সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৮ জন শিশু।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৬৪ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে আরও ৭৩৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে ২০২৬ সালে হামের সংক্রমণে চতুর্থ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ মারা গেছে মিফলিন কাউন্টির ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর। দেশটিতে এক বছরে হামে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৯২ সালে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পেনসিলভানিয়ার মিফলিন কাউন্টির করোনার আন্দ্রেয়া আলকালদে জানিয়েছেন, ওই কিশোর হামের টিকা নেননি। সংক্রমণের পর তার অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস নামে বিরল একটি স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এর আগে পেনসিলভানিয়ায় হামে আক্রান্ত দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। গত সপ্তাহান্তে জেফারসন কাউন্টিতে ৪০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর কথাও জানানো হয়। পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্যসচিব ডেবরা বোগেন বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটি সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং আরো মৃত্যু ঠেকাতে হামের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানানো ও এমএমআর টিকার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, চলতি বছর দেশটিতে ৩ হাজার ২০০-এর বেশি হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার ৩৮টি কাউন্টিতে ৬৯৩টি সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, হামের বিরুদ্ধে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমএমআর টিকা। টিকার দুই ডোজ হামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে। হামের সংক্রমণে সাধারণত জ্বর, কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে পেনসিলভানিয়ায় হামে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত হামের সঙ্গে সম্পর্কিত ৪টি মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, সিডিসির সাপ্তাহিক হিসাবের মধ্যে এখনো কোনো মৃত্যুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সিডিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম সরাসরি কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে আরো তথ্য প্রয়োজন। এ কারণে অঙ্গরাজ্যের ঘোষিত মৃত্যুর সংখ্যা এবং সিডিসির সরকারি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো এবং মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবাবিষয়কমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধও দেখা দিয়েছে। শাপিরো অভিযোগ করেছেন, হামে মৃত্যুর তথ্য প্রকাশে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তবে কেনেডি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, সিডিসিকে মৃত্যুর তথ্য ‘গোপন’ রাখতে তিনি কোনো নির্দেশ দেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানকেন্দ্র রাজ্যগুলোর দেওয়া মৃত্যুসনদে হামকে মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করলে সিডিসি সেই মৃত্যু রিপোর্ট করবে। পেনসিলভানিয়ায় হামের এই প্রাদুর্ভাব যুক্তরাষ্ট্রে টিকাদানের হার কমে যাওয়ার বিষয়টিকেও নতুন করে আলোচনায় এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালে হাম নির্মূল ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আবারও সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।
শসা, লেবু, আদা কিংবা পুদিনা পানিতে ভিজিয়ে তৈরি করা পানীয় এখন বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই মনে করেন, এ ধরনের পানি শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, ওজন কমায়, ত্বক ভালো রাখে এবং শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। কিন্তু এসব দাবির কতটা সত্যি? বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান মিশিয়ে পানি পান করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে। তবে শুধু এ ধরনের পানি পান করলেই শরীরের স্বাভাবিক বিষমুক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত বা আরও কার্যকর হয়ে যায়—এমন প্রমাণ নেই। ডিটক্স পানি আসলে কী? ডিটক্স পানি হলো পানিতে বিভিন্ন ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান ভিজিয়ে তৈরি পানীয়। যেমন—লেবু ও আদা, শসা ও পুদিনা, তরমুজ ও পুদিনা, কমলা ও লেবু, স্ট্রবেরি ও তুলসী, আপেল ও দারুচিনি ইত্যাদি। এতে ফলের রস বা পুরো ফল মিশিয়ে দেওয়া হয় না। ফলে সাধারণত এতে ক্যালরির পরিমাণও খুব কম থাকে। এ কারণে বেশি চিনি থাকা কোমল পানীয় বা ফলের রসের পরিবর্তে অনেকে ডিটক্স পানি পান করেন। কীভাবে তৈরি করবেন? ডিটক্স পানি তৈরি করা খুব সহজ। পছন্দের ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান ছোট করে কেটে ঠান্ডা বা গরম পানিতে দিতে হবে। উপাদানগুলো একটু চটকে দিলে পানিতে স্বাদ ও গন্ধ আরও ভালোভাবে মিশতে পারে। ঠান্ডা পানীয় তৈরি করলে এক থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে দেওয়া যায়। তবে এর বেশি সময় রেখে দেওয়া ঠিক নয়। নির্দিষ্ট সময় পর পানিতে থাকা উপাদানগুলো তুলে ফেলতে হবে। ওজন কমাতে কি সাহায্য করে? পানি পান করা ওজন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। ডিটক্স পানির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিছু সময়ের জন্য শরীরের বিপাকক্রিয়ার গতি বাড়তে পারে এবং ক্ষুধাও কিছুটা কমতে পারে। খাওয়ার আগে পানি পান করলে কেউ কেউ তুলনামূলক কম খাবার খান। আবার বেশি ক্যালরিযুক্ত বা চিনি দেওয়া পানীয়ের বদলে ডিটক্স পানি পান করলে মোট ক্যালরি গ্রহণও কমতে পারে। শরীরে পানি পর্যাপ্ত থাকলে শরীরের বর্জ্য বের হতে এবং মল নরম রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সময়ও পর্যাপ্ত পানি শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সহায়তা করে। তবে এসব উপকার শুধু ডিটক্স পানির জন্য নয়—সাধারণ পানিও একই ধরনের উপকার দিতে পারে। হজমের জন্য কেমন? শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এর ফলে পেট ফাঁপা ও অলস লাগার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে খাবার অন্ত্রের ভেতর দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। মন-মেজাজ ও শক্তিতেও প্রভাব আছে শরীরে সামান্য পানির ঘাটতিও মন-মেজাজ, মনোযোগ ও কর্মশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। যারা প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন, তারা পানির পরিমাণ বাড়ালে শরীর তুলনামূলক সতেজ অনুভব করতে পারেন। মনও ভালো থাকতে পারে এবং কর্মশক্তি বাড়তে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়? ফল ও সবজিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী। বিশেষ করে ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে। তবে ডিটক্স পানিতে ফল বা সবজি ভিজিয়ে রাখার ফলে যে পরিমাণ পুষ্টি পানিতে আসে, তা খুবই কম এবং উপাদানভেদে এর পরিমাণও আলাদা হতে পারে। তাই ডিটক্স পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে—এমন দাবি করার যথেষ্ট প্রমাণ নেই। শরীরের বিষ দূর করে—এ ধারণা কতটা সত্য? ডিটক্স পানিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত দাবি হলো, এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। কিন্তু ‘বিষ’ বলতে ঠিক কোন পদার্থকে বোঝানো হচ্ছে বা কীভাবে তা শরীর থেকে বের হয়—এ বিষয়ে এসব দাবিতে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকে না। আসলে মানুষের শরীরের নিজস্ব বিষমুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে, যা শরীর থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে কাজ করে। ডিটক্স পানি পান করে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে দ্রুত বা আরও কার্যকর করা যায়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। শরীরের অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য বদলায়? আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, ডিটক্স পানি শরীরকে বেশি ক্ষারীয় করে। কিন্তু খাবার বা পানীয় গ্রহণ করে রক্ত কিংবা শরীরের কোষের অম্ল-ক্ষার মাত্রা ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যায়—এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ত্বক কি আরও সুন্দর হবে? অনেকে মনে করেন, ডিটক্স পানি শরীরের বিষ দূর করে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে। কিন্তু এ দাবির পক্ষেও যথেষ্ট প্রমাণ নেই। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের পানিশূন্যতা কমতে পারে। তবে সাধারণ পানির তুলনায় ডিটক্স পানি ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি কার্যকর—এমন প্রমাণ নেই। তাহলে ডিটক্স পানি কি খাবেন? ডিটক্স পানি শরীরের বিষ দূর করার কোনো জাদুকরি পানীয় নয়। তবে এটি সতেজ ও কম ক্যালরিযুক্ত পানীয় হিসেবে ভালো বিকল্প হতে পারে। অনেকের কাছে সাধারণ পানি একঘেয়ে মনে হয়। পানিতে লেবু, শসা, পুদিনা, আদা বা অন্য উপাদান মেশালে স্বাদ বাড়ে। এর ফলে কেউ যদি প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান করতে পারেন এবং চিনি দেওয়া পানীয় কমিয়ে দেন, তাহলে সেটি অবশ্যই ভালো অভ্যাস। অর্থাৎ, ডিটক্স পানির আসল উপকার শরীর পরিষ্কার করার অলৌকিক ক্ষমতায় নয়; বরং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস তৈরি করাতেই এর বড় সুবিধা।
জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে বিশেষ অভিযান শুরু করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে ২৪টি দলে ভাগ হয়ে ডিএনসিসির ১ হাজার ৫০০ কর্মী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, উৎসস্থল নির্মূল এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসি জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান শুরু হবে। ডিএনসিসি জানায়, দিবসটি উপলক্ষে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশেষ স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নগরবাসীর জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও করণীয় সম্পর্কিত নানা উপকরণ প্রদর্শন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫, বিশেষ করে সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহে বিশেষ সোর্স রিডাকশন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভা নিধন কার্যক্রম চালানো হবে। কার্যক্রম সফল করতে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ নির্দেশনায় জানানো হয়, অঞ্চল-২, ৩ ও ৪ থেকে নির্ধারিত সংখ্যক সুপারভাইজার ও মশক কর্মী সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও অঞ্চল-৫-এর আশপাশের কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তিন অঞ্চলের অবশিষ্ট কর্মী এবং অঞ্চল-১, ৬, ৭, ৮ ও ৯-সহ অন্যান্য সব অঞ্চলের কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাবেন। এতে চিহ্নিত হটস্পট ও এডিসের প্রজননস্থলগুলোকে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে জনবল মোতায়েন ও অগ্রগতি সরাসরি তদারকি (মনিটর) করবেন। ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামীকাল শুধু মশক নিধনই নয়-উৎস ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ ও যথাযথ লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে ‘সোর্স রিডাকশন’ কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।