সারাদেশ

জুলাই আন্দোলনের মামলায় ঘটনাস্থল ভুল, তদন্তে বিভ্রান্তি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগের দিন রাজধানীর পল্টন এলাকার ‘আজাদ প্রোডাক্টসের’ গলিতে গুলিবিদ্ধ হন শাকিল মোল্লা ওরফে বাপ্পি। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। জুলাই যোদ্ধাদের যে সরকারি গেজেট করা হয়েছে, সেখানেও আছে তার নাম।

 

গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করে ২০২৫ সালের ৬ মে নিজে বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন এই জুলাই যোদ্ধা। মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ও স্থানীয় নেতা, পুলিশের শীর্ষ কর্তাসহ ৩৪৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার তদন্ত ভার পড়ে পল্টন থানা পুলিশের ওপর। তদন্তে নেমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে বেগ পেতে হয় তদন্ত কর্মকর্তার। পর পর দুইজন কর্মকর্তা তদন্ত করেও ঘটনাটি সত্য কিনা, তা জানতে পারেননি। তৃতীয় কর্মকর্তা এসে সত্যতা যাচাই না করতে পারার রহস্য উন্মোচন করেন।

 

এই তদন্ত কর্মকর্তা খুঁজে পান, মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। তাই আগের কর্মকর্তারা তদন্ত শেষ করতে পারেননি।

 

প্রায় এক বছরের বেশি সময় দুই কর্মকর্তা তদন্ত করেন, তৃতীয় তদন্ত কর্মকর্তার এসে প্রকৃত ঘটনাস্থলের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন। ঘটনাস্থল নিয়ে এই রহস্য কেন, তা জানার চেষ্টা করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

 

গেল ৩০ জুন মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান।

 

সেই তদন্ত প্রতিবেদনে মামলার বাদী শাকিল মোল্লার জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই মামলার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। মামলা যেদিন দায়ের করা হয়েছে, সেদিন তার এক নিকট আত্মীয় তাকে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে, এমন আশ্বাসে একজন আইনজীবীর কাছে পাঠান।

 

শাকিল যখন সেই আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন তিনি কিছু কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর নেন এবং চলে যেতে বলেন।

 

এক পর্যায়ে মামলার তদন্ত শুরু হলে তিনি মামলার বিষয়ে জানতে পারেন এবং অবাক হন।

 

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন এক পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, ৫ অগাস্ট ভারতে চলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে।

 

শাকিলের মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আল্লাহ করিম মসজিদ এলাকায় নতুন ফুটব্রিজের নিচে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। একটি বুলেট এসে তার বুকে লাগে। এরপর সেখান থেকে তাকে আন্দোলনকারীরা প্রথমে সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্রও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম মামলার বাদী শাকিল মোল্লার সঙ্গে কথা বলেছে।

 

তিনি বলেন, “আমি এই মামলার বিষয়ে জানতামই না। আমাকে সহায়তার কথা বলে ডেকে নিয়ে আইনজীবী রুবেল ভূঁইয়া কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে এই মামলা করিয়েছে। আমার বাড়ি বরিশালে হলেও কাজের সুবাদে আমি মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকি। আমি আল্লাহ করিম মসজিদের সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম।

 

“তারা (নিকট আত্মীয় ও আইনজীবী) যখন আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিল তখন আমার শরীরের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। গুলিবিদ্ধ শরীর নিয়ে এত আগপিছ ভাবি নাই আমি।”

 

ঘটনাস্থল সঠিক না হওয়ায় মামলার তদন্ত করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল পল্টন থানার এসআই আতিকুজ্জামানের।

 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনাস্থল সঠিক থাকলে আমরা অনায়াসেই মামলাটি শেষ করতে পারতাম। ঘটনা মোহাম্মদপুরে আর তদন্তের সময় আমরা সত্যতা যাচাই করেছি পল্টনের আজাদ প্রোডাক্টসের গলিতে।

 

“সেখানে ফল বিক্রেতা থেকে শুরু করে ভবঘুরে সবার কাছেই দিন, তারিখ ও সময় উল্লেখ করে জানতে চেয়েছি। কেউ কিছু বলতে পারে নাই। ফলে আমার আগে দুইজন কর্মকর্তা এটার রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি।”

 

একটি সত্য ঘটনার ঘটনাস্থল কেন ভুল দেওয়া হল? জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “জবানবন্দি অনুযায়ী উনি (বাদী) তো জানতেনই না মামলা হচ্ছে। তাকে যারা ডেকে এনেছিল, তারাই এই কাজটি করেছে।”

 

যারা শাকিল মোল্লাকে ডেকে নিয়ে সহায়তার কথা বলে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে মামলা করেছেন বলে তার অভিযোগ, তাদের একজন আইনজীবী রুবেল ভূঁইয়া।

 

বৃহস্পতিবার রাতে এই আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। তিনি শাকিল মোল্লার মামলা সম্পর্কে জানেন কিনা, এ প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন এই আইনজীবী।

 

না জানিয়ে মামলার করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবেল ভূঁইয়া বলেন, “এই বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। তাই এই মুহূর্তে আপনার সঙ্গে এটি নিয়ে কথা বলতে চাইছি না।”

 

ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের গত বছরের অগাস্টের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ দমন-পীড়নের বিভিন্ন ঘটনায় রাজধানীর ৫০টি থানায় ৭০৭টি মামলা হয়েছে।

 

ডিএমপি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এসব মামলার মধ্যে ১২৬টির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। গেল ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তত ২১ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

 

এই ১২৬টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এজাহারে দেওয়া ঘটনাস্থল সঠিক নয়, এমন মামলার সংখ্যা ১৪। এর মধ্যে পল্টন থানাতেই রয়েছে এমন ১২টি। এছাড়া এজাহারে প্রকৃত ঘটনাস্থল নেই, এমন মামলার সংখ্যা ৩৭।

 

জুলাই আন্দোলনের দুই বছরেও সারাদেশে দায়ের করা মামলার বেশির ভাগেরই তদন্ত শেষ না হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। সারাদেশে ১ হাজার ৮২৬টি মামলার মধ্যে ২৫৪টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার তথ্য এসেছে এসব খবরে। মামলায় ঢালাও আসামি করা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও এসেছে।

 

মামলা তদন্তের ক্ষেত্রেও বাদী ও ভুক্তভোগী কেউ সহায়তা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে নেমে এজাহারে দেওয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা না পেয়ে বাদী ও ভুক্তভোগীকে ডেকেও সাক্ষাৎ না পাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তাদের।

 

পল্টন থানায় ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি একটি মামলা হয়েছে, যেখানে মো. মোবারক হোসেন নামে এক ব্যক্তি কোটা সংস্কারের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মোবারক যেখানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সেটি পল্টন থানার আওতাধীন এলাকা। তবে মামলার তদন্তে নেমে ঘটনাস্থলে (তদন্ত চলমান থাকায় সুনির্দিষ্ট জায়গার নাম বলা হল না) গিয়ে এমন দাবির সত্যতা পাননি এসআই মো. নূর ইসলাম।

 

বৃহস্পতিবার তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিস্তারিত জানার জন্য বাদী ও ভুক্তভোগীকে কয়েকবার থানায় ডেকেছিলাম, তারা আসে নাই।”

 

এই মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভুক্তভোগীর বোন খাদিজা ইসলামের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কথা বলেছে।

 

তিনি বলেন, “আমার ভাই ঢাকা মেডিকেলে ছিল। সেখানে একটা সংস্থার নাম করে কিছু টাকা দিয়ে আমাদের কাগজপত্র নিয়ে যায় এবং তারাই মামলাটি করেছে। এর বেশি কিছু জানি না।”

 

মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল ভুল, এক থানা এলাকার ঘটনায় আরেক থানায় হওয়া মামলাগুলো ত্রুটিমুক্ত করার কথা বলেছেন ডিএমপির সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

 

বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি সদর দপ্তরে কর্মরত এই কর্মকর্তা এসবের ভুলের কারণে তদন্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার কথাও বলেছেন।

 

বৃহস্পতিবার তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামলার একাধিক ঘটনাস্থল বা সঠিক তথ্য না থাকার মতো যেসব প্রতিবন্ধকতা ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

 

“জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড এবং হত্যাচেষ্টার মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুরুতে তদন্তের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছিল। যেমন—একই ঘটনায় একাধিক থানায় মামলা দায়ের হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা পরবর্তীতে আমরা ত্রুটিমুক্ত ও সংশোধন করেছি। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রকৃত ঘটনাস্থল পড়েছে এক থানায়, অথচ মামলা রুজু হয়েছে অন্য থানায়; সেগুলোও তদন্তের স্বার্থে ইতোমধ্যে ঠিক করা হয়েছে।

 

নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে যে যার মতো করে যেভাবে পেরেছে তথ্য দেওয়ায় এই ধরনের কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে এগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি এখন একটি নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে চলে এসেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে জেলেদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

সুন্দরবনের দুবলার চরের মেহেরআলী এলাকায় বঙ্গোপসাগরে রবিবার দুপুরে জাল ফেলা নিয়ে জেলেদের দুই গ্রুপর মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময়ে ফিশিং ট্রলারের থাকা নগদ টাকা, ইলিশসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম লুট করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।   দুবলার মেহেরআলী থেকে মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আলিম রবিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে জানান, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সুন্দরবনের মেহেরআলী সংলগ্ন সাগরে জাল পাতাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের জেলেরা ট্রলারে করে এসে তার কেরিং বোটে হামলা করে দুই জেলেকে গুরুতর আহত করে। হামলাকারী জেলেরা কেরিং বোট থেকে নগদ টাকা, ইলিশসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত জেলেরা হচ্ছেন, আশিক (২৫) রিয়াজ হাওলাদার (৩৫)। অন্যপক্ষের জেলে মিজানুর রহমানও (৩০) গুরুতর আহত হয়।  আহত জেলেদের আলোরকোল কোষ্টগার্ড কন্টিনজেটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় কোষ্টগার্ড।   সুন্দরবনের দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, রবিবার দুপুরে বঙ্গোপসাগরের মেহেরআলী এলাকায় মাছ ধরার জাল পাতাকে কেন্দ্র কওে জেলেদের দুই গ্রুপর সংঘর্ষ হয়েছে। উভয়গ্রুপের গুরুতর আহত ৩ জেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরণখোলায় গেছে বলে জানতে পেরেছি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘সরকারকে পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই’, মত প্রকাশে সরকার ‘উদার’: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

লালদিয়া টার্মিনাল হবে বৈশ্বিক লজিস্টিকসের হাব: অর্থমন্ত্রী

ফাইল ছবি
কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি: ১৬ গেট খুলে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে হ্রদে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়, যা বিপৎসীমায় পৌঁছেছে। এতে রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও জুরাছড়িসহ জেলার হ্রদবেষ্টিত বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ডুবে গেছে রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি।     পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।      কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, কাপ্তাই হ্রদের অতিরিক্ত পানির চাপ কমাতে বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৩ ফুট করে খুলে দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হ্রদ থেকে পানি ছাড়ার কারণে ভাটির অঞ্চলের লোকজনকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।       তিনি জানান, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে পানি ছাড়া শুরু হয়। এ সময় প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হয়েছে। পরে এদিন রাত সাড়ে ১০টার পর আবার পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল। এরপরও পরিস্থিতি অনুকূলে না আসায় রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রতিটি গেট ৩ ফুট করে খুলে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।     রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হ্রদে পানির স্তর ছিল ১০৬ দশমিক ০২ ফুট বা এমএসএল (মিন সি লেভেল)। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট। এর ১০৫ ফুট পার করলে বিপৎসীমা ধরা হয়।     তিনি আরও জানান, বর্তমানে কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো বা কমানো হতে পারে। এ কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।     এদিকে কাপ্তাই হ্রদে দ্রুত পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি সদরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, স্থাপনা ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বাঘাইছড়িতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে।     তবে রোববার দুপুর থেকে পানি সরে যেতে শুরু করেছে বলে জানান বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান। রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি আধা ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানান মোটেলের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ৩০, ২০২৬

রূপগঞ্জে অটো রাইস মিলে ব্রয়লার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ২

তিন ফুট করে খুলে দেয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট

ছবি: সংগৃহীত

২৫০ গুমের বিচার একসঙ্গে, আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস

ছবি: সংগৃহীত
পুরান ঢাকার চার এলাকায় যানজটের তীব্রতা, ৬ মাসে ৩০ হাজার মামলা

রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের আওতাধীন ছয়টি থানা এলাকায় যানজট, সড়ক ও ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, অটোরিকশার দৌরাত্ম্যসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ। সভায় যানজটের চারটি বড় ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।   শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে পুরান ঢাকার আজিমপুর নিউ পল্টনে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-লালবাগ) কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের ডিসি মো. মফিজুল ইসলাম, এডিসি এহসানুল কামরান তানভীর, লালবাগ জোনের এসি মাহাতাব হোসেন, কোতোয়ালি জোনের এসি একেএম মনজুরুল আলমসহ বিভিন্ন এলাকার টিআই ও সার্জেন্টরা উপস্থিত ছিলেন।   ডিসি মফিজুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয়টি থানা এলাকায় সড়ক দখলমুক্ত ও যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পুরোপুরি সমাধানে পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।   তিনি বলেন, ঢাকায় অটোরিকশা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকার আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও জীবিকা বা ছোট ব্যবসা হিসেবে অটোরিকশা নামিয়েছেন। তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়। তবে নিয়মবহির্ভূত ও আইনভঙ্গকারী অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলা, ডাম্পিংসহ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় জব্দ করা গাড়ি দীর্ঘদিন আটকে রাখা সম্ভব হয় না। তাই অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।   চার ‘হটস্পট’ ট্রাফিক বিভাগ ফুলবাড়িয়া, বাদামতলী, ধোলাইখাল ও ভিক্টোরিয়া পার্কসংলগ্ন বাসস্টপ এলাকাকে যানজট ও সড়ক প্রতিবন্ধকতার বড় চারটি স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফুটপাত ও সড়ক দখল, অবৈধ পার্কিং এবং অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে এসব এলাকায় নিয়মিত যানজট হয়।   ডিসি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। ফুলবাড়িয়ায় বিআরটিসি বাসস্টপ নিয়ে আগেও সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ঢাকার বাইরে বাসস্টপ করার কথা থাকলেও জায়গার সংকটে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য বর্তমানে সেখানে বাস রাখা হচ্ছে। বিআরটিসির প্রায় ৩৫০টি বাসের তুলনায় পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই বাস রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জায়গা দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসন ও সরকারকে জানানো হয়েছে।   তিনি জানান, বিআরটিএ থেকে রুট পারমিটের তালিকা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযানে গাড়ির হেডলাইটসহ ফিটনেস পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ও ডাম্পিং করা হচ্ছে।   ছয় মাসে ৩০ হাজার মামলা ডিসি জানান, গত ছয় মাসে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে ৫৫ লাখ ২৬ হাজার টাকার বেশি। বাসসহ বিভিন্ন পরিবহনের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   তার ভাষ্য, ৩ থেকে ৫ শতাংশ মানুষ আইন না মানলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ আইন অমান্য করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন। তাই মামলা-জরিমানার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা জরুরি। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটি পুলিশ কাজ করছে। তবে ট্রাফিক বিভাগে পর্যাপ্ত জনবল সংকট রয়েছে।   সাংবাদিকদের প্রশ্নে আজিমপুরের রেন্ট-এ-কার স্ট্যান্ড সাংবাদিকরা আজিমপুর গোরা শহীদ মাজারসংলগ্ন সড়কে রেন্ট-এ-কার স্ট্যান্ড থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি মফিজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেও গণমাধ্যমে সংবাদ হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর এবং রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কয়েকবার স্ট্যান্ডটি সরানো হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদের পর আবার গাড়ি রাখা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে, যাতে সেখানে ফের স্ট্যান্ড বসতে না পারে।   বাবুবাজারে সিএনজি নিয়ে প্রশ্ন বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় দীর্ঘদিনের সিএনজি সমস্যা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, আগে সেখানে ব্যাপক যানজট থাকলেও গত এক বছর ধরে পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি সিএনজি চলাচল করে, যার অনেকগুলোরই ঢাকার বাইরের নম্বর।   তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেখানে সিএনজি রাখার অনুরোধ করেছেন। বিশেষ করে মিটফোর্ড হাসপাতালে রোগীদের যাতায়াতে পরিবহন সংকট বিবেচনায় সিএনজি রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও আইনগতভাবে সেখানে সিএনজি রাখা নিষিদ্ধ।   ডিসি বলেন, যাত্রী নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা অর্থনৈতিক কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত জনভোগান্তি মেনে নেওয়া হবে না এবং সরকারও এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না।   নবাবগঞ্জ সেকশনে লেগুনা নিয়ে প্রশ্ন সাংবাদিকরা নবাবগঞ্জ সেকশন ঢাল এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন লেগুনা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে প্রশ্ন করেন।   লালবাগ জোনের এসি মাহাতাব হোসেন বলেন, এসব লেগুনার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, মামলা ও ডাম্পিং করা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, অধিকাংশ গাড়িরই ফিটনেস নেই।   তিনি বলেন, এলাকায় সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ বেশি চলাচল করায় ট্রাফিক পুলিশ মানবিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। অনেক চালককে অপ্রাপ্তবয়স্ক মনে হলেও তাদের ভোটার আইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। ফলে আইনগতভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকসহ অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   সভায় কর্মকর্তারা বলেন, পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি। এর সঙ্গে ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন যুক্ত হয়ে যানজট বাড়াচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা এবং সহযোগিতা প্রয়োজন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি

পল্লবীতে লাশের গোসলঘর নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলি-ককটেল

পাহাড়ি ঢলে সাজেকে সড়ক যোগাযোগ সাময়িক ব্যাহত

0 Comments