২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে আগামীকাল সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬)। সকাল ১০টায় শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল প্রকাশ করা হবে। এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল পাবে শিক্ষার্থীরা।
মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখার পদ্ধতিতে ১৬২২২ নম্বরের পাশাপাশি নতুন আরেকটি নম্বর ১৬১৪০ যুক্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে একযোগে প্রকাশ করা হবে ফল। মুঠোফোনে ফল দেখার জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC <স্পেস; বোর্ডের নামের প্রথম ৩ অক্ষর <স্পেস; রোল নম্বর <স্পেস; পরীক্ষার বছর টাইপ করে ১৬২২২ বা ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
উদাহরণ: SSC DHA 113456 2026 লিখে পাঠান 16222 অথবা 16140 নম্বরে।
এ ছাড়া নিজ নিজ বোর্ডের ফল সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া দুটি অভিন্ন ওয়েবসাইট—eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাবে। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থের হার নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্ধারিত হার অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতিমাসে ৩০০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ২২৫ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। রবিবার (৩০ আগস্ট) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে বৃত্তির অর্থের হার ও শর্তের বিষয়টি জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত হার ও শর্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য বৃত্তির অর্থ দেওয়া হবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের শুরু থেকেই নতুন নির্ধারিত হারে বৃত্তির টাকা কার্যকর হবে। বৃত্তির অর্থ পেতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কিছু শর্তও পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীর সদাচরণ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং সন্তোষজনকভাবে পাঠগ্রহণ। এসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই বৃত্তির অর্থ অব্যাহত থাকবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে যেকোনো সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। তবে কোনো শিক্ষার্থী সরকার অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হলে সে বৃত্তির অর্থ পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না। অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নকালীন পাঠ-বিরতি বা ‘ব্রেক অব স্টাডি’ থাকলেও তা হিসাবের মধ্যে গণ্য হবে। বৃত্তির অর্থ শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতিতে ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে অর্থ বিতরণ করা হবে। এজন্য বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অনলাইন মুদ্রণব্যাংক প্ল্যাটফর্মভুক্ত যেকোনো ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে এবং ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। এদিকে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিল ফর্মে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর নেওয়ার পর নিজ নিজ এলাকার সরকারি কোষাগার থেকে বৃত্তির অর্থ উত্তোলন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সরকারি নির্ধারিত শর্তের আওতায় বৃত্তি স্থগিত বা বাতিল হতে পারে। প্রয়োজনে সরকার বৃত্তির সংখ্যা, অর্থের হার ও মেয়াদসহ এ আদেশের যেকোনো শর্ত পরিবর্তন, সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্যকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের ভাষ্য, আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের মতো দেশে লেখাপড়ার জন্য কেউ কেউ পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তি (ফুল স্কলারশিপ) পাওয়ার চেষ্টায় আছেন; গন্তব্য বদলানোর ভাবনাও আছে কারো কারো। শনিবার ঢাকায় বিদেশে উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত এক মেলায় এসে নিজেদের নানা অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা শোনান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ হোটেলে ‘আইডিপি স্টাডি ওয়ার্ল্ড রোডশো’ নামে এ আয়োজন করা হয়। মেলায় এসেছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মুকিত হাসান, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে চান। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া তুলনামূলক ব্যয়বহুল। কয়েকটি ইউনিভার্সিটিতে খোঁজ নিয়ে জানলাম, ৬০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা আমার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই স্কলারশিপের আশায় আছি। পাশাপাশি কম খরচে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সম্ভব, সেগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।” মুকিত বলেন, তার পরিবারের পক্ষে ৩০-৩৫ লাখ টাকার মতো ব্যবস্থা করা সম্ভব। কিন্তু সেজন্যও জমিজমা বিক্রি করতে হতে পারে। বাজেট কম থাকলে পরামর্শকরাও গুরুত্ব দেন না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাজেট কম হলে স্টুডেন্ট কাউন্সিলররা ঠিকমতো কথাও বলতে চান না। তারা আগে বাজেট জিজ্ঞেস করে নেন, তারপর সেই অনুযায়ী সময় দেন।” ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম রাজ যুক্তরাজ্যে পড়তে চান। তিনি বলেন, “স্কলারশিপ আমার অবশ্যই লাগবে। নিজস্ব সঞ্চয় আর পরিবার থেকে নিয়ে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা আমার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব। কিন্তু প্রকৃত খরচ এর চেয়ে অনেক বেশি।” রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তরের এক শিক্ষার্থীও এসেছেন প্রদর্শনীতে, যিনি যেতে চান কানাডায়। তিনি বলেন, “ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ না পেলে আমার জন্য দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যে আমার পছন্দের সঙ্গে যায়, এমন কোর্স নেই বললেই চলে। “আমার ইচ্ছা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স করা। এখানে এসে মনে হচ্ছে, সবকিছু নিয়ে আমাকে আরও ভালোভাবে ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সনেট সরকারও নিজে খোঁজখবর করার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি তাড়াহুড়ো করতে চাচ্ছি না। পুরোপুরি রিসার্চ করে শিক্ষাবৃত্তির দিকে আগাব। কিন্তু শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার শর্ত বা যোগ্যতার ব্যাপারে তেমন ধারণা নেই। তাই প্রফেশনাল কারও সাহায্য নিতে চাচ্ছি। মূলত লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো বিষয়ে মাস্টার্স করতে চাই।” আর্থিক চাপ ও ভিসা জটিলতার কারণে গন্তব্যও বদলাচ্ছেন অনেকে। এদের একজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইমুর ওয়াজিদ, যিনি কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর করতে যুক্তরাজ্যে যেতে চান। তিনি বলেন, “আমি মূলত অস্ট্রেলিয়া নিয়ে আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক সময় লাগে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলনামূলক সহজ মনে হচ্ছে। “আর খরচ তো একটা বড় বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার জন্য শুনলাম ব্যাংকে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা দেখাতে হবে। আমার পরিবারের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।” তুলনামূলক কম খরচে মালয়েশিয়ায় পড়ার পথ খুঁজছেন আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আম্মার বিন আনিস। তিনি বলেন, “ওখানে ফাউন্ডেশন কোর্স করে তারপর আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম করার সুযোগ পাব। বাজেটটাও তুলনামূলক কম লাগবে, ১৫ লাখের মধ্যে সব হয়ে যাবে হয়তো। পরে সেখান থেকে ইউরোপে মুভ করার সুযোগও থাকবে।” লেখাপড়া শেষ হওয়ার আগেই উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউ কেউ। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নবম সেমিস্টারের ছাত্র ইমতিয়াজ আজিম বলেন, “আমার স্নাতক শেষ হতে এখনও এক বছরের বেশি সময় লাগবে। এমএসসি করতে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা যেহেতু আছে, আগেভাগেই খোঁজখবর করতে চলে এলাম। সেই অনুযায়ী আর্থিক ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যাপার তো একটা আছে।” একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নুসরাত আহমেদ যুক্তরাজ্যে পড়তে চান। তিনি বলেন, “আর্থিক বিষয়ে এখনই তেমন কিছু ভাবছি না। তবে স্কলারশিপ তো সবাই চায়, আমিও অবশ্যই সেই চেষ্টা করব।” সন্তানের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা ও খরচের হিসাব মেলাতে প্রদর্শনীতে এসেছেন অভিভাবকরাও। আনিসুর রহমান নামে একজন বলেন, “আমার মেয়ে দেশের বাইরে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। অনলাইনে আমরা ঘাঁটাঘাঁটি করেছি, কিন্তু প্রপার গাইডলাইন পাচ্ছি না। “কোন দেশ বেশি নিরাপদ হবে, ভালো ইউনিভার্সিটি কোনটা, কোন লোকেশনে গেলে ভালো হবে, কোর্স বা স্কলারশিপ পাওয়ার শর্ত কী—এসব জানতেই আসা। সবশেষে বাজেটও একটা বড় বিষয়।” আয়োজক প্রতিষ্ঠান আইডিপি বলছে, এবারের আয়োজনে যুক্তরাজ্যের ৮টি, কানাডার ১৭টি, যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি এবং মালয়েশিয়ার ৫টিসহ মোট ৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টলগুলোতে ভিড় ছিল বেশি। রোডশোতে শুধু তথ্য নেওয়াই নয়, পাসপোর্ট ও একাডেমিক কাগজপত্র নিয়ে এসে সরাসরি আবেদনের পরামর্শও নিয়েছেন অনেকে।
দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা প্রদানের বিষয়ে নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বিষয়ক প্রকল্পের ওপর প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্গম অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের নানা প্রতিকূলতা বিবেচনা করে দুর্গম ভাতা চালুর এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদী ভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর (মডুলার বিল্ডিং) মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেয়া হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেলগুলো পাইলট প্রকল্পে পরীক্ষা করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেয়া। মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে অনিয়ম কমেছে উল্লেখ করে তিনি মায়েদের আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান দুটি লক্ষ্য—কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং সবাইকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি; প্রাথমিক শিক্ষার এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করাই হবে পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ এবং ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন। অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।