সরকারের গ্যারান্টি থাকা সত্ত্বেও সঞ্চয়কারীদের আগ্রহ হারাচ্ছে প্রাইজবন্ড। একদিকে নতুন করে প্রাইজবন্ড কেনা কমেছে, অন্যদিকে এ খাত থেকে মূল অর্থ ও পুরস্কারের অর্থ দেওয়ার পরিমাণও তলানিতে ঠেকেছে। ফলে প্রাইজবন্ড থেকে সরকারের সরাসরি ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচারের অভাব এবং বাজারে আরও সহজলভ্য ও লাভজনক বিকল্প সঞ্চয় মাধ্যম থাকায় প্রাইজবন্ডের প্রতি মানুষের এই অনীহা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও প্রাইজবন্ডকে আবার জনপ্রিয় করতে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের নতুন প্রাইজবন্ড চালুর পাশাপাশি পুরস্কারের অঙ্ক বড় করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনগণের জন্য সরকারের বিনিয়োগ প্রকল্প বা সঞ্চয়ী উপকরণ হিসেবে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রাইজবন্ড চালু করা হয়। বর্তমানে বাজারে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু রয়েছে। ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে এটি চালু করা হলেও প্রথমদিকে ১০ টাকা ও ৫০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড ছিল। মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার কারণে সেগুলো ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে বাতিল করা হয়। শুরুর দিকে এই বন্ড বিয়ে, জন্মদিন বা নানা পারিবারিক উৎসবে উপহার হিসাবে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। প্রিয়জনদের নানা উপলক্ষ্যেও দেওয়া হতো প্রাইজবন্ড। কারণ এটি বেশ সহজলভ্য। একই সঙ্গে যার হাতে যাবে সেই হবে এর মালিক। সময়ের বিবর্তনে এর গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা কমেছে।
নগদ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কোনো শাখা অফিস, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা, ডাকঘর ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের যে কোনো শাখা থেকে খুব সহজে নগদ টাকার বিনিময়ে প্রাইজবন্ড কেনা যায়। এটি কেনার ক্ষেত্রে কোনো বিনিয়োগ সীমা নেই। এতে কোনো সুদ বা মুনাফা দেওয়া হয় না। তবে প্রতি তিন মাস পরপর বছরে চারবার এর লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রাইজবন্ডের ৪৬টি সিরিজ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি নম্বরের ৪৬টি প্রাইজবন্ড আছে। প্রতি সিরিজের জন্য রয়েছে পুরস্কার। মোট ৪৬টি পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার ১টি ৬ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ১টি সোয়া ৩ লাখ টাকার। তৃতীয় পুরস্কার ২টি প্রতিটি ১ লাখ টাকা করে, চতুর্থ পুরস্কার ২টি প্রতিটি ৫০ হাজার টাকা করে এবং পঞ্চম পুরস্কার ৪০টি প্রতিটি ১০ হাজার টাকা করে। প্রতি সিরিজের জন্যই এসব পুরস্কার রয়েছে। সব মিলে প্রতি ড্রতে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার দেওয়া হয়। ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই বছরের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হয়। অর্থ স্থানান্তরের আগে ২০ শতাংশ হারে আয়কর কেটে রাখা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাইজবন্ড বিক্রির সংখ্যা বেশ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রাইজবন্ড বিক্রি হয়েছিল। গত অর্থবছরে বিক্রি হয়েছে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রাইজবন্ড। এক বছরের ব্যবধানে এর বিক্রি কমেছে ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বা ২১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল বিনিয়োগ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একই সময়ে লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মূল অর্থ পরিশোধ বাবদ অর্থ বাদ দিয়ে নিট বিক্রি ছিল ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মূল টাকা ও লটারির ড্র এই দুটি মিলে মোট পরিশোধ করা হয়েছে ১১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ গ্রস বিক্রির চেয়ে পরিশোধ করা হয়েছে ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি। এই বাড়তি অর্থ সরকারকে অন্য খাত থেকে এনে জোগান দিতে হয়েছে।
গত অর্থবছরে এ খাতেও অর্থ পরিশোধ কম হয়েছে। মূল অর্থ পরিশোধ করা হয় ৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ করা হয় ২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। মূল অর্থ পরিশোধ বাদ দিয়ে নিট বিক্রি হয়েছিল ২১ কোটি ৫০ লাখ টাকার। মূল অর্থ ও লটারির ড্র এ দুটি মিলে পরিশোধ করা হয় ৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গ্রস বিক্রির চেয়ে পরিশোধ বেশি করা হয় ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ অর্থও অন্য খাত থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তুলনায় গত অর্থবছরে প্রাইজবন্ডের মূল অর্থ পরিশোধ কমেছে ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ কমেছে ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ওই সময়ে নিট বিক্রি কমেছে ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
অথচ আগে প্রাইজবন্ডের বিক্রি বেশি ছিল। ফলে তা থেকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেও উদ্বৃত্ত থাকত। যা সরকার জনগণের কাছ থেকে ঋণ হিসাবে নিত। এখন এর বিক্রি কমায় সরকার নিট ঋণ নিতে পারছে না।
প্রাইজবন্ডের বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ প্রচারণার ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং বিকল্প সঞ্চয় মাধ্যমের আকর্ষণ প্রধান ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা। তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রাইজবন্ড সম্পর্কিত স্বচ্ছ ধারণার অভাব রয়েছে, কারণ এ বিষয়ে আগের মতো আর জোরালো প্রচারণা চালানো হয় না।
মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণে ১০০ টাকা এখন তেমন মূল্যবান না। সময়ের প্রয়োজনে এখন ১ হাজার টাকা, ৫০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড ছাড়া যেতে পারে। এছাড়া ব্যাংকগুলোতে এখন নানা ধরনের সঞ্চয়ী উপকরণ আছে। সেগুলো নিয়ে বেশ প্রচারও চলছে। ফলে গ্রাহকরা এখন সেদিকে ঝুঁকছেন। তবে প্রাইজবন্ডের সুবিধাগুলোর প্রচার করা দরকার। পাশাপাশি এর মুনাফার ওপর কর তুলে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে, বলেন এই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রচলিত উন্নয়ন ঋণের পাশাপাশি সরাসরি বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য সার্বভৌম তহবিল গঠনের বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দক্ষিণ কোরিয়া সফরের দ্বিতীয় কর্মদিবসে দেশটির সরকারি কর্মকর্তা, আর্থিক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিউলে অনুষ্ঠিত এসব আলোচনার তথ্য জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক বিভিন্ন খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আনার সম্ভাবনা নিয়ে কেআইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (কেএক্সিম) অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোরীয় ফান্ড ম্যানেজারদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এর আগে কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোয়াং কিয়েওনের সঙ্গে বৈঠকে ২০২৩ থেকে ২০২৭ মেয়াদের ৩ বিলিয়ন ডলারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়। এ কাঠামোর আওতায় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের বিষয়টি আলোচনায় আসে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ইডিসিএফের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো এখনো পর্যালোচনাধীন। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্প প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে কেএক্সিম। বাংলাদেশ অবশিষ্ট ইডিসিএফ অর্থ ব্যবহারে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি এআই, ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো নতুন খাতে সহযোগিতার বিষয়ও তুলে ধরেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুহের সঙ্গে বৈঠকেও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নত উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তাপুষ্ট ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগের মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে কোরিয়ার চলমান কারিগরি সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে উদ্যোগটির অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে কোরিয়ার আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কোরীয় পক্ষ। এআই খাতেও দুই দেশের সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এআই ও ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষাও তুলে ধরে প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে, ফিউরিওসাএআইয়ের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের উচ্চমূল্য সংযোজনকারী এআই ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এআই-সংযুক্ত অবকাঠামো প্রকল্পের সম্ভাবনা অনুসন্ধানেও আগ্রহ দেখিয়েছে কেএক্সিম। কোরীয় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নগর উন্নয়ন, পর্যটন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ছাদভিত্তিক ও বড় পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নির্বাচিত নগর উন্নয়ন উদ্যোগের বিষয়ও উঠে আসে। শুধু প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) ঠিকাদারি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়ে কারিগরি আলোচনা চালিয়ে যেতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া ইয়ংওয়ানের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ খাতে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোরিয়ার সরবরাহমূল্য শৃঙ্খলে বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই দেশের আলোচনায় প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুযোগের ভিত্তিতে বৃহত্তর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। এসব আলোচনা বাস্তব প্রকল্প ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বে রূপ দিতে পরামর্শ অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ডলারের দরপতন হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক লাফে ৩ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও রাজস্ব পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে দেশটির কর্মসংস্থানসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। বুধবার (৪ নভেম্বর) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৬ দশমিক ৯১ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৭ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় স্বর্ণের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশটির রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। এই উদ্বেগ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে স্বর্ণের দাম আরো বাড়ার ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। হামাদ হুসেইনের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখতে পারে। এতে স্বর্ণের দামে আরো বড় উত্থানের সুযোগ সীমিত হবে। কারণ, সুদের হার বাড়লে মুনাফাবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন লেনদেনকারীরা। তাদের হিসাবে, এ সম্ভাবনা ৮৩ শতাংশ। স্বর্ণের পাশাপাশি বুধবার বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫১ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৬১ দশমিক ৫৮ ডলার হয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৮৫ দশমিক ৬৪ ডলার। এদিক দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বেচাকিনা হচ্ছে। এ ছাড়া ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ২১৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে 'বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬' উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এখন সি-স্টেজে রয়েছে। এ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যেতে হচ্ছে। আজ পর্যন্ত কেন্দ্রটি ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতা অর্জন করেছে। এই সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছালে উৎপাদিত বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনের মাধ্যমে জেনারেটর চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে আরও বেশ কিছু পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি খুলে আবার পরীক্ষা ও মেরামত করা হবে। একবার নয়, প্রয়োজনে দুই, তিন বা চারবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে না। মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে চান না তিনি। কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে অনেক সূক্ষ্ম কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সময়ের প্রয়োজন হয়। মন্ত্রী বলেন, একটি ভিভিআর ভালভ নিয়ে প্রায় দুই মাস কাজ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান হয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিজ্ঞানী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকসহ মাঠপর্যায়ে কর্মরত বাংলাদেশি ও রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে প্রায় ৪৯ জন রাশিয়ান বিজ্ঞানী এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি হতে পারে বলে আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।