সর্বশেষ

কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের পর সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ বিমান

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ০৫, ২০২৫

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের পর আবারো আলোচনায় এসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম। ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি ইজারাগ্রহীতা হিসেবে বিমানকে আংশিকভাবে দায়ী করেছে এবং সংস্থাটির কার্যক্রম শুধু ফ্লাইট পরিচালনায় সীমিত রাখার পাশাপাশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং দায়িত্ব দক্ষ অপারেটরের কাছে দেয়ার সুপারিশ করেছে।

 

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে—সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিমানকে পুরোপুরি সরিয়ে না দিয়ে বিকল্প অপারেটর যুক্ত করে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির দিকেই ঝুঁকছে সরকার।

 

তবে এ সুপারিশের সঙ্গে একমত নন বেশ কিছু এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের জন্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটি দায়ী হলেও বিমানের ব্যবসা সীমিত করে দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তাদের দাবি, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে সেবা–সংকট বহুদিনের হলেও এর সমাধান হতে পারে দক্ষ বিকল্প অপারেটর যুক্ত করা; বিমানের কর্মকাণ্ড কমিয়ে দেয়া নয়।

 

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি দেশের সব বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালেও দুই বছরের জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমানের ওপর নীতিগতভাবে দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কার্গো পরিষেবা, বিএফসিসির মাধ্যমে ইন-ফ্লাইট ক্যাটারিং, পোল্ট্রি কমপ্লেক্স, এবং বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ট্রেনিং সেন্টার (বিএটিসি) পরিচালনাসহ প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু বাণিজ্যিক শাখা রয়েছে।

 

তদন্ত কমিটি যদিও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে বিমানকে সরিয়ে দেয়ার সুপারিশ করেছে, তবে অন্যান্য বাণিজ্যিক ইউনিট নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেনি।

 

বিমানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন একচেটিয়া ক্ষমতা কোনো প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেয়, তাই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় প্রতিযোগিতা আনার বিকল্প নেই।

 

বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাকে কেন্দ্র করে অভিযোগও কম নয় যেমন: ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের অপেশাদারিত্ব, লাগেজ হারানো ও চুরি, চেকইন–চেকআউট ঝামেলা থেকে শুরু করে স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের মতো অপরাধের সঙ্গেও যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে প্রায়ই। সাম্প্রতিক এক জরিপে যাত্রীদের ৯৭ শতাংশই সেবার মানে অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। বিদেশী এয়ারলাইনসও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার হিসেবে বিমানের বিকল্প চায়। শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জরিপে দেখা গেছে, তৃতীয় টার্মিনালে ৯৩ শতাংশ এয়ারলাইনস একাধিক অপারেটর চায়।

 

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম মনে করেন, “বিমান একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান—তার কোন ব্যবসা থাকবে, কোনটা থাকবে না এভাবে বেঁধে দেওয়া অযৌক্তিক। দায় থাকলে জবাবদিহি হবে, কিন্তু তার ব্যবসা সীমিত করে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

 

তিনি আরও বলেন, “৫০ বছরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিকল্প অপারেটর তৈরি করা হয়নি, এটা একটা বড় ব্যর্থতা। বিমান প্রতিষ্ঠান হিসেবে দোষী নয়; যারা পরিচালনা করেছেন তাদের জবাবদিহি করা প্রয়োজন। কার্যক্রম সীমিত করা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রের গভীরে মিলল রহস্যময় প্রবালের খোঁজ

সূর্যের আলো যেখানে পৌঁছাতে পারে না, সেই চির অন্ধকার সমুদ্রের তলদেশে রহস্যময় প্রবালের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আর্জেন্টিনার উপকূলে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে থাকা এসব প্রবাল শূন্য দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে, যা আয়তনে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটির সমান। স্মিথ ওশান ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দূর নিয়ন্ত্রিত যান সেবাস্টিয়ান ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশে এই প্রবালরাজ্যের খোঁজ পান।   সাধারণত গভীর সমুদ্রে যত নিচে যাওয়া যায়, খাবারের অভাবের কারণে সেখানে প্রাণের উপস্থিতি তত কম দেখা যায়। তবে বিশাল এই প্রবালপ্রাচীরের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে কাঁকড়া, তারা মাছ, অদ্ভুত আকৃতির জেলিফিশ এবং অক্টোপাস। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লেহাই ইউনিভার্সিটির গভীর সমুদ্রবিষয়ক জীববিজ্ঞানী সান্তিয়াগো হেরেরা বলেন, ‘আমি বলব, এটি আমার দেখা গভীর সমুদ্রের সবচেয়ে প্রাণবন্ত এবং বৈচিত্র্যময় পরিবেশগুলোর একটি। আমরা যখন সমুদ্রের গভীরে যাই, তখন জানি যে সেখানে খাবার ক্রমশ দুর্লভ হয়ে পড়ে। তাই হঠাৎ যখন আপনি একসঙ্গে প্রচুর প্রাণীকে অত্যন্ত গতিশীল ইকোসিস্টেমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখেন, তখন তা সত্যিই বড় একটি চমক।’   বিজ্ঞানীদের মতে, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ছাড়া যেখানে জীবন অসম্ভব, সেখানে মেরিন স্নো বা সমুদ্রের ওপরের স্তর থেকে ঝরে পড়া পুষ্টি উপাদান খেয়ে বেঁচে আছে প্রবালগুলো। এ বিষয়ে বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের সামুদ্রিক বিজ্ঞানী মারিয়া এমিলিয়া ব্রাভো বলেন, ‘আর্জেন্টিনার গভীর সমুদ্রে এই স্তরের জীববৈচিত্র্য দেখার আশা আমরা করিনি। সেখানকার জীববৈচিত্র্য এবং তাদের মধ্যকার সংযোগ একসঙ্গে উন্মোচিত হতে দেখা ছিল অবিশ্বাস্য। আমরা আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্যের দিকে একটি জানালা খুলেছিমাত্র, এখনো এমন বহু জানালা খোলা বাকি আছে।’   প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রের তলদেশে চালানো এই অভিযানে শুধু প্রবালপ্রাচীরই নয়, মিলেছে আরও কিছু প্রাকৃতিক বিস্ময়। বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের প্রায় ৩ হাজার ৮৯০ মিটার গভীরে একটি মৃত তিমির কঙ্কাল বা হোয়েল ফলও খুঁজে পেয়েছেন। আর্জেন্টিনার সাগরে এটিই প্রথম রেকর্ডকৃত গভীর পানির হোয়েল ফল। তিমির এই হাড় এখন অন্যান্য অণুজীব ও প্রাণীদের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে, যা নির্দেশ করে কঙ্কালটি হয়তো কয়েক দশক ধরে সেখানে পড়ে আছে।   সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লি বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর ঘটনার পর দেশে ফিরছেন তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

রামিসা হত্যাকাণ্ডে দায় স্বীকার করে জেল আপিলে যা বলেছেন আসামি সোহেল

ছবি: সংগৃহীত

চেইন শপ ব্যবসায় মেঘনা গ্রুপ, মেট্রোরেলের ৯ স্টেশনে চালু বিক্রয়কেন্দ্র

জাবির বাসে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে একজন সাময়িক বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বঙ্গবাজারগামী বাসে এক নারী শিক্ষার্থীর অনুমতি ছাড়া গোপনে ছবি তোলার ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে অপরাধের তীব্রতা বিবেচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বঙ্গবাজারগামী বাসে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাসটি পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় এবং অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এবং শামীমা নাসরিন জলি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন।   পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।   অভিযুক্ত মো. হাসানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০ ব্যাচের ও নবাব সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম আবর্তনের ছাত্রী।   লিখিত অভিযোগপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বাসে ওই ছাত্রীর অগোচরে তার বেশ কয়েকটি ছবি তোলেন হাসানুর রহমান। বিষয়টি এক শিক্ষার্থীর নজরে এলে ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযুক্তের কাছ থেকে প্রমাণস্বরূপ মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেন। এ সময় ছবি তোলার বিষয়টি অস্বীকার করে হাসানুর ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ছাত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এতে ওই ছাত্রী নিচে পড়ে গিয়ে আহত হন।   একপর্যায়ে হাসানুর জোরপূর্বক ফোন কেড়ে নিয়ে বাস থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে বাসে উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করে আটকে ফেলেন এবং ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে এনে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তা অফিসে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে অভিযুক্ত হাসানুর রহমান নিজের দোষ স্বীকার করে একটি লিখিত জবানবন্দি দেন।   স্বীকারোক্তিমূলক ওই পত্রে তিনি অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা এবং ফোন কেড়ে নেওয়ার সময় ওই ছাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কথা স্বীকার করেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে কয়েকজন শিক্ষার্থীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।   সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির খবর শোনার পরপরই আমরা নিরাপত্তা অফিসে আসি এবং ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী এবং লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া অপরাধের মাত্রা ও তীব্রতা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘পুশইন’: আবারও ‘আশ্বাস’ নিয়ে ফিরল বিজিবি

ছবি : সংগৃহীত

যে কারণে ফলহীন রইল দিল্লির বিএসএফ-বিজিবি শীর্ষ বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে এসেই ভিসা নিয়ে আশার বার্তা দিলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ গভর্নরের

ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।   তিনি বলেন, আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে রয়েছে মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।   তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। দীর্ঘদিন যেসব আমানতকারী টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন ধীরে ধীরে টাকা পেতে শুরু করেছেন।   ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল। এরপর বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।   তিনি জানান, একই সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠনেও কিছুটা সময় লেগেছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   মোস্তাকুর রহমান বলেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয়ের কাজ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যক্রমে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।   ইসলামী ব্যাংকে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, আমরা কাউকে ঋণ দিতে বলি না, বদলি বা পদোন্নতির জন্যও কোনো নির্দেশ দেই না। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।   গভর্নর আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাকে গত ১৬ মার্চ পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।   ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর। তিনি বলেন, এটি একটি সিস্টেমিক ব্যাংক। তাই বোর্ডে ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা নিশ্চিত করতে আমাদের দ্রুত নতুন নিয়োগ দিতে হয়েছে।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে কিছু টুলস আছে। প্রয়োজন হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলো প্রয়োগ করা হবে। আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তারা যে কোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।   গভর্নর জানান, জুলাই ২০২৪-এ ইসলামী ব্যাংকের এডি রেশিও ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। কিন্তু মার্চে তা বেড়ে ৯৭-৯৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে এ হার কমাতে নির্দেশ দিয়েছে।   তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামনে বড় কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করি না। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও বোর্ড এ বিষয়ে সজাগ আছে। প্রয়োজনীয় ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি সাপোর্টও বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৪০ মিনিট পর ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের ‘কামব্যাক’

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ সেবা বিঘ্নিত

দুই দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিনত হবে: দীনেশ ত্রিবেদী

0 Comments