সারাদেশ

দখল-দূষণ ও অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে কর্ণফুলী, ভাঙছে নদীর পাড়

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী নদী দখল, শিল্পবর্জ্য ও অবৈধ বালু উত্তোলনের চাপে সংকটের মুখে পড়েছে। চট্টগ্রাম নগর এলাকায় নদীর দুই তীরের শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীতে মিশে পানি দূষিত করছে। 

 

অন্যদিকে রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ও ভলগেট দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ভাঙছে। এতে নদীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি ও বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

 

নদী রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ থাকলেও পুনর্দখল ঠেকানো, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর নজরদারির ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে কর্ণফুলীর পরিবেশ, নাব্যতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও হুমকির মুখে পড়বে।

 

উচ্ছেদের পরও পুনর্দখল

চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান বলেন, ‘এক দশক আগে কর্ণফুলী রক্ষায় উচ্চ আদালতের রায়ের পর জেলা প্রশাসন ১ হাজার ১৮১ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করেছিল। উচ্ছেদ করা হয়েছিল ৩৫০ জন দখলদারকে। কিন্তু বর্তমানে ওই সব স্থানের অনেকগুলো আবার দখল হয়ে গেছে। পাশাপাশি নতুন নতুন স্থানও দখল হয়েছে। ফলে সংকুচিত হচ্ছে নদী। দখলদার উচ্ছেদের পর তা নিয়মিত তদারকি না করলে এসব উচ্ছেদের কোনো অর্থ থাকে না।’

 

তিনি আরও বলেন, নদীতীরবর্তী অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানে ইটিপি রয়েছে, সেগুলোর কিছু নিয়মিত চালু রাখা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শিল্পবর্জ্য সরাসরি কর্ণফুলীর পানিতে মিশছে। শুধু ইটিপি স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলো কার্যকরভাবে চালু আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ইটিপিতে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থাও নেওয়া প্রয়োজন। আলীউর রহমানের অভিযোগ, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী এলাকায় নদীর তীরে ব্লক বসানো হলেও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে কোনো কোনো স্থানে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

গবেষণায় উঠে এসেছে দূষণের চিত্র

কর্ণফুলী নদীর দূষণ নিয়ে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছর *সায়েন্সডাইরেক্ট*-এ প্রকাশিত একটি সমন্বিত মূল্যায়ন গবেষণায় শিল্পকারখানার অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ও নগরের পয়োবর্জ্যের কারণে নদীর পানিতে অ্যামোনিয়াম ও ফসফেটের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণায় এ দূষণের ফলে ইউট্রোফিকেশন বা পানিতে অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান জমার ঝুঁকির বিষয়টিও উঠে এসেছে। এর ফলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গিয়ে জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

 

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের সমীক্ষায় কর্ণফুলী নদীর পানি ও তলানির পলিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। ওই গবেষণায় ক্রোমিয়াম, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়। এসব দূষণ নদীর মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে গবেষণাগুলোর নির্দিষ্ট শিরোনাম, নমুনা সংগ্রহের স্থান, পরীক্ষার ফলাফল ও ব্যবহৃত মানদণ্ড যাচাই করে দূষণের মাত্রা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

 

 ইটিপি স্থাপন হলেও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান জানান, সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগর এলাকার ৩১৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন প্রযোজ্য। এর মধ্যে ২৯২টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো সচল বলে দাবি করা হয়েছে। আরও ১৪টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি নির্মাণাধীন। বাকি আটটি প্রতিষ্ঠান ইটিপি স্থাপন করেনি।

 

তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইটিপি স্থাপন করা হলেও সব প্রতিষ্ঠানে তা নিয়মিত চালু রাখা হয় না। ফলে শিল্পবর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই বিভিন্ন খাল ও জলপথের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। নগরের পয়োবর্জ্য ও প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্যও নদীর দূষণ বাড়াচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইটিপি স্থাপনের সংখ্যা এবং বাস্তবে সেগুলো কতক্ষণ চালু থাকে- দুটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে শিল্পবর্জ্যের পাশাপাশি নগরের পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনাও উন্নত করতে হবে।

 

বালু উত্তোলনে বাড়ছে ভাঙনের ঝুঁকি

পরিবেশবিদদের মতে, প্রায় ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম বন্দর, আমদানি-রপ্তানি ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নদীর প্রবাহ ও নাব্যতা ব্যাহত হলে নৌপরিবহন, মৎস্যসম্পদ এবং নদীকেন্দ্রিক জীবিকার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু দূষণ, দখল ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পরিবেশ ও তীরবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে।

 

কর্ণফুলী রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে চট্টগ্রাম নগরের পাশ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদীও কর্ণফুলীতে এসে মিশেছে। নদীটির দুই তীরে রয়েছে অসংখ্য বসতি, কৃষিজমি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী, সরফভাটা ও চন্দ্রঘোনা এবং বোয়ালখালী উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভলগেট ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থানে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ও তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা ও জোয়ারের সময় ভাঙন তীব্র হয়ে ফসলি জমি ও বসতভিটা বিলীন হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মুহিবুল্লাহ মারুফী বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে সরফভাটা গোডাউন ব্রিজ থেকে জুরুর মুখ এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলনের কারণে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেসব স্থানে ব্লক আছে, সেগুলোও ধসে পড়ছে। যেখানে ব্লক নেই, সেখানে পাড় ভেঙে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে। পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে নদীর গতিপথ। একাধিকবার স্থানীয়রা মানববন্ধন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বালু তোলার প্রতিবাদ করায় বালুদস্যুরা স্থানীয়দের ওপর হামলাও করেছে।’

 

তবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের মাত্রা কতটা বেড়েছে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীর গতিপথ, তলদেশের গভীরতা ও ভাঙনের তথ্য নিয়ে কারিগরি সমীক্ষা প্রয়োজন।

 

সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ

নদী গবেষক অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও মাস্টারপ্ল্যান থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত কঠোর পদক্ষেপের অভাবে কর্ণফুলী নদী বিলীন হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই এ নদী সংকুচিত হয়ে অর্থনীতির লাইফলাইন অচল হয়ে যেতে পারে।’

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে ইটিপি আছে, সেগুলো নিয়মিত তদারকি করা হয়। ইটিপি চালু না রাখায় বিভিন্ন সময়ে জরিমানাও করা হয়েছে। জনবলসংকট ও অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যস্ততার কারণে মাঝেমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান ইটিপি বন্ধ রাখে। তবে খবর পেলেই সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বালু উত্তোলন ও ভাঙন রোধের বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি করা উচিত।’

 

কর্ণফুলী রক্ষায় নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি পুনর্দখল বন্ধ, শিল্পকারখানার ইটিপি নিয়মিত চালু রাখা, বর্জ্য পরিশোধন নিশ্চিত করা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। একই সঙ্গে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে সুরক্ষাব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও ধারাবাহিক নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে নদীর পরিবেশ ও নাব্যতা রক্ষার উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকার সাবেক মেয়র সাদিক নোভা গ্রেপ্তার

নীলফামারীর জলঢাকায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র নাসিব সাদিক হোসেন নোভাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।   বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জলঢাকা পৌর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম ঢাকা পোস্টকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় নাসিব সাদিক হোসেন নোভার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জলঢাকা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি।   ওসি নাজমুল আলম আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় নীলফামারীতে যুবকের আত্মহত্যা

সংগৃহীত ছবি

দখল-দূষণ ও অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে কর্ণফুলী, ভাঙছে নদীর পাড়

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটে সিম বিক্রেতাকে কুপিয়ে টাকা ও সিমকার্ড ছিনতাই

সংগৃহীত ছবি
তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই আসছে ডিপিপি

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার (টিএমপি) সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হবে।   তিনি বলেন, পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার পরামর্শকদের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হবে। যারা দীর্ঘকাল ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তারা যাতে আগামী একশ বছর এর সুফল ভোগ করতে পারে, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে সেভাবে বাস্তবায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য।   বুধবার বিকেলে রংপুর মহানগরীর ডিসি মোড় এলাকায় শ্যামাসুন্দরী খাল পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে ভারত কেবল বাংলাদেশ সরকারেরই নয়, এ দেশের ২০ কোটি মানুষের প্রকৃত বন্ধু হিসেবেও নিজেদের প্রমাণ করতে পারে।   গত ১৭ বছরে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেশী দেশটির নেওয়া নানা পদক্ষেপ এক ধরনের অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।   তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ফারাক্কা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ডিসেম্বরে সময়সীমা শেষ হলে তা নবায়ন করা হবে বলে আশা রাখি।   তিনি আরও জানান, গত জুনে কলকাতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধিদের ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে বৈঠক হয়।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করেছি এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’   রংপুর মহানগরীর ঐতিহাসিক শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভাগীয় শহরগুলোর খাল, নদী ও জলাশয়গুলোর উন্নয়নে নির্দেশনা দিয়েছেন।   এরই ধারাবাহিকতায় খাল, নদী ও জলাশয়গুলোতে ড্রেজিং (খনন) ও পুনঃখননের কাজ চলছে।   তিনি জানান, শ্যামাসুন্দরী খাল উন্নয়নের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে এবং ১৪ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ১৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৮২ শতাংশ আগামী জুনের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ফরহাদ বলেন, এলাকার কিছু মানুষ রাতের বেলা শ্যামাসুন্দরী খালে ময়লা ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এটি বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। যারা খালে ময়লা-আর্বজনা ফেলবে, তাদের জরিমানাও করা হবে। এছাড়া, খালের উভয় পাশে হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট- খালের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করলে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মতাদর্শ বা ধর্মীয় পরিচয়ধারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আশা রাখি নগরবাসী এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করবেন।   এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুরের ডেপুটি কমিশনার ইসরাত জাহান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল ইসলাম এবং জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুল আলম নাজু।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মিরপুরে উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের দখল, সন্ধ্যায় আবার অভিযান

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ: পুলিশ

৩৩ ঘণ্টায়ও নেভেনি কক্সবাজারের ইনানীর আগুন

উখিয়ায় ভূগর্ভস্থ গ্যাসে আগুন, ১৫ কিমি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ

সংগৃহীত ছবি
ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় জাবেদসহ ৩৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাক্ষী দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানকে জেরা শেষের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এই মামলার মোট ৫৫ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।   বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে এ সাক্ষ্য অনুষ্ঠিত হয়।     দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করে বলেন, ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধবার আসামীপক্ষের আইনজীবীরা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করেন। জেরা শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষনা করেন।     আগামী ৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে। ওই দিন রাখা হয়েছে ৩৪২ ধারা পরীক্ষার জন্য।   এর আগে, চলতি বছরের ১১ মার্চ এ মামলায় ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তারও আগে গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।     অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইউসিবি ব্যাংক থেকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, জাবেদ তার মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহকে মালিক দেখিয়ে দুটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে জাল নথিপত্র তৈরি করে ইউসিবি ব্যাংকের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।     অভিযোগে আরো বলা হয়, ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়। দুদকের দাবি, পরে ওই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।     ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।     ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।     অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তাঁর স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী।     এ ছাড়া সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ মোট ৩৬ জন আসামি রয়েছেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফুটপাত আবার দখল হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা: শফিকুল ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়েই চালু হবে চায়না ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের প্রথম কারখানা: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

ছবি: সংগৃহীত

সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য, অপহরণ আতঙ্কে জেলে-বাওয়ালিদের মানববন্ধন

0 Comments