ক্ষুদ্র এক প্রাণী মৌমাছি, কিন্তু এর কামড়ের যন্ত্রণা অত্যন্ত তীব্র ও বিষাক্ত। বাগানে কাজ করতে গিয়ে কিংবা অসাবধানতাবশত যেকোনো সময় মৌমাছির আক্রমণের শিকার হতে পারেন যে কেউ।
মৌমাছি কামড়ালে আক্রান্ত স্থান ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া শুরু হয়। তবে ভয় না পেয়ে তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ এবং ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করলে এই কষ্ট থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
মৌমাছি কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কোনো প্রকার দেরি না করে এই তিনটি কাজ আগে করুন :
হুল দ্রুত অপসারণ : মৌমাছি কামড়ানোর পর চামড়ায় কালো বিন্দুর মতো হুল ফুটে থাকে। নখ বা কোনো কার্ডের ধারালো কোনা দিয়ে হুলটি আলতো করে ঘষে বের করে ফেলুন।
ভুলেও চিমটা বা টুইজার দিয়ে চেপে ধরতে যাবেন না। এতে হুলের ভেতরের বিষের থলি ফেটে শরীরে আরো বেশি বিষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সাবান-পানি দিয়ে ধোয়া : হুল বের করার পর স্থানটি দ্রুত অ্যান্টিসেপটিক সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ইনফেকশনের ঝুঁকি কমে যায়।
ঠান্ডা সেঁক বা বরফ : আক্রান্ত স্থানে যদি রক্ত বের হয় বা তীব্র জ্বালা করে, তবে একটি সুতি কাপড়ে বরফের টুকরো বা ফ্রিজের ঠান্ডা পানি জড়িয়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট চেপে ধরুন। বরফ রক্তনালীকে সংকুচিত করে ব্যথা ও ফোলা দ্রুত কমিয়ে আনে।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাতের কাছে থাকা এই প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপাদানগুলো ব্যবহার করতে পারেন :
টুথপেস্ট : আক্রান্ত স্থানে সাধারণ সাদা টুথপেস্ট লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। টুথপেস্টের ক্ষারীয় উপাদান মৌমাছির অম্লীয় বিষকে নিষ্ক্রিয় করে এবং মুহূর্তেই ঠান্ডা ও আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।
বেকিং সোডা ও ভিনেগার : এক চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে সামান্য পানি বা ভিনেগার মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন।
এটি ক্ষতস্থানে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে বিষাক্ত উপাদান নিষ্ক্রিয় হয় এবং চুলকানি কমে।
মধু : তুলার বল খাঁটি মধুতে ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে চেপে ধরুন। মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ক্ষত দ্রুত শুকাতে এবং জ্বালাপোড়া কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
অ্যালোভেরা জেল : ঘরে অ্যালোভেরা গাছ থাকলে তার তাজা জেল আক্রান্ত স্থানে লাগান। এটি ত্বকের ভেতরের প্রদাহ ও লালচে ভাব দ্রুত দূর করে।
রসুন : কয়েকটি রসুন ছেঁচে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে উপরে একটি টাওয়েল বা কাপড় পেঁচিয়ে রাখুন। আধঘণ্টার মধ্যে ভেতরের তীব্র জ্বালা কমে যাবে।
ল্যাভেন্ডার অয়েল : যাদের অ্যাসেনশিয়াল অয়েলে ত্বকে কোনো অ্যালার্জি বা ফুসকুড়ি হয় না, তারা নিশ্চিন্তে আক্রান্ত স্থানে ল্যাভেন্ডার অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।
খাঁটি চুন : গ্রামীণ চিকিৎসায় পানের চুন ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকরী। চুন তীব্র ক্ষারধর্মী হওয়ায় এটি বিষের অম্লকে প্রশমিত করে ব্যথা এক নিমেষেই কমিয়ে দেয়।
ভিজা মাটি : বাগানে কাজ করা অবস্থায় আক্রান্ত হলে এবং হাতের কাছে কিছু না থাকলে, তাৎক্ষণিক খানিকটা পরিষ্কার মাটি পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে :
ক্যামালাইন লোশন : তীব্র চুলকানি এবং লালচে ভাব কমাতে আক্রান্ত স্থানে ক্যালামাইন লোশন অথবা ০.৫% হাইড্রোকার্টিসোন ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
ব্যথানাশক ও অ্যান্টিহিস্টামিন : তীব্র ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত চুলকানি ও অ্যালার্জি এড়াতে সেটিরিজিন বা ফেক্সোফেনাডিন জাতীয় অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ দারুণ কাজ করে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায়েই মৌমাছির কামড় ভালো হয়ে যায়। তবে হুল অত্যন্ত বিষাক্ত হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে শরীরে তীব্র অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন (অ্যানাফিল্যাক্সিস) দেখা দিতে পারে। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে কোনো রকম দেরি না করে রোগীকে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে:
১. যদি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় কিংবা গলা, ও ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যায়।
২. মাথা ঘোরানো, বুক ধড়ফড় করা, বমি বমি ভাব বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে।
৩. শরীরের একাধিক জায়গায় একসাথে অনেকগুলো মৌমাছি কামড়ালে।
মৌমাছির কামড়ে সাময়িক উপশম পাওয়ার পরও বিষের তীব্রতা ও দীর্ঘমেয়াদী ইনফেকশন এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভোরের নরম আলো, পাখির ডাক আর নির্মল বাতাসে দিনের শুরুটাকে করে তোলে অন্যরকম প্রাণবন্ত। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় অনেকেই দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসে অভ্যস্ত হলেও, ভোরে জেগে ওঠার রয়েছে নানা শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা। যারা নিয়মিত সকালে ওঠেন তারা সাধারণত বেশি কর্মক্ষম, মনোযোগী এবং স্বাস্থ্যসচেতন হন। সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য তাই ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস হতে পারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা। মানসিক সতেজতা বাড়ে ভোরে ঘুম থেকে উঠলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পায়। সকালে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে দিনের কাজ আরও গুছিয়ে করা সহজ হয়। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় অনেক সফল ব্যক্তি দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সকালেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন। কারণ এই সময় মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ভোরে ওঠার ফলে অতিরিক্ত কিছু সময় পাওয়া যায়, যা পড়াশোনা, পরিকল্পনা বা ব্যক্তিগত উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা যায়। শরীরচর্চার জন্য সময় পাওয়া যায় নিয়মিত ব্যায়াম সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোরে ঘুম থেকে উঠলে হাঁটা, দৌড়ানো, যোগব্যায়াম বা হালকা শরীরচর্চার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। এতে শরীর সক্রিয় থাকে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও কমে। ঘুমের মান উন্নত হয় যারা নিয়মিত ভোরে ওঠেন, তাদের বেশিরভাগই রাতেও তুলনামূলক দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। এতে শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা বডি ক্লক সঠিকভাবে কাজ করে এবং ঘুমের মান ভালো হয়। সূর্যের আলো থেকে উপকার পাওয়া যায় সকালের সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা ঘুম, হরমোন নিঃসরণ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে ভোরবেলার শান্ত পরিবেশ ধ্যান, প্রার্থনা বা নিজের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ দেয়। এতে মানসিক চাপ কমে এবং মন ভালো থাকে। দিন শুরু হয় ইতিবাচক অনুভূতি নিয়ে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে দেরিতে ঘুম থেকে উঠলে অনেকেই সকালের নাশতা এড়িয়ে যান। কিন্তু ভোরে ওঠার ফলে সময়মতো পুষ্টিকর নাশতা খাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায় এবং বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সহায়তা করে। সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয় সকালে কিছু অতিরিক্ত সময় হাতে থাকলে দিনের কাজের তালিকা তৈরি করা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা সহজ হয়। এতে তাড়াহুড়া কমে এবং দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা আসে। ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান। রাতে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমান। ঘুমানোর আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। ধীরে ধীরে অ্যালার্মের সময় ১৫–২০ মিনিট করে এগিয়ে আনুন। সকালে উঠে পর্দা খুলে সূর্যের আলো গ্রহণ করুন। ভোরে ঘুম থেকে ওঠা শুধু একটি অভ্যাস নয়, এটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের একটি কার্যকর উপায়। নিয়মিত ভোরে ওঠার মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং কর্মক্ষমতা সবকিছুতেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য ধীরে ধীরে ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা যেতে পারে।
ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক হৃদ্রোগ সম্মেলন ‘ইউরো পিসিআর’-এ বাংলাদেশের প্রখ্যাত হৃদ্রোগবিশেষজ্ঞ ও গবেষক অধ্যাপক ডা. মো. আফজালুর রহমান তাঁর নতুন গবেষণা উপস্থাপন করেছেন। তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক। ১৯ থেকে ২২ মে আন্তর্জাতিক এই হৃদ্রোগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আফজালুর রহমানের গবেষণার বিষয় ছিল কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনাল টিম ট্রান্সফার পদ্ধতিতে হৃদ্রোগের ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা। তিনি নতুন ধারণার এই চিকিৎসা পদ্ধতির নাম দিয়েছেন, ‘রিভার্স পিসিআই’ পদ্ধতি। এই গবেষণা হৃদ্রোগের ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা দেশব্যাপী সম্প্রসারণে একটি নতুন ধারণা হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে ব্লক হলে অনেক ক্ষেত্রে করোনারি স্টেন্ট (হার্টের রিং) প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের চিকিৎসার জন্য দক্ষ ইন্টারভেনশনাল হৃদ্রোগবিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত ক্যাথ ল্যাব টেকনিশিয়ান ও নার্সের সমন্বয়ে বিশেষ টিম প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের দক্ষ জনবল সীমিত। আফজালুর রহমান তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, যেসব হাসপাতালে ক্যাথ ল্যাব রয়েছে কিন্তু দক্ষ টিম নেই, সেখানে বিশেষজ্ঞ টিমকে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানান্তরের মাধ্যমে সফলভাবে পিসিআই বা স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে ৫৫৯ জন রোগীর ওপর পরিচালিত গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন। গবেষণায় দেখা যায়, স্থানীয় চিকিৎসকদের সহযোগিতায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষজ্ঞ টিম বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে সফলভাবে চিকিৎসা দিতে পারে। এর মাধ্যমে সীমিত জনবল ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক হৃদ্রোগ চিকিৎসা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। পিসিআর অনলাইন জার্নাল ইতিমধ্যে গবেষণাপত্রটির সারমর্ম প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবলসংকটে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ‘রিভার্স পিসিআই’ মডেল একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।
আজকাল কবজিতে ফিটনেস ট্র্যাকার বা স্মার্টওয়াচ পরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সুস্থ থাকার তাগিদে অনেকেই এখন প্রতিদিনের হাঁটার হিসাব রাখেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে আসলে কত কদম হাঁটেন? গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পদক্ষেপ গণনা করেন, তারা অন্যদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২,৫০০ কদম বেশি হাঁটেন। বয়স ও লিঙ্গভেদে হাঁটার তারতম্য মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটার পরিমাণ কমতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে— ১৮ বছরের নিচে: শিশুরা সাধারণত প্রতিদিন ১০,০০০ থেকে ১৬,০০০ কদম হাঁটে। প্রাপ্তবয়স্ক (১৮+): একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ গড়ে ৪,০০০ থেকে ১৮,০০০ কদম পর্যন্ত হাঁটতে পারেন। লিঙ্গভেদ: শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত পুরুষরা সাধারণত নারীদের তুলনায় বেশি হাঁটেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা প্রতিদিন গড়ে ৫,৩৪০ কদম এবং নারীরা ৪,৯১২ কদম হাঁটেন। পেশা যখন হাঁটার নিয়ন্ত্রক আপনার প্রতিদিনের হাঁটার পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কী কাজ করেন তার ওপর। একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণায় ১০টি ভিন্ন পেশার মানুষের হাঁটার গড় হিসাব পাওয়া গেছে— ওয়েটার: প্রতিদিন গড়ে ২২,৭৭৮ কদম নার্স: ১৬,৩৯০ কদম খুচরা বিক্রেতা: ১৪,৬৬০ কদম শিক্ষক: ১২,৫৬৪ কদম অফিস কর্মী: ৭,৫৭০ কদম কল সেন্টার কর্মী: ৬,৬১৮ কদম বিশ্বজুড়ে হাঁটার চিত্র বিভিন্ন দেশের মানুষের হাঁটার গড়েও রয়েছে বড় পার্থক্য। ২০১৭ সালের একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে— হংকং: তালিকায় শীর্ষে, এখানকার মানুষ গড়ে ৬,৮৮০ কদম হাঁটেন। চীন: ৬,১৮৯ কদম যুক্তরাজ্য: ৫,৪৪৪ কদম ভারত: ৪,২৯৭ কদম ইন্দোনেশিয়া: তালিকার নিচের দিকে, মাত্র ৩,৫১৩ কদম। জলবায়ু, রাস্তার হাঁটার উপযোগিতা এবং আয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যার পরিবর্তন হতে পারে। সুস্থ থাকতে লক্ষ্য কত হওয়া উচিত? সাধারণত প্রতিদিন ১০,০০০ কদম হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করাকে আদর্শ মানা হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি (CDC)-র মতে, সুস্থ থাকতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা প্রয়োজন, যা দিনে গড়ে ২,০০০ কদমের মতো দ্রুত হাঁটার সমান। তবে সারাদিনের অন্যান্য কাজ মিলিয়ে ১০,০০০ কদমের লক্ষ্য পূরণ করা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। প্রতিদিন হাঁটার পরিমাণ বাড়ানোর কিছু সহজ উপায় ১. লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। ২. কেনাকাটা বা কাজের প্রয়োজনে গাড়ি একটু দূরে পার্ক করে বাকি পথ হাঁটুন। ৩. বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে হাঁটুন। ৪. ঘরের কাজ নিজে করার চেষ্টা করুন। ৫. কাজের বিরতিতে ছোট ছোট হাঁটাহাঁটি করুন। প্রতিদিনের এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারে। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন