শিক্ষা

কুবির চার অনুষদে অন্তর্বর্তীকালীন নতুন ডিন নিয়োগ

মারিয়া রহমান মে ২১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) চার অনুষদে উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে পুনরায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব হিসেবে চার শিক্ষককে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিন্ডিকেট কর্তৃক নতুন ডিন নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন, বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খান, প্রকৌশল অনুষদে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তোফায়েল আহমেদ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার। এ ছাড়া কলা ও মানবিক অনুষদে ডিনের দায়িত্বে থাকবেন স্বয়ং উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। 

অফিস আদেশে ছুটি, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে ডিনের পদ শূন্য থাকায় উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে চারজন শিক্ষককে ডিনের রুটিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এর আগে, গত ১১ই মে একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে ছয়জন শিক্ষককে আইনি মতামত না আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব হিসেবে ছয়টি অনুষদে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যেটিকে 'বিধিবহির্ভূত এবং 'নিয়ম ব্যত্যয়কারী' দাবি করে তৎকালীন সময়ে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল। তাদের মতে, উক্ত নিয়োগে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কিংবা বিভাগ রোটেশনের নিয়ম- এ দুটোকে অগ্রাহ্য করে পূর্ববর্তী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী ইচ্ছেমতো নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ করেছেন। 

ফলে গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দ্বিতীয় কার্যিদবসের মধ্যেই গত ১৮ মে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম পূর্ববর্তী প্রশাসনের অফিস আদেশ বাতিল করেন।

গত ১৮ মে প্রচারিত বাতিলের অফিস আদেশ অনুযায়ী, ছয়টি অনুষদেরই ডিনের দায়িত্ব উপাচার্য নিজে গ্রহণ করেন। একই দিনে পৃথক আরেকটি অফিস আদেশের মাধ্যমে উপাচার্যের উপর অর্পিত আইন অনুষদের দায়িত্ব অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশনস বিভাগের অধ্যাপক ড. বেলাল উদ্দিনের উপর ন্যস্ত করা হয়। এবার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কলা ও মানবিক অনুষদ রেখে বাকি চার অনুষদে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, 'সদ্য সাবেক উপাচার্য আইন বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়া ডিন নিয়োগ দেওয়ায় আগের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল। পরে ডিনের দায়িত্ব উপাচার্যের কাছে যায়।


প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পাঁচটি অনুষদে সাময়িকভাবে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিন্ডিকেট ও আইন বিশেষজ্ঞের মতামত না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন।'
উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ ধারা ২২(৬) অনুযায়ী এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিধি মোতাবেক দায়িত্বভাতা প্রাপ্য হবেন এবং আগামী ২১ মে থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

শিক্ষা

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
কুবির চার অনুষদে অন্তর্বর্তীকালীন নতুন ডিন নিয়োগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) চার অনুষদে উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে পুনরায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব হিসেবে চার শিক্ষককে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিন্ডিকেট কর্তৃক নতুন ডিন নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন, বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খান, প্রকৌশল অনুষদে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তোফায়েল আহমেদ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার। এ ছাড়া কলা ও মানবিক অনুষদে ডিনের দায়িত্বে থাকবেন স্বয়ং উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম।  অফিস আদেশে ছুটি, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে ডিনের পদ শূন্য থাকায় উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে চারজন শিক্ষককে ডিনের রুটিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত ১১ই মে একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে ছয়জন শিক্ষককে আইনি মতামত না আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব হিসেবে ছয়টি অনুষদে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যেটিকে 'বিধিবহির্ভূত এবং 'নিয়ম ব্যত্যয়কারী' দাবি করে তৎকালীন সময়ে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল। তাদের মতে, উক্ত নিয়োগে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কিংবা বিভাগ রোটেশনের নিয়ম- এ দুটোকে অগ্রাহ্য করে পূর্ববর্তী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী ইচ্ছেমতো নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ করেছেন।  ফলে গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দ্বিতীয় কার্যিদবসের মধ্যেই গত ১৮ মে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম পূর্ববর্তী প্রশাসনের অফিস আদেশ বাতিল করেন। গত ১৮ মে প্রচারিত বাতিলের অফিস আদেশ অনুযায়ী, ছয়টি অনুষদেরই ডিনের দায়িত্ব উপাচার্য নিজে গ্রহণ করেন। একই দিনে পৃথক আরেকটি অফিস আদেশের মাধ্যমে উপাচার্যের উপর অর্পিত আইন অনুষদের দায়িত্ব অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশনস বিভাগের অধ্যাপক ড. বেলাল উদ্দিনের উপর ন্যস্ত করা হয়। এবার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কলা ও মানবিক অনুষদ রেখে বাকি চার অনুষদে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, 'সদ্য সাবেক উপাচার্য আইন বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়া ডিন নিয়োগ দেওয়ায় আগের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল। পরে ডিনের দায়িত্ব উপাচার্যের কাছে যায়। প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পাঁচটি অনুষদে সাময়িকভাবে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিন্ডিকেট ও আইন বিশেষজ্ঞের মতামত না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন।' উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ ধারা ২২(৬) অনুযায়ী এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিধি মোতাবেক দায়িত্বভাতা প্রাপ্য হবেন এবং আগামী ২১ মে থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।

মারিয়া রহমান মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের সহায়তার আশ্বাস

দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষায় যৌথ সহযোগিতার জোর ঢাবি উপাচার্যের

দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষায় যৌথ সহযোগিতার জোর ঢাবি উপাচার্যের

ছবি: সংগৃহীত

আগামী শিক্ষাবর্ষে শতভাগ নির্ভুল পাঠ্যবই সরবরাহের নির্দেশ শিক্ষা সচিবের

ছবি : সংগৃহীত
কলেজের ৬১ শিক্ষক-কর্মচারীর সনদ জাল, এমনকি অধ্যক্ষেরও অন্তঃভুক্ত

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ নিয়োগ জালিয়াতি, জাল সনদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলনের বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনের সনদই জাল। এর মধ্যে কলেজ শাখার ৬১ শিক্ষক-কর্মচারীর সবার সনদই জাল। এই সনদ দিয়ে চাকরি করে সরকারের সাড়ে ৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ শাখায় কর্মরতরা ৪ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং স্কুল শাখার শিক্ষক-কর্মচারীরা ১ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৮০১ টাকা বেতন-ভাতা বাবদ নিয়েছেন।   গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন ডিআইএর পরিদর্শক সনজয় চন্দ্র মন্ডল, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মো. নুরুল আফছার এবং অডিটর মো. সিরাজুল ইসলাম। গত রবিবার প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এত শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা মন্ত্রণালয়কে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’   প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক ২০০০ সালে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু নিয়োগের সময় তার প্রয়োজনীয় বিএড সনদ ও অভিজ্ঞতা ছিল না। এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতা সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া যায়। পরে তিনি শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে বিএড সনদ নেন, যা তদন্ত কর্মকর্তারা গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো মো. ইমদাদুল হকের স্নাতকোত্তর সনদের সঙ্গে তার প্রকৃত পরিচয়ের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, সংশ্লিষ্ট সনদধারীর পিতার নাম ‘Md Asir Uddin’ এবং মাতার নাম ‘Mrs Ahmeda Khatun’, অথচ ইমদাদুল হকের এসএসসি, আলিম ও চাকরির কাগজপত্রে পিতার নাম ‘মো. আজহার আলী’ এবং মাতার নাম ‘মমিরন নেছা’ উল্লেখ রয়েছে। ফলে সনদটিকে জাল বলে অভিহিত করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।   জাল সনদ ব্যবহার করে অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক ৪১ লাখ ২১ হাজার ২৬১ টাকা সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২৬ লাখ ১৮ হাজার ৮৫৪ টাকা এবং অধ্যক্ষ হিসেবে ১৬ লাখ ১০ হাজার ৪০৭ টাকা উত্তোলন করেছেন।   তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানে কোনো স্টক রেজিস্টার নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি মালামালের হিসাব সংরক্ষণ এবং নিয়মিত স্টক যাচাই করা হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ এডহক কমিটি দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়েছে। গভর্নিং বডির কার্যক্রমেও নানা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড ও এমপিও নীতিমালা ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং এক পদে কর্মরত থেকে অন্য পদের বেতন উত্তোলনের ঘটনাও ঘটেছে।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা অধিশাখা) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো আমার কাছে আসেনি। প্রতিবেদন পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’   কলেজ শাখায় কার কাছ থেকে কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে: অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক: ৪১,২১,২৬১ টাকা অন্যান্য প্রভাষক ও শিক্ষক-কর্মচারী: ২ লাখ থেকে ১২ লাখ পর্যন্ত প্রত্যেকের হিসাব অনুযায়ী ফেরত স্কুল শাখায় কার কাছ থেকে কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে: সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আরিফ রব্বানী: ৯,০১,৮৭৭ টাকা অন্যান্য সহকারী শিক্ষক, অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তাকর্মী: ৫ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৩২ লাখ পর্যন্ত প্রত্যেকের হিসাব অনুযায়ী ফেরত

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের ১২তম ট্রাস্টি বোর্ড গঠন

ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশিদের শীর্ষ গন্তব্য মালয়েশিয়া, পড়ছেন ১১,৪০১ শিক্ষার্থী

ছবি : সংগৃহীত

২০২৮ সালে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন কারিকুলাম : ববি হাজ্জাজ

সংগৃহীত ছবি
অনার্স পড়ুয়াদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার, আবেদন শুরু

স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আবেদন এন্ট্রির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এই উপবৃত্তি পেতে আজ রবিবার (১৭ মে) আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদনপ্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের ২০২৩–২৪ (ডিগ্রি ও ফাজিল প্রথম বর্ষ) শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের উপবৃত্তি দেওয়া নির্দেশিকা, ২০২২’ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে উপবৃত্তি, টিউশন ফি ও অন্যান্য সুবিধা নিতে নির্ধারিত সময়সূচি ও নির্দেশনা মেনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ই-স্টাইপেন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ লিংকে প্রবেশ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে (ডিগ্রি ও ফাজিল প্রথম বর্ষ) শিক্ষার্থীদের লিংকের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন শুরু ১৭ মে সকাল ৯টায়। আবেদন শেষ হবে ১৪ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে। সফটওয়্যারে এন্ট্রি করা শিক্ষার্থীদের আবেদনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও বাছাই কমিটির রেজোল্যুশন সফটওয়্যারে আপলোড করে পিএমইএটির ‘ই-স্টাইপেন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এ ফরওয়ার্ড করার তারিখ ও সময় ১৫ জুন সকাল ৯টা থেকে ২১ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাদি পাওয়া যাবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ওয়েবসাইট ও পিএমইএটির ই-স্টাইপেন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যারের নোটিশ বোর্ডে। কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। তাই আবেদনের হার্ড কপি ট্রাস্টে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের উপবৃত্তিসংক্রান্ত হেল্পলাইন: ০২-৫৫০০০৪২৮, ০১৭৭৮৯৫৮৩৫৬ ও ০১৭৭৮৯৬৪১৫৬ (অফিস চলাকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত)।

মারিয়া রহমান মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের জরুরি নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

শেকৃবিতে ছাত্রদল নেতার অনন্য সাফল্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছেন : খোকন

0 Comments