বিশ্ব

মার্কিন শান্তি প্রস্তাবের জবাব ইরানের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। নতুন কোনো মার্কিন হামলা হলে পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হবে না বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে তেহরান থেকে এএফপি জানিয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো তেহরানের জবাবে ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের’ ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। একই সঙ্গে ‘নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের’ বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবারের মধ্যে ইরানের জবাব প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধবিরতি আরও চাপের মুখে পড়ে। রোববারের ড্রোন হামলাগুলোর একটিতে কাতারের একটি বন্দরের দিকে যাওয়া একটি মালবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের ভূখণ্ডে আরেকটি হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। অভিযোগ সত্য হলে চলতি মাসে উপসাগরীয় কোনো দেশে এটি হবে দ্বিতীয় হামলার ঘটনা।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা কখনো শত্রুর কাছে মাথানত করব না। আলোচনা বা সংলাপের কথা বলা মানেই আত্মসমর্পণ বা পিছু হটা নয়।’

এদিকে ইরানের সামরিক প্রধান আলী আবদুল্লাহি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ‘শত্রুর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে’ তিনি নতুন নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবুধাবি থেকে দেশটির জলসীমায় প্রবেশ করা একটি মালবাহী জাহাজ মেসাইদ বন্দরের কাছে ড্রোন হামলার শিকার হয়।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, জাহাজটি একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তারা জানায়, ‘সামান্য আগুন লাগলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিবেশগত ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।’

তাৎক্ষণিকভাবে কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, ‘কাতার উপকূলের কাছে হামলার শিকার জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী এবং এটি আমেরিকার মালিকানাধীন।’

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘আজ থেকেই আমাদের সংযমের সময় শেষ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে মার্কিন জাহাজ ও ঘাঁটির বিরুদ্ধে শক্ত ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানাবে ইরান।’

এর আগের দিন ইরানের বিপ্লবী গার্ড মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থে হামলার হুমকি দেয়। শুক্রবার ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানি পতাকাবাহী দুটি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়ার পর এই হুমকি দেওয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে ও হামলার চেষ্টা হয়েছে এবং সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ করেছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ‘ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা দুটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।’

ইরানের প্রতিবেশী কুয়েতও ড্রোন হামলার চেষ্টার কথা জানিয়েছে।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, ‘আজ ভোরে কুয়েতের আকাশসীমায় কয়েকটি শত্রু ড্রোন শনাক্ত করা হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেগুলোর মোকাবিলা করা হয়েছে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পার্ক ইল সাংবাদিকদের বলেন, একটি দক্ষিণ কোরীয় মালবাহী জাহাজ সোমবার হামলার শিকার হয় এবং আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দুবাই বন্দরে পৌঁছায়।

তিনি বলেন, ‘৪ মে এইচএমএম নামু জাহাজটির পেছনের অংশে প্রায় এক মিনিট ব্যবধানে দুটি অজ্ঞাত উড়োজাহাজ আঘাত হানে, এতে আগুন ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।’

ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল সীমিত করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস ও সার পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইরানগামী বা ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ থামিয়ে দিচ্ছে বা পথ পরিবর্তনে বাধ্য করছে।

হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের ব্যবস্থাও চালু করেছে ইরান। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথ ও বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের রুট হিসেবে ব্যবহৃত এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে চলে যাওয়া ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালাল ইউক্রেন

রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ।   গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট যৌথভাবে বড় পরিসরের এ হামলা প্রতিহত করেছে। তবে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনটি ব্যক্তিগত বাড়িতে আগুন লাগে, কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হতাহতের তথ্য তখনও যাচাই করা হচ্ছিল।   ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাতের ওই হামলায় ইয়ারোস্লাভলের স্লাভনেফট-ইয়ানোস তেল শোধনাগারে আগুন লাগে।   এদিকে, রাশিয়ার টভার অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ইগর কোরোলেভ জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ওয়াইল্ডবেরিজ -এর একটি লজিস্টিকস কমপ্লেক্সে পড়ে ভবনের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কালিনিন জেলায় একটি বাগান সমবায়ের কয়েকটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বুধবার রাতভর বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৬০৫টি ফিক্সড-উইং ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষ্ণ সাগরে ওডেসার দক্ষিণ ও পূর্বে ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী দুটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী যুদ্ধের সামনের সারি থেকে ১,৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তার মতে, হামলায় রাশিয়ার বাশনেফট-নোভোইল শোধনাগার এবং স্লাভনেফট-ইয়ানোস শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন তথ্য জানাল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত
বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ আনছে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স

আগামী চার বছরের মধ্যেই ইউরোপে কিছু স্বল্প দূরত্বের রুটে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। নতুন প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খবর ইউরোনিউজের।     বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত ও হাইব্রিড উড়োজাহাজ স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণকে আরও পরিবেশবান্ধব করবে। এতে আমদানি করা জেট জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানির দাম বাড়ায় এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।     কোন রুটে চলতে পারে? ইউরোপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। এতে ইউরোপের প্রায় ২৫ শতাংশ স্বল্প দূরত্বের আকাশপথে এ ধরনের বিমান চালানো সম্ভব হতে পারে।   সম্ভাব্য রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে— লন্ডন–ডাবলিন এথেন্স–সান্টোরিনি বার্সেলোনা–ইবিজা নিস–কর্সিকা রোম–সার্ডিনিয়া     এসব রুটের অনেকগুলোই দ্বীপ এলাকায় হওয়ায় ট্রেনের বিকল্প নেই। তাই সেখানে বৈদ্যুতিক বিমান কার্যকর হতে পারে।     কবে আসবে? জার্মানির স্টার্টআপ ভ্যারিডিয়ন ৯ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।     নেদারল্যান্ডসের এলিসিয়ান এয়ারক্রাফট ৯০ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে, যা ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারবে। এটি ২০৩৫ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।     ফ্রান্সের অরা অ্যারো ১৯ আসনের হাইব্রিড উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০২৯ সালের শেষ দিকে এর অনুমোদন পাওয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।     পরিবেশের জন্য কতটা ভালো? বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলার সময় কার্বন নিঃসরণ করে না এবং শব্দ ও বায়ুদূষণও কমায়। তবে এগুলো চার্জ দিতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ যদি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, তবেই পরিবেশগত সুবিধা সবচেয়ে বেশি হবে।     বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কম দূরত্বের আকাশপথে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণ কমানোও প্রয়োজন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ওমান আলোচনার অগ্রগতিতে বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের কাছে ২৭ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল: প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত
নাইজেরিয়ায় অভিযানে তিন শতাধিক অপহৃত উদ্ধার

নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৩০৮ জন অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে। বুধবার দেশটির সরকার এটিকে একদিনে পরিচালিত সবচেয়ে বড় জিম্মি উদ্ধারের অভিযান বলে জানিয়েছে।     উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১৬৩ জন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমাঞ্চলের কাওয়ারা অঙ্গরাজ্যের ওরো গ্রাম থেকে অপহৃত হন। ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। বাকি ১৪৫ জনকে নাইজার অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।     সরকার জানায়, দেশটির কাইঞ্জি লেক ন্যাশনাল পার্কের বনাঞ্চল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানটি যৌথভাবে পরিচালনা করে জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্র, সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ।     প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবু উদ্ধার অভিযানের সফলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপে শতাধিক নাগরিককে জীবিত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।     নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ বড় নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। দুর্গম বনাঞ্চলগুলোকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।       এদিকে গত সপ্তাহেও দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জামফারা অঙ্গরাজ্যে বন্দুকধারীরা ৫২ জনকে অপহৃত করে। এর মধ্যে শিশুও ছিল।    সূত্র: ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ও এএফপি

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, ঘরবাড়িতে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

হিরোশিমা ট্র্যাজেডির ৮১তম বার্ষিকী পালিত, পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের আহ্বান

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ ইস্যুতে সমঝোতা চূড়ান্ত, কূটনৈতিক সমাধানে জোর ট্রাম্পের

0 Comments