বিশ্ব

উপসাগরীয় জলসীমায় উত্তেজনা, জাহাজে হামলা; যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি ইরানের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কয়েক দিনের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ-অচলাবস্থা রোববার আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাতারের উপকূলে একটি মালবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে ইরান।

তেহরান থেকে এএফপি জানায়, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটি আবুধাবি থেকে দেশটির জলসীমায় প্রবেশ করছিল। এ সময় মেসাইয়িদের বন্দরের উত্তর-পূর্বে একটি ড্রোনের আঘাতে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, একটি বাল্ক ক্যারিয়ার অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

তারা জানায়, ‘ছোট আকারের আগুন লাগলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।’

তাৎক্ষণিকভাবে কেউ হামলার দায় স্বীকার না করলেও, ইরানের ফারস বার্তা সংস্থা দাবি করেছে, ‘কাতারের উপকূলের কাছে আঘাতপ্রাপ্ত বাল্ক ক্যারিয়ারটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী এবং সেটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন।’

এর আগে শুক্রবার গালফ অব ওমানে ইরানের পতাকাবাহী দুটি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেয় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান। জাহাজ দুটি যাতে ইরানের বন্দরের দিকে যেতে না পারে, সেজন্য এ পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ও শত্রুপক্ষের জাহাজে ‘ভারী হামলা’ চালানো হবে।

ইরানের প্রতিবেশী কুয়েতও হামলার চেষ্টার কথা জানিয়েছে।

কুয়েতের সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ‘আজ ভোরে কুয়েতের আকাশসীমায় কয়েকটি শত্রু ড্রোন শনাক্ত করা হয় এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোর মোকাবিলা করা হয়েছে।’

ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস ও সার পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে তেহরান।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের বন্দরের উদ্দেশ্যে যাওয়া কিংবা সেখান থেকে আসা জাহাজগুলো অবরোধ করছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোকে অচল বা পথবিচ্যুতও করছে।

যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করে শান্তি আলোচনা শুরু করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে শুক্রবারই ইরানের জবাব পৌঁছানোর কথা। তবে এখন পর্যন্ত তা প্রকাশ্যে আসেনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ধারাবাহিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় মার্কিন পক্ষের উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়েছে।’ ইরানের আইএসএনএ বার্তা সংস্থা এ কথা জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের জন্য একটি অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে পরিচিত এ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে থাকা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার কাতারের নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কাতার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এর আগে শুক্রবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন।

যুদ্ধ চলাকালে কাতারে কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল ইরান। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

যুদ্ধের লেবানন ফ্রন্টেও সমান্তরাল যুদ্ধবিরতি চাপের মুখে রয়েছে। ইসরাইল ও ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই পাল্টাপাল্টি হামলা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি মহাসড়কেও বিমান হামলার খবর দিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এলাকাটি হিজবুল্লাহর ঐতিহ্যগত ঘাঁটির বাইরে।

তিন সপ্তাহ আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে তীব্র হামলাগুলোর একটি।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, এর জবাবে তারা অন্তত দুই দফায় ড্রোন দিয়ে উত্তর ইসরাইলে সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের ভূখ-ে কয়েকটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ছোড়া হয়েছে। এতে একজন রিজার্ভ সেনা গুরুতর এবং আরও দুজন মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন।

এ হামলার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সাল থেকে পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় থাকা দুই দেশের এ আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করছে হিজবুল্লাহ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন

চলতি বছরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাসের জেরে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটেছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশেরও বেশি কমেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।   গ্রিনিচ মান সময় ৫টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৯ দশমিক ১৩ ডলারে নেমে আসে। আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৩৭ দশমিক ১০ ডলারে।     এদিকে স্পট রুপার দাম ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৭৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৩৬ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।     কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, এই সপ্তাহে তেলের দাম কমায় সোনা কিছুটা সুবিধা পেয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ক্ষেত্রে এমন কোনও সুবিধা পাচ্ছে না। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণে ডলারের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।   সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে ফেডের বৈঠকের আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৬১ শতাংশ।   গত সপ্তাহের শেষ দিকে ছুঁয়ে যাওয়া এক বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে ডলার। ফলে অন্যান্য মুদ্রাধারী ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৩, ২০২৬

এক দশকে ছয় প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটেনের সংকটের শেষ কোথায়

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে : ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড় করতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে চারটি নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান, মজুদ ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট

মিয়ানমারের সামরিক সরকার জানিয়েছে, দেশটির সমুদ্রাঞ্চলে চারটি নতুন অফশোর গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সরকার বলছে, এই আবিষ্কার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন গ্যাস ক্ষেত্রগুলো আয়েয়ারওয়াদি এবং তানিনথারই অঞ্চলের অফশোর রিজার্ভ এলাকায় অবস্থিত। এই চারটি ক্ষেত্র মিলিয়ে মোট প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষেত্রটি তানিনথারই গভীর সমুদ্র অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর সম্ভাব্যতা প্রায় ৯০ শতাংশ।   আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চলে পাওয়া নতুন গ্যাস ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে, যা প্রায় ১০০ শতাংশ সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   সরকার জানিয়েছে, ঘোষিত বড় গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে তানিনথারই এলাকার একটি ব্লকও থাকতে পারে, যেখানে প্রায় ৯৪.৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকার কথা আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।   এই ব্লকটি আন্দামান সাগরের দক্ষিণ তানিনথারই উপকূলে, কাদান দ্বীপের কাছে অবস্থিত এবং প্রায় ১৩,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ২০১৫ সালে এই ব্লকের জন্য সিঙ্গাপুরভিত্তিক কানাডিয়ান ফরসাইট গ্রুপ মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এমওজিইয়ের সঙ্গে প্রোডাকশন-শেয়ারিং চুক্তি করে।   ২০১৭ সালের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প থেকে মিয়ানমারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আসতে পারে। সে সময় গ্যাস মজুদের মূল্য প্রায় ২৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হিসেবে অনুমান করা হয়েছিল।   সরকার বলছে, নতুন গ্যাস প্রকল্পগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন এবং শিল্প খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস সংস্থা এমওজিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   সূত্র : ইরাবতী

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৩, ২০২৬

ফ্রান্সে তীব্র গরম-তাপপ্রবাহে ২ দিনে ১৮ জনের মৃত্যু

অবশেষে হরমুজ প্রণালি পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
কলকাতার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে গোপাল মুখার্জির নামে নামকরণ করা হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।   রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও সমালোচকরা বলছেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নন, বরং তার চাচা, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসক হাসান সোহরাওয়ার্দীর নামে সড়কটির নাম রাখা হয়েছিল।    এদিকে রোববার (২১ জুন) এক্সে দেয়া পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেন। পশ্চিমবঙ্গ দিবসে (২০ জুন) নেয়া এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি লেখেন, ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম এখন গোপাল মুখার্জি রোড করা হবে।   শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিন এমন একজনের নামে ছিল, যিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং রাজনৈতিক স্বার্থে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতার সময় দায়িত্বে ছিলেন।   অনেকে তার এই মন্তব্যকে অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় মুখপাত্র সাকেত গোখলে এক্সে লেখেন, ‘এই সড়কের নাম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে রাখা হয়নি।’   শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, গোপাল মুখার্জির নামে সড়কটির নামকরণ করলে একজন ‘প্রকৃত রক্ষক ও ত্রাণকর্তাকে’ সম্মান জানানো হবে এবং এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।   তিনি আরও লেখেন, ‘এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গ প্রকৃত বীরদের স্মরণ করবে, ভুল সংশোধন করবে এবং তাদের সম্মান জানাবে।’   সড়কটির নাম পরিবর্তনকে শুভেন্দু অধিকারী ঐতিহাসিক অন্যায় সংশোধন হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকরা ভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন। সড়কটির নাম আদৌ কি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে রাখা হয়েছিল কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা।   সাকেত গোখলে প্রথমদিকেই উল্লেখ করেন, সড়কটির নাম অবিভক্ত বাংলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে নয়; বরং তার চাচা হাসান সোহরাওয়ার্দীর নামে রাখা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষও এক্সে লেখেন, ‘আমার মনে হয় কলকাতা পৌর করপোরেশন বড় ধরনের ভুল করেছে।   তিনি উল্লেখ করেন, দুই সোহরাওয়ার্দী ছিলেন চাচা-ভাতিজা। তার ভাষায়, ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়টি যাচাই করা উচিত এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনকে নথিপত্র পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়া উচিত। যদি ভুলবশত ভাতিজার বদলে চাচাকে শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে তা দুর্ভাগ্যজনক হবে।’   হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য। তিনি ১৯৩০ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় মুসলিম ব্যক্তি হিসেবে ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনসের ফেলো নির্বাচিত হন।   মৃত্যুর এক বছর আগে ১৯৪৫ সালে তাকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতির অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি তিনি সাইমন কমিশনের উপদেষ্টা এবং বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ১৯২৩ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত তিনি কাউন্সিলের ডেপুটি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।   ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৯৩৩ সালে হাসান সোহরাওয়ার্দী জীবিত থাকতেই কলকাতা পৌর করপোরেশন পার্ক সার্কাস ও কসাইপাড়া লেন সংযোগকারী সড়কটির নাম তার নামে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তার বাসভবন ‘কাশানা’ ওই সড়কেই অবস্থিত ছিল। ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে এটি ছিল ভারতের বহু শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার আড্ডাস্থল।   দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসেও এই সড়কের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই সড়কের একটি ঔপনিবেশিক আমলের ভবনে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। এর আগে ভবনটি পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের

ছবি : সংগৃহীত

পর্তুগালে অনিশ্চয়তায় অভিবাসী শ্রমিকরা

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি ও লেবানন নিয়ে নতুন ব্যবস্থা

0 Comments