আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই কোনো চুক্তি নয়: ইরান

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও এখনই কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইরান। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই তথ্য জানান। সোমবারই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর এমন মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। খবর বিবিসি, সিনহুয়া, আলজাজিরার।

 

ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি ঠিক যে, আলোচনার বিষয়গুলোর একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এখনই একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে বলে কেউ দাবি করতে পারবে।’

 

সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় মূলত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিলেও পরে তিনি তার প্রতিনিধিদের চুক্তির বিষয়ে ‘তাড়াহুড়া না করতে’ নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোমবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সাংবাদিকদের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম গত রাতেই (রোববার) হয়তো কোনো খবর পাব। অথবা আজ পেতে পারি।’ তবে ‘এটিকে খুব বড় করে না দেখার’ বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘ইরানের কাছ থেকে জবাব পেতে কিছুটা সময় লাগে।’

 

কাতারে উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধিদল : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে সোমবার দোহায় পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ অন্যদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিনিধিদলের সফরের মূল লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানের ওপর ‘চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসী যুদ্ধ’ অবসানের জন্য সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও এগিয়ে নেওয়া।

 

সৌদি আরব-কাতারকে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বান : এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসাবে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তানসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসাবে তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার ট্র–থ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প জানান, শনিবার তিনি কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি বলেন, আমি তাদের জানিয়েছি, যুক্তরাষ্ট্র এই জটিল পরিস্থিতি সমাধানে যে পরিমাণ কাজ করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।’ এরই মধ্যে আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো, সুদান ও কাজাখস্তান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

 

হরমুজ খুলে দিলে পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত : ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়, তবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে খুবই গুরুত্বসহকারে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। রোববার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লি সফরের সময় এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘প্রণালিটি অবিলম্বে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং তারপর আমরা নির্ধারিত প্যারামিটারের অধীনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনায় প্রবেশ করব।’ তিনি বলেন, ‘এতে কয়েক বছর সময় লাগবে না, তবে এসব প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সমাধান করতে কিছুটা সময় লাগবে।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে যদি এই আলোচনা ফলপ্রসূ না হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
মক্কা চুক্তিতে ইরানের যোগদানের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে রাশিয়া: লাভরভ

ইরান যদি মনে করে যে মক্কা চুক্তিতে যোগদান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে, তাহলে তেহরানের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে মস্কো। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এ কথা বলেন। খবর তাসের।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লাভরভ বলেন, ইরানের নেতৃত্ব যদি কোনো পর্যায়ে মনে করে, এই জোটের সঙ্গে যোগাযোগ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনভাবে উন্নয়নের পথ এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে, তাহলে রাশিয়া তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে।   লাভরভ বলেন, মক্কা চুক্তি গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল রাশিয়া। এই জোটের ঘোষিত লক্ষ্য হলো স্থিতিশীলতা অর্জন, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সহযোগিতা বাড়ানো; এমন ধারণার ভিত্তিতেই মস্কো বিষয়টি বিবেচনা করে।   তিনি আরও বলেন, আরব রাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশ ও অঞ্চল এই ত্রয়ী জোটের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এর কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   এর আগে তিনি বলেন ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ চুক্তি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসবে না রাশিয়া। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলো কার্যকর করার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন এই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   তিনি বলেন, ‘বারবার উল্লেখ করা কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ চুক্তি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার কোনো ইচ্ছা রাশিয়ার নেই।’   সূত্র : তাস

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নির্বাচনের আগে চাপে নেতানিয়াহু, জরিপে এগিয়ে বিরোধী নেতা আইজেনকট

সংগৃহীত ছবি

প্যারিস মুসলিমদের শহর হয়ে উঠবে, দাবি ট্রাম্পের

ফাইল ছবি

ডেমোক্র্যাটরা জিতলে যুক্তরাষ্ট্রেও ফ্রান্সের মতো সহিংসতা হতে পারে: ট্রাম্প

প্যারিসসহ কয়েকটি অঞ্চলে এ কারফিউ জারি থাকবে। সংগৃহীত ছবি
বিক্ষোভ-উত্তেজনায় ফ্রান্স, বিভিন্ন শহরে ‘কারফিউ’ জারি

চলমান দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় অংশসহ বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে ফ্রান্স। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি এলাকায় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।   ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশটিতে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য। বিবিসি বলছে, ভাঙচুর-লুটপাটে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।   চলমান আন্দোলনে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।   প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলসহ অন্যান্য শহরেও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।   ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাও করবে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।   এদিকে দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো হতে পারে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো।   সহিংসতার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন, কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো তা প্রত্যাখ্যান করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুই সিজেপি নেতার জামিন শুনানিতে বিলম্ব, ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের হাসিবুরের রোবট বানিয়ে বিশ্ব জয়

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু, বিকল্প বন্ধু খুঁজছে ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে স্কুল আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক সংকট: কীভাবে বদলে গেল পরিস্থিতি

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও সরকারি সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ থেকে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবারের আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে।   ফ্রান্সজুড়ে চলমান বিক্ষোভে শনিবার প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও আন্দোলনকারীদের একটি ছোট অংশ বিভিন্ন ভবনে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালায়।   ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, বিক্ষোভের ঘটনায় ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ জন পুলিশ সদস্য।   এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সংকট। সরকারি সেবার মান কমে যাওয়া, পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে, এমন আশাও হারাচ্ছেন অনেকে।   স্কুল অবরোধের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কীভাবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জন্য এর অর্থ কী, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে আলজাজিরা।   যেভাবে ছড়িয়ে পড়ল বিক্ষোভ গত মাসে প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের বসবাস করা শহরতলির বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। শিক্ষকসংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত দুরবস্থার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে স্কুল অবরোধ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি বোর্দো, রেন, নান্ত, লিওঁ, লিল ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।   শনিবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকরাও অংশ নেন।   এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক ইতিহাসের অধ্যাপক এমিল শাবাল আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক বিক্ষোভের যৌক্তিক পরিণতি হলো বর্তমান পরিস্থিতি।’   তার মতে, আর্থিক চাপ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ থেকেই ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল। এই ব্যবস্থায় প্রায়ই ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মতো মধ্যপন্থি প্রার্থীরা নির্বাচিত হন।   শনিবারের বিক্ষোভে দীর্ঘ দিনের এসব ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ। ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনেও উন্নত সরকারি সেবার দাবি জানানো হয়েছিল।   শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বৃহত্তর সামাজিক দাবিগুলো এক হয়ে যাওয়াকে ফরাসি সরকারের জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ বলে উল্লেখ করেন শাবাল।   শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়ন। দেশটির এসব বিদ্যালয়ে সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে।   শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যালয়ের ভবন ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অতিরিক্ত ক্লান্তিকর ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগের সঙ্গে তরুণদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ দিতে রাষ্ট্র কতটা সক্ষম, সেই প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।   অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের কর্মচারীসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের কাছে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেতন বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি।   সরকারের বাজেট পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সরকারি খাতের ধর্মঘটের সঙ্গে একই সময়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। ফলে শিক্ষা, শ্রমিক অধিকার ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভ একসঙ্গে প্রকাশের সুযোগ পায়।   ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে ৫৪ বিলিয়ন ইউরোর ব্যয় সংকোচন ও করসংক্রান্ত পদক্ষেপের পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট ঘাটতি কমানোর জন্য এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি করছে সরকার।   প্রস্তাবের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন নির্ধারণে ব্যবহৃত বেতন কাঠামো স্থগিত রাখার বিষয়টিও রয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, এটি কার্যকর হলে টানা চতুর্থ বছরের মতো তাদের বেতন কাঠামোতে স্থবিরতা তৈরি হবে।   সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডোনাতেলা দেলা পোর্তা বলেন, শিক্ষার্থীরা বৈষম্য, সরকারি বিনিয়োগ কমানো এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছেন। তাদের দাবি, সামরিকীকরণের পরিবর্তে সামাজিক কল্যাণ খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে।   তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘তারা যুদ্ধ করতে চায় না; তারা ভিন্ন একটি ভবিষ্যৎ চায়।’   গাজা ইস্যুতে তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গেও বর্তমান বিক্ষোভের যোগসূত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।    সরকারের প্রতিক্রিয়া কী বিক্ষোভ মোকাবিলায় ফরাসি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।   তার এই বক্তব্যের সময়ই লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক নগর ভবনের বড় একটি অংশ আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় সরকারি ভবন ও দোকানপাটেও হামলার ঘটনা ঘটে।   তবে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিরা বৃহত্তর আন্দোলনকারীদের তুলনায় সংখ্যালঘু। বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোডের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, সরকার পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতপূর্ণ হতে দিয়েছে।   সরকার বিক্ষোভকে মূলত আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখছে, নাকি আন্দোলনের পেছনে থাকা মানুষের ক্ষোভ নিরসনে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা নিয়ে ফ্রান্সে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির সংকট কেবল বাজেটের নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর অসন্তোষ।   এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমিল শাবাল বলেন, ২০২৪ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ওই নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।   তার মতে, এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনই মানুষের সামাজিক অসন্তোষকে কার্যকরভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না।   রাজনৈতিক বিভক্তির কারণে সরকারি ব্যয়, করনীতি ও জনসেবা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে নীতিগত কোনো অর্থবহ পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়েও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।   শাবালের মতে, এই বিক্ষোভ ম্যাক্রোঁর জন্যও বড় ধাক্কা। তরুণ নেতৃত্ব, সংস্কার ও গতিশীল ফ্রান্স গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট করতে না পারা এবং মানুষের প্রতি তার সহানুভূতির অভাবের কারণে সেই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, ফ্রান্সের বিক্ষোভে প্রায়ই দেখা যায়, এমন কিছু গোষ্ঠী সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, যারা ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের মতো সরাসরি পদক্ষেপের কৌশল অনুসরণ করে। এবার দোকানপাটের পাশাপাশি সরকারি ভবনও হামলার লক্ষ্য হয়েছে।   লিমোজের নগর ভবন ধ্বংসের ঘটনাকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। কারণ, ফ্রান্সের নাগরিক ইতিহাসে ভবনটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।   অন্যদিকে, কয়েকজন গবেষক বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। লিসবনের ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের সামাজিক আন্দোলনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ গুইয়া আক্কোরনেরো বলেন, অতীতের সংঘর্ষ বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা তৈরি করেছে।   বর্তমান বিক্ষোভে পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া কাছ থেকে নিক্ষেপ করা কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টারের আঘাতে ১৪ বছর বয়সি আরেক কিশোরের চোয়াল ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শিশুদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য, বিক্ষোভের বেশির ভাগই শান্তিপূর্ণ ছিল।   আক্কোরনেরো বলেন, ‘তরুণরা শান্তিপূর্ণ ও কম বিঘ্ন সৃষ্টিকারী পদ্ধতিতে আন্দোলন করলেও তাদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।’   রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে কারা? এই বিক্ষোভে শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক পক্ষ লাভবান হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে স্পষ্ট ঐকমত্য নেই। তবে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাসি ইতিহাস ও রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক পল স্মিথ মনে করেন, কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মারিন লো পেন সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন।   তিনি আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমি কেবল একজনকেই লাভবান হতে দেখছি, আর তিনি হলেন লো পেন।’   তার ধারণা, এই অস্থিরতা মেলঁশোঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।   তবে কট্টর ডানপন্থিরা নিশ্চিতভাবেই লাভবান হবে, এমন ধারণা থেকে সতর্ক করেছেন শাবাল। তার মতে, ফ্রান্সের ইতিহাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার ভয় প্রায়ই রক্ষণশীল ও মধ্যপন্থি দলগুলোর জন্য সুবিধা তৈরি করেছে। ১৯৬৮ সালের বিক্ষোভের পরও এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।   লো পেন অবশ্য বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেননি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি আন্দোলনকারীদের দাবিকে ‘বৈধ সামাজিক দাবি’ বলে উল্লেখ করেন। তবে তার অভিযোগ, কট্টর বামপন্থিরা এই আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জনঅসন্তোষকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে কট্টর ডানপন্থিরা। তবে তারা বিক্ষোভের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক কাঠামো, পুঁজিবাদ ও নব্য উদারনীতির সমালোচনার পরিবর্তে অভিবাসন ইস্যুতে মানুষের ক্ষোভকে পরিচালিত করতে পারে। অন্যদিকে, মেলঁশোঁ বিক্ষোভকারীদের দুর্দশার জন্য এসব অর্থনৈতিক কাঠামোকেই দায়ী করছেন।   ২০২৭ সালের এপ্রিলে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে প্রার্থীদের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে তাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সক্ষমতা দেখাতে হবে, অন্যদিকে আন্দোলনের পেছনে থাকা সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে।   শাবালের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আনা, যেখানে কোনো দল বা আন্দোলনই মানুষের সামাজিক অসন্তোষকে কার্যকরভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

হুতিদের ঠেকাতে ইয়েমেন যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে সমঝোতা

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের সংঘর্ষ, গোলাবর্ষণে উত্তেজনা

0 Comments