অর্থনীতি

দেশে গ্যাসের উৎপাদন বেড়ে ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে গ্যাসের উৎপাদন বেড়ে ২ হাজার ৬০০ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি) দাঁড়িয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাবে এ উৎপাদন হয়েছে।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস ও কনডেনসেট উৎপাদন এবং বিতরণ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১১৯টি উৎপাদনশীল কূপ রয়েছে। এসব কূপের গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ৩ হাজার ৮৫৪ এমএমসিএফডি। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৬০০ দশমিক ১ এমএমসিএফডি।

 

দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করেছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো (আইওসি)। তাদের ৪৩টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি। এসব কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ৮৯১ দশমিক ৫ এমএমসিএফডি।

 

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ৪৪টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ৮৫১ এমএমসিএফডি। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন করেছে ৪৮২ দশমিক ৩ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে ৩২৯ দশমিক ৪ এমএমসিএফডি, হবিগঞ্জ থেকে ১০০ দশমিক ১, বাখরাবাদ থেকে ২৬ দশমিক ৪, নরসিংদী থেকে ২২ দশমিক ২ এবং মেঘনা থেকে ৪ দশমিক ২ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন হয়েছে।

 

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৭টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১৪৩ এমএমসিএফডি। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ১৪০ দশমিক ৫ এমএমসিএফডি।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ১৫টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১৪৫ এমএমসিএফডি হলেও উৎপাদন হয়েছে ১০৩ দশমিক ৭ এমএমসিএফডি।

 

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহকারী আরপিজিসিএল ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি সক্ষমতার বিপরীতে ৯৮২ দশমিক ১ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করেছে। মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ এসেছে এলএনজি থেকে।

 

এদিকে ২৪ ঘণ্টায় গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি ৫ হাজার ৬৯৫ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে আইওসিগুলোর গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ৪ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৭ ব্যারেল, বিজিএফসিএল থেকে ৩৭৭ ব্যারেল, এসজিএফএল থেকে ৬১১ দশমিক ১ ব্যারেল এবং বাপেক্সের ক্ষেত্রগুলো থেকে ৫৭ দশমিক ১ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দেশে গ্যাসের উৎপাদন বেড়ে ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি

দেশে গ্যাসের উৎপাদন বেড়ে ২ হাজার ৬০০ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি) দাঁড়িয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাবে এ উৎপাদন হয়েছে।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস ও কনডেনসেট উৎপাদন এবং বিতরণ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১১৯টি উৎপাদনশীল কূপ রয়েছে। এসব কূপের গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ৩ হাজার ৮৫৪ এমএমসিএফডি। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৬০০ দশমিক ১ এমএমসিএফডি।   দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করেছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো (আইওসি)। তাদের ৪৩টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি। এসব কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ৮৯১ দশমিক ৫ এমএমসিএফডি।   বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ৪৪টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ৮৫১ এমএমসিএফডি। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন করেছে ৪৮২ দশমিক ৩ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে ৩২৯ দশমিক ৪ এমএমসিএফডি, হবিগঞ্জ থেকে ১০০ দশমিক ১, বাখরাবাদ থেকে ২৬ দশমিক ৪, নরসিংদী থেকে ২২ দশমিক ২ এবং মেঘনা থেকে ৪ দশমিক ২ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন হয়েছে।   সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৭টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১৪৩ এমএমসিএফডি। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ১৪০ দশমিক ৫ এমএমসিএফডি।   অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ১৫টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১৪৫ এমএমসিএফডি হলেও উৎপাদন হয়েছে ১০৩ দশমিক ৭ এমএমসিএফডি।   প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহকারী আরপিজিসিএল ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি সক্ষমতার বিপরীতে ৯৮২ দশমিক ১ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করেছে। মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ এসেছে এলএনজি থেকে।   এদিকে ২৪ ঘণ্টায় গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি ৫ হাজার ৬৯৫ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে আইওসিগুলোর গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ৪ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৭ ব্যারেল, বিজিএফসিএল থেকে ৩৭৭ ব্যারেল, এসজিএফএল থেকে ৬১১ দশমিক ১ ব্যারেল এবং বাপেক্সের ক্ষেত্রগুলো থেকে ৫৭ দশমিক ১ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স নিয়ে সরকারের নতুন ভাবনা: অর্থমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

প্রাইজবন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সঞ্চয়কারীরা

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে কাল ১২.৫ মিলিয়ন, ৩-৪ মাসে আরও ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বাসস

বন্ধ হয়ে আছে ৪৫ হাজার তাঁত কারখানা, বেকার ৯৬ হাজার শ্রমিক

হস্তচালিত তাঁতের খটখট শব্দে একসময় সরব ছিল বিভিন্ন এলাকা। ধীরে ধীরে শব্দটা ক্ষীণ হতে শুরু করেছে। হয়তো একদিন একেবারেই এই শব্দ বন্ধ হয়ে যাবে। এটা অন্য মানুষের কাছে কাঠখোট্টার এক শব্দ, কিন্তু এ শব্দ এই পাড়ার বাসিন্দাদের জীবনেরই ছন্দ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাড়ার বাসিন্দাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, উত্থান-পতন। এখানকার মানুষকে একদিন জীবনের নতুন ছন্দ খুঁজতে হবে।   দেশের হস্তচালিত তাঁতিদের দুর্দিন চলছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জ জেলার গৃহস্থালি ও শিল্পকারখানার ঐতিহ্যবাহী তাঁতগুলো। নিরুপায় হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন তাঁতিরা।    বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাপড়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলায় প্রায় ৪৫ হাজার তাঁত কারখানা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে অন্তত ৯৬ হাজার ২৫০ শ্রমিক বেকার হয়ে বসে আছেন। তবে তাঁত কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা।      তাদের ভাষ্য, ঈদের আগে কাপড়ের চাহিদা বাড়লে অনেক মালিক বন্ধ তাঁত কারখানা আবার চালু করেন। চাহিদা কমে গেলে এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে সেগুলো আবার বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেই অবস্থা চলছে। বর্তমানে বন্ধ থাকা ৪৫ হাজার তাঁত কারখানার মধ্যে কিছু সাময়িক এবং বেশিরভাগই স্থায়ীভাবে বন্ধ আছে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে এ অবস্থা চলছে। ঈদ এলে কিছু চালু হয়, বাকিগুলো বন্ধই থাকে সবসময়।     বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চারটি বেসিক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, এনায়েতপুর, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও শাহজাদপুর উপজেলায় মোট তাঁত কারখানা রয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭০০টি। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদরের ৩২ হাজার ১৫০টি তাঁত কারখানার মধ্যে ১০ হাজার, বেলকুচির ৭০ হাজারের মধ্যে ১৫ হাজার, উল্লাপাড়ার ২৫ হাজার ২০০টির মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ এবং শাহজাদপুরের ৩০ হাজার ৩৫০টির মধ্যে ১০ হাজার তাঁত কারখানা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।     অর্থাৎ এসব উপজেলায় মোট তাঁতের প্রায় ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বর্তমানে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি তাঁত কারখানা বন্ধ রয়েছে বেলকুচিতে, ১৫ হাজার। তবে মোট তাঁত কারখানার অনুপাতে বন্ধের হার সবচেয়ে বেশি শাহজাদপুরে, প্রায় ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর সিরাজগঞ্জ সদর ৩১ দশমিক ১ শতাংশ এবং উল্লাপাড়া প্রায় ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ।   প্রতি তাঁত কারখানায় গড়ে ২ দশমিক ৫ জন শ্রমিক কাজ করেন—এই হিসাবে বন্ধ থাকা তাঁতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আনুমানিক ৯৬ হাজার ২৫০ শ্রমিক বর্তমানে বেকার হয়ে বসে আছেন। তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা জানান, তাদের অনেকে অটোরিকশা চালানো, কৃষিকাজ, হোটেলে কাজসহ বিভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন।   বন্ধের কারণ কী   উল্লাপাড়ার বালসাবাড়ি এলাকার পাওয়ারলুম শ্রমিক আব্দুর রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে দুটি তাঁত কারখানায় দিনে আটটি লুঙ্গি উৎপাদন হতো। এখন একই তাঁতে উৎপাদন হচ্ছে চারটি। আমার সাপ্তাহিক আয়ও ৪ হাজার টাকা থেকে কমে দুই হাজার টাকায় নেমে এসেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ লোডশেডিং। প্রতিদিন চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে তাঁত মালিকদের জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়। মহাজনরা বাড়তি খরচের কারণে নিয়মিত জেনারেটর চালাতে চান না। কখনও কখনও আমাদের অনুরোধে কাজ করার জন্য জেনারেটর চালান। কিন্তু জেনারেটর খরচ চালিয়ে খরচ উঠানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’   উল্লাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৪৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৩২ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১২ মেগাওয়াট। একই দিন বেলকুচিতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ছিল প্রায় ৩ মেগাওয়াট। তাদের হিসাবে, দিনে তিন-চার ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।   বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, কমছে বিক্রি   বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি সুতা, রঙ ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁত কারখানার মালিকদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এমনটি জানিয়েছেন উল্লাপাড়ার মহাজন মনিরুল ইসলাম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার ১২টি পাওয়ারলুম থেকে প্রতি সপ্তাহে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার কাপড় বিক্রি হতো। এখন বিক্রি নেমে এসেছে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ গড়ে বিক্রি প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে।’   তিনি বলেন, ‘জেনারেটর চালাতে এখন প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁত চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’   একই কথা বলেছেন আরেক মহাজন ইব্রাহিম হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, তিন বছর আগে তার ১২টি তাঁত ছিল। এখন মাত্র দুটি চালু আছে। বাকিগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন।   লোকসানের কারণে বাকি তাঁতগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাঁচামালের দাম বেড়েছে, আবার কাপড়ের চাহিদাও কমেছে। আরও লোকসান এড়াতে তাঁতগুলো বন্ধ করতে হয়েছে।’   ঈদের আগে বাড়ে উৎপাদন   তাঁত মালিকরা জানান, ঈদের আগে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হয়। ঈদ সামনে রেখে লুঙ্গি, গামছা, শাড়িসহ বিভিন্ন কাপড়ের চাহিদা বাড়লে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা কিছু তাঁত আবার চালু করা হয়। ঈদের মৌসুমে উৎপাদন বাড়লেও উৎসবের পর আবার তা কমে যায়।   সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পে লুঙ্গি, গামছা, শাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় উৎপাদন হয়। জেলার তৈরি তাঁতের শাড়ি ও গামছা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। কিছু পণ্য বিদেশেও রফতানি করা হয়। জেলার ব্র্যান্ডিং হিসেবে সরকারি তথ্যেও তাঁতশিল্পকে জেলার অন্যতম প্রধান শিল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এক-তৃতীয়াংশ কমেছে হাটের ক্রেতা-বিক্রেতা   উৎপাদন ও চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটেও। শাহজাদপুর কাপড়ের হাট কমিটির সদস্য মাসুম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একসময় দেশের সর্ববৃহৎ এই কাপড়ের হাট ক্রেতা-বিক্রেতায় কানায় কানায় পূর্ণ থাকতো। দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা-বিক্রেতারা এখানে আসতেন। এমনকি ভারত থেকেও নিয়মিত ক্রেতারা শাড়ি, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় কিনতে আসতেন।’   তবে তাঁত কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। তবে তাঁত কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা   তিনি বলেন, ‘এখন হাটের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। আগের মতো ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি নেই। উৎপাদন ও কাপড়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।’   বাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, জেলার প্রধান কাপড়ের বাজারে আগে প্রতি সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হতো। এখন তা কমে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় গড়ে সাপ্তাহিক লেনদেন প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিও কমেছে।   পেশা বদলাচ্ছেন শ্রমিকরা   প্রায় ৪০ বছর ধরে তাঁতশিল্পে কাজ করা ছুরমান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার মালিকের ১২টি তাঁতের মধ্যে ১০টিই বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সুতা ও রঙের দাম বেড়েছে, কিন্তু কাপড়ের চাহিদা আর আগের মতো নেই। এর মধ্যে থাকে না বিদ্যুৎ। এভাবে বাকি কারাখানা চালানোও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’   ৫০ বছরের বেশি বয়সী মোশাররফ হোসেন তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পেশা পরিবর্তন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁতশিল্পে কাজ করা এই ব্যক্তি এখন একটি হোটেলে খাবার পরিবেশনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার মতো অনেক শ্রমিকই নিয়মিত কাজ না পাওয়ায় অন্য পেশায় চলে গেছেন।   তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, সুতা, রঙ ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম কমাতে পদক্ষেপ এবং তাঁতের কাপড়ের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের অনিশ্চয়তা কমানো না গেলে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা কিছু তাঁত শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

ওভারফ্লাই ফি থেকে শাহজালালের রেকর্ড আয়: এক বছরে ৮০৫ কোটি

ছবি: সংগৃহীত

কোম্পানির সম্পদের বেশি ব্যাংকের শেয়ার কেনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

৭ শতাংশ সুদে বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালুতে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ

ছবি: সংগৃহীত
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের যেসব নির্দেশনা দিলেন বাণিজ্য সচিব

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে সচিব কমিটির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান।   আজ বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।   সভায় সরকারি মামলা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, জেলা প্রশাসক সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।   বাণিজ্য সচিব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য প্রতিটি কার্যক্রমে নিয়মিত মনিটরিং, কার্যকর সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সরকারি মামলা ও ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন তিনি।   সভায় আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রমে আরও গতি ও পেশাদারিত্ব আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দপ্তর সংস্থার শূন্য পদে জনবল নিয়োগ তরান্বিত করতে হবে এবং একই সাথে অপ্রয়োজনীয় পদ থাকলে তা বিলুপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন বাণিজ্য সচিব।   এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন, নিয়মিত ফলোআপ এবং সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে সচিবদের নিয়ে গঠিত সচিব কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

বাংলাদেশ-রাশিয়া যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের আগ্রহ মস্কো চেম্বারের

দণ্ডিত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যর্পণে ঢাকা কাজ করছে : শামা

বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ

0 Comments