সারাদেশ

গাজীপুরে কবর খুঁড়ে ৯টি কঙ্কাল চুরি

মারিয়া রহমান জুলাই ১৭, ২০২৬
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কঙ্কাল চুরির ঘটনার পর কবরস্থানে মানুষের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কঙ্কাল চুরির ঘটনার পর কবরস্থানে মানুষের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি কবরস্থান থেকে ৯টি কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর টেকি বাড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে এ চুরির ঘটনা ঘটে। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।


এলাকাবাসী জানান, কবরস্থানটিতে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও আগাছা জমে ছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ওই আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে কয়েকটি কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে কবরের ওপরের মাটি সরিয়ে দেখা যায়, ভেতরে কোনো কঙ্কাল বা লাশ নেই।


বিষয়টি মুহূর্তে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মৃতদের স্বজনরা এসে ভিড় করতে থাকেন। এ সময় এলাকাবাসী কবরস্থানে কিছু জামাকাপড় ও কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেন। তারা জানান, ওই কবরস্থানের ৯টি কবরে কঙ্কাল নেই। তবে সকালেই খোঁড়া কবরগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেন কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।


কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কঙ্কাল চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি, খোলা হচ্ছে ১৬টি গেট

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট আংশিক খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নিয়েছে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। তবে লেকের পানির উচ্চতা, উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় গেট খোলার সময় ও পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে। ‎বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। ক্যাচমেন্ট এলাকায় সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‎এ পরিস্থিতিতে আগামী শনিবার সকাল ১১টার পর যেকোনো সময় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হতে পারে। ‎কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পানির প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেট আরও বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণও বাড়ানো হবে। ‎ ‎তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। ‎কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত, হ্রদের পানির উচ্চতা ও পানির প্রবাহ পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে পরিচালনার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৭, ২০২৬
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কঙ্কাল চুরির ঘটনার পর কবরস্থানে মানুষের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে কবর খুঁড়ে ৯টি কঙ্কাল চুরি

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের পরদিন মসজিদে মিলল মুয়াজ্জিনের লাশ, শোকে মারা গেলেন মামা

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে বহুতল ভবনে আগুন, ৫ ইউনিটের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ‘ওয়াসিম আকরাম’। ছবি : সংগৃহীত
আজ জুলাইয়ের অন্যতম শহীদ ওয়াসিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

‘কোটা নয়, মেধা’ স্লোগানে ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ‘ওয়াসিম আকরাম’ এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। ওই ঘটনায় ওয়াসিমসহ আরও তিনজন নিহত হন।   ওয়াসিম আকরামের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘগুজারা বাজারপাড়া এলাকায়। প্রবাসী শফিউল আলম ও জোসনা আক্তার দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও স্বপ্নবাজ ছিলেন ওয়াসিম। স্বপ্নবাজ এই তরুণের জীবন সেদিন থেমে গেলেও তার আত্মত্যাগ আজও স্মরণ করেন অসংখ্য মানুষ।   দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি ওয়াসিমের মা জোসনা আক্তার। সন্তানের স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই কাটছে তার প্রতিটি দিন। ওয়াসিমের কিনে দেওয়া স্মার্টফোনটি এখনও বুকের কাছে আগলে রেখেছেন তিনি। কখনও ফোনটির দিকে তাকিয়ে অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, ‘এই ফোনে আর ছেলের কল আসে না।’ যে হেডফোনে ছেলের কণ্ঠ শুনতেন, সেটিও এখন শুধুই স্মৃতির সাক্ষী।   ছেলের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি স্মরণ করে জোসনা আক্তার জানান, ঘটনার আগের রাতেও ওয়াসিম ফোন করে বলেছিলেন, ‘মা, খুব শিগগিরই বাড়ি ফিরব।’ কথাটি সত্যি হয়েছিল। তবে জীবিত নয়, নিথর দেহ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। এমন ফিরে আসা কোনো মায়েরই কাম্য নয়। সেই শোকের ভার আজও নীরবে বহন করছে পুরো পরিবার।   ২০১৭ সালে মেহেরনামা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে বাকলিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। মৃত্যুর সময় তিনি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন ওয়াসিম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন।   ওয়াসিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, শোকসভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার, সহপাঠী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও স্থানীয় মানুষ নানা আয়োজনে তাকে স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের হত্যার বিচার এবং তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের দাবিও জানাচ্ছেন তারা।   দুই বছর পরও ওয়াসিমের রক্তের দাগ হয়তো রাজপথ থেকে মুছে গেছে, কিন্তু একজন মায়ের বুকের ক্ষত আজও শুকায়নি। সন্তানের শূন্যতা, অপূর্ণ স্বপ্ন আর ন্যায়বিচারের অপেক্ষা মিলেমিশে ওয়াসিম আকরামের নামকে পরিণত করেছে গভীর বেদনার প্রতীকে। তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়বিচারের আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক অতিরিক্ত এসপি তোহিদুল বরখাস্ত

রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে জি কে শামীমের একক নিয়ন্ত্রণের আবেদন, তোলপাড়

ছবি: সংগৃহীত

মহাখালীর অতিরিক্ত বাস পূর্বাচলে স্থানান্তর, কমবে ঢাকার যানজট

ছবি: সংগৃহীত
আন্দোলনে ছেলের অংশ নেওয়ার জেরে বগুড়ায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার

চলমান এইচএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছেলের অংশগ্রহণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় বিএনপির এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতা ফারুক হোসেন বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য এবং বগুড়া শহর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।    তবে তার দাবি, কোনো কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ ছাড়াই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও অভিযোগ করেছেন।   মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে বগুড়া মহানগর বিএনপির দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফারুক হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।   বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি।   দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফারুক হোসেনের ছেলে সিফাত হোসেন সরকারি শাহ সুলতান কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।   মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সেও অংশ নেয়।   এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাতমাথা এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সিফাত হোসেনের সঙ্গে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফারুক হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে।   বহিষ্কারের বিষয়ে ফারুক হোসেন বলেন, আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এর আগে আমাকে কোনো শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়নি। আমার ছেলের বয়স ১৮ বছর। সে ছাত্রশিবিরকে সমর্থন করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, জেলা বিএনপিতে এমন অনেক নেতা আছেন, যাদের পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ বা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমাকে যদি এ কারণে বহিষ্কার করা হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে মহানগর বিএনপি ও জেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   তবে বহিষ্কারের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সামান্য টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং

বাংলাদেশি ধাতব মুদ্রা। ছবি : সংগৃহীত

বাজারে অচল ১ টাকার কয়েন, ভিক্ষুকও নিতে নারাজ

ছবি : সংগৃহীত

রাস্তা নয়, যেন ধানের জমি! জলাবদ্ধ সড়কে চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

0 Comments