সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটির কর রাজস্ব থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সহায়তার বড় একটি অংশ সামরিক শক্তি বাড়াতে ব্যয় করছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহল। তাদের দাবি, বড় আকারের স্থায়ী সেনাবাহিনী গড়ে তোলা এবং নতুন অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা সংগ্রহে জোর দিচ্ছেন শারা। খবর দ্য জেরুজালেম পোস্টের।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অবকাঠামো পুনর্গঠন কিংবা ১৫ বছরের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিবর্তে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই সামরিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গোপন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হিজবুল্লাহ ও ইরানপন্থিদের লক্ষ্য?
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে শারার দীর্ঘমেয়াদি কিছু সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানপন্থি শিয়া মিলিশিয়াদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি।
সূত্রগুলোর মতে, শারা এমন একটি সময়ের অপেক্ষায় থাকতে পারেন, যখন সিরিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো শেষ হবে এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমে আসবে।
বিশেষ করে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমে গেলে সম্ভাব্য কোনো সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা কমতে পারে; এমন হিসাব সিরিয়ার নেতৃত্বের থাকতে পারে বলে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলের মূল্যায়ন।
সিরিয়াকে সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপ
সিরিয়া যখন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে ইসরায়েলি সূত্রগুলো দাবি করছে, তখন ইউরোপের কয়েকটি দেশ দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। জার্মানির নেতৃত্বে ইউরোপীয় দেশগুলো সিরিয়াকে সহায়তা দিচ্ছে এবং শারার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপের অন্যতম লক্ষ্য হলো শরণার্থীদের প্রবাহ কমানো এবং তাদের সিরিয়ায় ফেরার পরিবেশ তৈরি করা।
তাদের মতে, সিরিয়া স্থিতিশীল হলে এবং দেশটিকে আর সংঘাতপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা না হলে ইউরোপীয় সরকারগুলোর পক্ষে শরণার্থীদের দেশে ফেরানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া সহজ হবে।
শারাকে প্রভাবিত করতে চায় সৌদি-আমিরাত
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপন্থি সুন্নি দেশগুলোও শারাকে নিজেদের বলয়ে আনতে সক্রিয় বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র।
তারা শারাকে আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন কূটনৈতিক সম্মান দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তার নীতিকে আরও মধ্যপন্থি করা, চরমপন্থি উপাদানগুলো থেকে দূরে রাখা এবং তার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।
তবে শারার অতীতের জিহাদি কর্মকাণ্ড নিয়ে এসব দেশের উদ্বেগ রয়েছে বলেও নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তুরস্ক-সিরিয়া সম্পর্ক জটিল
তুরস্ক ও সিরিয়ার সম্পর্কও জটিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র। তাদের মতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের হাতে সিরিয়ার ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ সহজে তুলে দিতে চাইবেন না শারা।
ইসরায়েলি এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, শারা দ্রুত এরদোয়ানকে সিরিয়ার ভূখণ্ড ছেড়ে দেবেন না এবং দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণও তুরস্ককে দেওয়ার অনুমতি নাও দিতে পারেন।
ওই কর্মকর্তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় ইসরায়েলের চালানো হামলা কোনো কোনো দিক থেকে শারার জন্য সুবিধাজনক হয়েছে। কারণ এতে তুরস্কের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তার অবস্থান শক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, শারা তার নেতৃত্বে সিরিয়াকে একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করতে চান এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারেন।
দুর্বল অবস্থায় শারার সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ হারিয়েছে ইসরায়েল?
ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, শারা দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে ছিলেন, তখনই তার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঐতিহাসিক সুযোগ হারিয়েছে ইসরায়েল।
সূত্রগুলোর মতে, সে সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার পাশাপাশি গোলান মালভূমির মর্যাদা নিয়ে বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল ইসরায়েলের সামনে। কিন্তু ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ দ্বিধা এবং অন্যান্য ফ্রন্টে মনোযোগের কারণে সেই উদ্যোগ এগোয়নি বলে দাবি তাদের।
এখন সিরিয়ার সামরিক বাহিনী, এর সদস্য, সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ আরও জোরদার করতে হচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, ইসরায়েলের সামরিক স্বাধীনতা বা সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জন্য হুমকি তৈরি হলে তা ঠেকাতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও রাখতে হবে।
তাদের মূল্যায়ন, ভবিষ্যতে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না এবং এমন সংঘাত কেবল সময়ের ব্যাপার।
সূত্র : দ্য জেরুজালেম পোস্ট
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পথে হাঁটছে ভারত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তেল পরিশোধন, পেট্রোকেমিক্যাল ও গ্রিন হাইড্রোজেন খাতে একের পর এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের এসব প্রকল্পে সম্ভাব্য মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার কোটি রুপি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ভারতের জ্বালানি উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের জ্বালানি খাতের এই অগ্রযাত্রায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে রেকর্ড ৪৪ দশমিক ৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। এতে মোট সক্ষমতা বেড়ে ২৫৪ গিগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশের বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিবহির্ভূত উৎস থেকে ৫০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে ভারতের। ভারতের জনপ্রিয় মার্কেট অ্যানালিটিক্স ট্রেড ব্রেইনস বলছে, সরকারি খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প অন্ধ্রপ্রদেশের রামায়াপত্তনমে ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসিএল) গ্রিনফিল্ড রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। এতে বিনিয়োগ হচ্ছে ১ লাখ ৩ হাজার কোটি রুপি। প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে নির্মিতব্য এই প্রকল্পে বছরে ১২ মিলিয়ন টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা থাকবে। পাশাপাশি ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন সক্ষমতার ইথিলিন ক্র্যাকার স্থাপন করা হবে। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজে ৩ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি প্রকল্প রাজস্থানের বারমের জেলায় এইচপিসিএল রাজস্থান রিফাইনারি। এতে সংশোধিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৯ হাজার ৪৫৯ কোটি রুপি। প্রকল্পটিতে বছরে ৯ মিলিয়ন টন তেল পরিশোধন এবং ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। নির্মাণকাজের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এখানে ৪৩ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেছেন। এ ছাড়া ওডিশার পারাদ্বীপে ৬১ হাজার ৭৭ কোটি রুপি ব্যয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন একটি সমন্বিত রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে। প্রকল্পটি থেকে বছরে ৪০ লাখ টনের বেশি পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬৭ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রদেশের বিনায় ৪৯ হাজার কোটি রুপি ব্যয়ে বিপিসিএলের পরিশোধনাগার সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং আসামের নুমালিগড়ে ২৮ হাজার ২৬ কোটি রুপির প্রকল্পও গুরুত্বপূর্ণ। বিনায় পরিশোধন সক্ষমতা বছরে ৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ১১ মিলিয়ন টনে উন্নীত করা হবে। নুমালিগড়ে সক্ষমতা ৩ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ৯ মিলিয়ন টন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় প্রস্তাবিত প্রকল্প মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরিতে ওয়েস্ট কোস্ট রিফাইনারি। এতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ৩ লাখ কোটি রুপি। বছরে ৬০ মিলিয়ন টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন প্রকল্পটি জমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত জটিলতায় এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সম্প্রসারণ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭৫ হাজার কোটি রুপি। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতে ভবিষ্যতে ১০০ মিলিয়ন টনের বেশি অতিরিক্ত পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জ্বালানি ও রাসায়নিক পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি নির্মাণ, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিকারক হিসেবে ভারতের অবস্থান আরো শক্তিশালী হতে পারে।
ইসলামি বক্তা ড. জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মালয়েশিয়া। তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর কোনো অঙ্গীকার করেনি দেশটির সরকার। বরং প্রত্যর্পণ না করার আগের সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছে কুয়ালালামপুর। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানিয়েছেন, ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইন এবং ২০১০ সালে ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে নতুন কোনো আবেদন পায়নি মালয়েশিয়া। সংসদে লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকার প্রথম ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। পরে ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে নয়াদিল্লি। তবে মালয়েশিয়া সরকার তাকে ভারতে ফেরত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে ভারতকে কোনো নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি। মোদি ও আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকেও উঠেছিল বিষয়টি জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রত্যর্পণ আবেদনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি ওঠে। বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকেও আলোচনা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ আলোচনায় এসেছিল বলে নিশ্চিত করেছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল রুদ্ধদ্বার বৈঠকে। উল্লেখ্য, ড. জাকির নায়েক বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। তবে সর্বশেষ বক্তব্যে মালয়েশিয়া সরকার তাদের আগের অবস্থানেই থাকার বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করেছে। সূত্র: দ্য সান মালয়েশিয়া
দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে সোমবার স্কুল খোলার পর ফ্রান্সে আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তবে আগের কয়েক সপ্তাহের তুলনায় এবার বিক্ষোভ ও স্কুল অবরোধের ঘটনা অনেক কম। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্যারিস, মার্সেই ও রেন শহরের কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা অবরোধের চেষ্টা করেছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৪১টি স্কুল অবরোধের মুখে পড়ে। দেশটির মোট উচ্চবিদ্যালয়ের মাত্র ১ শতাংশ এটি। এর আগে ছুটির আগের কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্সের কয়েকশ স্কুল অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের উপকণ্ঠে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলের দুরবস্থার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দেন। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সোমবার ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে বলেন, স্কুল অবরোধের চেষ্টা এখন খুবই সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। বিক্ষোভ করার অধিকার শিক্ষার্থীদের আছে, তবে স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়া বেআইনি। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে পুরোনো স্কুল ভবন সংস্কার, শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং বর্তমান ভর্তি পদ্ধতি বাতিল। তাদের অভিযোগ, প্রচলিত পদ্ধতিতে সামাজিক বৈষম্য তৈরি হয়। গত সপ্তাহে শিক্ষামন্ত্রী প্রতি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ জনে সীমিত করা, স্কুল সংস্কারে ৪০০ কোটি ইউরো বরাদ্দ, উচ্চশিক্ষায় ১৫ হাজার নতুন আসন তৈরি এবং ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন ভর্তি পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দেন। তবে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা এসব প্রস্তাবকে যথেষ্ট মনে করছেন না। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স