দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে আজ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। তবে ভোটের আগেই নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন কে, এ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো চিঠির জবাবে আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মত অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। ফলে স্পিকারের সব দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্বও ডেপুটি স্পিকারের ওপর বর্তায়।
রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিধান ও প্রক্রিয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত জানতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয় তাদের মতামত দেয়।
এদিকে আজকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের ভোটের লড়াই হবে।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করতেই হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্য আজকের নির্বাচনে ভোট দেবেন। তাদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ সংসদ সদস্য রয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
ভোটের পর আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। চিফ হুইপ এ তথ্য জানিয়েছেন। শপথ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এর আগে ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সমুদ্রে জাহাজের চাকরিতে মাসে আয় ১৫ লাখ টাকার ওপরে। অথচ ডাঙায় মেরিন একাডেমিতে শিক্ষকতা করলে বেতন জোটে ১ লাখ টাকারও কম! আকাশ-পাতাল এই ব্যবধানের কারণেই দেশের প্রথম সারির মেরিটাইম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে শিক্ষক মিলছে না। বারবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না যোগ্য শিক্ষক। আর অভিজ্ঞ শিক্ষকরাও একে একে একাডেমি ছেড়েছেন। এতে মান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশে সাধারণ চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে লাখো তরুণের ভিড় থাকলেও মেরিন একাডেমির চিত্রটা ঠিক এর উল্টো। এর প্রধান কারণ, সাধারণ কোনো ডিগ্রিতে এই একাডেমির শিক্ষক হওয়া যায় না। এখানে পড়াতে হলে মাস্টার মেরিনার বা চিফ ইঞ্জিনিয়ারের মতো প্রফেশনাল ডিগ্রি লাগে, দরকার হয় সমুদ্রগামী জাহাজে কাজের অভিজ্ঞতা। যারা এই ডিগ্রি অর্জন করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ব্যাপক চাহিদা। ডলারে বেতন পান তারা। তাই উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ এই মেরিনাররা ছাড়ছেন মেরিন একাডেমির চাকরি। সম্প্রতি আগামীর খবরের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী জানান, একজন মেরিন ক্যাডেটের পড়ালেখার পেছনে সরকার তিন বছরে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে। চাকরির শুরুতেই তাদের মাসিক বেতন হয় ৫ লাখ টাকার বেশি। আনাম চৌধুরীর শঙ্কা, দ্রুত এই শিক্ষক সংকটের সমাধান না হলে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি বড় ঝুঁকিতে পড়বে। প্রথমত, শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) ‘হোয়াইটলিস্ট’ বা বৈশ্বিক স্বীকৃতি থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা তৈরি হবে। তিনি জানান, ২০১২ সালে ফিলিপাইন এমন বিপদে পড়েছিল। কাটিয়ে উঠতে তাদের ৯ বছর লেগেছিল। আর হোয়াইটলিস্ট থেকে বাদ পড়লে এই একাডেমি থেকে পাস করা ক্যাডেটদের কোনো বিদেশি জাহাজে চাকরির সুযোগ থাকবে না। চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির জনবল কাঠামোয় শুধু প্রফেশনাল শিক্ষক পদ আছে ২০টি। বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র অর্ধেক। শূন্য পদে বারবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বিজ্ঞপ্তিতেও কোনো সাড়া মেলেনি। হাতেগোনা যে কয়েকজন আছেন, তাদের ওপরই সব ক্লাসের চাপ পড়ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে ক্যাডেটদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই সদস্যরা বলছেন, সামনে আইএমও অডিট টিম আসার আগে যদি শিক্ষক সংকটের সুরাহা না হয়, তাহলে বড় বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। শিক্ষক না পাওয়ার মূল কারণ একেবারেই সরল। একজন মাস্টার মেরিনার বা চিফ ইঞ্জিনিয়ার যখন কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে চাকরি করেন, তার মাসিক বেতন ১৫ লাখ টাকার বেশি (১২ থেকে ১৫ হাজার ডলার)। অথচ মেরিন একাডেমিতে যোগ দিলে সরকারি স্কেলে তার বেতন লাখ টাকার অনেক নিচে। মাসে ১৫ লাখ টাকার সমুদ্রে জাহাজের বিলাসবহুল চাকরি ছেড়ে দেশের একাডেমিতে পড়াতে আসতে চান না মেরিনাররা। এমনিতেই নতুনরা আসছেন না, তার ওপর যারা আগে যোগ দিয়েছিলেন, তারাও টিকছেন না। একটি পরিসংখ্যান বলছে, ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক একাডেমি ছেড়ে চলে গেছেন। বিশাল বেতন নিয়ে তারা হয় আবার জাহাজে ফিরে গেছেন, নয়তো বিদেশি নামিদামি প্রতিষ্ঠানে বিপুল বেতনে যোগ দিয়েছেন। তাদের একজন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুল মান্নান। যিনি ২০২২ সালে টিউটর হিসেবে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে চাকরি শুরু করেছিলেন। এক বছর চাকরির পর কাঙ্ক্ষিত বেতন-ভাতা না পেয়ে চাকরি ছেড়ে লন্ডন চলে যান। তিনি জানালেন, চট্টগ্রামের ছেলে হিসেবে শিক্ষকতায় থাকতে চেয়েছিলাম। নির্ধারিত বেতন-ভাতা না পেয়ে এক বছর নিজের সঞ্চয় ভেঙে শিক্ষকতা করেছি। আশাহত হয়ে দেশ ছেড়েছি। আবেগ দিয়ে তো পেট চলে না। এখন লন্ডনের ল্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির ফ্লিটউড নটিক্যাল কলেজে সিনিয়র টিউটর হিসেবে শিক্ষকতা করছি। শুধু বেতন মাসে ৪ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা)। এর বাইরে অন্য সুযোগ-সুবিধা। থাকছি পরিবারসহ। তাহলে প্রশ্ন— ২০০২ সালের আগপর্যন্ত শিক্ষকরা কীভাবে কাজ করতেন? তখন একাডেমির শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভাতা বা আকর্ষণীয় ‘মেরিন অ্যালাউন্স’ চালু ছিল। ব্রিটিশ বা আইএমওর বিভিন্ন প্রজেক্টের অধীনে তারা আন্তর্জাতিক স্কেলে বা তার কাছাকাছি সম্মানজনক বেতন পেতেন। বেতনের পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অন্যান্য সুবিধা এতই চমৎকার ছিল যে, জাহাজের বেতনের কিছুটা কম হলেও অভিজ্ঞ মেরিনাররা হাসিমুখেই শিক্ষকতা পেশায় আসতেন। কিন্তু জটিলতা শুরু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস এক চিঠির মাধ্যমে এই বিশেষ ভাতা দেওয়া বন্ধ করে দিলে সংকট শুরু হয়। একে একে শিক্ষকরা একাডেমি ছাড়তে থাকেন। মেরিন একাডেমি ও অ্যালামনাইরা অনেক চেষ্টা করেও বিশেষ ভাতা আর চালু করতে পারেননি। এরপর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। সেই মামলা এখনো ঝুলে আছে। মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এ বি এম শামীম বললেন, ‘ইনস্ট্রাকটর নিয়োগের একাধিক বোর্ডে আমি দেখেছি, চার পদের বিপরীতে মাত্র একজন ইন্টারভিউ দিয়েছেন। সেই একমাত্র প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করলেও বেতন কাঠামো বাড়ার আশা না পেয়ে যোগ দেননি। এভাবে চলতে থাকলে তো একাডেমির আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখা যাবে না। সবাই মিলে বিপদে পড়ব।’ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার (আইএমও) বাধ্যবাধকতা এবং দেশীয় আইন অনুযায়ী মেরিন ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ শুধু দক্ষ ও সনদপ্রাপ্ত মেরিন পেশাদারদের দ্বারাই পরিচালনা করা আবশ্যক। আইএমও নিয়মিতভাবে একাডেমিগুলোর মান নিরীক্ষা করে থাকে। ফলে যোগ্য শিক্ষক না থাকলে একাডেমি ও মেরিনাররা ঝুঁকিতে পড়বেন। মেরিন একাডেমির শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষ বেতন কাঠামো (স্পেশাল পে স্কেল) তৈরির পরামর্শ মেরিনারদের।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ইতালি ও লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক সভা করেছি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করছি। দেশের ১৪টি জেলা আইডেন্টিফাই করা হয়েছে, যেখান থেকে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অভিবাসন হয়। ওইসব জেলার ডিসিদের সাথে মিটিং করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার। যাতে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিতে না পারে এবং জেলা-উপজেলা ও থানা পর্যায়ে লুকিয়ে থাকা দালালচক্রকে আইডেন্টিফাই করা যায়। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে অভিবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে সংসদীয় ভূমিকা জোরদার করতে গঠিত 'বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ককাস অন মাইগ্রেশন, রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অবৈধ অভিবাসন প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর থেকে অনেক মানুষ অবৈধ পথে ইউরোপে যায়। মেডিটেরেনিয়ান সাগর হয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করে। মাঝ সাগরে তাদের ফেলে দেওয়া হয়, মৃত্যু হয়। যারা পৌঁছায়, তারাও বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর বাংলাদেশ একটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ পার্লামেন্ট পেয়েছে। এই পার্লামেন্ট মাল্টিপার্টি ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাস করে। আর তাই সব দল ও সব মত মিলেই প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করবে। প্রবাসী খাত নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের বক্তব্য শুনেছি, অত্যন্ত বাস্তববাদী। বিএনপির জন্য এই মাইগ্রেশন খাতটির প্রতি আলাদা ফিলিংস ও সেন্টিমেন্ট কাজ করে। কারণ এই খাতটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত দিয়েই শুরু হয়েছিল। আমরা যখন প্রবাসীদের ওয়েলফেয়ার নিয়ে কথা বলি, তা রাজনৈতিকভাবে বলি না, মন থেকে বলি। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে, সরকার গঠনের পর থেকে নানা সমস্যা আমার কাছে আসছে। বিশেষ করে মাননীয় সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে। রাশিয়া, গালফ কান্ট্রিসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের সমস্যার কথা যেমন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আসে, তেমনি আমাদের কাছেও আসে। আপনারা শুনে খুশি হবেন, প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমরা একটি মাইগ্রেশন উইং খুলেছি। এই উইংটি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। মাইগ্রেশন কস্ট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাইগ্রেশন কস্ট কমাতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল থেকে বিদেশে যেতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বেশি লাগে না। অথচ বাংলাদেশে দালালচক্রের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ করে জমি-জমা বিক্রি করে বিদেশে যাচ্ছে। অনেকে কাজ পাচ্ছে, অনেকে প্রতারিত হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। এই জায়গাটা আমাদের অ্যাড্রেস করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের ম্যানিফেস্টোর প্রধান লক্ষ্য জব ক্রিয়েশন - দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরি। সেটা করতে হবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও স্কিল মাইগ্রেশনের মাধ্যমে। সরকার সেফ মাইগ্রেশন চায়। একইসাথে ভাষাগত দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। চাইনিজ, জাপানিজ, আরবিসহ যে দেশে যাবে, সে দেশের ভাষা শিখে গেলে কাজের নিশ্চয়তা বাড়বে। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারগুলো রিফর্ম করা হচ্ছে।
রাজধানীর প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর চারটি প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় টানেল ও স্টেশন নির্মাণ, রেললাইন স্থাপন, বৈদ্যুতিক অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। এ ছাড়া প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, চারটি প্যাকেজের মধ্যে দুটি প্যাকেজে পাতাল রেলের টানেল ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৪-এর আওতায় রামপুরা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত ৪ দশমিক ৪৪৭ কিলোমিটার পাতাল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে, কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৬-এর আওতায় নদ্দা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার পাতাল রেলপথ নির্মাণের কাজ হবে। এই দুই প্যাকেজে মোট ৯ দশমিক ৬২৯ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড রুট নির্মাণ করা হবে। কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৯-এর আওতায় এমআরটি লাইন-১-এর ট্র্যাক স্থাপনের কাজ করা হবে। এর মধ্যে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ প্রয়োজনীয় ট্র্যাক স্থাপনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চতুর্থ প্যাকেজ সিপি-১০-এর আওতায় ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে কমিউনিকেশন বেজড অটোমেটিক ট্রেন কন্ট্রোলিং সিস্টেম, অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক এবং এলটিই প্রযুক্তির রেডিও যোগাযোগব্যবস্থা। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর ও এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইআরএমএস) স্থাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন, যাতায়াতের সময় কমানো এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত গণপরিবহন সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী নগর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক। নির্মাণকাজে শ্রম আইনসহ দেশের প্রচলিত সংশ্লিষ্ট আইন মেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন সচিব। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নির্মাণকাজের কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তি যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজে পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে স্বচ্ছ, ধারাবাহিক ও কার্যকর সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং উন্নয়ন সহযোগিতার প্রশংসা করেন। মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত। চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হলে এমআরটি লাইন-১-এর টানেল, স্টেশন, ট্র্যাক এবং ট্রেন পরিচালনাসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাহিদা মোকাবিলা, যানজটের চাপ কমানো এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ,