অর্থনীতি

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগকেন্দ্রিক বাজেটের আহ্বান জেবিসিসিআই’র

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বিস্তৃত সুপারিশমালা প্রকাশ করেছে। 

এতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং আরো বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের জন্য বিনিয়োগ, রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং লজিস্টিকস সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেবিসিসিআই নেতারা বলেন, আসন্ন বাজেটে শুধু রাজস্ব আহরণের ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্প সম্প্রসারণ, রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

জেবিসিসিআই’র সেক্রেটারি জেনারেল মারিয়া হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশকে প্রতিযোগী আঞ্চলিক অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে করপোরেট করহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে চেম্বারটি।

বিকল্প হিসেবে তিনি আগামী পাঁচ বছরে প্রতি বছর ১ শতাংশ করে ধাপে ধাপে কর কমানোর প্রস্তাব দেন, যাতে রাজস্ব চাহিদার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ইতিবাচক বার্তা দেওয়া যায়।

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারেরও সুপারিশ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ভ্যাটের সাধারণ হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা এবং ব্যবসার জন্য কর পরিপালন সহজ করতে একটি অভিন্ন কাঠামো চালু করা।

তিনি আরো বলেন, লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানের ওপর মোট আয়ের ভিত্তিতে আরোপিত ন্যূনতম কর প্রত্যাহার করা উচিত। কারণ, এ ধরনের কর সংকটে থাকা ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং টিকে থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও শিল্প উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শিল্পের কাঁচামাল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম এবং উৎপাদন উপকরণের ওপর শুল্ক কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো প্রস্তাব করেন, ভ্যাট ও আয়কর ফেরতের জন্য স্বয়ংক্রিয় ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক রিফান্ড ব্যবস্থা চালু করা হোক, যাতে বিলম্ব কমে এবং ব্যবসার আটকে থাকা কার্যকর মূলধন দ্রুত মুক্ত হয়।

কৌশলগত প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে জেবিসিসিআই কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বস্ত্র ও অটোমোবাইল শিল্পকে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

অটোমোবাইল খাত প্রসঙ্গে জেবিসিসিআই’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের গাড়ির বাজার বছরে ৫ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তিনি স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাজারে ব্যবহৃত গাড়ির আধিপত্য ধীরে ধীরে কমানোর সুপারিশ করেন।

বস্ত্রখাতে চেম্বারটি উচ্চমূল্যের টেকনিক্যাল টেক্সটাইল ও মানবসৃষ্ট তন্তু (ম্যান-মেইড ফাইবার) উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে আরো উঁচু অবস্থানে যেতে পারে।

এছাড়া কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিশাল সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়। জেবিসিসিআই জানায়, বৈশ্বিক হালাল খাদ্য বাজারের আকার ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হলেও বাংলাদেশ এখনো এই বাজারের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।

সংগঠনটি লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের গুরুত্বও তুলে ধরে। তারা জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, যা প্রতিযোগী অর্থনীতিগুলোর ৮ থেকে ১০ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম বন্দরে আরো বেশি অটোমেশন চালুর আহ্বান জানানো হয়, যাতে জাহাজের অবস্থানকাল ও কনটেইনার খালাসের সময় কমানো যায়।

জেবিসিসিআই আরো সুপারিশ করে, সামুদ্রিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ‘বাংলাদেশ ফ্ল্যাগ ভেসেলস (প্রোটেকশন) আইন, ২০১৯’ বাতিল করা উচিত। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে এবং পরস্পরবিরোধী নীতি দূর করতে দেশের ৪৭টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

চেম্বার নেতারা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারের প্রতিও সমর্থন জানান এবং তাদের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করেন। নীতি বাস্তবায়ন ও বাণিজ্য সহায়তা কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ত্রৈমাসিক সংলাপ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রফি ভূঁইয়া এবং সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বব্যাংকের ১৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। চলতি জুন মাসের শেষ দিকে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ তিনটি পৃথক ঋণ কর্মসূচির আওতায় এ অর্থ অনুমোদন করতে পারে।   দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জ্বালানি আমদানি ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই সহায়তাকে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সহায়তার খাতভিত্তিক বরাদ্দ: ৮০ কোটি ডলার : র‍্যাপিড রেসপন্স অপশন (RRO) উইন্ডোর আওতায় বিদ্যমান প্রকল্প সহায়তা। ৪০ কোটি ডলার : আর্থিক খাত ও ব্যাংকিং খাত সংস্কার কার্যক্রমে। ৩০ কোটি ডলার : জরুরি সার আমদানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও ঢাকায় কয়েক দফা আলোচনা শেষে এ সহায়তার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি ও সারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বাংলাদেশের অতিরিক্ত প্রায় ২৬১ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের নতুন ঋণ সহায়তা সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ কমাতে সহায়ক হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থায়ন স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাত সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণের দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেউলিয়া ৫ প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জন্য স্বস্তির খবর

ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত পেনশন কার্যক্রম সম্পাদনের তাগিদ সিএজি’র

ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণ বেচাকেনায় ভ্যাট কমেছে, স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতা

ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে দুই বছর লাগবে, সমৃদ্ধির আশা চতুর্থ-পঞ্চম বছরে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে স্থিতিশীল ও স্থিতিস্থাপক অর্থনীতিতে পৌঁছাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। তবে তৃতীয় বছর থেকে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির সময়।   সোমবার (২২ জুন) রাজধানীতে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এ অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফিসকাল কম্পাস ২০২৬: বিয়ন্ড দ্য নাম্বার্স, শেপিং বাংলাদেশস ফিউচার, প্রপোজড ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২০২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ইউএপি।   অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট প্রণয়ন ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। হাতে সময় ছিল মাত্র দেড় মাস, কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা সহজ নয়, বিশেষ করে যখন দেশ নানা অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে।   তিনি বলেন, বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ। নাগরিকদের শুধু দর্শক হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে।   সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু প্রতিভাবান মানুষ ও ঐতিহ্যভিত্তিক শিল্প রয়েছে, যা এখনো পূর্ণ সম্ভাবনায় বিকশিত হয়নি। দক্ষতা উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে এসব খাতকে এগিয়ে নেওয়া হবে।   তিনি জানান, স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেসসহ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কারুশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি সম্ভব। পাশাপাশি সংগীত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর শিল্প খাতেও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।   অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক বাধা কমিয়ে নাগরিকদের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হবে। শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দায়িত্বে বসছে প্রশাসক

এনবিআরের রাজস্ব আদায় দেশের ইতিহাসে রেকর্ড

ইসলামী ব্যাংকের লোগো

সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা ইসলামী ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত
তহবিলে ধস, তবু বেতন-ভাতায় উৎসব

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড বিভিন্ন সময় মুনাফা করার কথা বললেও তাদের বিপুল দেনার কথা উল্লেখ করে না। কার্যত লোকসানি এই প্রতিষ্ঠান ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি দেনা রেখে ৯৩৭ কোটি টাকার মুনাফা ঘোষণা করে। এদিকে আয় না বাড়লেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ গত মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয় প্রায় ১৮৫ শতাংশ। এমনকি চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহীসহ কয়েকজন বড় কর্তার বেতন কয়েকগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বছরে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে সংস্থাটির। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার বিমানকে লাভজনক করতে না পারলেও প্রায় তিন হাজার ৬শ কোটি টাকার ফান্ড রেখে যায়। গত চার মাসে সেই ফান্ড ১২শ কোটিতে নেমেছে।   এদিকে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকটা ‘ঢেলে সাজানো’ হয়েছে কর্তাদের চেয়ার। চুক্তি করা হয়েছে ১৪টি বোয়িং কেনার। নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রধান নির্বাহী ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিমান সংস্থার ক্যাশ রিজার্ভ বা ফান্ড দুই-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়া আতঙ্কের লক্ষণ। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাওর নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো সংকটে অন্তত ৬ মাসের পরিচালন ব্যয় ফান্ডে জমা থাকতে হয়। বর্তমান ফান্ডের যে অবস্থা তাতে বড় কোনো বৈশ্বিক সংকট এলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে বিমানের। দিন দিন কমছে ফান্ড : বিমান সূত্র জানায়, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মৌলিক সূত্র হলো আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং লোকসান কমানো, সেখানে বিমান হাঁটছে সম্পূর্ণ উল্টো পথে। একদিকে কমছে ফান্ডের পরিমাণ, অন্যদিকে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। চার মাস আগে বিমানের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৬শ কোটি টাকার মতো ফান্ড ছিল। বর্তমানে সেটি ১২শ কোটি টাকায় নেমেছে। নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করে। চুক্তির সময় ৪শ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। পুরনো ট্যাক্সবাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৪শ কোটি টাকা। দাম বেড়ে যাওয়ায় চার মাসে ফুয়েলের জন্য খরচ হয়েছে ৩শ কোটি টাকার বেশি । বাকি অর্থ বেতনসহ আনুষঙ্গিক কাজে খরচ হয়’। পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে বেতন বৃদ্ধি : নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রায় ১৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। পাশাপাশি খাদ্য ভর্তুকি দ্বিগুণ করাসহ অস্থায়ী কর্মীদের দৈনিক মজুরিও বাড়ানো হয়। তা ছাড়া পে-স্কেল সুবিধা যুক্ত হওয়ার কথাও রয়েছে। গত ২০ মে বলাকার বোর্ডরুমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২ জুন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। সভায় ককপিট ক্রু ব্যতীত বিমান, বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) ও বিমান পোলট্রি কমপ্লেক্সের (বিপিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা পুনর্র্নির্ধারণের অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন পেশ করে। প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। তখন বেসামরিক কর্মচারীদের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও বেতন কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। তিনটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরির জন্য বিএনপি সরকার গত মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় নবম পে-স্কেল আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফলে নবম পে-স্কেলের সঙ্গে গত মাসে বর্ধিত বেতন-ভাতাও পাবেন বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শীর্ষ কর্তাদের বেতন কাঠামো : বিমান আগের চেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। আর শীর্ষ কর্তাদের বেড়েছে কয়েকগুণ। এখানে এমডির বেতন অন্য যেকোনো সংস্থার চেয়ে বেশি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা সাবেক এমডি ড. সাফিকুর রহমান প্রথম ছয় মাস আড়াই লাখ টাকা বেতন পান। তবে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় চাকরিচ্যুত হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি ৫ লাখ টাকা বেতন পেয়েছেন। বর্তমান এমডি সবমিলিয়ে ১৪ লাখ টাকা বেতন পাচ্ছেন। তার মধ্যে ট্যাক্সবাবদ চার লাখ টাকা বাদ দিয়ে পাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা। উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন ১০ লাখ টাকার মধ্যে ২ লাখ টাকা ট্যাক্স বাবদ কাটা হচ্ছে। আগের চেয়ারম্যান সম্মানী বাবদ পেয়েছেন এক লাখ টাকা, বর্তমান চেয়ারম্যান পাচ্ছেন ১০ লাখ টাকার মতো। ঊর্ধ্বতনদের বেতন নিয়ে ক্ষোভ : বিমানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছু কর্মকর্তার সুযোগ-সুবিধা ও বেতন এক লাফেই বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ধুঁকতে থাকা সংস্থাটির কয়েকজন বড় কর্মকর্তার পেছনে মোটা অংকের ব্যয় করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে খোদ বিমানের ভেতরেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিমানের প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন মহলের অনিয়ম, ফান্ড কমে যাওয়া, ‘হঠাৎ’ বেতন বৃদ্ধির ঘটনাও আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিমান লাভের মুখ দেখছে না। অথচ খরচ বাড়ছেই। অতিরিক্ত ব্যয় বাড়বে প্রায় শত কোটি : এমনিতেই বিমানের আয় কমে এসেছে। এরই মধ্যে বিমানের প্রধান আয়ের খাত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং হাতছাড়া হচ্ছে। এটি পরিচালনা করার কথা জাপানের একটি সংস্থার। এ খাত থেকে বিমানের বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতো। এই বিষয়ে বিমানের এক কর্মকর্তার মতে, কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ভাতা অপরিবর্তিত থাকার বিষয়টি বিবেচনায় ভাতা পুনর্র্নির্ধারণ যৌক্তিক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন ও আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় অতিরিক্ত ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে বেতন বাবদ ৪২ কোটি টাকা খরচ হয় বিমানের। বেতন বৃদ্ধির ফলে মাসে ব্যয় বাড়বে ৮ কোটি টাকা, যা বছরে গিয়ে ঠেকবে শত কোটিতে। এর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের সুবিধা যোগ হলে বিমানের খরচ আরও অনেক বেড়ে যাবে।  ১৪টি নতুন বোয়িং কেনার চুক্তি : ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিমান লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। মাঝে মাঝে বিমান মুনাফার কথা জানালেও তাদের বিপুল দেনার কথা উল্লেখ করে না। বিমানের বর্তমানে ২৪টি আন্তর্জাতিক রুট, ৮টি অভ্যন্তরীণ রুট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রুট চালু থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ রয়েছে শর্ত পূরণ করতে না পারায়। জাপানের নারিতা রুট বন্ধ হয়ে গেছে। ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই বিমানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয় যা সম্পূর্ণভাবে সরকারি মালিকানাধীন। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ২১০ কোটি ডলারে তিনটি মডেলের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। উড়োজাহাজগুলো আসতে লেগেছে ১১ বছর। পরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও দুটি ড্রিমলাইনার কেনা হয়। এর বাইরে বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ আছে পাঁচটি। মাসখানেক আগে নতুন করে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করা হয়। ৬শ কোটি টাকার রাজস্ব হাতছাড়া : এক সময় বিমানের লাভজনক কার্গো পরিবহন রুট ছিল লন্ডন-ঢাকা। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা প্রতিবছর এ রুটে বিপুল পরিমাণ কার্গো পরিবহন করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সেই বাজার এখন বিদেশি এয়ারলাইনসের দখলে চলে গেছে। এ কারণে ৬শ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সংস্থাটি। বিমানের নতুন পরিচালনা বোর্ড পুনর্গঠনের পর লন্ডন-ঢাকা রুটের কার্গো পরিবহন হাতছাড়ার তদন্ত শুরু হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা বোর্ডের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিমানে পেশাদারিত্বের বিকল্প নেই। কিন্তু সব সরকারই বিমানের বড় পদে ‘নিজেদের’ লোক বসায়। কিন্তু কোনো সরকারের আমলেই বিমান উন্নতি করতে পারেনি। বড় পদগুলোয় অ্যাভিয়েশনের লোকজন না থাকলে কখনো উন্নতি হবে না। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাভিয়েশনের লোকজনই উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। বিমানকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। বিমানের রুট কমে এসেছে। তাই উড়োজাহাজ বৃদ্ধির সঙ্গে রুটও বাড়াতে হবে। ফান্ডের টাকা বৃদ্ধি করতেই হবে। দীর্ঘদিন ধরেই বিমানের আয়ের তুলনায় খরচ বেশি। তাই আয় বাড়ানো ছাড়া বিকল্প পথ নেই। তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ুক তা চাই। তবে আয় না বাড়িয়ে বেতন বৃদ্ধি করা সমীচীন নয়। একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে বেতন ঠিক করতে হবে। বড় বড় পদে যাকে-তাকে এনে নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে সরকারকে। অন্যথায় আরও ৫০টি উড়োজাহাজ আনলেও বিমানের উন্নতি হবে না। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয় বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে। কিন্তু তাদের পাওয়া যায়নি। পরে টেলিফোন করলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিইও কাইজার সোহেল আহমেদকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। সংস্থাটির মুখপাত্র ও মহাব্যবস্থাপক বুসরা ইসলামও ফোন রিসিভ করেননি। পরে এই প্রতিবেদক এসএমএস করলে বুসরা ইসলাম জবাব দেন ‘আমি অসুস্থ, বাসায়’।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিএসইসির পক্ষে আদালতের রায়, স্বস্তিতে সংশ্লিষ্টরা

ছবি : সংগৃহীত

হঠাৎ ইসলামী ব্যাংকের সতর্কবার্তা জারি

ছবি : সংগৃহীত

শেয়ারবাজার চাঙ্গা হচ্ছে না কেন?

0 Comments