে অবশ্যই বাসা কিংবা অফিস থেকে বের হওয়ার সময়ে নিচের দোয়াটি পাঠ করা খুবই জরুরি। যা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করতেন। দোয়াটি পাঠ করলে সব বিপদ থেকে নিরাপদ ও শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। দোয়াটি হলো- ‘বিসমিল্লাহ, তাওাক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ অর্থাৎ তখন তাকে বলা হয় : তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত, নিরাপদ ও সুরক্ষিত হলে।’ (আবু দাউদ শরিফ) সাধারণত বাস, ট্রেন, লঞ্চের মাধ্যমে আমরা গ্রামে যাই। আমরা যানবাহনে উঠতে খুব তাড়াহুড়া করি। বৃদ্ধ কিংবা মহিলাদের খেয়াল না করেই ধাক্কাধাক্কি করে প্রথমে ওঠার চেষ্টা করি। অনেক সময়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলার সময়ে লাফ দিয়ে উঠে পড়ি। যার ফলে তাড়াহুড়ার কারণে নিজে বা পাশে থাকা ব্যক্তি পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এজন্য থেমে থাকাবস্থায় যানবাহনে উঠাতে হবে। যানবাহনে ওঠার সময়ে প্রথমে বিসমিল্লাহ পড়ে পা রেখে বসার পর আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করা উত্তম। অতঃপর আরোহণের দোয়া পাঠ করে তিনবার আলহামদুলিল্লাহ ও তিনবার আল্লাহু আকবর বলে সর্বশেষ নিচের দেওয়া দোয়াটি পড়া যেতে পারে। ‘সুবহানাকা ইন্নি জলামতু নাফসি জুলমান কাছিরান ফাগফিরলি ইন্নাহু লাইয়াগফিরনিজ্জুনুবা ইল্লা আনত।’ (তিরমিজি) রসুল (সা.) যখন বাহনে (উট, ঘোড়া ইত্যাদি) চড়তেন, তখন নিম্নলিখিত দোয়া পাঠ করতেন- যানবাহনে ওঠার সময়ে যে দোয়াটি পাঠ করতে হয় যা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারিতে বসার পর পাঠ করতেন। ‘সুবহানাল্লাহু সাখখারালানা হা জা ওয়ামা কুননা লাহু মুক্করিনীন ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্কালিবুন। অর্থ : মহান পবিত্র তিনি যিনি আমাদের জন্য এটাকে অধীন নিয়ন্ত্রিত বানিয়ে দিয়েছেন নতুবা আমরা তো এটাকে বশ করতে সক্ষম ছিলাম না। একদিন আমাদের প্রভুর কাছে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। (সুরা যুখরুফ-১৩-১৪) তবে মুসলিম শরিফের বর্ণনায় পাওয়া যায় নিচের দোয়াটিও যানবাহনে ওঠার পর পাঠ করা যেতে পারে। দেয়াটি হলো- ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফরিনা হা-জাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তার দা আল্লাহুম্মা হাউয়িন আলাইনা সাফারনা হাযা, ওয়াতওই আন্না বুদাহু, আল্লাহুম্মা আনতাস্-সাহিবু ফিস্-সাফার, ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি ওয়াল মাল। আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন ওয়া-ছা-ইস সাফারি ওয়া-কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল আহলি ওয়াল মাল। তবে নদীপথে যাওয়ার সময়ে নিচের দোয়াটি পাঠ করা উত্তম। যা হজরত নূহ (আ.)-কে নির্দেশ করা হলো যে বেইমানদের বাদ দিয়ে ইমানদার নিয়ে নৌকার তুলে নিন। হজরত নূহ (আ.) উক্ত দোয়া পাঠ করেন, ‘বিসমিল্লাহি মাজরেহা ওয়ামুসাহা ইন্না রাব্বি লাগাফুরুর রাহিম অর্থ : আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি আমার পানলনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন মেহেরবান। (সুরা হুদ-৪) ঈদে বাড়ি যেতে প্রায় সময়ে মাঝ রাস্তায় বিরতি দিয়ে থাকে। আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক অর্থ : আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমার মাধ্যমে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চাচ্ছি। (মুসলিম : ২৭০৮) ঈদে বাড়ি যাওয়ার সফরটা আমরা ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাতে পারি। যানবাহনে অপ্রয়োজনীয় কথা ও হাসিতামাশা থেকে বিরত থেকে কোরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ, জিকির, অতিরিক্ত দরুদ শরিফ পাঠ করে বাড়ি যাওয়ার যাত্রার সময়কে আমলে অতিবাহিত করি। পার্শ্ববর্তী যাত্রীদের সাহায্য ও ভালো আচরণ করি। যাত্রাপথে বিপদে পড়লে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করি। তিনজন একসঙ্গে বের হলো একজনকে নেতা নিযুক্ত করি। সফরে মুসাফির থাকাবস্থায় দোয়া করলেও কিন্তু কবুল হয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন- নির্যাতিত (মজলুম) ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি শরিফ) ঈদে বাড়ি পৌঁছানোমাত্রই সর্বপ্রথম আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করাসহ রসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ শরিফ পাঠ করা প্রয়োজন। মহান আল্লাহ বিপদমুক্ত করে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের জন্য বাড়িতে আসার তাওফিক দিয়েছেন। শুকরিয়া হিসেবে দুই রাকাত নামাজ আদায় করাটা খুব উত্তম একটি কাজ। হজরত কা’ব ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত ‘রসুল (সা.) যখন সফর থেকে বাড়ি ফিরতেন তখন সর্বপ্রথম মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন।’ (বুখারি ও মুসলিম) লেখক : প্রধান গবেষক : আল ফুরকান রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এক মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন, যদি সৎ সাহস থাকে, তাহলে আগামীকালের মধ্যেই ফাইলটি জনগণের সামনে স্পষ্ট করবেন। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, শাহে আলম বলেছেন, সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই উপদেষ্টা একটি ফাইল অনুমোদন করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোন ফাইল? ফাইল প্রক্রিয়ায় সচিবের স্বাক্ষর বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন থাকাই নিয়ম। আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সচিব অনুপস্থিত থাকলে অতিরিক্ত সচিব বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ফাইল অনুমোদন এগিয়ে যায়। তিনি বলেন, মন্ত্রী বা উপদেষ্টার চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা রয়েছে এবং এটি বিধিবহির্ভূত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি আংশিকভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে উপস্থাপন করলে মনে হয়, কোনো প্রক্রিয়া না মেনে গোপনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সঠিক নয়। আসিফ মাহমুদ বলেন, যদি কোনো নির্দিষ্ট ফাইল নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তবে তা প্রকাশ্যে আনা উচিত। তিনি মীর শাহে আলমকে আহ্বান জানান, সংশ্লিষ্ট ফাইলটি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে। তিনি আরও বলেন, আমি যে কোনো নির্দিষ্ট ফাইল নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত আছি। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সচিবের সই ছাড়াই জোর করে ফাইল অনুমোদন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন অভিযোগ করেন। পিরোজপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে কমিটি করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটা ফাইল নোটিশে এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একজন উপদেষ্টা (আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া) সচিবের সই ছাড়াই জোর করে ফাইল নিয়েছেন, নিজে সই করে অনুমোদন দিয়েছেন। এটিও এই তদন্তের মধ্যে আসবে যেটি একদম রুলস অব প্রসিডিউর, রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থি। কারণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের সই ব্যতিরেকে কখনোই মন্ত্রী একটি ফাইল অনুমোদন দিতে পারেন না। এটি কখনোই আইনে রুলস অব প্রসিডিউরে এবং রুলস অব বিজনেসে নেই।