কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ওষুধ গবেষণার পরিধি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় নিজস্ব ‘ওয়েট ল্যাব’ বা জীববিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপন করেছে অ্যানথ্রপিক। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ল্যাবটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান এরিক কডারার-আব্রামস। এত দিন কম্পিউটারভিত্তিক গবেষণায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া অ্যানথ্রপিক এখন নিজস্ব স্থাপনায় বাস্তব জীববৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও চালাচ্ছে। তবে ল্যাবটির কার্যক্রম নির্দিষ্টভাবে ষুধ আবিষ্কারে সীমাবদ্ধ নয় বলে জানা যায়। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের অংশীদারদের দিয়েও পরীক্ষা করানো হবে।
চলতি বছর জুনে সান ফ্রান্সিসকোর এক অনুষ্ঠানে অ্যানথ্রপিক প্রথমবারের মতো ওষুধ গবেষণা কার্যক্রমের পরিকল্পনা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি এমন রোগ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছে, যেগুলো প্রচলিত ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত গবেষণার আওতায় আসেনি। বিশেষ করে বিরল এবং প্রচলিত পদ্ধতিতে চিকিৎসার ওষুধ তৈরি করা কঠিন, এমন রোগের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে গবেষণার সময় কমানো এবং সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় বিনিয়োগ ও জনবল বাড়াচ্ছে অ্যানথ্রপিক।
গবেষণাগারের পরীক্ষাগুলোও এআই-এর সমন্বয়ে স্বয়ংক্রিয় করার সক্ষমতা যাচাই করছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব এআই ক্লডকে রোবোটিক যন্ত্রপাতির সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে মানব হস্তক্ষেপ কমিয়ে এনে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করছে। তবে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়ায় মানব তদারকি রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া গত আগস্ট মাসে ‘মডেল হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড’ চালু করে গবেষণাগারে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সঙ্গে এআই মডেলের কাজ করার জন্য একটি সাধারণ প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয় অ্যানথ্রপিক। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ল্যাবরেটরি সরঞ্জামের সঙ্গে এআই মডেলের সমন্বয় সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।
জীববিজ্ঞান গবেষণায় ক্লড এআই-এর ব্যবহার বাড়াতে ৬০টির বেশি বৈজ্ঞানিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত ‘ক্লড সাইন্স’ প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্ল্যাটফর্মটিতে জিনোমিকস, প্রোটিওমিকস ও স্ট্রাকচারাল বায়োলজিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৪০ কোটি ডলারের শেয়ারের বিনিময়ে ক-ইফিশিয়েন্ট বায়ো অধিগ্রহণ করেছে অ্যানথ্রপিক। এছাড়াও বিভিন্ন বড় ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব অংশীদারত্বের মাধ্যমে গবেষণা, ওষুধ উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্তকরণে ক্লডের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব ও রোশের জেনেনটেকের কর্মীরাও গবেষণা ও ওষুধ উন্নয়নের কাজে ক্লড ব্যবহার করতে পারছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক ওষুধ কোম্পানি নোভো নরডিস্কের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয় অ্যানথ্রপিক।
তবে আপাতত নিজস্বভাবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার পরিকল্পনা নেই অ্যানথ্রপিকের। ওষুধ বাজারজাত করার চূড়ান্ত ধাপ পর্যন্ত যাওয়ার পরিবর্তে ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে প্রাথমিক ও প্রি-ক্লিনিক্যাল গবেষণায় এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করাই তাদের বর্তমান লক্ষ্য।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ওষুধ গবেষণার পরিধি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় নিজস্ব ‘ওয়েট ল্যাব’ বা জীববিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপন করেছে অ্যানথ্রপিক। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ল্যাবটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান এরিক কডারার-আব্রামস। এত দিন কম্পিউটারভিত্তিক গবেষণায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া অ্যানথ্রপিক এখন নিজস্ব স্থাপনায় বাস্তব জীববৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও চালাচ্ছে। তবে ল্যাবটির কার্যক্রম নির্দিষ্টভাবে ষুধ আবিষ্কারে সীমাবদ্ধ নয় বলে জানা যায়। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের অংশীদারদের দিয়েও পরীক্ষা করানো হবে। চলতি বছর জুনে সান ফ্রান্সিসকোর এক অনুষ্ঠানে অ্যানথ্রপিক প্রথমবারের মতো ওষুধ গবেষণা কার্যক্রমের পরিকল্পনা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি এমন রোগ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছে, যেগুলো প্রচলিত ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত গবেষণার আওতায় আসেনি। বিশেষ করে বিরল এবং প্রচলিত পদ্ধতিতে চিকিৎসার ওষুধ তৈরি করা কঠিন, এমন রোগের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে গবেষণার সময় কমানো এবং সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় বিনিয়োগ ও জনবল বাড়াচ্ছে অ্যানথ্রপিক। গবেষণাগারের পরীক্ষাগুলোও এআই-এর সমন্বয়ে স্বয়ংক্রিয় করার সক্ষমতা যাচাই করছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব এআই ক্লডকে রোবোটিক যন্ত্রপাতির সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে মানব হস্তক্ষেপ কমিয়ে এনে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করছে। তবে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়ায় মানব তদারকি রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া গত আগস্ট মাসে ‘মডেল হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড’ চালু করে গবেষণাগারে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সঙ্গে এআই মডেলের কাজ করার জন্য একটি সাধারণ প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয় অ্যানথ্রপিক। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ল্যাবরেটরি সরঞ্জামের সঙ্গে এআই মডেলের সমন্বয় সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে। জীববিজ্ঞান গবেষণায় ক্লড এআই-এর ব্যবহার বাড়াতে ৬০টির বেশি বৈজ্ঞানিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত ‘ক্লড সাইন্স’ প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্ল্যাটফর্মটিতে জিনোমিকস, প্রোটিওমিকস ও স্ট্রাকচারাল বায়োলজিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৪০ কোটি ডলারের শেয়ারের বিনিময়ে ক-ইফিশিয়েন্ট বায়ো অধিগ্রহণ করেছে অ্যানথ্রপিক। এছাড়াও বিভিন্ন বড় ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব অংশীদারত্বের মাধ্যমে গবেষণা, ওষুধ উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্তকরণে ক্লডের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব ও রোশের জেনেনটেকের কর্মীরাও গবেষণা ও ওষুধ উন্নয়নের কাজে ক্লড ব্যবহার করতে পারছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক ওষুধ কোম্পানি নোভো নরডিস্কের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয় অ্যানথ্রপিক। তবে আপাতত নিজস্বভাবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার পরিকল্পনা নেই অ্যানথ্রপিকের। ওষুধ বাজারজাত করার চূড়ান্ত ধাপ পর্যন্ত যাওয়ার পরিবর্তে ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে প্রাথমিক ও প্রি-ক্লিনিক্যাল গবেষণায় এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করাই তাদের বর্তমান লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বড় ধরনের কড়াকড়ি আনতে সম্মত হয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। তবে দেশটিতে শিশুদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, অঞ্চল এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ৫২ জন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার আওতায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। মেটা জানিয়েছে, সমঝোতার অধিকাংশ শর্ত ১০ বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীরা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা ব্যবহার করতে পারবে। এই সময়সীমা কিশোর-কিশোরীরা নিজেরা পরিবর্তন বা বন্ধ করতে পারবে না। সীমা বাড়াতে হলে অভিভাবকের অনুমতি প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে বাধা থাকবে। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া এ বিধিনিষেধও তুলে দেওয়া যাবে না। স্কুল চলাকালে বন্ধ থাকবে নোটিফিকেশন নতুন ব্যবস্থায় স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বেশির ভাগ পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কিশোরদের কাছে নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা থাকবে। একটানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিরতি দেওয়ার জন্য প্রতি ১৫ মিনিট পরপর সতর্কবার্তা দেখানো হবে। দৈনিক ব্যবহারের সময় ৬০ মিনিট ও ৯০ মিনিটে পৌঁছালেও আলাদা সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। ১৩ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্তে জোর সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহারকারীদের বয়স শনাক্ত করার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, যাতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে সেগুলো সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, ১৩ বছরের কম বয়সীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাধারণত অভিভাবকের যাচাইকৃত সম্মতি প্রয়োজন হয়। লাইক ও ফিল্টারেও বিধিনিষেধ নতুন সমঝোতায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের পোস্টে কতটি ‘লাইক’ বা প্রতিক্রিয়া পড়েছে, সেই সংখ্যা প্রদর্শন না করার শর্ত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কসমেটিক সার্জারি বা শারীরিক গঠন পরিবর্তনের মতো ধারণা তৈরি করে—এমন কিছু ইমেজ ফিল্টার কিশোরদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। কিশোরেরা চাইলে এমন একটি ফিড ব্যবহারের সুযোগও পাবে, যেখানে তাদের আগের অনলাইন আচরণের ভিত্তিতে অ্যালগরিদম দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কনটেন্ট সাজানো হবে না। ক্ষতিকর কনটেন্ট রিপোর্ট করার ব্যবস্থাও উন্নত করতে হবে মেটাকে। কিশোরদের করা এ ধরনের ৯০ শতাংশ রিপোর্ট ছয় ঘণ্টার মধ্যে পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করা এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। মেটা এসব অভিযোগে কোনো অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি। তবে মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলের সঙ্গে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছেছে প্রতিষ্ঠানটি। মেটার হিসাবে, এর প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আগামী ১০ বছরে অংশগ্রহণকারী অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলগুলো পাবে। আরও প্রায় ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার নির্ভর করবে টিকটক ও ইউটিউব একই ধরনের শিশু-কিশোর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না, তার ওপর। আদালতের অনুমোদনে শেষ বিচার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গঞ্জালেজ রজার্সের আদালতে গত ১৮ আগস্ট বিচার শুরু হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে বিচারক মূল সমঝোতাটি অনুমোদন করেছেন। এর ফলে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে শিশু-কিশোরেরা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারী ও অভিভাবকদের যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে মেটা এসব অভিযোগে কোনো অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি। টিকটক নিষিদ্ধ হচ্ছে না এই সমঝোতার অংশ নয় টিকটক। ফলে চুক্তিটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধও হচ্ছে না। মেটা বরং টিকটক ও ইউটিউবকেও একই ধরনের শিশু-কিশোর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তারা এতে যুক্ত হলে কিশোরদের দৈনিক ব্যবহারের সীমা আরও কমিয়ে প্রতি প্ল্যাটফর্মে এক ঘণ্টা করা হতে পারে। পাশাপাশি রাতের ব্যবহারের ওপরও আরও দীর্ঘ সময়ের বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে।
দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষকে মোবাইল ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেছেন, দেশে প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল ফোনের মধ্যে অর্ধেকই এখনো ২জি বা বাটন ফোন। কম দামের স্মার্টফোনের পাশাপাশি সহজ কিস্তি সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে প্রায় ৭ কোটি মানুষকে ডাটা নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলিডে ইন হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ : এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন তিনি। রেহান আসাদ বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মোবাইল ফোন এখনো ২জি। সর্বশেষ হিসাবে দেশে প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল ফোন থাকলে এর অর্ধেক ব্যবহারকারীকে রাতারাতি স্মার্টফোনে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তবে শিল্পসংশ্লিষ্ট সবাই ও নির্মাতাদের সম্মিলিত উদ্যোগে ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন আনা সম্ভব। কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটের দুই সপ্তাহ আগে এ বিষয়ে কাজ শুরু করা হয়। শিল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্মাতারা দেখিয়েছেন, কম দামে এ ধরনের ফোন তৈরি করা সম্ভব। শুরুতে ৩ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাতারা সাত দিনের মধ্যে বিল অব ম্যাটেরিয়াল তৈরি করে জানান, ৩ হাজার টাকায় ফোন তৈরি সম্ভব নয়। তবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে তা তৈরি করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজার পর্যালোচনা করে রেহান বলেন, সবচেয়ে কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোন ভারতের রিলায়েন্সে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩৯ ডলারে একটি ফোন বিক্রি করছে। ফোনটির পুরোটা টাচস্ক্রিন নয় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ টাচস্ক্রিন এবং এক-তৃতীয়াংশ কিপ্যাড। এতে স্ক্রিনের আকার কমিয়ে ও কিপ্যাড ব্যবহার করে প্রায় ৬ ডলার খরচ কমানো হয়েছে। এই মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের নির্মাতারাও কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। রেহান আসাদ বলেন, বাংলাদেশের নির্মাতারা প্রায় ৩০ বছর ধরে এ শিল্পে কাজ করছেন। দুই সপ্তাহ আগে তারা জানিয়েছেন, রিলায়েন্সের মডেল অনুসরণ করে ৫০ থেকে ৫৫ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে ফোন তৈরি করা সম্ভব। কম দামের ফোন তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর শূন্য কর দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে রেহান আসাদ বলেন, এসব কাঁচামালের ক্ষেত্রে কোনো ট্যাক্স, ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক (এসডি) বা ভ্যাট থাকবে না। সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)। এসময় আরও বক্তব্য দেন এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে, টেলিকম বিশেষজ্ঞ নূরুল কবির ও এমটব মহাসচিব মো. জুলফিকারসহ সংশ্লিষ্টরা।