সারাদেশ

ভারী বৃষ্টিতে ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি, বাড়তি ভাড়ায় ক্ষোভ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারি বৃষ্টিতে টার্মিনাল পর্যন্ত যেতেই বিপর্যস্ত যাত্রীরা। কষ্ট করে পৌঁছানোর পর বাসের দেখা নেই। মিলছে না পর্যাপ্ত গণপরিবহণ। আবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর যেসব বাস পাওয়া গেছে, সেখানে বাড়তি ভাড়ার চাপ। জনপ্রতি ৫০ থেকে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বেশির ভাগ বাসে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমজীবীসহ সাধারণ যাত্রীদের অনেকে। এসব নিয়ে পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডাও হচ্ছে। আবার যারা আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তাদের অনেকেই পড়ছেন শিডিউল বিপর্যয়ের অস্বস্তিতে।

 

অন্যদিকে অনেক বাস ও ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। ওইসব বাস ও ট্রেনের যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে টিকিট থাকার পরও ট্রেনে উঠতে পারেননি অনেক যাত্রী। এছাড়া সড়ক-মহাসড়কে ছিল থেমে থেমে যানজট। পথে পথে এমন ভোগান্তির পরও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উৎসব করতে বাড়ি গেছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ঈদের আগে ভোগান্তি সত্ত্বেও যাদের কাছে বাড়ি যেতে পারাই হচ্ছে বড় এক আনন্দযাত্রা। সরেজমিন বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে সোমবার এমনই চিত্র দেখা গেছে।

 

সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) ছিল উপচে পড়া ভিড়। সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় এদিন কর্মজীবী মানুষ আগেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ছিল। যাত্রীর চাপ থাকার সুযোগ নিয়ে অনেক আনফিট বাসও সড়কে নামানো হয়। আবার বেপরোয়া চালানোর কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দূর্ঘটনায় অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

 

সড়ক দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনায় পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের দায়ী করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবে না-এমন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন বাস মালিকরা। স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ বিকল্প পদ্ধতিতে গন্তব্যে যেতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। এ অবস্থায় বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী বৃহস্পতিবার। ঈদ সামনে রেখে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছে লাখ লাখ মানুষ। সে কারণে অনেকটাই ফাঁকা হতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাস, লঞ্চ ও ট্রেন স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতা দেখা গেছে চোখে পড়ার মতো। বাড়তি ভাড়া আদায়ের কারণে বেশ কয়েকটি বাস কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়েছে। তবুও ভোগান্তি পিছু ছাড়েনি। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরবসহ বিভিন্ন স্থানে যানজটে আটকা পড়েন যাত্রীরা।

 

নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন বেসরকারি চাকরিজীবী বুলবুল হোসেন। ভোগান্তির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সকাল থেকে পদ্মা পরিবহণের কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস পাননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কাউন্টারে বসে আছি, এখনো গাড়ি আসেনি। সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ২৫০ টাকা, এখন সেটাই ৪৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে।’ ঈদের সময় মানুষ পরিবারের কাছে যেতে চায়, সেই সুযোগে কিছু পরিবহণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে জানান তিনি। বুলবুল হোসেন বলেন, এত কষ্টের পরও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করব এটাই বড় পাওয়া। তাই এটাই আমার কাছে আনন্দযাত্রা।

 

গোল্ডেন লাইন পরিবহণের বাসে ফরিদপুর যাওয়ার জন্য সায়েদাবাদে কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, দুপুর ২টায় বাস ছাড়ার কথা। সেই বাস ১ ঘণ্টা পরে এসেছে। যাত্রীদের এত চাপ যে, কাউন্টারে বসার মতো জায়গাও পাইনি। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ করতে যাচ্ছি, সেটাই এখন বড় কথা। বলতে পারেন আনন্দ-ভোগান্তি নিয়েই বাড়ি যাচ্ছি।

 

বরিশালের কয়েকজন যাত্রী জানান, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বাসে ৭০০-৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। অথচ আগে ভাড়া নেওয়া হতো ৫০০-৫৫০ টাকা।

 

রাজধানীর উত্তরায় আব্দুল্লাহপুরে গিয়ে দেখা যায়, বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন শত শত যাত্রী। ঈদযাত্রায় সঙ্গে রয়েছে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও। অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ, কাউন্টারে টিকিট না পাওয়ায় বাসের আশায় উড়াল সেতুতে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের অনেকেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন। শেরপুরের নালিতাবাড়ী যাওয়ার জন্য বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা ষাটোর্ধ্ব রফিকুল ইসলাম জানান, ‘শেরপুরের ভাড়া হইলো ৩৫০-৪০০ টাকা। এখন ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা ভাড়া দাবি করছে। এই জায়গায় কয়েক ঘণ্টা ধইরা দাঁড়াইয়া আছি বাসের লাইগ্যা। এগুলো কি দ্যাহার কেউ নাই?’

 

মাদ্রাসা ছুটি হওয়ায় বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী তাওহিদুল ইসলাম জানান, ‘আমি সিরাজগঞ্জে যাব। আমার বন্ধুদের কেউ নাটোর, কেউ ময়মনসিংহে যাবে।’ তিনি বলেন, বাসে এক হাজার টাকা ভাড়া দাবি করছে। অনেকক্ষণ এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে ছিলাম বাসের জন্য। সেখানে না পেয়ে আব্দুল্লাহপুর এলাম। এখানে বেশি ভাড়া আদায় করছে।

 

উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে ভাঙাচোরা সড়কে চরম দুর্ভোগের চিত্রও দেখা গেছে। এতে যানবাহনের ধীরগতি ও যানজটে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। আব্দুল্লাহপুর উড়াল সড়কের নিচের মহাসড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়কটিই ভাঙাচোরা ও কাদাপানিতে একাকার। পরিবহণ চালকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তার এমন অবস্থা। রাস্তা ভাঙা হওয়ায় গাড়ি আস্তে আস্তে চালাতে হয়। ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর এমন যানজটের কারণে ভোগান্তির কথা জানিয়েছে যাত্রীরাও। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর ট্রাফিক বক্সের পরিদর্শক (টিআই) আরাফাত আহমেদ বলেন, ঈদের কারণে রাস্তায় চাপ রয়েছে। রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে কিছুটা ভোগান্তি তো হচ্ছেই। তবে সড়কে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা তৎপর রয়েছি।

 

এদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে বাসচালকদের এমন বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, ঈদযাত্রায় কোনো প্রকার বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। যদি কোনো বাস কর্তৃপক্ষ বাড়তি ভাড়া আদায় করে তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।

 

টিকিট কেটেও ট্রেনে উঠতে পারেননি অনেক যাত্রী : সোমবার সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে ছাড়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হলেও ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দে অনেকেই পরিস্থিতি মেনে নেন। রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে সময়সূচিতে কিছুটা গড়বড় হচ্ছে।

 

সোমবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ধূমকেতু এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস এবং রংপুর এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ে সকাল সাড়ে ৬টায়। নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার সূচি ছিল, কিন্তু ওই ট্রেনটি ছেড়েছে ৮টা ১০ মিনিটে। এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও ট্রেনটির সম্ভাব্য ছাড়ার সময় দেওয়া হয় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট।

 

এদিকে ভিড়ে ঠাসা যাত্রীবাহী ট্রেনের এক একটি বগিতে নির্ধারিত যাত্রীর চেয়ে চারগুণ বেশি যাত্রী। এ রকম ভিড়ের কারণে ট্রেনে কেউ দরজা ধরে ঝুলছেন, কেউ আবার ছাদে। এছাড়া বগির সংযোগস্থল, ইঞ্জিনের দুপাশেও ঝুলে ছুটছেন সাধারণ যাত্রীরা। রেলওয়ের সাফ বক্তব্য, ট্রেনগুলো ঝুঁকি কী নিয়েই চালাতে হচ্ছে। উনিশ থেকে বিশ হলেই সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে। ঈদ উপলক্ষ্যে কোনো সময়ই যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বছরের পর বছর এমন ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন চালাতে হচ্ছে-চড়ছেন যাত্রীরাও। নিত্যযাত্রীরা সেই ভিড়ের মধ্যেই কোনোরকমে মাথা গুঁজে ঠাঁই করে নিচ্ছে। ঈদযাত্রায় ট্রেনের যে দৃশ্য উঠে আসছে, তা বিরল। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, মানুষের ভিড়ের কারণে আগাম টিকিট থাকার পরও তারা নির্দিস্ট ট্রেনে উঠতে পারেননি।

 

রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) প্রকৌশলী ফকির মো. মহিউদ্দিন বলেন, ঈদ ছাড়াও যাত্রীদের প্রচুর চাহিদা রেলপথে ভ্রমণের। ঈদে যে পরিমাণ চাহিদা। চাহিদার কয়েক শতাংশও পূরণ করা সম্ভব হয় না। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় ১ কোটি হিট (টিকিট কাটার জন্য অনলাইনে প্রবেশ) পড়ে। ঈদযাত্রায় সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

লঞ্চযাত্রায় অনেকটা স্বস্তি : বাস ও ট্রেনের তুলনায় লঞ্চে যাত্রী তুলনামূলক কম ছিল। বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে নৌপথের যাত্রী চলাচলে। সোমবার বিকাল পর্যন্ত যাত্রী উপস্থিতি কম ছিল। তবে সন্ধ্যার পর যাত্রী উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়।

 

কেরানীগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী মোস্তফা ইব্রাহিম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় রওয়ানা হন। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফিরছেন। বাসের চেয়ে লঞ্চযাত্রা আমার জন্য সুবিধাজনক। বাসে গেলে আগে বরিশাল যেতে হয়, এরপর আবার নৌপথে ভোলায় যেতে হয়। কিন্তু লঞ্চে একবার উঠলেই সরাসরি যাওয়া যায়। এজন্যই লঞ্চে যাওয়া। সদরঘাট এসেই লঞ্চ পেয়েছি। আশা করি স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারব।

 

পটুয়াখালীর বাউফলে যাবেন কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের তেমন চাপ নেই। তবে বৃষ্টির কারণে বাসা থেকে সদরঘাট আসতে কষ্ট হয়েছে। আশা করি, ভালোভাবে বাসায় পৌঁছে মা-বাবা-আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদ করব।

 

ঢাকা-কালীগঞ্জ-ইলিশা রুটের সম্পদ লঞ্চের সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে যাত্রী আরও বেশি হতো। তারপরও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যাত্রী বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই।

 

পটুয়াখালীর বাউফলে যাবেন কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের তেমন চাপ নেই। তবে বৃষ্টির কারণে বাসা থেকে সদরঘাট আসতে কষ্ট হয়েছে। আশা করি, ভালোভাবে বাসায় পৌঁছে মা-বাবা-আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদ করব।

 

ঢাকা-কালীগঞ্জ-ইলিশা রুটের সম্পদ লঞ্চের সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে যাত্রী আরও বেশি হতো। তারপরও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যাত্রী বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
৬ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২৮ জনের মৃত্যু

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আবারও এক রক্তাক্ত দিন পার হলো। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের ছয়টি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইলেই এক মর্মান্তিক ট্রাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন।   এছাড়া বগুড়ায় চার, কিশোরগঞ্জে তিন, সিরাজগঞ্জে তিন, মানিকগঞ্জে এক, গোপালগঞ্জে এক এবং নোয়াখালীতে একজন মারা গেছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকেই।   জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত প্রতিবেদন:   টাঙ্গাইল: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় সোমবার ভোর ৪টার দিকে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই পরিবহন খরচ বাঁচাতে যাত্রীবাহী বাসে না উঠে রডবোঝাই ওই ট্রাকে করে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে গেলে যাত্রীরা রডের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।   নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জের নজরুল ইসলাম (৫৫) ও মামুন (৪০); নওগাঁর সাগর মিয়া (২০), রবিউল ইসলাম (২৫), মাইনুল ইসলাম (৩৫), মাইনুল (৩৮), আলমগীর হোসেন সুজন (২৪), ইয়াকুব (১৫), বাদশা (২৮), তারেক (২০), আব্দুল বারিক (২০) ও গিয়াস উদ্দিন (২২); রাজশাহীর ইসমাইল হোসেন (২৫); কুষ্টিয়ার হাসান আলী (৩৯) এবং নাটোরের মোহাম্মদ আলম মোল্লা।   গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান জানান, মালবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।   বগুড়া: বগুড়ায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে জেসমিন খাতুন (৪৫) ও তার মেয়ে তণু আক্তার (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।   এর আগে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও মেয়ে নিহত হন।   নিহতরা হলেন- রংপুরে ব্র্যাকে কর্মরত আনিছুর রহমান ও তার চার বছরের শিশু সন্তান পুষ্প। এ ঘটনায় আনিছুর রহমানের স্ত্রী আয়েশা বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা মোটরসাইকেলে করে রংপুর থেকে পাবনায় গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন।   কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী, স্ত্রী ও তাদের ছয় বছরের সন্তান নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের কাস্তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহতরা হলেন- মিঠামইন উপজেলার মহিষা কান্দি গ্রামের মনির হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও সন্তান আয়ান (৬)।   পুলিশ জানায়, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যান তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় জনতা ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি আটক করেছে।   সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লবণবোঝাই ভটভটির সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সিএনজি যাত্রী শিশু সারা খাতুন (৮) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া একই মহাসড়কের মশিপুর এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে আহম্মদ (৭) নামের এক শিশু নিহত হয়। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, ঘাতক যানগুলো আটক করা হয়েছে।   মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায় সোমবার বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) নামের এক তরুণ মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী আরাফাত (১৮) গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাশুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক মাইক্রোবাস চালক নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে ‘কোটালীপাড়া স্টার এক্সপ্রেস’ নামের একটি বাস অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতমুখী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। একই সময় পেছন থেকে একটি প্রাইভেটকারও এসে ধাক্কা মারে। এতে বাসটি খাদে পড়ে যায় এবং অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।   নোয়াখালী: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মালবাহী নসিমন উল্টে রহিম উল্যাহ (৩২) নামের এক পোল্ট্রি খামারি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করিম বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রহিম উল্যাহ ওই ইউনিয়নের তোরাব আলী গ্রামের মৃত শফিউল্যাহ সওদাগরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন মুরগি ব্যবসায়ী ছিলেন।   চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারী বৃষ্টিতে ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি, বাড়তি ভাড়ায় ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির বাজারে দেশি মাঝারি গরুতেই বেশি আগ্রহ

অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‌‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে রাজসিক সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় জানিয়েছে ‘রাবেয়া এগ্রো ফার্ম’ কর্তৃপক্ষ। ছবি : সংগৃহীত

খামার থেকে লাল গালিচায়, বিদায় নিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি

টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সিলেট বিভাগে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল সোমবার (২৫ মে) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় সিলেটে ১৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা) জেলায় ৩৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।   সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, পিয়াইন ও লোভা নদীর সবকটি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টেই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সব নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।   সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৃষ্টির এই প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।   সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ কালবেলাকে বলেন, সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল। মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝরনা বেয়ে নেমে আসা পানিই মূলত সিলেটের নদীগুলো দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয় বৃষ্টিপাতেরও কিছুটা প্রভাব রয়েছে, তবে সাধারণত দেশের অভ্যন্তরীণ বৃষ্টির কারণে এখানে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় না। সিলেটের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছরই এখানে গড়ে চার থেকে পাঁচবার আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, তবে প্রতিবারই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে না।   বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস নিয়ে তিনি আরও বলেন, সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অনেকাংশেই মেঘালয়ের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। অনেক সময় দেশে বৃষ্টি না থাকলেও উজানে ভারী বর্ষণের কারণে এখানে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। আবার মেঘালয়ে বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতিও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। এই মুহূর্তে বন্যার সম্ভাবনা ৫০-৫০ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি পুরোপুরি উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করছে। তাই আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত ফসলের কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।   সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সিলেটবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে যে পানি আসছে, তা দ্রুতই নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে যাচ্ছে। উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে সাধারণ আশঙ্কা থাকলেও আপাতত বড় ধরনের বা দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কোনো সম্ভাবনা নেই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দিয়াবাড়ি হাটে গরু এনে ভোগান্তিতে বেপারীরা

ছবি: সংগৃহীত

ভেজালের দায়ে ধ্বংস ৬০ মণ হলুদ-মরিচের গুঁড়া, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

শুরু হলো ঈদের ছুটি, বাড়ি ফিরছে ঢাকাবাসী

জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিন।
কৃষি ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন

জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।  অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে রবিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আদেশ ১৯৭৩ এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হল। তিনি যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছর এ পদে নিযুক্ত থাকবেন। জনস্বার্থে এর আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

মারিয়া রহমান মে ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

চলন্ত পিকআপে আগুন, এক ঘণ্টা বন্ধ এক্সপ্রেসওয়ের যান চলাচল

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীতে অভিযান, জালনোটসহ ধরা পড়ল ২ জন

সংগৃহীত ছবি

ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা: নিহত ১, আহত ৩

0 Comments