বিশ্ব

গিনি: বৈধতার খোঁজে অভ্যুত্থান-নেতা দৌম্বুয়া

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫

সামরিক পোশাক ছেড়ে বেসামরিক পোশাকে এলেও গিনি এখনো লৌহমুষ্টিতেই শাসন করছেন জান্তা নেতা মামাদি দৌম্বুয়া। মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন তিনি।

কোনাক্রি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। 

অস্থায়ী ফল অনুযায়ী, দৌম্বুয়া পেয়েছেন ৮৬ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি প্রধান বিরোধী নেতারা। অনেকের মতে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর বেসামরিক শাসনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতাকে বৈধতা দিতেই এই নির্বাচন আয়োজন করেন দৌম্বুয়া।

ডিসেম্বরের শুরুতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দেন ৪১ বছর বয়সী দৌম্বুয়া। মাথায় সাদা ক্যাপ এবং নিজের নাম ও ‘বিল্ডিং টুগেদার’ স্লোগান লেখা টি-শার্ট পরে ডেস্কের পেছনে বসে বক্তব্য দেন তিনি। প্রচারণা জুড়ে এটিই ছিল তার একমাত্র প্রকাশ্য বক্তব্য।

ভোটের দিন ঘনিয়ে এলে, তার চেনা ক্যামোফ্লাজ পোশাক ও লাল বেরেটের জায়গায় দেখা যায় বেসামরিক পোশাক। তবে প্রতিবারই তাকে ঘিরে থাকেন স্পেশাল ফোর্সেস গ্রুপের সদস্যরা—যে ইউনিট থেকে তার উত্থান।

এই বাহিনীর প্রধান হিসেবেই তৎকালীন কর্নেল দৌম্বুয়া ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে অভিযান চালান। ক্ষমতাচ্যুত করেন বেসামরিক প্রেসিডেন্ট আলফা কঁদেকে। কঁদে প্রায় ১১ বছর ক্ষমতায় ছিলেন।

তৃতীয় মেয়াদে কঁদের পুনর্নির্বাচনের পর সহিংস দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে অভ্যুত্থানকে শুরুতে স্বাগত জানিয়েছিলেন অনেক গিনিবাসী।

ক্ষমতা দখলের পর দৌম্বুয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন, বেসামরিক শাসনে ফেরাতে যে নির্বাচন হবে, তাতে জান্তার কেউ প্রার্থী হবেন না। কিন্তু পরবর্তীতে নিজেকে জেনারেল পদে উন্নীত করেন তিনি। সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। ভিন্নমতও কঠোরভাবে দমন করেন।

-দমন-পীড়ন-

দৌম্বুয়ার শাসনে একাধিক রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ২০২২ সালে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়। নিষিদ্ধ বিক্ষোভ দমন করা হয় কঠোরভাবে। বহু বিরোধী নেতা ও নাগরিক সমাজের কর্মী গ্রেপ্তার হন। কেউ দণ্ডিত হয়েছেন। কেউ বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়েছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোরপূর্বক গুম ও অপহরণের অভিযোগও বেড়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
মোদিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চেন্নাই বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। রোববার তামিলনাড়ু তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের (টিএনডিআইপিআর) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই।   চেন্নাই সফরে মোদির বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। তিনি পোরুর বাইপাস স্টেশন থেকে পুনামাল্লি বাইপাস স্টেশন পর্যন্ত চেন্নাই মেট্রোতে ভ্রমণ করবেন এবং পরে একই পথে ফিরে আসবেন। এ ছাড়া শহরের জালাকান্তেশ্বর মন্দিরে পূজা দেবেন তিনি।   এরপর আইআইটি মাদ্রাজের ব্রেন সেন্টার পরিদর্শন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সফরে ১৩ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন ও হস্তান্তর করবেন তিনি। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যও দেবেন।   এ ছাড়া চেন্নাইয়ের জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিকুলেশন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মোদি। সেখানে উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশেও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।   তথ্যসূত্র: এএনআই

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে বিক্ষোভের মধ্যেই মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা

ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

জেলেনস্কি সীমা ছাড়িয়েছেন, কড়া মন্তব্য ইলন মাস্কের

ছবি: সংগৃহীত

পিটিআইয়ের লংমার্চ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ, রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা

সংগৃহীত ছবি
অচল নয়াদিল্লি, চাপে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল শনিবার নয়াদিল্লি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এদিন বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর যন্তর মন্তর চত্বরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে এটা সব বিরোধী দলের কর্মসূচিতে পরিণত হতে যাচ্ছিল।   কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। আগের দিন শুক্রবার থেকে দিল্লির নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। রাস্তায় ব্যারিকেড, যানবাহনে তল্লাশি, মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর বিধিনিষেধ ছিল। অনেক এলাকায় ছিল না ইন্টারনেট।   শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেসহ দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা, বিখ্যাত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়। পরে মমতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   ভারতে প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সংশোধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ কোটির বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে।   ‘উভয়সংকটে’ বিজেপি জ্ঞানেশকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে বিজেপির জন্য একধরনের ‘উভয়সংকট’ হিসেবে দেখছে ভারতের সুপরিচিত সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।   বিশ্লেষক ভার্গিস কে জর্জ লিখেছেন, জ্ঞানেশকে দায়িত্বে রাখা কিংবা তাঁর বিদায়—দুই ক্ষেত্রেই বিজেপির জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বরখাস্ত করতে পারে না। তাঁকে অপসারণের জন্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে।   রয়টার্স জানিয়েছে, বিরোধীদের সঙ্গে জ্ঞানেশের সম্পর্ক তাঁর মেয়াদের শুরু থেকেই টানাপোড়েনপূর্ণ। এ বছর তাঁকে অপসারণের দাবিতে সংসদে একটি প্রস্তাবও আনা হয়েছিল। তবে সেটি গৃহীত হয়নি। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বাস্তবতায় জ্ঞানেশের থাকা বা সরে যাওয়া—দুটিই ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   বিশ্লেষণটিতে আরও বলা হয়, জ্ঞানেশের পর যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন, তিনি বর্তমান কমিশনের মতো একই পথে চলবেন, এ নিশ্চয়তা বিজেপির নেই।   ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে জ্ঞানেশ নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণের চেষ্টা করতে পারেন। আবার বিরোধীরা যে পক্ষপাতের অভিযোগ করছে, সেই অভিযোগের মধ্যে তাঁর দায়িত্বে থাকা জন–অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে। এটা বিজেপির জন্য বড় ঝুঁকি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১১, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

আমিরাতে ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

রয়টার্স ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখেও নিজেদের শর্তে অনড় ইরান

ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড চালিয়েছে অ্যানথ্রোপিকের এআই

সংগৃহীত ছবি
সংবিধান রক্ষা ও ভোটের অধিকার আদায়ে রাহুল গান্ধীর কড়া হুঁশিয়ারি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আপনি যা ইচ্ছে করুন, আমরা পিছু হটব না।     সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিক্ষোভ এবং বিরোধী নেতাদের আটকের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।       রাহুল গান্ধী জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তিনি। তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে গভীর ধারণা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।     প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে সমালোচনা করে রাহুল বলেন, ‘তাদের জন্য রাজনৈতিক পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।     এসময় চলমান বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার চাইলে ১০ হাজার, ২০ হাজার কিংবা ৫০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করতে পারে। সব নেতা ও তরুণকে আটক করলেও তারা পিছু হটবেন না।’     রাহুল গান্ধী বলেন, ‘মোদি, আপনি যা ইচ্ছে করুন। সব নেতাকে আটক করুন, তরুণদের আটক করুন, আমাদের সবাইকে আটক করুন।     আমরা আপনাদের ঘিরে ফেলছি, আর পিছু হটব না।’     ভারতের সংবিধান রক্ষা এবং জনগণের কণ্ঠস্বর সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘গত ১০ থেকে ১৫ বছরে ভারতের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা আর কখনো ঘটতে দেওয়া হবে না।’     ভারতের তরুণদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাহুল বলেন, ‘তোমাদের নিয়ে আমি গর্বিত। প্রতিবাদ চালিয়ে যাও। আমরা তোমাদের পাশে আছি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১০, ২০২৬

ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হলেন ক্যাটি জাকারিয়া

আন্তর্জাতিক আইনের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ : আইসিসি

নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার মানবাধিকারের গুরুত্বের স্বীকৃতি : জাতিসংঘ

0 Comments