বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার ঠিক দুই দিন পর, শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশ করে। খবরে জানানো হয়, মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে তার বর্তমান পার্লামেন্ট স্পিকার পদের পাশাপাশি ‘চীন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছাকৃত হোক বা কাকতালীয়, এই নিয়োগের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এত দিন এই পদটি ছিল প্রয়াত আলি লারিজানির হাতে, যিনি ২০২১ সালে চীনের সঙ্গে ইরানের ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তিটি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু গত মার্চ মাসে এক হামলায় লারিজানি নিহত হন। যেকোনও বিষয়ে লারিজানির স্থলাভিষিক্ত হওয়া ইরানে কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। কিন্তু একই সঙ্গে পার্লামেন্ট পরিচালনা করা এবং কিছুদিন আগেই ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার পর, এখন আবার এই নতুন দায়িত্ব পাওয়া, সব মিলিয়ে গালিবাফের হাতে ক্ষমতার এমন এক কেন্দ্রীভবন ঘটছে, যা ইরানি রাজনীতি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্লেষকদের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
গালিবাফের উত্থান
পশ্চিমা বিশ্লেষকরা গালিবাফকে ঠিক কোন অবস্থানে রাখবেন, তা নিয়ে সব সময়ই দ্বিধায় ছিলেন। তার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অতীত এবং প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয়টিই কেবল তাদের আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু দুটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তিনি কীভাবে নিজের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান তৈরি করেছেন এবং তার এই একের পর এক দায়িত্ব লাভ, আয়াতুল্লাহ খামেনি পরবর্তী ইরানের আসল ক্ষমতার উৎস সম্পর্কে কী ইঙ্গিত দেয়, তা প্রায়শই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
গালিবাফের এই উত্থান হঠাৎ করে হয়নি। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালীন তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার হিসেবে নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রাধিকারগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে সামলানো এবং সামরিক বাহিনী যখন যুদ্ধ করছে তখন পার্লামেন্টকে সচল রাখার দক্ষতার কারণে তিনি বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন। খামেনির যখন এমন একজন মানুষের প্রয়োজন ছিল যিনি একই সঙ্গে কমান্ডার, আইনপ্রণেতা, কূটনীতিক এবং জনগণের সঙ্গে নির্ভরযোগ্যভাবে কথা বলতে পারবেন, তখন গালিবাফই ছিলেন একমাত্র উপযুক্ত ব্যক্তি।
ইরানি কাঠামোতে অবস্থান
ইরান আংশিকভাবে হলেও প্রাদেশিক পৃষ্ঠপোষকতা নেটওয়ার্ক, পারিবারিক সম্পর্ক, ঠিকাদারদের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং শহরজুড়ে সামাজিক জীবন পরিচালনাকারী ‘হেয়াত’ (শোক প্রকাশকারী সংগঠন) নামক ব্যবস্থার ওপর টিকে আছে। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি ক্ষমতাসীন দল বিলুপ্ত করার পর এই কাঠামোর উদ্ভব হয়, যা পরে আর কোনও দল দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়নি। ফলে ইরানের পার্লামেন্ট সদস্যরা দলীয় শৃঙ্খলার চেয়ে স্থানীয় কোয়ালিশনে নিয়োগ, সুযোগ-সুবিধা এবং সম্পদ সরবরাহের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখেন। আর পার্লামেন্টের স্পিকারের পদটি হলো সেই জায়গা, যেখানে এই প্রাদেশিক সার্কিটগুলো কেন্দ্রের সঙ্গে মিলিত হয়। এটি পরিচালনা করার জন্য পারস্পরিক বাধ্যবাধকতা ও মধ্যস্থতার যে দক্ষতা প্রয়োজন, তা অনেক সামরিক বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের নেই। তেহরানের মেয়র হিসেবে ১২ বছর দায়িত্ব পালনের সময়ই গালিবাফ এই দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট সংঘাত গালিবাফের এই যাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই এই ব্যবস্থার অন্যতম দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব; স্বয়ং খামেনি এবং লারিজানি চিরতরে হারিয়ে যান। এরপর থেকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মূলত বিভিন্ন বিবৃতি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই যোগাযোগ রাখছেন, এবং তার শারীরিক অবস্থা এখনও অনিশ্চিত। এমন দূরত্বে থেকে একজন সর্বোচ্চ নেতার পক্ষে এই শাসনব্যবস্থাকে সেভাবে সমন্বয় করা সম্ভব নয়, যেভাবে তার পূর্বসূরি তিন দশক ধরে করেছিলেন। আর এই সমন্বয়কের ভূমিকাটিই এখন ক্রমশ অন্যদের ওপর বর্তাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, গালিবাফই এখন সেই দায়িত্বের বড় অংশ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
ইরানে স্পিকারদের ভূমিকা
এখানে একটি ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক প্যাটার্ন বা ধারাও লক্ষ করা যায়। ইরানের রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রেসিডেন্সি এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকারের লড়াইয়ের ওপর বেশি নজর দেওয়া হয়, আর স্পিকারের পদটিকে ভাবা হয় গৌণ। তবে ঐতিহাসিকভাবে, ইরানের স্পিকাররা প্রায়শই প্রেসিডেন্টদের চেয়ে ভালো অবস্থানে থেকেছেন। প্রেসিডেন্টরা দায়িত্ব ছাড়ার পর অনেক সময় প্রান্তিক হয়ে পড়েন, কারণ নির্বাহী ক্ষমতা তাদের এই ব্যবস্থার মূল কাঠামোর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ায়। অন্যদিকে, স্পিকাররা সম্পর্ক এবং প্রাতিষ্ঠানিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে এমন রাজনৈতিক পুঁজি অর্জন করেন যা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, কোনও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না। আকবর হাশেমি রাফসানজানি স্পিকার থেকে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। লারিজানি এই পদটিকে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রভাবের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। আলী আকবর নাতেঘ-নূরী পার্লামেন্ট ছেড়ে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে যোগ দিয়ে দশকের পর দশক ধরে পরিদফতর পরিচালনা করেছিলেন। আজকের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি অস্থিতিশীল হলেও গালিবাফের পথচলা সেই ঐতিহাসিক ধারার সঙ্গেই মিলে যায়।
চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার নীতি সুদৃঢ় করা
গালিবাফের ব্যক্তিগত উত্থানের বাইরেও চীনের এই নিয়োগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও চীন এখন এমন এক পরিস্থিতিতে তাদের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করছে, যা ২০২১ সালের চুক্তির সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দিয়ে বারবার বিবৃতি দিয়েছে। এমনকি ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ভবিষ্যতে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তার গ্যারান্টির মধ্যে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, বেইজিং তখন প্রকাশ্যে তা প্রত্যাখ্যান করেনি। এগুলো কোনও কঠোরভাবে নিরপেক্ষ থাকা রাষ্ট্রের আচরণ নয়।
পূর্ববর্তী পর্বগুলোর মতো কোনও নিরপেক্ষ ইউরোপীয় রাজধানীর পরিবর্তে আলোচনার স্থান হিসেবে ইরান যে ইসলামাবাদকে বেছে নিয়েছে, তাও লক্ষ্যণীয়। পাকিস্তান এখানে প্রকৃত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে, তবে চীনের ওয়াং ই এই আলোচনা নিয়ে সরাসরি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং যুদ্ধের সময় ইসলামাবাদের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচ দফার শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন। বেইজিং পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারে এমন একটি শহরে কূটনীতি পরিচালনা করা নিজেই ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান এখন কোন বহিরাগত কাঠামোকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করছে।
এই সম্পর্ক দেখভালের জন্য গালিবাফকে নিয়োগ দেওয়া একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। তিনি কোনও টেকনোক্র্যাট বা সাধারণ আমলা নন। দুটি যুদ্ধ জুড়েই তিনি ইরানের খণ্ড-বিখণ্ড প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডলে কাজ করার এবং রাজনৈতিক ফলাফল বয়ে আনার ক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণের দায়িত্বে তাকে নিযুক্ত করা এটিই নির্দেশ করে যে, এই সম্পর্কটি বর্তমান ব্যবস্থার সবচেয়ে প্রভাবশালী কার্যকর ব্যক্তিত্বের হাতে ন্যস্ত করার মতো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান কি কৌশল পাল্টাচ্ছে
এটি কি সত্যিই পূর্বমুখী একটি কৌশলগত পরিবর্তন, নাকি বিকল্প পথ সংকুচিত হওয়ার ফল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পেছনে ইরানের স্পষ্ট কিছু স্বার্থ রয়েছে: বিনিয়োগ, কূটনৈতিক সুরক্ষা এবং নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা তেল বিক্রির বাজার, যা যুদ্ধের আগের চেয়ে এখন আরও বেশি জরুরি। তবে বেইজিংয়ের দিকে এই মোড় নেওয়াটা পছন্দের চেয়ে কৌশলগত বাধ্যবাধকতাও হতে পারে। সাম্প্রতিক সংঘাত পশ্চিমাদের সঙ্গে সমঝোতা করার ক্ষেত্রে তেহরানের পথ সংকুচিত করে দিয়েছে এবং অন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই মূলত পূর্বের এই দরজাটি উন্মুক্ত হয়েছে।
ক্ষমতার ভরকেন্দ্র
তবে এই নিয়োগের ফলে সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, এই হিসাব-নিকাশগুলো আসলে কে করছেন। গালিবাফ কেবল ওপর থেকে আসা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন না। তার আইআরজিসির সঙ্গে অতীত সংশ্লিষ্টতার কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাকে বিশ্বাস করে ঠিকই, তবে এতে কেন বারবার তার ওপরেই এমন সব দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে যার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, উপদলীয় মধ্যস্থতা এবং কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলোকে রাজনৈতিক ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন, সেটির কোনও সদুত্তর দেয় না। এর উত্তর তার অতীতে নয়, বরং বর্তমানে তিনি কী করছেন তার মধ্যে নিহিত। দুই প্রভাবশালী নেতার মৃত্যু এবং সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে তৈরি হওয়া শূন্যতার মাঝে, কয়েক দশকের সমন্বয়কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই সাবেক মেয়রের মধ্যেই ইসলামিক রিপাবলিক যেন এখন এক কার্যকর ভরকেন্দ্র খুঁজে পেয়েছে।
সূত্র: আল-মনিটর
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে বৃহস্পতিবার রাতভর ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। খবর এএফপির। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে তভার অঞ্চলে হামলার সময় একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রের সামনের অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানিয়েছেন, তার অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হয়েছে। সেখানে ৯২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগে এবং কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাশিয়ার অভিযোগ, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ইউক্রেন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনও স্থবির। এদিকে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে চলেছে, যার ফলে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও বাড়ছে।
লেবাননের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চলার মধ্যেই দেশটিতে আরও সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইতালির রাজধানী রোমে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এর মধ্যেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আরও কিছু সামরিক পদক্ষেপের বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে সেনাবাহিনী বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করছে। অন্যদিকে, চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননে আরও শক্তিশালী ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমোদন চেয়েছে। এর আগে বুধবার দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জাউন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একটি ইউনিট লক্ষ্য করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, এতে কয়েকজন সেনা হতাহত হয়েছেন। চারজন গুরুতর আহত সেনাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদিকে, লেবাননের সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের তেবনিন শহরে ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতার পর মানসুরি শহরের অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। রোমে ইসরায়েল-লেবাননের পরোক্ষ আলোচনার দ্বিতীয় দফার দ্বিতীয় দিন চলছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ওয়াশিংটনে পাঁচ দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৪ হাজার ৩৩৩ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২৫০ জন আহত হয়েছেন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
হরমুজ প্রণালি আবার চালু করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরান জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের রুটের অবস্থান নিয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে এবং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তিনি জানান, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই তার অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের কাছে এবং এডেন উপসাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, মাজদাল সেলেম শহরে বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর এই হামলা চালানো হয়েছে।