জাতীয়

কুরবানির চামড়া নিয়ে এবারও বিপর্যয়ের শঙ্কা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চামড়াশিল্প এখন খাদের কিনারে। কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে যে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ আবর্তিত হতো, তা এখন পঙ্গুত্বের পর্যায়ে। তীব্র মূলধন সংকটের সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্মসহ নানা কারণে দেশের অন্যতম প্রধান এই জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ঈদের দুই দিন আগেও নেই কোনো হাঁকডাক।

 

কুরবানির চামড়া নিয়ে ধারাবাহিক বিপর্যয়ের কারণে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছে দেশের প্রান্তিক, অসহায় এতিম শিশু এবং কওমি মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলো। দেশের লাখ লাখ এতিম শিক্ষার্থীর খাদ্য, বস্ত্র ও শিক্ষার সংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

 

কেউ কেউ বলছেন, এটা আকস্মিক কোনো ইস্যু নয়, কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার এক গভীর দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং চামড়াশিল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুরবানির কাঁচা চামড়ার বাজারে চরম ধস নামার আশঙ্কার পেছনে মূলত পাঁচটি বড় কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে— তীব্র তারল্য ও ব্যাংক ঋণ সংকট, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর (বিসিক) ব্যর্থতা, লবণ ও কেমিক্যালের দাম বেড়ে যাওয়া, মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অজ্ঞতা। পর্যাপ্ত ঋণ না পাওয়ায় নগদ টাকার তীব্র সংকটে ভুগছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

 

কাঁচা চামড়া কেনায় কয়েক বছর ধরেই ব্যাংক ঋণ বিতরণের পরিমাণ কমছে। এ খাতের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী খেলাপি হয়ে পড়ায় ব্যাংকগুলোর ঋণ দিতে অনীহা রয়েছে।

 

ব্যাংক ঋণের গোলকধাঁধায় ট্যানারি মালিকরা

প্রতিবছরই কুরবানির আগে চামড়া কেনার জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু সিংহভাগ ট্যানারি মালিক এই ঋণ পান না।

 

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র সহসভাপতি মো. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের অজুহাত দেখিয়ে টাকা দেয় না। সাভারে স্থানান্তরের পর থেকে অধিকাংশ ট্যানারি এমনিতেই লোকসানে চলছে। আড়তদাররা টাকা না পেলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কেনে না। ফলে কুরবানির চামড়ার বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

 

উল্লেখ্য, এ বছর চামড়া সংরক্ষণে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৮ কোটি টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটির নিচে নেমে আসবে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

 

মাদ্রাসা শিক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার আন্তর্জাতিক চক্রান্ত?

চামড়াশিল্পের এই ধ্বংসাত্মক দশাকে কেবল অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে নারাজ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও সমাজবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এর মূল উদ্দেশ্য দেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া।

 

ঢাকার দক্ষিণখানের দারুল আবরার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা আবদুল হান্নান বলেন, চামড়াজাত পণ্যের দাম প্রতিবছর বাড়লেও বিপরীতে কুরবানির চামড়ার দাম কমছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এটা কী করে হয়? পৃথিবীর কোনো দেশে এটা হয় কিনা আমার জানা নেই। অবশ্যই এর পেছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও কারসাজি।

 

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, কুরবানির চামড়া বা তার বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিজে ভোগ করা যায় না; এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে দরিদ্র, এতিম, মিসকিন এবং লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থীদের হক। অথচ এতিমদের এই হক মাটি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

অনেকে বলছেন, দেশে চামড়ার দাম তলানিতে নামার পেছনে ভারতের একটি বড় হাত রয়েছে। বাংলাদেশে কাঁচা চামড়ার দাম কম থাকলে তা অবৈধ পথে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পাচার হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

 

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া খাত যাতে ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, সেজন্যও বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাময় খাতকে ক্রমান্বয়ে অকার্যকর করে রাখার একটি আন্তর্জাতিক লবিং সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

খিলগাঁও গোড়ান বাজারে জামেয়া ইসলামিয়া ফজলুর রহমান ভূঁইয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ইনচার্জ মাওলানা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মাদ্রাসার ছেলেগুলো এখন আর চামড়া কালেকশন করতে যেতে চায় না। অনেক এতিমখানায় চামড়া সংগ্রহ করা হয় না। এটি মাদ্রাসা শিক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

 

সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত এতিম, অসহায় ও কওমি মাদ্রাসা

দেশের কওমি মাদ্রাসা, দারুল উলুম মাদ্রাসা এবং এতিমখানাগুলোর বার্ষিক বাজেটের একটি বিশাল অংশ— প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ— আসে কুরবানির চামড়া বিক্রি থেকে।

মাদ্রাসা পরিচালনাকারী ও ওলামাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। চামড়ার টাকা দিয়ে সারা বছর হাজার হাজার এতিম ও দুস্থ শিশুর তিন বেলার খাবার এবং চিকিৎসার খরচ চালানো হয়। এই খাত বন্ধ হওয়ায় অনেক মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি

চামড়া খাতের সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে এবারও নানামুখী তৎপরতা ও কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের সব ডিসি, ইউএনও এবং পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে কেউ চামড়া নিয়ে কারসাজি করতে না পারে। চামড়া পাচার রোধে বিজিবির নজরদারি জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
সবাইকে সঙ্গে নিয়েই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলে দেশকে স্বাধীন করেছে। এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কাজও করতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবে, এটাই হওয়া উচিত সবার প্রত্যাশা।   মঙ্গলবার রংপুরের পাগলাপীরে এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ডও চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য গুরুজনদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। দেশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।   শারদীয় দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি উৎসবের সময়। এ উৎসবকে সামনে রেখে তিনি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলে দেশকে স্বাধীন করেছে। একইভাবে এখন দেশের উন্নয়ন ও গঠনের কাজেও সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশ সবার। তাই দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্বও সবার। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।   সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবাই মিলে পরিশ্রম করে দেশকে গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক সবার অঙ্গীকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সৈয়দপুরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা

ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রথমবার ইউএনও সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা

কাজী রাকিব‍ হোসাইন। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির সহকারী প্রেস সচিব কাজী রাকিব হোসাইনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ছবি: সংগৃহীত
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।   সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।   সারাহ কুক জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আসছে। গত নয় বছরে রোহিঙ্গাদের জন্য দেশটি ৪৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।   তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া জরুরি। সেই পরিবেশ তৈরি হলে তাঁরা যেন নিরাপত্তা ও মর্যাদা বজায় রেখে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করছে।   বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক এই সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।   বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   এদিকে মির্জাপুরের কুমুদিনীতে দুর্গাপূজার আয়োজনের প্রশংসা করে সারাহ কুক বলেন, এ উৎসবে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছেন। এটি তাঁর তৃতীয়বারের মতো কুমুদিনীর পূজার আয়োজনে অংশগ্রহণ।   তিনি জানান, প্রতিবারই পূজার বর্ণাঢ্য আয়োজন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ তাঁকে মুগ্ধ করে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে অনন্য করে তুলেছে।   এর আগে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ ফুল দিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে স্বাগত জানায়। পরে তিনি কুমুদিনী লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন।   সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে নৌকাযোগে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে যান সারাহ কুক। সেখানে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে বাড়ির কাছে আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

ওএমএস এর চাল-আটা বিক্রির বরাদ্দ হ্রাসে খানির উদ্বেগ প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

ইশরাকের পদত্যাগের পর ‘ক্ষমতা’ নিয়ে মার্টিন লুথার কিংয়ের উক্তি শেয়ার স্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।   সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার শ্রীশ্রী পূর্ব বাড্ডা নিমতলা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   নাহিদ ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য যিনি প্রধানত দায়ী, সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কোনো ধরনের জবাবদিহির মুখোমুখি করা হচ্ছে না। দেশবাসী এখন তাঁর পদত্যাগের অপেক্ষায় রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা।   ইশরাক হোসেনের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। এর আগে ‘মিষ্টি’ নামে উল্লেখ করা এক ব্যক্তির পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিকেও এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।   দেশ পরিচালনায় একজন ব্যক্তির ইচ্ছা, অনিচ্ছা, অনুরোধ বা নির্দেশের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, কমিটির কার্যক্রমের নামে সরকার নাটক করছে এবং জনগণ এ উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর দাবি, দলীয় বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কমিটির বৈঠক করে বিএনপি নিজেদের পছন্দের সংস্কারের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রহসনের শামিল।   মন্দির পরিদর্শনের সময় নাহিদ ইসলামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পূজা দেখে ফেরার পথে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই ভাই-বোনের

0 Comments