চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে তেল রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং নতুন বিনিয়োগের সুবাদে আগামী এক দশকের মধ্যেই ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।
২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের জন্য ইরানের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলো সরাসরি ইরানি তেল কিনতে পারবে, ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে পারবে এবং আগে কালো তালিকাভুক্ত ট্যাংকার থেকেও তেল সংগ্রহের সুযোগ পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ কার্যত শিথিল হলো।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ১৯৮০ সালে। পরে ২০১০-এর দশকে আরও কঠোর 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' আরোপ করা হয়, যাতে অন্য দেশগুলোকেও ইরানি তেল কেনা থেকে বিরত রাখা হয়। ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির পর কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হলেও ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর সেগুলো আবার কার্যকর হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সিদ্ধান্ত আগের সব ছাড়ের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত। এর মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানির বড় বাধাগুলো সাময়িকভাবে দূর হয়েছে এবং দেশটির জ্বালানি খাত নতুন করে গতি পেতে শুরু করেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় স্থবির অবস্থায় থাকা ইরানের তেল রপ্তানি বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে যুদ্ধের আগে যে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি হতো, সেই পর্যায়ে ফিরতে এখনও সময় লাগবে।
বিশ্ববাজারেও এই ঘোষণার বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজার আগেই ইরানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা ধরে নিয়েছিল।
তবে রপ্তানি আরও বাড়াতে হলে ইরানকে নতুন ক্রেতা খুঁজতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অধিকাংশ তেল কিনেছে চীনের ছোট স্বাধীন শোধনাগারগুলো। কিন্তু এখন ইরানি তেলের দাম ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলের কাছাকাছি চলে আসায় আগের মতো সস্তায় কেনার সুযোগ নেই।
এ ছাড়া সম্ভাব্য নতুন ক্রেতাদের মধ্যে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের এই ছাড় আপাতত ৬০ দিনের জন্য কার্যকর। পাশাপাশি ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় অনেক আন্তর্জাতিক ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী এখনও ইরানের সঙ্গে বড় আকারে বাণিজ্যে আগ্রহী নয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই লাইসেন্স যদি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকে, তাহলে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো পুরোনো ক্রেতারাও আবার ইরানি তেল আমদানি শুরু করতে পারে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত সুফল এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ প্রাথমিক সমঝোতার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেয়। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের চলাচল আরও সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সমন্বয়ের জন্য একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে শুধু তেল রপ্তানিই নয়, ইরানের তেল মজুত কমছে, উৎপাদন বাড়ছে এবং পরিবহন ও আর্থিক লেনদেনের ব্যয়ও কমে যাচ্ছে। ফলে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রিতে দেশটি আগের তুলনায় বেশি মুনাফা করছে।
তাদের মতে, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে, এর সঙ্গে অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত হওয়া, সম্ভাব্য ট্রানজিট ফি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তা যুক্ত হলে আগামী এক দশকে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এসব অভিযানে ৪৯ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে শুক্রবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক অভিযানে ১২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে চালানো অভিযানে আরো ৩৭ জন নিহত হয়েছে। সামরিক বাহিনী নিহতদের ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর জন্য যথাক্রমে এই নাম ব্যবহার করে। পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করে আসছে, টিটিপি ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আফগানিস্তানে থাকা নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে হামলা চালায় এবং বেলুচ গোষ্ঠীগুলো ভারত থেকেও সমর্থন পায়। তবে আফগানিস্তান ও ভারত উভয়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি একটি আলাদা সংগঠন হলেও আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা বেড়েছে। এসব হামলার বেশিরভাগের জন্য টিটিপি ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু সবচেয়ে কম জনবহুল প্রদেশ বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বেলুচ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিদ্রোহের কেন্দ্র। এসব গোষ্ঠী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আরো বেশি স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা দাবি করে আসছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকা বেলুচিস্তানে টিটিপি ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীও বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য কমাতে ইরাকের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর ইরাকের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমানো এবং দেশটির জ্বালানি বাণিজ্য সীমিত করাই এই চাপের মূল লক্ষ্য। ইরাকের জন্য এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে বিদ্যুৎ খাতে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে ইরান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে আসছে। আগেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে পাওয়া ছাড়ের আওতায় ইরান থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস কেনার সুযোগ পেয়েছে ইরাক। ইরানি গ্যাসের ওপর ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ নির্ভরশীল। কোনো কোনো সময়ে ইরান থেকে আমদানি করা গ্যাস দিয়ে ইরাকের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত চাহিদা মেটানো হয়েছে। তবে ইরান থেকে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলেই ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন কয়েক হাজার মেগাওয়াট কমে যায়। ফলে ইরানের ওপর নির্ভরতা কমানো এখন ইরাকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্ভরতা কমাতে ইরাক নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস তৈরির চেষ্টা করছে। তবে কাজটি সহজ নয়। কারণ, ইরান থেকে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের গ্যাস কেনে ইরাক। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা অন্য দেশগুলোর ওপরও চাপ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে রয়েছে। ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল ক্রেতা চীন। ২০২৫ সালে চীন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। তুরস্কের সঙ্গেও ইরানের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার, যার বড় অংশই জ্বালানি খাতের সঙ্গে যুক্ত। সংযুক্ত আরব আমিরাতও দীর্ঘদিন ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সময় ভারতীয় শোধনাগারগুলো আবার ইরানি অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করেছিল। অন্যদিকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইরান ও রাশিয়া নিজেদের মধ্যে বিকল্প বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। ফলে ইরানের ওপর মার্কিন চাপ বাড়লেও দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপরও নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে। সূত্র: শাফাক নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব আলাস্কায় একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে পাইলটসহ মোট আটজন আরোহী ছিলেন। বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার ও স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল সংস্থার কর্মকর্তারা। সেসনা ৪৪১ ফ্লাইটটি আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহর থেকে ৪৫০ মাইল দক্ষিণপূর্বের ক্যাপ নিউনহামের দিকে যাচ্ছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বিমানটি তার গন্তব্যের কাছাকাছি ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের আলাস্কা অঞ্চলের প্রধান ক্লিন্ট জনসন বলেছেন, সিকিউরিটি অ্যাভিয়েশনের পরিচালিত বিমানটিতে দুজন পাইলট এবং ছয়জন যাত্রী ছিলেন। তবে তারা জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন সেটি এখনো জানা যায়নি। ক্লিন্ট জনসন আরও বলেছেন, ক্যাপ নিউনহামের বিমানবন্দরের কাছে স্থলে বিধ্বস্ত হয়েছে। এটি দেশটির বিমানবাহিনীর একটি এয়ারস্ট্রিপ। এখান থেকে দূরপাল্লার রাডার সাইটের অ্যাক্সেস দেওয়া হয়। বিমান বিধ্বস্তের কারণ এখনো জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, শুধুমাত্র সামরিক ও বিশেস চার্টার্ড বিমানকে কেপ নিউনহামে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। সূত্র: সিএনএন