সারাদেশ

মেহেরপুর সীমান্তে বিএসএফের টানা দ্বিতীয় দিনের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুর সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গাংনী উপজেলার দুটি সীমান্ত এলাকায় আরও পাঁচজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালালেও বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সীমান্তবাসীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

 

শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধলা ও সহড়াতলা সীমান্তে পৃথক দুটি ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ।

 

বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদ জানায়। পরে সকাল ৭টার দিকে বিএসএফ ওই পাঁচজনকেই ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার রংপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৩৫ নম্বর মেইন পিলারের ৭এস সাব-পিলার ধলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে এক নারীসহ তিনজনকে শূন্যরেখায় এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় রাখার পর বিএসএফ তাদের আবার ভারতীয় অংশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

 

একই সময় মুরটিয়া থানার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় আরও দুইজনকে জড়ো করে সহড়াতলা সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১৪৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

 

এদিন পুশইনের চেষ্টা করা পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।

 

৪৭ বিজিবির কাথুলী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার ওছিকুর রহমান বলেন, বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

 

এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোরে একই উপজেলার সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে এক নারীসহ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সেদিনও বিজিবির বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই সীমান্ত এলাকায় দুই দফায় মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ।

 

এ নিয়ে চলতি জুন মাসে মেহেরপুর সীমান্তে অন্তত চার দফা পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। এর মধ্যে গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন, ১৯ জুন বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৪ জন, ২৫ জুন সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জন এবং সর্বশেষ ২৬ জুন ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে আরও ৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি ঘটনায় বিজিবির তৎপরতায় পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজার সৈকতে আচমকা মিনি টর্নেডো

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে আচমকা আঘাত হেনেছে একটি মিনি টর্নেডো। এতে সৈকতে পর্যটকদের বসার জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টর্নেডোটি ৩ থেকে ৫ মিনিট স্থায়ী ছিল। সাগরের মাঝখান থেকে কালো মেঘের মতো একটি ঘূর্ণি দ্রুত সুগন্ধা পয়েন্টের বালুচরের দিকে ধেয়ে আসে। মুহূর্তেই সৈকতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।   কক্সবাজার কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সাগর থেকে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিটি ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে এসে সুগন্ধা পয়েন্টে আঘাত হানে। এতে ব্যবসায়ীদের ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ভেঙে যায়।   ঘটনার সময় সৈকতে থাকা পর্যটক মেহেদী হাসান বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যে সাগরের মাঝ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে বাতাসটি বিচের দিকে ধেয়ে আসে। চোখের সামনে চেয়ার-ছাতাগুলো বাতাসে উড়তে দেখে সবাই দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে।’   এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এটি সাগর থেকে পানি টেনে আনা একটি ঘূর্ণি, যা তীরে এসে বালির ঘূর্ণিবাত বা ছোট টর্নেডোর রূপ নেয়। তার ভাষ্য, এটি কোনো বড় সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় নয়; বরং তীরবর্তী এলাকায় মেঘ ও বাতাসের তারতম্যের কারণে এমন স্বল্পস্থায়ী ঘূর্ণির সৃষ্টি হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতন, অভিযুক্ত চাচি গ্রেপ্তার

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের মামলায় ঘটনাস্থল ভুল, তদন্তে বিভ্রান্তি

ছবি : সংগৃহীত

চুরির অভিযোগ, বিচিত্র শাস্তি হিসেবে যুবককে আদায় করতে হলো ১০০ রাকাত নামাজ

ছবি : সংগৃহীত
তাবিজ দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীতে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং পেশায় তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক। বাড়ির পাশে তার একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে।   ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (১৬ জুলাই) বৃহস্পতিবার জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ওই নারীর ভাইয়ের ছেলের পড়াশোনার উন্নতির জন্য তাবিজ দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডাকেন। এসময় ওই নারীকে ঘরের মধ্যে জোরপূর্বক আটকে রেখে টানাহেঁচড়া করে তার পরিহিত বোরখা ও হিজাব খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মোস্তাফিজুর রহমান।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এক বছর আগে তার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। সে প্রায়ই পল্লী চিকিৎসক জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাবিজের জন্য যেতেন। এই সুবাদে বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ হত। বৃহস্পতিবার সকালে জামায়াত নেতা তার স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে পাঠিয়ে দেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে ওই নারীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন। প্রায় দু-ঘণ্টা তারা ঘরের ভেতরে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে ওই ঘর থেকে নারীর চিৎকার শুনতে পেয়ে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন। পরে এই ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ বলেন, সন্ধ্যার দিকে ওই নারীর উপস্থিতি দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন গিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে ওই নারী অভিযোগ করেন, তাবিজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে এনে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে।   উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনও আমি জানি না। অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে ওই নারী বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামি  মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ, মিলল যুবকের মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় ব্যবস্থা নেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হবে ৯ হাজার কিউসেক পানি

ছবি : সংগৃহীত
কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি, খোলা হচ্ছে ১৬টি গেট

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট আংশিক খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নিয়েছে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। তবে লেকের পানির উচ্চতা, উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় গেট খোলার সময় ও পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে। ‎বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। ক্যাচমেন্ট এলাকায় সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‎এ পরিস্থিতিতে আগামী শনিবার সকাল ১১টার পর যেকোনো সময় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হতে পারে। ‎কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পানির প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেট আরও বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণও বাড়ানো হবে। ‎ ‎তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। ‎কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত, হ্রদের পানির উচ্চতা ও পানির প্রবাহ পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে পরিচালনার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৭, ২০২৬
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কঙ্কাল চুরির ঘটনার পর কবরস্থানে মানুষের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে কবর খুঁড়ে ৯টি কঙ্কাল চুরি

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের পরদিন মসজিদে মিলল মুয়াজ্জিনের লাশ, শোকে মারা গেলেন মামা

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে বহুতল ভবনে আগুন, ৫ ইউনিটের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে

0 Comments